Home Lead হাদি হত্যার আসামিদের নিয়ে নানা জায়গায় অভিযানে যাচ্ছেন ভারতীয় গোয়েন্দারা

হাদি হত্যার আসামিদের নিয়ে নানা জায়গায় অভিযানে যাচ্ছেন ভারতীয় গোয়েন্দারা

6


অনলাইন ডেস্ক।।

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে বলে তদন্তকারীদের সূত্রে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। তবে আটককৃতরা কোন পথে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁয় এসে পৌঁছেছিল তা জানার চেষ্টা করেছে গোয়েন্দারা। গোয়েন্দাদের দাবি, তারা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে সোজা চলে এসেছিল গুয়াহাটিতে। সেখান থাকা নিরাপদ নয়- বিবেচনায় চলে আসে শিলিগুড়িতে। সেখানে কিছুদিন থাকার পর বাংলাদেশে ফেরার অভিপ্রায়ে কৃষ্ণনগর হয়ে বনগাঁয় এসেছিল বলে আটকরা গোয়েন্দাদের জানিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে একটি সুত্র জানিয়েছে, বারাসাত-মধ্যমগ্রাম অঞ্চলে কয়েক জনের সঙ্গে দেখা করেছিল তারা। জানা গেছে, এই বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করতে অভিযুক্তদের নিয়ে অভিযান চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।


গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গেছে, গত আড়াই মাস তারা নিয়মিত ডেরা পাল্টেছে। কখনো পরিচিতদের আশ্রয়ে ছিল, কখনো পরিচয় গোপন করে হোটেলে ছিল বলে গোয়েন্দাদের দাবি।

কোথায় কোথায় আটকরা কাদের আশ্রয়ে থেকেছে এবং কাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিল তার খোঁজ করছে গোয়েন্দারা। ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের তদন্তকারী গোয়েন্দারা আটক দু জনকে নিয়ে উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন। তারা পশ্চিমবঙ্গে এসে কাদের কাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল তাও জানার চেষ্টা চলছে। সীমান্ত এলাকায় কাদের মাধ্যমে আশ্রয় নিয়েছিল তাদেরও খোঁজ চলছে। বাংলাদেশে চলে যাওয়ার জন্য সীমান্তে কোন কোন দালালের সঙ্গে কথা হচ্ছিল তাও জানার চেষ্টা চলছে।

গত শনিবার মধ্যরাতে বনগাঁ -বাগদা রোড থেকে দুজনকে আটক করা হয়। পরে পরিচয় নিশ্চিত হয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ভারতীয় গোয়েন্দারা ওসমান হাদির হত্যাকারীদের সম্পর্কে কিছুদিন আগেই বাংলাদেশ থেকে তথ্য পেয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে। তার ভিত্তিতে নজর রাখা হয়েছিল অভিযুক্তদের উপরে। শেষ পর্যন্ত শনিবার রাতে গ্রেপ্তার করে রোববার বিধাননগর আদালতে পেশ করা হয়। বিচারক পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে তাদের ১৪ দিনের জন্য পুলিশ হেফাজত মঞ্জুর করেন।


উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টন এলাকায় রিকশা করে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেল আরোহী দুই যুবকের একজনের গুলিতে হাদি গুরুতর জখম হন। কয়েকদিন পর জরুরিভিত্তিতে চিকিৎসার সিঙ্গাপুর নেয়া হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। এরপরই বাংলাদেশ জুড়ে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে।


বাংলাদেশ পুলিশ অবশ্য তদন্ত করে ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দিয়েছেন। এখন পশ্চিমবঙ্গে হাদি হত্যার প্রধান অভিযুক্ত ও তার সহযোগী প্রেপ্তারের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তৎপরতার সঙ্গে তাদের ফিরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আসামিদের পরিচয় ও অন্যান্য তথ্য নিশ্চিত হতে ভারতের কাছে কনস্যুলার এক্সেসের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এদিন পর্যন্ত ভারতের পক্ষ থেকে অনুমতি দেয়া হয়নি বলে জানা গেছে।