Home Lead ছয় বছরেও নির্মাণ হয়নি সেতুর সংযোগ সড়ক

ছয় বছরেও নির্মাণ হয়নি সেতুর সংযোগ সড়ক

34

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি।।


খুলনার ডুমুরিয়ায় উলা-শরাফপুর ভদ্রা নদীর ওপর সাড়ে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি কোনো কাজে আসছে না। ছয় বছর আগে সেতুর অবকাঠামো নির্মাণকাজ শেষ হলেও সেতুর দুই মাথায় অ্যাপ্রোচ বাঁধের জন্য জমি অধিগ্রহণ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। এতে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে চার ইউনিয়নবাসীকে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ২০ ডিসেম্বর উলা-গজেন্দ্রপুর গ্রামের মধ্যে ভদ্রা নদীর ওপর ৮৪ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করে খুলনার ‘সামছুদোহা কনস্ট্রাকশন’। ৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্প কাজের সময়সীমা ধরা হয় ২০১৯ সালের ১৯ ডিসেম্বর। ২০২২ সালের দিকে সংযোগ সড়কের ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্টরা জমি অধিগ্রহণ এবং জমির মূল্য বাবদ প্রায় ২৮ লাখ টাকা অর্থ বরাদ্দ চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠান। কিন্তু এখন পর্যন্ত অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে অর্থছাড় পাওয়া যায়নি। ২০২৩ সালের জুনের শেষের দিকে বরাদ্দ না পাওয়ায় সংযোগ সড়কের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ছয় বছরের বেশি সময় পার হলেও সেতুটি এলাকাবাসীর কোনো কাজে আসছে না।

গ্রামবাসীর অভিযোগ, শুস্ক মৌসুমে এলাকাবাসী সেতুর পাশ ঘেঁষে মাটির একটি সরু বাঁধ তৈরি করে ভ্যান-ইজিবাইক ও মোটরসাইকেল পারাপারের ব্যবস্থা করেছেন। তবে বর্ষার মৌসুমে দুর্ভোগ চরমে ওঠে। বিশেষ করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নৌকায় পার হয়ে স্কুলে যেতে হয়। কেউ অসুস্থ হলে নৌকায় পার করে হাসপাতালে নিতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এ ছাড়া ডুমুরিয়া সদর, শরাফপুর, সাহস ও ভান্ডাপাড়া ইউনিয়নের তিন লক্ষাধিক মানুষকে প্রায় ৫ কিলোমিটার ঘুরে গন্তব্যে যেতে হয়। পণ্য পরিবহনে অসুবিধায় পড়েন কৃষক ও মৎস্য খামারিরা। এতে ভোগান্তির পাশাপাশি বিপুল অংকের অর্থ বাড়তি ব্যয় হচ্ছে।


স্থানীয় বাসিন্দা মো. আমির আলী শেখ ও পরিমল বিশ্বাস জানান, সেতু এলাকায় একটি ডিগ্রি কলেজ, একটি ব্যাংক, দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুটি মাদ্রাসা, দুটি হাটবাজার, দুটি ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও একটি পুলিশ ক্যাম্প রয়েছে। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ নানা পেশার মানুষ যাতায়াতে সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। সেতুর সংযোগ সড়ক না থাকায় উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জনসাধারণ। ব্যর্থতার দায়ে সংশ্লিষ্টদের শাস্তি ও জবাবদিহির মুখোমুখি করা উচিত।
কাপালিডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা মো. কারিমুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান ও শ্যামল কুমার বলেন, খুলনার ৯টি উপজেলার মধ্যে ডুমুরিয়া মাছ ও সবজির জন্য বরাবরই বিখ্যাত। সেতুর সংযোগ সড়ক না থাকায় গত অর্ধযুগ ধরে এ সড়কে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের নেতা আবু হানিফ পলাতক থাকায় তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ দারুল হুদা বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করেছে। সংযোগ সড়কের জন্য জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার চিঠিও পাঠানো হচ্ছে। অর্থ বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু করা হবে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলি আসগার লবি বলেন, সেতুটির সংযোগ সড়ক নির্মাণে দ্রুত অর্থ বরাদ্দ ছাড়ের ব্যাপারে তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কথা বলবেন। জনস্বার্থে প্রয়োজনে নিজ অর্থায়নে সংযোগ সড়কটি নির্মাণ করে দেবেন।