Home Lead সুন্দরবনে একত্রিত হওয়ার চেষ্টা বিচ্ছিন্ন দস্যু দলগুলোর

সুন্দরবনে একত্রিত হওয়ার চেষ্টা বিচ্ছিন্ন দস্যু দলগুলোর

29


০ শুঁটকিপল্লীতে আক্রমণের পরিকল্পনা
০ চরজুড়ে বিরাজ করছে দস্যু আতঙ্ক
০ মুক্তিপণ দিয়ে ফিরেছেন ১৪ জেলে


শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি।।
সুন্দরবনে চলমান কম্বিং অপারেশনের তোয়াক্কা করছে না সশস্ত্র দস্যুরা। বিচ্ছিন্নভাবে থাকা বাহিনীগুলো একত্রিত হয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে মোকাবেল ও শুঁটকিপল্লীতে ফের আক্রমণেরও পরিকল্পনা করছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। সূত্র জানায়, দস্যুদলগুলো শুঁটকিপল্লীতে হামলা চালিয়ে আরো অনেক জেলেকে অপহরণ করা হবে বলে হুমকি দিয়েছে মহাজনদের। সম্প্রতি অপহৃত জেলেদের মুক্তিপণ হিসেবে দাবি করা কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ টাকা না পাওয়ায় জেলে ও মহাজনদের ওপর চরম ক্ষিপ্ত একাধিক দস্যু বাহিনী। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন দুবলার আলোরকোল, নারকেলবাড়িয়া ও শেলার চরে শুঁটকি উৎপাদনে নিয়োজিত জেলে ও মহাজনরা। যেকোনো সময় আক্রমণ হতে পারে দস্যুদের এমন হুমকির পর গোটা শুঁটকিপল্লীজুড়ে ভীতিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এদিকে বন বিভাগ ও শুঁটকি ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, অপহরণের প্রায় তিন সপ্তাহ পর মুক্তিপণ দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ১৪ জেলে ছাড়া পেয়েছেন। প্রত্যেক জেলেকে মুক্তিপণ হিসেবে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা করে দিতে হয়েছে দস্যুদের। ফিরে আসা ১৪ জেলে নারকেলবাড়িয়া ও শেলার চরের শুঁটকি ব্যবসায়ী মিজান মালি, শাহিনুর মালি, হাবিব ও রবির মহাজনের জেলে। এখনো আলোরকোলের রফিকুল ও খালেক মহাজনের ১২ জেলে জিম্মি রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ওই দুই মহাজন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনী পূর্ব সুন্দরবনের শেলার চর শুঁটকিপল্লীতে হানা দিয়ে একটি ট্রলারসহ ছয় জেলেকে এবং ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় ২০টি ট্রলার থেকে ২০ জেলেকে অপহরণ করেছিল বনদস্যু জাহাঙ্গীর ও সুমন বাহিনী। বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে শেলার চরের শুঁটকি ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন মিঠুর পাঠানো এক অডিও বার্তায় জানা যায়, দস্যুরা চার মহাজনের ১৪ জেলেকে ছেড়ে দিয়েছে। এখনো দুই মহাজনের ১২ জেলে জিম্মি রয়েছেন। প্রত্যেক জেলের জন্য ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিতে হয়েছে। অডিও বার্তায় আরো জানা যায়, দস্যুরা শেলার চরের প্রতিটি জেলে ঘর থেকে এক লাখ টাকা করে চাঁদা দাবি করেছে। ৫০টি ঘর থেকে ৫০ লাখ টাকা দিতে হবে তাদের। অপরদিকে, আলোরকোলে ও নারকেলবাড়িয়া শুঁটকিপল্লীর অপহৃত ২০ জেলের মুক্তিপণ হিসেবে ট্রলারপ্রতি (২০টি ট্রলার) তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা করে দাবি করে জাহাঙ্গীর ও সুমন বাহিনী। কাঙ্ক্ষিত চাঁদা ও মুক্তিপণের দাবি পূরণ না হওয়ায় জেলে ও মহাজনদের ওপর ক্ষিপ্ত দস্যুরা।
শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্র দুবলার চরের বিশেষ টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ফরেস্ট রেঞ্জার) মিল্টন রায় অপহরণের শিকার জেলেদের মহাজনদের বরাত দিয়ে বলেন, মোবাইল ফোনে মহাজনদের হুমকি দিয়ে দস্যুরা তাদের শক্তির জানান দিয়েছে। মহাজনরা জানিয়েছেন, বিচ্ছিন্নভাবে থাকা ছোটবড় দস্যু বাহিনীগুলো তাদের নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে সংঘবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছে। দস্যু বাহিনীগুলো ঐবদ্ধভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও মোকাবেলা করার পরিকল্পনা করছে। ফরেস্ট রেঞ্জার মিল্টন রায় আরো বলেন, চাহিদা অনুযায়ী চাঁদা না পাওয়ায় সংঘবদ্ধ দস্যুরা যে কোনো সময় শুঁটকি পল্লীতে হানা দিয়ে ব্যাপক সংখ্যক জেলে অপহরণের হুমকি দিয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শুঁটকি উৎপাদনকারী চরগুলোতে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সুন্দরবনে দস্যু নির্মূলে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হলেও পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ এলাকায় এর কোনো প্রভাব পড়েনি। যে কারণে শরণখোলা রেঞ্জের বনাঞ্চল এখন দস্যুদের অভযারণ্যে পরিণত হয়েছে। তারা জেলে অপহরণসহ মহাজনদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। তাই দ্রুত শরণখোলা রেঞ্জে অভিযান পরিচালনার দাবি জানান এই বন কর্মকর্তা।