Home আঞ্চলিক রক্ত নিয়ে শরীরে ঢুকেছিল এইচআইভি, এক যুগ ধরে সুমন-রত্নার হার না মানা...

রক্ত নিয়ে শরীরে ঢুকেছিল এইচআইভি, এক যুগ ধরে সুমন-রত্নার হার না মানা লড়াই

19

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি।।

মরণঘাতী এইচআইভি ভাইরাস শরীরে নিয়েও গত ১২ বছর ধরে একে অপরের হাত ধরে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন ঝিনাইদহের মহেশপুরের এক দম্পতি। সামাজিক অবজ্ঞা আর শারীরিক প্রতিকূলতাকে জয় করে নিয়মিত চিকিৎসা ও অদম্য আত্মবিশ্বাসের জোরে সুমন (৪৫) ও রত্না (৩৮) (ছদ্মনাম) এখন অনেকটাই স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন।

দেড় দশক আগের এক দুর্ঘটনার কথা স্মৃতির পাতা থেকে হাতড়ে বেড়ান সুমন। তেঁতুল গাছ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হওয়ার পর জরুরি ভিত্তিতে তাঁর শরীরে রক্ত দিতে হয়েছিল। সুমন বলেন, তখন পরীক্ষা ছাড়াই রক্ত দেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকদের ধারণা, সেখান থেকেই সংক্রমণটা শরীরে ঢুকে পড়ে।

বিয়ের পর প্রায়ই অসুস্থ থাকতেন সুমন। পরে ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা করালে তাঁর শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়। এর কিছুদিন পর স্ত্রী রত্নার পরীক্ষার ফলও পজিটিভ আসে। খবরটি তাঁদের সাজানো সংসারে বজ্রপাতের মতো আছড়ে পড়ে।

সেই দুর্বিষহ দিনগুলোর কথা মনে করে রত্না বলেন, প্রথমে মনে হয়েছিল সব শেষ। আত্মীয়-স্বজন অনেকে দূরে সরে গিয়েছিল, কেউ কেউ অপমানও করেছে। কিন্তু আমরা হাল ছাড়িনি।

বর্তমানে এই দম্পতি নিয়মিত অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল (এআরভি) ওষুধ সেবন করছেন। চিকিৎসকের নিয়মিত তত্ত্বাবধান আর সঠিক জীবনযাত্রার ফলে তাঁরা এখন স্বাভাবিকভাবে নিজেদের কাজকর্ম চালিয়ে যেতে পারছেন। সুমন বলেন, নিয়ম মেনে চললে এইচআইভি নিয়েও যে সুস্থভাবে বাঁচা যায়, আমরা তার প্রমাণ।

এ বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হেলেনা আক্তার নিপা ইনকিলাবকে জানান, এইচআইভি কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়। অনিরাপদ যৌন মিলন বা পরীক্ষাবিহীন রক্ত গ্রহণের মাধ্যমে এটি ছড়ায়। সরকারি ব্যবস্থাপনায় আক্রান্তদের জন্য বিনামূল্যে ওষুধ ও পরামর্শ দেওয়া হয়। নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে আক্রান্ত ব্যক্তি দীর্ঘকাল সুস্থ থাকতে পারেন এবং অন্যদের সংক্রমণের ঝুঁকিও কমে যায়।

স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, এইচআইভি নিয়ে সামাজিক কুসংস্কার এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ১২ বছরের এই দীর্ঘ পথচলায় সুমন-রত্না দম্পতির গল্পটি কেবল একটি সতর্কবার্তাই নয়, বরং সঠিক চিকিৎসা ও সামাজিক সহমর্মিতার মাধ্যমে বেঁচে থাকার এক অনন্য প্রেরণা।