কলারোয়ায় একই পরিবারের চারজন, মণিরামপুরে দুই যুবক ও মাগুরায় এক যুবককে গলা কেটে হত্যা, ঝিনাইদহে যুবক ও ফকিরহাটে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার
শরিফুল ইসলাম টিপু
হঠাৎ করেই খুলনা অঞ্চলের আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে। খুন, ধর্ষণ, মাদক, চাঁদাবাজি এসব খুলনা অঞ্চলের জনজীবনে নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাড়িয়েছে। গতকাল খুলনার সাতক্ষীরায় একই পরিবারের ৪জনকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মণিরামপুরে দুই যুবককে গলাকেটে, মাগুরায় এক যুবককে গলাকেটে ও ঝিনাইদহে এক যুবক ও ফকিরহাটে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে এসব হত্যাকান্ডের ঘটনা জানাগেছে।
কলারোয়ায় একই পরিবারের চারজনকে গলাকেটে হত্যা: আমাদের সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি খান নাজমুল ইসলাম পুলিশের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন কলারোয়া উপজেলায় একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোর রাতে উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের খলসি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- খলসি গ্রামের শাহাজান আলীর ছেলে হ্যাচারি মালিক শাহিনুর রহমান (৪০), তার স্ত্রী সাবিনা খাতুন (৩০), ছেলে সিয়াম হোসেন মাহি (৯) ও মেয়ে তাসনিম (৬)। এ ঘটনায় শাহিনুরের চার মাস বয়সী অপর সন্তান বেঁচে আছে।
শাহিনুর রহমানের ছোট ভাই রায়হানুল ইসলাম জানান, বাড়িতে মা ও বড় ভাইয়ের পরিবারের পাঁচ সদস্যসহ তারা সাত জন থাকতেন। মা কাল আত্মীয়ের বাড়িতে ছিলেন। তিনি (রায়হানুল) ছিলেন পাশের ঘরে। ভোরে পাশের ঘর থেকে তিনি বাচ্চাদের গোঙানির শব্দ শুনতে পান। তাৎক্ষণিক এগিয়ে গিয়ে দেখেন ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকানো। দরজা খুলে দেখেন ভাই-ভাবির মরদেহ। এর কিছুক্ষণ পর বাচ্চারাও মারা যায়। তবে শাহিনুরের চার মাস বয়সী অপর সন্তান মারিয়া বেঁচে আছে। তার শরীর কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই।
তিনি আরও জানান, তাদের সঙ্গে জমি-জায়গা নিয়ে পাশের কিছু লোকের বিরোধ রয়েছে। কিন্তু কারা এ ঘটনা ঘটালো তা বুঝতে পারছি না। কলারোয়া থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মফিজুল ঘটনাস্থল থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিজেদের ঘরের মধ্যে গৃহকর্তা শাহিনুর রহমানসহ চার জনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এদের মধ্যে শাহিনুরের পা বাধা ছিল এবং তাদের চিলে কোঠার দরজা খোলা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে ছাদের চিলে কোঠার দরজা দিয়ে হত্যাকারীরা ঘরের মধ্যে প্রবেশ করে। ঘটনার রহস্য উন্মোচনে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।
মণিরামপুরে দুই ভাইকে গলাকেটে হত্যা: আমাদের মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন জানান, মণিরামপুরে দুই যুবককে কুপিয়ে ও গলাকেটে হত্যা করেছে দুবৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাতটার দিকে উপজেলার ঢাকুরিয়া উত্তরপাড়ায় ফাঁকা রাস্তার উপরে ঘটনাটি ঘটে। নিহতরা হলেন, যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া জয়ন্তা গ্রামের প্রবাসী আক্তার গাজীর ছেলে বাদল গাজী (২২) ও নিকমল মোল্যার ছেলে আহাদ মোল্যা (২২)। নিহতরা দুইজন সম্পর্কে প্রতিবেশী চাচাত ভাই। তাদের মধ্যে বাদল রূপদিয়া বাজারে ইন্টারনেট সংযোগের কাজ করতেন। আর আহাদ পেশায় কৃষক। খবর পেয়ে রাত নয়টার দিকে থানা পুলিশ লাশ হেফাজতে নিয়েছে। ঘটনাস্থল তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও দুটি মোবাইল ফোন পড়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে কি কারণে কারা তাদের হত্যা করেছে তা উপস্থিত জানা যায়নি। ঘটনাস্থলের পাশের বাড়ির বাসিন্দা নাসির বিশ্বাস বলেন, সন্ধ্যার কিছুসময় পরে আমি বাড়ির উঠনে বসে ছিলাম। তখন রক্তাক্ত একজন দৌঁড়ে এসে বলেন, চাচা, আমারে বাঁচান। এই বলে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়। তখন আমরা বাড়ির সবাই চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে নিয়ে ভ্যানে করে হাসপাতালে রওনা হয়। পথিমধ্যে সদর উপজেলার চাউলিয়া গেটে গেলে তার মৃত্যু হয়। পরে লোকজন এগিয়ে গিয়ে দেখেন আর একজনের লাশ রাস্তায় (ঘটনাস্থলে) পড়ে আছে। ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা লাশটি বাদলের। আর হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত যুবকের নাম আহাদ। নিহতদের স্বজনরা জানান, বাদল কয়দিন আগে নতুন মোটরসাইকেল কেনে। ইন্টারনেট ব্যবসার পাশাপাশি সে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাত। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পরে বাদল ও আহাদ বসুন্দিয়া জয়ন্তা বাজারে কেরামবোর্ড খেলছিল। তখন বাদলের মোবাইলে কল আসলে তারা দুইজন মোটরসাইকেলে করে চলে আসে। স্থানীয়দের ধারণা, মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের উদ্দেশে তাদের ডেকে এনে খুন করে দুর্বৃত্তরা। দ্রুত ঘটনাটি আশপাশের লোক টের পাওয়ায় তারা মোটরসাইকেল রাস্তার উপর ফেলে পালিয়ে যায়। মণিরামপুর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই দেবাশীষ বিশ্বাস বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। লাশ দুটি ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। উপস্থিত হত্যার কারণ জানা যায়নি।
মাগুরায় এক ব্যক্তির গলাকাটা লাশ উদ্ধার: আমাদের মাগুরা প্রতিনিধি জানান, মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার দারিয়াপুর ইউনিয়নের চৌগাছা গ্রামে বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মনিরুল মীর (৪০) নামে এক ব্যক্তির গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মনিরুল ওই গ্রামের ইসহাক মীরের ছেলে। সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্থানীয় একটি ধান ক্ষেতের মাঠ থেকে তার গলাকাটা লাশটি উদ্ধার করা হয়। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলি আহমেদ মাসুদ জানান, সুদে টাকা লেনদেনের ব্যবসা করতেন মনিরুল। বিকালে তাকে স্থানীয় বাজারে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে কোনও বাড়ির রাস্তা থেকে আনুমানিক ৫০০ গজ দূরে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে দুর্বৃত্তরা তার গলা কেটে হত্যা করে। কিছুক্ষণ পর গ্রামবাসী ঘটনাস্থলে গলাকাটা লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। মনিরুলের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।
হরিণাকুন্ডুতে ধানক্ষেত থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার: আমাদের ঝিনাইদহ প্রতিনিধি খাইরুল ইসলাম নিরব জানান, ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার তাহেরহুদা গ্রামের একটি ধান ক্ষেত থেকে আলামিন হোসেন (২৭) নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে ভবানীপুর গ্রামের দোয়ারমাঠ থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত আলামিন ভবানীপুর গ্রামের শফিউদ্দিনের ছেলে। এ ঘটনায় চম্পা খাতুন ও পারুলা খাতুন নামের ২ নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। হরিণাকুন্ডু থানার ওসি আব্দুর রহিম মোল্লা জানান, ভবানীপুর গ্রামের দোয়ারমাঠের একটি ধান ক্ষেতে আলামিনের লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয় এলাকাবাসী। পরে পুলিশ এসে তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ। পরকীয়া প্রেমের জের ধরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
ফকিরহাটে মৎস্য ঘের থেকে নারীর মৃতদেহ উদ্ধার: আমাদের ফকিরহাট প্রতিনিধি পি কে অলোক ও আসাদুজ্জামান জানান, বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার বাহিরদিয়া-মানসা ইউনিয়নের সাতবাড়িয়া এলাকার একটি মৎস্য ঘের থেকে সুমি বেগম পুতুল (২৬) নামের এক নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ১৫ অক্টোবর সকাল ১০টায় মৃতের বাড়ী থেকে ২শতগজ দুরে একটি মৎস্য ঘের থেকে নারকেল গাছের পাতা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় উদ্ধার করে। এলাকাবাসী জানায়, সাতবাড়িয়া এলাকার সিদ্দিক শিকদারের স্ত্রী সুমি বেগমকে স্থানীয় এক নারী পানী আনতে যাওয়ার সময় উক্ত ঘেরে মৃত অবস্থায় দেখতে পেলে সকলকে জানায়। খবর পেয়ে ফকিরহাট মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আবু সাঈদ মো: খায়রুল আনাম সহ সংগীয় ফোর্স ঘটনাস্থল উপস্থিত হয়ে প্রাথমিক সুরোতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়না তদন্তের জন্য মৃতদেহ উদ্ধার করে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠিয়েছে। এ ব্যাপারে অফিসার ইনচার্জ জানান, মৃতদেহে কোন আঘাতের চিহৃ পাওয়া য়ায়নি। কি কারনে অথবা কিভাবে মারা গেছে তা এখনও সঠিক ভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে ময়না তদন্ত রিপোর্ট আসলে এর আসল রহস্য উদঘাটন হবে। এদিকে মৃতের মাতা আকলিমা বেগম দাবী করেন তার কন্যাকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এর সঠিক তদন্তপূর্বক বিচার দাবী করেন। এ ব্যাপারে স্থানীয় কয়েকজন নারী পুরুষের সাথে আলাপকালে তারা বলেন যে অবস্থায় যেখানে তার মৃতদেহ পাওয়া গেছে তাতে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে তাকে হত্যা করা হতে পারে। জানা গেছে, নিহত সুমি বেগম, পিলজংগ ইউনিয়নের টাউন-নওয়াপাড়া গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের কন্যা। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মডেল থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল।











































