খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।।
সাজানো-গোছানো শ্রেণিকক্ষ শিক্ষার্থীতে ঠাসা। ছোট বেঞ্চে গাদাগাদি করে তিনজন বসে পরীক্ষা দিচ্ছে। তাতেও স্থান সংকুলান হচ্ছে না। চতুর্থ শ্রেণির অপেক্ষাকৃত বড় শিক্ষার্থীদের বসানো হয়েছে বারান্দায়। সেখানে তীব্র রোদে কাহিল হয়ে পড়ছে শিশুরা। এর মধ্যেই চলছে বার্ষিক পরীক্ষা। জায়গা না থাকায় শতাধিক শিশু পরীক্ষা দিচ্ছে স্টোর রুমে (সরঞ্জাম রাখার ঘর) বসে।
দৃশ্যটি খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার মুহাম্মদনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। ২০২৩ সালে দেশসেরা প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্বাচিত হয় এটি। এ ছাড়া প্রায় বছরই উপজেলা ও জেলার সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বাচিত হয়। সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলেও এখানে সুযোগ-সুবিধা সবচেয়ে কম।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক এক হাজার ২৮৮ শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে বিদ্যালয়টিতে। অথচ তাদের জন্য খেলার মাঠ নেই, নেই শহীদ মিনারও। সবচেয়ে বড় সংকট শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষের।
প্রাথমিক শিক্ষা নীতিমালা অনুযায়ী, ৩০ শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক ও একটি শ্রেণিকক্ষ থাকতে হবে। সেই হিসাবে বিদ্যালয়ে ৪৩টি শ্রেণিকক্ষ ও ৪৩ জন শিক্ষক প্রয়োজন। কক্ষ আছে মাত্র ২০টি। স্থায়ী শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ১৬ জন। স্থান সংকুলান না হওয়ায় বিদ্যালয়ে দুই শিফটে ক্লাস নেওয়া হয়। তাতেও কাজ না হওয়ায় স্টোররুমকেও শ্রেণিকক্ষ বানানো হয়েছে।
শিক্ষকরা জানান, বিদ্যালয়ের লেখাপড়ার মান যে কোনো বিদ্যালয় থেকে ভালো। চলতি বছর প্রায় দুই হাজার অভিভাবক ভর্তির আবেদন সংগ্রহ করেন। জায়গা না থাকায় ভর্তি করা হয়েছে এক হাজার ২৯৩ জনকে। বিদ্যালয়টির সব সমস্যার মূলেই নিজস্ব জমির অভাব।
সম্প্রতি বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা গেছে, সাজানো-গোছানো ছবির মতো পরিবেশ। প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে পাঠ্যবইয়ের বিভিন্ন শিক্ষণীয় দৃশ্য আঁকা। বিদ্যালয়টিতে বার্ষিক পরীক্ষা চলছিল। বারান্দায় বসে পরীক্ষা দিচ্ছে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান ময়না বলেন, প্রতিটি সভা-সেমিনারে জমি অধিগ্রহণ ও শিক্ষক পদায়নের যৌক্তিকতা তুলে ধরি। পাঁচ বছর ধরে চিঠি চালাচালি চলছে, কিন্তু কাজ হচ্ছে না। তিনি বলেন, বর্তমানে উপজেলার ১১৭টি বিদ্যালয়ের মধ্যে সবচেয়ে ভালো ফল করে এই বিদ্যালয়। আরও শ্রেণিকক্ষ ও পর্যাপ্ত শিক্ষক থাকলে জেলার মধ্যে ফলে সেরা হবে এই স্কুল।
খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ অহিদুল আলম বলেন, জমি অধিগ্রহণ, শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষের জন্য অনেকবার চিঠি লেখা হয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।-সমকাল











































