#
মো: রাজু হাওলাদার
খুলনা নগরীতে বেশিরভাগ বেকার যুবকদের সংসার চালানোর একমাত্র ভরসা ইজিবাইক। কেউ নিজের উদ্যোগে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য নগদে বা কিস্তিতে কিনছে ইজিবাইক। আবার কেউ ভাড়ায় চালিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। অনেকাংশে সব শ্রেণির মানুষের জীবিকা নির্ভরের মাধ্যম হচ্ছে ইজিবাইকে। তবে এক শ্রেণির বেপরোয়া চালকদের দাপটে অস্থির নগরজীবন। যাদের অধিকাংশই অযোগ্য, অদক্ষ কিংবা অপ্রাপ্ত বয়স্ক/উঠতি বয়সী। সড়কে নেমে না বুঝে, না দেখেই তারা কখনো পথচারী, কখনো প্রাইভেট কার, আবার কখনো মোটরসাইকেলের সঙ্গে দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছেন। তাদের দাপুটে ঝগড়াঝাটি তাদের নিত্যকার স্বভাব ও চালচিত্র । এমনকি কোনো ইজিবাইক চালক দুর্ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে গেলে তার গ্যারেজ বা মালিকের চালক বা গাড়ি সনাক্ত করার জন্য খোঁজ খবর নিতে চেষ্টা করলে পড়তে হয় ‘মহাজন’ সিণ্ডিকেট বাহিনীর রোষানলে। এই সিণ্ডিকেটের কাছে অনেকটাই জিম্মি নগরীর সাধারণ যাত্রীরা।
খোঁজ নিয়ে জানাগছে, খুলনা নগরীর ময়লাপোতা, নিরালা, গল্লামারি, সাতরাস্তা, রূপসা, ডাকবাংলা, শিব বারি, নিউমার্কেট, বয়রা, বৈকালি আদ দীন হাসপাতালের সামনে ও বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে গড়ে উঠেছে ইজিবাইক সিণ্ডিকেট। শুধু সিণ্ডিকেটেই থেমে নেই রূপ নিচ্ছে সন্ত্রাসীতে। দলবদ্ধ হয়ে করছে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। প্রশাসনের ভূমিকা নেই বললেই চলে। এই সিণ্ডিকেটের কারণেই যাত্রীরা বিভিন্ন সময় হচ্ছে চালকদের কাছে লাঞ্ছিত। শুধু যাত্রীরাই না বাস চালক, মাহিন্দ্রা চালক হচ্ছে অপমানিত। এই সিন্ডিকেটের হাত থেকে লাঞ্ছনার রক্ষা পাচ্ছে না ট্রাফিক পুলিশও।
ইজিবাইক চালকদের দুর্ব্যবহারের কিছু চিত্র সম্প্রতি কিছু ঘটনা স্যোশাল মাধ্যমে দেখা গেছে, সেখানে এক ট্রাফিক পুলিশকে চাককের হুমকি ও মারমুখী আচরণ করতে দেখা গেছে। এঝাড়া ইজিবাইক সিন্ডিকেটের হাতে রোগীর স্বজন ও মাহিন্দ্রা চালকও আহত হয়েছে।
জানা যায়, (২৬ এপ্রিল শনিবার) রাত সাড়ে দশটা আদ-দ্বিন হাসপাতালে মাহিন্দা চালক সুমন আসেন আপন ভাগ্নিকে নিয়ে সিজারের জন্য। মাহিন্দ্রা রাস্তার একপাশে রেখে হাসপাতালে প্রবেশ করার প্রস্তুতি নিলে মাহিন্দ্রা সরাতে বলেন আদ-দিন হাসপাতালের ইজিবাইক সিণ্ডিকেটের সদস্যরা। সুমন মাহিন্দ্রা সরাতে না চাইলে একজন হাত পা ধরে ও ৮-১০ জন মিলে বেধড়ক মারধর করে মাহিন্দ্রা চালক সুমনকে।
ঈদের দ্বিতীয় দিন সন্ধ্যায় ময়লাপোতা মোড় সিটি মেডিকেলের সামনে থেকে রিকশাযোগে পরিবার নিয়ে নিউমার্কেটের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল খুলনার র্যাবে কর্মরত এক সদস্য। পিছন থেকে তার রিক্সায় মেরে দেয় এক অল্প বয়সী ইজিবাইক ড্রাইভার। ইজিবাইক চালকের কানে ছিল হেডফোন। তিনি সঙ্গে সঙ্গে রাস্তায় পড়ে যান। ইজিবাইক চালককে জিজ্ঞাসা করলে, চালক র্যাব সদস্যের জামার কলার চেপে ধরেন। মারমুখী হয়ে যান ইজিবাইক চালক। তিনি সঙ্গে সঙ্গে তার আইডি কার্ড দেখালে প্রস্তুতি নিয়ন্ত্রণ হয়।
সম্প্রতি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে ট্রাফিক পুলিশের সাথে দুর্ব্যবহার। মাহে রমজান চলাকালে নগরীর খুলনা থানার ৪ রাস্তার মোড়ে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালন করছিলেন ইসমাইল শেখ। সিগন্যালে দেরি হওয়ায় ইজিবাইক চালক মারমুখি হয়ে তার কাছে যান। ইজিবাইক চালক বলেন, ‘এখন পুলিশ গোনার সময় নাই। মামলার ভয় করি না। বেশি কথা বললে মাইর খাবেন। আপনার যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন।’
এই সকল বিষয় ভিডিও ফুটেজ থাকলেও এই ব্যাপারে প্রশাসনে রয়েছে রহস্যময় নিরবতা। তারা এসব ঘটনায় কোন পদক্ষেপই নেয়নি।
খুলনা মেট্রোপলিটন উপ পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) সুদর্শন কুমার রায় খুলনাঞ্চলকে বলেন, ২৮ এপ্রিল সোমবার থেকে ৪টি ব্যাচে ইজিবাইক চালকদের নিয়ে আচরণগত দিক ও প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছেন। এরকম কর্মশালা আগামীতে ধারাবাহিকভাবে চলবে। এতে চালকরা আরো সচেতন হবেন বলে আশাকরছি।











































