কয়রা প্রতিনিধি।।
শনিবার উপকূলীয় জনপদ কয়রায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ‘আমিন এন্ড কোং’ নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি থেকে জোরপূর্বক মাটি কেটে নেওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩১ জন জমির মালিক আজ শনিবার বেলা ১১টায় কয়রা উপজেলা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী কর্ণধর মন্ডল লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, সরকার কর্তৃক অনুমোদিত পূর্নবাসন প্রকল্পের আওতায় রাস্তা সংস্কারের কাজ করার সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি খাস জায়গা থাকা সত্ত্বেও তাদের জমির ভেতরের অংশ দিয়ে রাস্তা সম্প্রসারণ করে।
এর ফলে তাদের অনেক জমি রাস্তার নিচে চলে গেছে। শুধু তাই নয়, রাস্তা সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় মাটিও নিয়ম বহির্ভূতভাবে স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতা ও প্রকৌশলী লিয়াকত আলীর যোগসাজশে তাদের কৃষি জমি থেকে এক্সেভেটর দিয়ে কেটে নেওয়া হয়েছে। এতে তাদের উর্বর কৃষি জমি ফসল উৎপাদনের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। জমির মালিকরা বাধা দিতে গেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন দুর্ব্যবহার করে এবং কোনো প্রকার ক্ষতিপূরণ দেবে না বলে জানিয়ে দেয়।
কর্ণধর মন্ডল আরও জানান, এই ঘটনার প্রতিকার চেয়ে তারা গত ০২/০২/২০২৫ তারিখে পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) সাতক্ষীরা পওর বিভাগ-০২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী এবং কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং পরবর্তীতে মানববন্ধন করেন। তদন্তের পর বাপাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ আশিকুর রহমান ক্ষতিগ্রস্ত জমির তালিকা তৈরি করে দ্রুত ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিলেও অদ্যাবধি কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি সাতক্ষীরা পওর বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সাখাওয়াত হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো সদুত্তর দেননি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা মনে করছেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সাতক্ষীরা পওর বিভাগ-০২ এর কতিপয় কর্মকর্তার যোগসাজশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘আমিন এন্ড কোং’ তাদের জমি থেকে জোরপূর্বক মাটি কেটে নিয়ে মারাত্মক ক্ষতি করেছে। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ভুক্তভোগীরা বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জোর দাবি জানান, যাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘আমিন এন্ড কোং’ তাদের ক্ষতিগ্রস্ত জমি পুনরায় ভরাট করে দেয় এবং তারা উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পান।











































