স্টাফ রিপোর্টার।।
ছাত্র সমন্বয়ক পরিচয়ে খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার মজিদ স্মরণির একটি বহুতল ভবনে গিয়ে চাঁদা দাবির ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) রাতে নগরীর মজিদ স্মরণির ১৩৩/ক নম্বর হোল্ডিংয়ের সুলতান টাওয়ারের হিসাব কর্মকর্তা রাজা মিজানুর রহমান নগরীর সোনাডাঙ্গা থানায় এই জিডি করেন।
জিডিতে উল্লেখ করেন, সুলতান টাওয়ার নামের ভবনটিতে সম্প্রতি কিছু যুবক এসে ভাড়াটিয়াদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখায়। তারা নিজেদেরকে ছাত্র সমন্বয়ক দাবি করছে। প্রায়ই ওইসব অপরিচিত যুবকরা এসে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে বলেন-, ‘আপনাদেরকে এখান থেকে নেমে যেতে হবে। এই ভবন আমরা দখলে নেবো। না নামলে আপনাদের অনেক ক্ষতি হবে’। এছাড়া বিভিন্ন মোবাইল থেকে ভবনের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা কর্মচারীদেরও ফোন দিয়ে হুমকি দেয়া হয়।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ভবনটিতে এসে কয়েকজন যুবক হুমকি দিয়ে যায়। এরপর ৩ মার্চ আবার এসে ভবনের কেয়ারটেকার মনিরকে তুলে নিতে চায়। তখন তাদেরকে ২৫ হাজার টাকা দিয়ে হাত-পা ধরে রক্ষা পায়। পরে যাওয়ার সময় হুমকি দিয়ে তারা জানায়, এ ভবনটি তাদেরকে ছেড়ে দিতে হবে। তা না হলে ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়া হবে। এমনকি বুলডোজার দিয়ে ভবনটি গুড়িয়ে দেয়া হবে।
সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার রাতে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল সুলতান টাওয়ারের সামনে এসে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করে। ওইসময় ভবনে যারা উপস্থিত ছিলেন তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, কোনো চাঁদাবাজকে ছাড় দেয়া হবে না। যত বড় শক্তিশালী হোক না কেন তাদেরকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নেয়া হবে। কোনো ভবন গুড়িয়ে দেয়ার দায়িত্ব কাউকে দেওয়া হয়নি। তিনি আরও বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে জিডির ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রসঙ্গত, খুলনায় সম্প্রতি ছাত্র পরিচয় দিয়ে বাড়ি, অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রায়ই মব তৈরির ঘটনা ঘটছে। আওয়ামী লীগ নেতা, সমর্থক ও ব্যবসায়ীদের অফিসে যাচ্ছে ছাত্র পরিচয় দেয়া যুবকরা।










































