খুলনা মহানগর বিএনপির সম্মেলন আজ
সৈয়দ রানা কবীর/মিলি রহমান।।
দল প্রতিষ্ঠার ৪৭ বছর পর এই প্রথম সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্ধারণ হবে খুলনা মহানগর বিএনপির নেতৃত্ব। আজ সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে সার্কিট হাউস মাঠে দলের মহানগর শাখার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। বিকেলে জেলা স্টেডিয়ামের জিমনেশিয়ামে অনুষ্ঠিত ভোটে নির্বাচিত হবেন সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক। প্রধান তিনটি পদে ১২ নেতা প্রার্থী হয়েছেন। ভোট দেবেন নগরীর পাঁচ থানার ৫০৫ কাউন্সিলর।
এদিকে দীর্ঘ ১৬ বছর পর খুলনা মহানগর বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন সফলে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে দলটি। সম্মেলন ঘিরে চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন নেতা-কর্মীরা। মহানগর বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাসুদ হোসেন রনি জানায়, সভাপতি পদে বিএনপি নেতা এস এম শফিকুল আলম মনা, তারিকুল ইসলাম জহির ও সাহাজী কামাল টিপু; সাধারণ সম্পাদক পদে বিএনপি নেতা শফিকুল আলম তুহিন, কাজী মাহমুদ আলী ও নাজমুল হুদা চৌধুরী সাগর প্রার্থী হয়েছেন। সাংগঠনিক সম্পাদকের তিনটি পদে প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি নেতা শের আলম সান্টু, মাসুদ পারভেজ বাবু, মাহবুব হাসান পিয়ারু, হাসানুর রশিদ চৌধুরী মিরাজ, তারিকুল ইসলাম তারিক ও শেখ সাদী।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। উদ্বোধক থাকবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা সাবেক মন্ত্রী আমান উল্লাহ আমান। ইতোমধ্যে ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা তৈরি করা হয়েছে। আজ ভোটে কারা নেতৃত্বে আসছেন জানতে চাইলে অধিকাংশ কাউন্সিলর মনা-তুহিন’র পক্ষে রায় দেয়ার কথা জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য দলের নিরাপদ নেতৃত্ব চাইলে মনা তুহিনের বিকল্প নেই। তাদের কাছে-ই দল নিরাপদ। বিগত সময়ে তাদের নেতৃত্বে ওয়ার্ড ও থানা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোন ধরণের বিতর্ক ছাড়া। এছাড়া পতিত সরকারের দমন-পীড়নের সময়ে মনা-তুহিনই তৃণমুলের খোঁজ-খবর রেখেছেন। মামলা-মোর্কদ্দমার সকল খরচ তারা করেছেন। এমনকি কারাবন্দি নেতাকর্মীদের বাড়ির বাজার সদায় তারাই দিয়েছেন।
কয়েকজন কাউন্সিলর নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সভাপতি পদে আর যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তারা তাদের একজন থানা সম্মেলনে সভাপতি পদে মাত্র তিন ভোট পেয়েছিলেন। আরেক জন জনবিচ্ছিন্ন নেতা- আহবায়ক কমিটিতে পদ পেলেও নেতাকর্মীদের সাথে তার পরিচয় নেই বললেই চলে। এছাড়া তিনি দলের দুর্দিনে নেতাকর্মীদে খোঁজ রাখাতো দুরের কথা দলের কোন কর্মসুচিতেই থাকতেন না। তিনি তার ব্যবসা নিয়ে ব্যাস্ত সময় পার করেছেন। সাধারণ সম্পাদক পদে ওই সকল কাউন্সিলর শফিকুল আলম তুহিনের পক্ষেই থাকবেন বলে জানিয়েছেন।
মহানগর বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিলটন জানান, সম্মেলন সফল করতে মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে নগরীতে চলছে মাইকিং। গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে স্থাপন করা হয়েছে প্ল্যাকার্ড। রাতে দলীয় কার্যালয় ও শিববাড়ি মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে আলোকসজ্জা করা হচ্ছে। চলছে মঞ্চ তৈরির কাজ। নির্মাণ করা হয়েছে অসংখ্য তোরণ। এছাড়া প্রার্থীরা নিজেদের ছবি সম্বলিত প্যানা ও প্ল্যাকার্ড স্থাপন করেছে। সম্মেলন সফল করতে কাজ করছে ২১টি উপ-কমিটি। দলীয় কার্যালয়ে নেতা-কর্মীদের পদচারণা বেড়েছে। মিলটন আরো জানায়, সম্মেলনের শেষে জাসাসের আয়োজনে মনোজ্ঞ সঙ্গীত পরিবেশন করবেন দেশবরেন্য কন্ঠশিল্পি বেবি নাজনীন, মনির খান, নাসির, মেজবাহ সহ অনেকে।
এদিকে বিএনপি নেতারা জানায়, ২০২১ সালের ৯ ডিসেম্বর মহানগর বিএনপির ৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি এবং পরে ২০২২ সালের ১ মার্চ ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়েছিল। ইতোমধ্যে নগরীর ৩১টি ওয়ার্ড, তিনটি ইউনিয়ন ও পাঁচটি থানায় সম্মেলনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। সম্মেলনের পর মহানগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি হবে ১৫১ সদস্যের। এর আগে খুলনা মহানগর বিএনপির সবশেষ সম্মেলন হয়েছিল ২০০৯ সালের ২৩ নভেম্বর।
মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন জানান, কাউন্সিলর, ডেলিগেট, আমন্ত্রিত অতিথিসহ প্রায় ১০ হাজার নেতা-কর্মীর সমাগম হবে খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে। ইতোমধ্যে প্রায় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।











































