Home স্বাস্থ্য দাদ রোগ হলে যে ওষুধ ব্যবহার করবেন না

দাদ রোগ হলে যে ওষুধ ব্যবহার করবেন না

18


ডা. তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী।।

মাথা থেকে পা পর্যন্ত শরীরের যে কোনো জায়গায় দাদ হতে পারে। রোগ থেকে মুক্তি পেতে চাইলে নিতে হবে সঠিক চিকিৎসা।


দাদ রোগের লক্ষণ : দাদের প্রধান উপসর্গ হলো ফুসকুড়ি বা র‌্যাশ। এই র‌্যাশ দেখতে সাধারণত আংটির মতো গোল হয়ে থাকে। রঙ হয় লালচে। তবে রোগীর ত্বকের বর্ণভেদে এটি রূপালি দেখাতে পারে। আবার আশপাশের ত্বকের চেয়ে গাঢ়বর্ণও ধারণ করতে পারে। দাদ রোগে ত্বকের বর্ণ পরিবর্তনের পাশাপাশি র‌্যাশের উপরিভাগে ছোট ছোট আঁশ থাকতে পারে। এছাড়া আক্রান্ত স্থানে যে লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে তা হলোÑ ত্বক কিছুটা খসখসে বা শুকনো হয়ে গিয়েছে মনে হতে পারে। স্থানটি ফুলে যেতে পারে। চুলকানি দেখা দিতে পারে। আক্রান্ত ত্বকের ওপরে চুল অথবা লোম থাকলে সেগুলো পড়ে যেতে পারে।

শরীরের যে স্থানে দাদ রোগ হয় : আমাদের শরীরের যে কোনো অংশে দাদ দেখা দিতে পারে। যেমন- কুঁচকি, মাথার ত্বক, হাত-পা, পায়ের পাতা, এমনকি হাত-পায়ের নখ। আক্রান্ত স্থানভেদে দাদের লক্ষণেও ভিন্নতা আসতে পারে। যেমন- র‌্যাশের আকারে ভিন্নতা থাকতে পারে। দাদের র‌্যাশ ক্রমে বড় হয়ে ছড়িয়ে যেতে পারে। আবার কখনও কখনও একাধিক র‌্যাশ দেখা দিতে পারে।

বিশেষ সতর্কতা : দাদ সারাতে স্টেরয়েড ব্যবহার করবেন না। দাদ রোগের র‌্যাশ দেখা দিলে অনেকে স্টেরয়েড জাতীয় ক্রিম বা মলম ব্যবহার করে থাকেন। এটি একদম ঠিক নয়। কারণ এসব ওষুধ চুলকানি ও ত্বকের লালচে ভাব কমাতে সাহায্য করলেও দাদ সৃষ্টিকারী জীবাণু মারতে পারে না। শুধু তা-ই নয়, এসব ক্রিম ত্বকের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাও দুর্বল করে ফেলে। ফলে দাদ শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমনকি ইনফেকশন ত্বকের গভীরে ঢুকে গুরুতর নানান জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া স্টেরয়েড মলম দাদের ধরনও পরিবর্তন করে ফেলতে পারে। ফলে ডাক্তারের জন্য সঠিকভাবে দাদ নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই দাদের চিকিৎসায় ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এ ধরনের ক্রিম ব্যবহার করা যাবে না।

দাদের ওষুধ : দাদ রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধগুলো বিভিন্ন রূপে পাওয়া যায়। যেমন- ক্রিম, জেল, লোশন, স্প্রে, পাউডার, ট্যাবলেট ও ক্যাপসুল। শরীরের ত্বকে দাদ রোগ হলে সাধারণত মুখে খাওয়ার ওষুধ না দিয়ে ক্রিম, জেল, লোশন, স্প্রে বা পাউডার হিসেবে সরাসরি ত্বকে লাগানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। এমন ওষুধের মধ্যে রয়েছে ক্লট্রিমাজোল, মাইকোনাজোল, টার্বিনাফিন ও কিটোকোনাজল। ওষুধগুলো সাধারণত ২ থেকে ৪ সপ্তাহ টানা ব্যবহার করতে হয়। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় ধরে ওষুধ ব্যবহার চালিয়ে যাওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি আপাতদৃষ্টিতে র‌্যাশ সেরে গিয়েছে মনে হলেও ওষুধ ব্যবহার করা বন্ধ করা ঠিক নয়। সঠিক সময় পর্যন্ত চিকিৎসা না নিলে র‌্যাশ পুরোপুরি না-ও সারতে পারে কিংবা ত্বকে পুনরায় দাদ হতে পারে।

চিকিৎসা : দাদ রোগের চিকিৎসায় অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ ব্যবহার করা হয়। চিকিৎসা নির্ভর করে শরীরের কোন স্থানে ইনফেকশন হয়েছে এবং ইনফেকশন কতটা গুরুতর তার ওপর। শরীরের অন্য কোথাও বা বাড়ির সদস্যদের মধ্যে দাদ রোগ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিত।

লেখক : চর্ম-যৌন-অ্যালার্জি রোগ বিশেষজ্ঞ

চেম্বার : আলোক হেলথ কেয়ার

মিরপুর-পল্লবী শাখা, ঢাকা। হটলাইন : ১০৬৭২