স্টাফ রিপোর্টার
নগরীর খানজাহান আলী থানাধীন মশিয়ালী এলাকায় গুলি করে তিনজনকে হত্যা মামলার এজহারভুক্ত আসামি মো. জুয়েল শেখ (৪০) ও তার ভাই মো. মুরাদ শেখ (৩২) আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
গতকাল শুক্রবার ৩ দিনের রিমা- শেষে আসামিদের আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. এনামুল হক। এসময় তাদের দেয়া ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারার জবানবন্দি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তরিকুল ইসলাম রেকর্ড করেছেন। জুয়েল ও মুরাদ মশিয়ালী গ্রামের মো. মোকছেদ শেখের ছেলে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. এনামুল হক জানান, এ মামলার এজহারভুক্ত আসামি হচ্ছে ২২জন। এ পর্যন্ত মোট ৯জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন মশিয়ালী গ্রামের মৃত. হাসান আলি শেখের ছেলে মো. জাফরিন শেখ (৩২), মো. মোকছেদ শেখের ছেলে মো. জাহাঙ্গীর শেখ (৩৫) ও মো. আলমগীর শেখ (৩৮), মো. কুরবান শেখের ছেলে মো. আরমান শেখ (২০), মৃত. আক্তার আকুঞ্জির ছেলে মো. রহিম আকুঞ্জি (২২), মো. ফারুকের ছেলে মো. রবিন (২০), মো. বাবুল শেখের ছেলে মো. মিঠু শেখ (৩৩) ও সবশেষ মো. মোকছেদ শেখের ছেলেমো. জুয়েল শেখ (৪০) ও তার ভাই মো. মুরাদ শেখ (৩২)। এদের মধ্যে জাফরিন শেখ, আরমান শেখ ও আলমগীর শেখ আগে আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। গতকাল জুয়েল ও তার ভাই মুরাদ স্বীকারোক্তি দিয়েছে। গ্রেফতার ৯জনকেই রিমা-ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ১৬জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মো. জাকারিয়া শেখ মশিয়ালী সিএন্ডবি’র ঘরের একটি কক্ষে ৩রাউন্ড বন্দুকের গুলি ও ২রাউন্ড পিস্তলের গুলি নিজে রেখে বাদীর চাচাতো ভাই মুজিবর শেখকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাদীসহ পাড়ার আরো কিছু লোক মুজিবরকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার কারণ জানতে জাফরিনদের বাড়ির সামনে যায়। এসময় তাদের সঙ্গে বাক-বিতন্ডার একপর্যায়ে মিল্টন শেখ গুলি করলে নজরুল শেখ মারা যায়। জাফরিন শেখ গুলি করলে গোলাম রসুল মারা যায়। জাকারিয়ার গলিতে আহত হয় বাদীর ছেলে সাইফুল। পরে চিকিৎসাধিন অবস্থায় মারা যায় সাইফুল। তাদের অন্যান্য সহযোগিদের গুলিবর্ষণে বাদীসহ অন্যরা পালিয়ে যায়। এসময় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয় আফসার উদ্দিন, তার ছেলে রবি, শামীম, খলিল, রানা, সুজন শেখসহ আরো অনেকে। এঘটনায় নিহত সাইফুলের পিতা মো. শাহিদুল শেখ বাদী হয়ে মশিয়ালী গ্রামের মৃত. হাসান আলি শেখের ৪ছেলেসহ ২২জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরো ১৫/১৬জনকে আসামি করে খানজাহান আলী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন যার নং-১২।











































