Home আন্তর্জাতিক গাজায় আরেকটি রক্তাক্ত দিনে প্রাণ গেল ৬৮ জনের

গাজায় আরেকটি রক্তাক্ত দিনে প্রাণ গেল ৬৮ জনের

19


অনলাইন ডেস্ক।।
অব্যাহত হামলার মধ্যে আরেকটি ভয়াবহ দিন পার করলেন গাজার বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার উপত্যকার খান ইউনিস, রাফাহসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধারে বোমা হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে ৬৮ নিহত ও ৭৭ জন আহত হয়েছেন। অন্তত চারটি পরিবারের ওপর এ ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে।

বোমা হামলায় অনেক ভবন ধসে পড়ে। এতে বহু লোক ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন, যাদের উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না। গত ৭ অক্টোবরের পর ইসরায়েলের হামলায় এ পর্যন্ত গাজায় ৪০ হাজার ৬০২ জন নিহত হয়েছেন; আহত হয়েছেন ৯৩ হাজার ৮৫৫ জন। হতাহতের অধিকাংশই নারী ও শিশু। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আলজাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

উপত্যকার খান ইউনিসে ইউরোপিয়ান হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। সেখানে রক্তাক্ত শিশুদের আর্তচিৎকারে বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। ফিলিস্তিনের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানায়, খান ইউনিসের হামলায় হতাহতের প্রায় সবাই নারী ও শিশু। সেখানে শহরতলি আল আমলে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে কয়েক ডজন মানুষ নিহত হন। হামলা হয়েছে মিসর সীমান্ত লাগোয়া রাফায়।

গাজায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি বা ডব্লিউএফপির গাড়িতেও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে সংস্থাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য উপত্যকায় খাদ্য সরবরাহ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ওয়াদি গাজার একটি চেকপয়েন্টে গাড়িতে গুলি চালায় ইসরায়েলের বাহিনী।

গাজায় অব্যাহত হামলার মধ্যে গতকাল অধিকৃত পশ্চিম তীরে দ্বিতীয় দিনের মতো ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েল। এলাকাটির উত্তর দিক থেকে এ অভিযান শুরু হয়। ওই এলাকায় সাম্প্রতিককালের সবচেয়ে বড় অভিযানে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অন্তত ১৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২২ জন। ২০ জনকে ধরে নিয়ে গেছে ইসরায়েলের বাহিনী।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে নিহতদের মধ্যে জেনিন শরণার্থী শিবির এলাকায় আটজন, তুলকারেম এলাকায় ছয়জন ও তুবাসে চারজন নিহত হয়েছেন। হতাহত ও আটকদের মধ্যে নারী ও শিশুর রয়েছে। পাশাপাশি নূর শামস শিবিরেও অভিযান চালানো হয়েছে। অধিকৃত ভূখণ্ডে সহিংসতা বাড়ার জেরে ইসরায়েলের বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

বিবিসি জানায়, পশ্চিম তীরে অভিযান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সেই সঙ্গে বিশ্ব সংস্থাটি হতাহতের নিন্দা জানিয়ে অভিযান বন্ধের জোর আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, এ অভিযান ইতোমধ্যে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিকে আরও বেশি উত্তপ্ত করে তুলবে। ২০০০ থেকে ২০০৫ সালের পর অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শহরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে এত ব্যাপক অভিযান আর হয়নি।

চলমান প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের কিছু সংখ্যক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ব্রাসেলসে সংস্থাটির পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান জোসেফ বোরেল বলেন, ইউরোপের দেশগুলো ইসরায়েলের মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেবে কিনা– সে বিষয়ে তিনি একটি প্রক্রিয়া চালু করেছেন। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

ইইউর মানবিক সহায়তা ও সংকট মোকাবিলাবিষয়ক প্রধান জেনেজ লিনারসিস বলেছেন, পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে। ইসরায়েল সেখানে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ঘটাচ্ছে।

‘ফিলিস্তিনিদের রক্ষায় কেউ নেই’
ফিলিস্তিনের আইনজীবী ডায়ানা বুট্টু আলজাজিরাকে বলেন, ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী এখন পশ্চিম তীরে অভিযান চালাচ্ছে– এতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। আপনি দেখতে পাচ্ছেন ইসরায়েল কী করছে; তাদের প্রায় ১১ মাস ধরে (গাজায়) গণহত্যা চালানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মাঝেমধ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অবশ্য কিছু নিন্দা জানায়। তাদের লক্ষ্য এসব এলাকা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়া। তিনি বলেন, এটা ফিলিস্তিনিদের জন্য খুব ভয়ানক বিষয় যে, ইসরায়েল যা ইচ্ছা তা-ই করতে পারে; ফিলিস্তিনিদের রক্ষায় কেউ নেই।