Home আঞ্চলিক অস্পষ্ট সড়ক বিভাজকে মৃত্যুর ফাঁদ পাতা

অস্পষ্ট সড়ক বিভাজকে মৃত্যুর ফাঁদ পাতা

8

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুমারখালীর কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের একটি অংশ বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। চড়াইকোল রেলক্রসিং থেকে নন্দলালপুর ইউনিয়নের কালুমোড় পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার অংশে চলতি বছর আটটি দুর্ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। এতে প্রাণ গেছে এনজিওকর্মী-স্কুলছাত্রীসহ চারজনের। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। স্থানীয় লোকজন দুর্ঘটনার জন্য সড়ক বিভাজক বুঝতে না পারা এবং গতিরোধক না থাকাকে দায়ী করছেন।

সবশেষ সোমবার ভোরে কালুমোড়ে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে পাশের খাদে পড়ে কাভার্ডভ্যান। এ দিন সকাল ৮টার দিকে চড়াইকোল রেলক্রসিং এলাকায় সড়ক বিভাজকে উঠে যায় আরেকটি কাভার্ডভ্যান। দুর্ঘটনায় ভ্যান দুটির চালক ইমরান শেখ (২৫), জাহিদ হোসেন (৪০) ও তাদের সহকারীরা সামান্য আহত হন।

এ দিন সকালে চড়াইকোল রেলক্রসিং এলাকায় দেখা গেছে, কংক্রিটের সড়ক বিভাজকের ওপর উঠে গেছে কাভার্ডভ্যানটি। এতে সামনের অংশ পুরোপুরি দুমড়েমুচড়ে গেছে।

রেলক্রসিং নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা (গেট কিপার) কাউসার মোল্লা বলেন, এ সড়কে কোনো গতিরোধক (স্পিড ব্রেকার) নেই। আবার ডিভাইডারের (বিভাজক) হলুদ ও কালো রং আঁধারে স্পষ্ট দেখা যায় না। যে কারণে প্রায়ই এ সড়কে দুর্ঘটনা ঘটে। চলতি বছরেই অন্তত আটটি দুর্ঘটনার তথ্য জানান তিনি।

সেখান থেকে কালুমোড়ে গিয়ে দেখা যায়, একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভাঙা। পাশেই খাদে উল্টে রয়েছে কাভার্ডভ্যানটি। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা সেখানে নতুন খুঁটি বসাচ্ছেন।

কথা হয় কুমারখালী ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের শাখাপ্রধান আতিয়ার রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ঘন কুয়াশার কারণে সড়কের দেড় কিলোমিটার অংশে দুর্ঘটনা দুটি ঘটেছে। এতে প্রাণহানি না হলেও যানবাহনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, গতিরোধক না থাকায় কালুমোড় ও চড়াইকোল রেলক্রসিং এলাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। হাইওয়ে পুলিশের উপসহকারী পরিদর্শক তরিকুল ইসলামও ঘন কুয়াশাকে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করেন।

৪ নভেম্বর ওই সড়কের বিভাজকে ধাক্কা খেয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে একটি পণ্যবাহী ট্রাক। সেদিন চালক ও সহকারী আহত হন। কয়েক ঘণ্টা একপাশে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। ৭ অক্টোবর একটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিভাজকে ধাক্কা খায়। এতে ছয়জন আহত হন। এর আগে ১২ জুলাই গ্যাস সিলিন্ডারবাহী একটি পিকআপ একইভাবে দুর্ঘটনায় পড়ে। এতে সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়।

এ সড়কে ২ অক্টোবর একটি ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ যায় সীমা খাতুনের (৩২)। তিনি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) ব্র্যাকের খোকসা কার্যালয়ের হিসাবরক্ষক ছিলেন। নন্দলালপুর ইউনিয়নের বজরুখ বাঁখই গ্রামে স্বামী-সন্তান নিয়ে থাকতেন সীমা। স্কুটি চালিয়ে সেখানে ফেরার পথে ট্রাকের ধাক্কায় নিহত হন তিনি।

৩০ জানুয়ারি নন্দলালপুর ইউপি সামনে দ্রুতগামী ট্রাক চাপা দেয় দুই শিশুকে। তাদের মধ্যে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়া আফরিন নিহত হয়। মৌ নামে আরেক ছাত্রী আহত হয়। ২ জানুয়ারি কালুমোড়ে পিকআপ ভ্যান, শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নছিমন ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়। এতে প্রাণ যায় শাহিন ও ইকরাম নামে দুই ব্যক্তির।

কুষ্টিয়া সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ মনজুরুল করিম বলেন, শিগগিরই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাবেন। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেবেন।