খবর বিজ্ঞপ্তি||
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সাধারণ সম্পাদক, বাম গণতান্ত্রিক জোটের শীর্ষ নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেছেন, আওয়ামী সরকারের দুঃশাসন হটিয়ে ও ব্যবস্থা বদলের সংগ্রাম আগ্রসর করে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এর মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ধারায় শোষন মুক্ত সমাজ গড়তে হবে। তিনি বলেন, সংবিধানে সবার ‘সম ভোট’-এর কথা থাকলেও আজ নির্বাচন ‘নির্বাসনে’ গেছে। জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে কোথাও নির্বাচিন নেই। ‘ইলেকশন’, জমিদারতন্ত্র-পরিবারতন্ত্র-দলীয়তন্ত্রের ‘সিলেকশনে’ পরিণত হয়েছে। দেশ-বিদেশে খেঁটে খাওয়া ও গ্রাম-শহরের মানুষের শ্রমে দেশের অগ্রগতি হলেও লক্ষ কোটি টাকা পাচার হচ্ছে। শাসকদের প্রশ্রয় ছাড়া এটা সম্ভব না। তিনি অবিলম্বে পাচারের টাকা ফেরত আনা ও ঋণ খেলাপিদের কাছ থেকে টাকা আদায় করার দাবি জানান। তিনি বলেন, দেশ এক থাকলেও দুই অর্থনীতি বিরাজ করছে। তাই জিনিসপত্রের দাম বাড়লে কারোর পৌষ মাস আর কারো সর্বনাশ।
এ অবস্থা থেকে দেশ বাঁচাতে চলমান দুঃশাসনের অবসান ঘটাতে হবে। ব্যবস্থা বদল করতে হবে। এজন্য ভোটাধিকার, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এর অন্যতম ধাপ হলো, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তদারকী সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তিনি বলেন, নির্দলীয় সরকারের অধীনে ছাড়া কোন ভাগাভাগির, প্রহসনের নির্বাচনে সিপিবি ও বামপন্থীরা অংশ নেবে না । তিনি বলেন, যত কথাই বলা হোক না কেন ‘নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের বিকল্প নেই।’ তিনি আরও বলেন, গণআন্দোলন, গণসংগ্রাম ছাড়া দেন-দরবার করে, বিদেশীদের কাছে ধর্না দিয়ে দাবি আদায় করা যাবে না। সরকারের নতজানু নীতি ও গণতন্ত্রহীনতার কারণে আজ সাম্রাজ্যজ্যবাদী আধিপত্যবাদী শক্তি দেশের উপর নির্লজ্জ মাতবারী করছে। ভিসার ভয় দেখাচ্ছে। তিনি এ সব অপশক্তিকে রুখে দাড়ানোর আহবান জানান। তিনি বলেন, গণতন্ত্রহীন ও দুঃশাসনের সুযোগে নানা অপশক্তি তৎপর হয়ে উঠেছে। এরা প্রচলিত ধারা বহাল রাখতে দেশকে দীর্ঘমেয়াদে অগণতান্ত্রিক ধারায় নিয়ে যেতে পারে। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে রাজপথে গণসংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে। রুহিন হোসেন প্রিন্স আধুনিকায়ন করে রাষ্ট্রীয় খাতে পাটকল না করে লিজ দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিল্প ধ্বংস শ্রমিকের পাওনা পরিশোধ না করা ও পাটকল লুটপাটের আয়োজন করার দায় থেকে সরকার মুক্তি পাবে না।
৩০ সেপ্টেম্বর ’২৩ বিকেল সাড়ে চারটায় খুলনার পিকচার প্যালেস মোড়ে সিপিবি আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্যে এসব কথা বলেন। পার্টির খুলনা জেলা সভাপতি ডা. মনোজ দাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে সিপিবির কেন্দ্রীয় সদস্য ও খুলনা জেলার সাধারণ সম্পাদক এস এ রশীদ, শেখ আব্দুল হান্নান, মিজানুর রহমান বাবু, অশোক সরকার, এইচ এম শাহদাত, নিতাই গাইন, নূর আলম বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এ্যাড. চিত্ত রঞ্জন গোলদার, সুতপা বেদজ্ঞ, এ্যাড. নিত্যানন্দ ঢালী, সমীরণ গোলদার, শাহিনা আক্তার, গাজী আফজাল হোসেন, এ্যাড. প্রীতিশ মণ্ডল, এস এম চন্দন, আঃ হালিম, মোস্তাফিজুর রহমান রাসেল, বীর মুক্তিযোদ্ধা নিতাই পাল, সুবীর বর্ধন, পূর্ণেন্দু বিশ্বাস, তোফাজ্জেল হোসেন, অধ্যাপক সঞ্জয় সাহা, সোহরাব হোসেন, হুমায়ুন কবির, যুবনেতা ধীমান বিশ্বাস, আফজাল হোসেন রাজু, মৌফারশের আলম লেনিন, সৈয়দ রিয়াসাত আলী রিয়াজ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশ শেষে লাল পতাকার এক বিশাল মিছিল শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।











































