বাগেরহাট প্রতিনিধি।।
বেসিক ব্যাংকে ভয়াবহ ঋণ কেলেঙ্কারির মূল হোতা আবদুল হাই বাচ্চুর বিরুদ্ধে ৫৯ মামলার চার্জশিট দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রতিষ্ঠানটির একসময়ের দোর্দণ্ড প্রতাপশালী সাবেক এই চেয়ারম্যানকে এখনও ধরা সম্ভব হয়নি। তার বাগেরহাটের বাড়িতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাড়িটিতে এক বছর ধরে কেউ থাকে না। বাড়িটিতে ঝুলছে তালা।
বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার আড়ুয়াঢিহি গ্রামে বাবা-মায়ের নামে বাড়ি করেছেন আবদুল হাই ওরফে বাচ্চু। স্থানীয়রা জানান, বিশাল ওই বাড়িতে কেউ থাকে না।
তারা জানান, বছরখানেক আগে এই বাড়িতে এসেছিলেন আবদুল হাই। মাঝমধ্যে তার ছোট ভাই বাড়িতে এলেও রাতে এখানে থাকেন না।
ওই বাড়ির নাম ‘শেখ হামিদ ও ছাবেদা ভিলা’। বাড়িটি নামকরণ করা হয়েছে বাচ্চুর বাবা ও মায়ের নামে। দুতলা বাড়িটি মোল্লাহাট ও পাশের চিতলমারী উপজেলার অধিকাংশ মানুষ এক নামে চেনেন বলে জানয়েছেন স্থানীয়রা।
এদিকে আবদুল হাই বাচ্চুর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যে অভিযোগপত্র স্থানীয়রা জানেন না বলে জানিয়েছেন। এলাকার বহু মানুষকে তিনি বেসিক ব্যাংকে চাকরি দিয়েছেন বলে তারা জানান।
মামলা দায়েরের আট বছর পর বাচ্চুসহ ১৪৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে চার্জশিটে। আসামিদের বিরুদ্ধে ২ হাজার ২৬৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। চার্জশিটে নাম যুক্ত হওয়ায় আইন অনুযায়ী বাচ্চুকে গ্রেফতারে আর কোনো বাধা রইল না।
দুদক ছাড়াও আদালতের নির্দেশে পুলিশও তাকে গ্রেফতার করতে পারবে। যদিও তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য এখনো কারও জানা নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে তিনি বিশাল খামারবাড়ি গড়ে তুলেছেন বলে শোনা যায়।
আবদুল হাই বাচ্চু ২০০৯ সালে সরকারি মালিকানাধীন বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অনিয়মের জালে আটকে যায় ব্যাংকটি।
জানা যায়, জাল দলিল, একজনের জমির দলিল দিয়ে অন্যজনকে হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার মৌখিক নির্দেশ, নিয়ম ভঙ্গ করে স্বামী ও স্ত্রীকে পৃথকভাবে ঋণ দেওয়ার নজির স্থাপন করেছিলেন তিনি। কম দামি জমির মূল্য ৩৫ থেকে ৪০ গুণ বেশি দেখিয়ে মোটা অঙ্কের ঋণ ছাড় করার মতো অনৈতিক কাজ করতেও পিছপা হয়নি বাচ্চুর নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ।
কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের (সিএজি) নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এবং দুদকের তদন্তে বেসিক ব্যাংকের এসব অনিয়ম ও ঋণ জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। বাচ্চুসহ পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করে দুদক। যদিও গোড়ার দিকে এসব অভিযোগের সঙ্গে বাচ্চুর সম্পৃক্ততা মিলছে না বলে দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন।










































