স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলেন লোডশেডিং বন্ধ করতে। সেই অনুরোধে সাড়াও দিয়েছিল সরকারের বিদ্যুৎ বিভাগ। গত সোমবারের সেই ভোটযুদ্ধে জয় পেয়েছেন তালুকদার আব্দুল খালেক। তবে ভোটের পরদিন মঙ্গলবার সকাল থেকেই খুলনা শহরে ফের শুরু হয়েছে লোডশেডিং।
ভোটের প্রচারের সময়ই আলোচনায় উঠে আসে লোডশেডিং। নৌকার প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক একাধিকবার শঙ্কা জানিয়েছিলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে ভোটে পড়তে পারে নেতিবাচক প্রভাব। স্ত্রী বন উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহারকেও বলেছিলেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে যেন কথা বলে লোডশেডিং বন্ধ করা হয়।
গত ৫ জুন গণসংযোগের সময় সাংবাদিকদের ব্রিফ করতে গিয়ে খালেক বলেন, লোডশেডিংয়ে মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। এতে ভোটে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিষয়টি জানানোর জন্য বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীকে ফোন করে পাইনি। পরে আমার স্ত্রী উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহারকে জানিয়েছিলাম লোডশেডিং নিয়ে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করতে। তিনি আলোচনা করার পর খুলনা শহরের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হয়।
খুলনা শহরে বিদ্যুৎ বিতরণের দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) সঙ্গে কথা বলেও তার প্রমাণ পাওয়া যায়। ওজোপাডিকোর কন্ট্রোল রুম থেকেও জানা যায়, ২ জুন থেকে ১২ জুন পর্যন্ত খুলনা শহরের লোডশেডিং ছিল না। ভোট শেষে গতকাল সকাল ১০টা থেকে শহরে লোডশেডিং শুরু হয়েছে।
ওজোপাডিকোর তথ্য বলছে, মঙ্গলবার বেলা ২টার দিকে খুলনা শহরে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১২৯ মেগাওয়াট। লোডশেডিং ছিল ৩১ মেগাওয়াট।
খুলনা শহরের পাশাপাশি দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলা শহরে ৩৭টি পৌরসভা, দুটি সিটি করপোরেশন ও ২১টি উপজেলায় বিদ্যুৎ বিতরণের দায়িত্বেও আছে ওজোপাডিকো। বেলা ২টার দিকে তাদের অধীন এলাকায় মোট বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৬৭১ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ হয়েছে ৬০৬ মেগাওয়াট। লোডশেডিং ছিল ৬৫ মেগাওয়াট।
ওজোপাডিকোর প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু হাসান বলেন, ‘চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ কম থাকায় কয়েকটি এলাকায় লোডশেডিং দেয়া হচ্ছে।’
খুলনা শহরের ইকবালনগর এলাকায় মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত মোট তিনবার লোডশেডিং হয়েছে। এর মধ্যে লোডশেডিং ছিল সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা, দুপুর দেড়টা থেকে আড়াইটা ও বেলা ২টা ৪০ মিনিট থেকে ২টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত।
ওই এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল বলেন, ‘ভোটের আগের কয়েক দিন বেশ ভালোই কেটেছিল। শহরে কোনো লোডশেডিং ছিল না। তবে ভোটের পরের দিন আবার লোডশেডিং শুরু হলো। আমাদের ভোট নেয়া হয়ে গেছে, আওয়ামী লীগের বিজয় হয়েছে, এখন আর আমাদের খবর রাখার দরকার তাদের নেই। তাই লোডশেডিং শুরু করেছে।’
শহরের নিরালা এলাকাতেও সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত লোডশেডিং ছিল। আহসান আহমেদ রোড এলাকায় সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত প্রত্যেকবার আধা ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চারবার লোডশেডিং হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) খুলনার সভাপতি আইনজীবী কুদরত-ই-খুদা বলেন, ‘ভোটের আগে লোডশেডিং ছিল না, এখন শুরু হয়েছে। এখানে যথেষ্ট সন্দেহ আছে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি। তারা যা করেছে, তা ভোটারদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।’
জ্বালানিসংকটে দেশের কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে বন্ধ থাকায় সারা দেশে কমবেশি লোডশেডিং হচ্ছে। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) লিমিটেডের ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে দেশের মোট বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৩ হাজার ৫০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১২ হাজার ২৩০ মেগাওয়াট। ওই সময়ে সারা দেশে লোডশেডিং ছিল ৭৮৩ মেগাওয়াট।










































