Home আঞ্চলিক ডুমুরিয়ার তালতলা-বাগআঁচড়া নদী এখন দৃশ্যমান: সুফল পাবে চিংড়ি চাষী ও কৃষক

ডুমুরিয়ার তালতলা-বাগআঁচড়া নদী এখন দৃশ্যমান: সুফল পাবে চিংড়ি চাষী ও কৃষক

58

এস রফিক, ডুমুরিয়া।।
ডুমুরিয়ার তালতলা-বাগআঁচড়া নদী দ্রুত খননে এখন দৃশ্যমান হ”েছ। নদীটি খনন হলে দুই উপজেলার হাজার হাজার মৎস্য চাষী ও কৃষক সুফল পাবে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে ও খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, আশির দশকের পর থেকে কালে কালে নাব্যতা হারিয়ে এক সময়ের খরস্রোতা তালতলা-বাগআচড়া নদী পলি পড়ে ভরাট হয়ে যায়। ফলে পানি নিষ্কাশনের ব্যব¯’া না থাকায় প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার শিকার হন ¯’ানীয় মৎস্য চাষী, কৃষক ও জনগণ। ফলে কোটি কোটি টাকার ফসল ও সম্পদ নষ্ট হতে থাকে। এতে ডুমুরিয়ার আটলিয়া, শোভনা ও মাগুরাঘোনা ইউনিয়নের সুন্দরবুনিয়া, মুড়াবুনিয়া, গোলাপদহা, চেংমারি,আধারমানিক ও তালা উপজেলার কাঠবুনিয়াসহ অন্তত ১০ গ্রামের মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় । যে কারণে মানুষের দুঃখ দূর্দশার কথা ভেবে ২০২২-২৩ অর্থ বছরে জলাবদ্ধতা নিরসনে পানি উন্নয়ন বোর্ড ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় তালতলা-বাগআচড়া নদীটি খননের উদ্যোগ নিয়ে এ মরা নদী খননের কার্যক্রম শুরু করেছে। ¯’ায়ী জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচ ও মাছের আধার তৈরিতে জাইকার অর্থায়নে ৫ দশমিক ৮০ কিলোমিটার জুড়ে এ নদী খনন করা হ”েছ। যার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। প্রকল্পের কার্যাদেশ পান এএসডিজিএল-এমকেই (জেভি) নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। যার মেয়াদ ধরা হয়েছে ৩০ জুলাই ২০২২ থেকে ২৫ জুন ২০২৪ পর্যন্ত। নদীটি খনন হলে পূর্ব পাশ দিয়ে বাগাচড়া হয়ে ঘেংরাইল ও পশ্চিম দিক থেকে সালতা হয়ে প্রবাহমান শিবসা নদীতে মিলিত হবে।

¯’ানীয় মৎস্য চাষী প্রশান্ত কুমার ঘোষ, শংকর কুমার মন্ডল সহ একাধিক ব্যক্তি জানান, নদীটি খননে সুষ্ঠু পানি সরবরাহে এ অঞ্চল সাদা সোনা খ্যাত চিংড়ি চাষে ব্যাপক উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি আমরা অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হবো। সাবেক ইউপি সদস্য অসীম কুমার মন্ডল ও কার্ত্তিক চন্দ্র বলেন, নদী খননে সাময়িক কিছু ভূমিহীন পরিবারের ক্ষতি হলেও চ্যাংমারি,গোলাপদহা সহ বেশ কয়েকটি বিলের পানি নিষ্কাশনের পথ খুলে যাবে। এতে ফসল উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক শামীম আহসান বলেন, খনন কাজে ২২টি স্কেভেটর মেশিন সর্বদা কাজ চালিয়ে যা”েছ। তেল বেশি খরচ করেও মাটি দূরে ফেলা হ”েছ এবং নিয়মমাফিক করা হ”েছ। আশা করছি মেয়াদের আগেই কাজ শেষ করবো।
খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মুহাম্মদ হাসনাতুজ্জামান জানান, খননে নকশা, এস্টিমেট ও অ্যালাইনমন্টে সঠিকভাবেই অনুসরণ করা হ”েছ। এছাড়া কাজের অগ্রগতি ও আছে। কাজ সম্পন্ন হলে এ অঞ্চলের প্রায় তিন দশকের জলাবদ্ধতা দূর হবে।

এ প্রসঙ্গে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া বলেন, ইতোমধ্যে খননের এক তৃতীয়াংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।সর্বদা আমাদের টিম তদারকি করছেন। মেয়াদের আগেই যত দ্রুত কাজটি সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হ”েছ।