স্টাফ রিপোর্টার।।
ভয়াবহ দূষণ ও একের পর এক দখলে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে খুলনা মহানগরীর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া একাধিক নদী। এর মধ্যে কোনটির অস্তিত্ব বিলুপ্তির পথে, কোনটি আবার নাব্য সংকটে পড়তে শুরু করেছে।
শহরের অধিকাংশ খালও দখল আর বর্জ্যের দূষণে পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা।
প্রভাবশালীদের কারণে কর্তৃপক্ষ নদী ও খাল দখলমুক্ত করতে পারছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে শিগগিরই উচ্ছেদ অভিযানের আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
সরেজমিনে দেখা যায়, খুলনা মহানগরীর মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া এক সময়ের প্রবাহমান ময়ূর নদ বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। নদীর প্রায় পুরোটাজুড়ে কচুরিপানা, গল্লামারি বাজারের আবর্জনা আর শহরের বিভিন্ন স্থানের ড্রেন থেকে আসা মানব বর্জ্যে পূর্ণ।
শহরের জলাবদ্ধতা দূরীকরণের লক্ষ্যে সিটি কর্পোরেশন ৭কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ময়ূর নদী খনন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর আগে ২০১৬ সালেও পৌনে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে এ নদী খনন করা হলেও তার সুফল পাওয়া যায়নি।
অপরদিকে রাসায়নিক বর্জ্য, মহানগরী থেকে নিঃসৃত বর্জ্যসহ মানববর্জ্য বিষাক্ত করে তুলেছে ভৈরব ও রূপসা নদীর পানি। আর নগরীর বড় বাজারের পেছন থেকে বয়ে যাওয়া ভৈরব নদীর তীর দখল করে গড়ে উঠেছে কাচা, সেমি পাকা বিভিন্ন ব্যবসা কেন্দ্র। যুগের পর যুগ এভাবেই দখলে থাকে এসব স্থাপনা। শহরের বাইরে বিভিন্ন উপজেলায় নদীর পার দখল করে গড়ে উঠেছে ইট ভাটা।
খুলনা নদী বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে, মহানগরীর রূপসা, কাস্টম ঘাট, নতুন বাজার, লবনচরাসহ বিভিন্ন স্থানে নদীর পারে ৬৪টি অবৈধ দখলদারের স্থাপনা তৈরি রয়েছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য বলছে, অবৈধ দখলে রয়েছে মহানগরী ও এর আশপাশে ২৯টি খাল।
আর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, খুলনায় নদীর পারে গড়ে উঠেছে অর্ধশত ইট ভাটা। এসব কারণে কমছে নদীর নাব্যতা, বর্ষা মৌসুমে তৈরি হচ্ছে জলাবদ্ধতা।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক কাজী সাইফুল ইসলাম বলেন, নদী-খাল ক্রমাগত দখল দূষণের ফলে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ায় জলজ প্রাণীও অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। জীবিকা সংকটেও পড়ছে নদীর ওপর নির্ভরশীল মানুষ। নদী রক্ষায় আইনের সঠিক প্রয়োগ ও ব্যক্তি পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই বলে মনে করেন তিনি।
এ বিষয়ে খুলনা নদী বন্দরের উপপরিচালক (বন্দর ও পরিবহন বিভাগ) মোহা. মাসুদ পারভেজ বলেন, অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরি হয়েছে। শীঘ্রই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে নদী দখলমুক্ত করা হবে।











































