Home জাতীয় লোডশেডিংয়ে আঁধারে ডুবছে লেখাপড়া

লোডশেডিংয়ে আঁধারে ডুবছে লেখাপড়া

51

ঢাকা অফিস।।
সারাদেশে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। তাদের এসএসসি ও এইচএসসি এবং বার্ষিক পরীক্ষার ভালো প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র গরমের মধ্যে দিনের বেলায় ক্লাসে বা সকাল-সন্ধ্যায় বাসায় লোডশেডিং হলে লেখাপড়ার টেবিলে মনোযোগ হারাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। শহর থেকে গ্রামের শিক্ষার্থীদের এই দুর্ভোগ বেশি বলে জানা গেছে।

জ্বালানি ভর্তুকি কমাতে সরকার গত ১৯ জুলাই দেশব্যাপী এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং বাস্তবায়ন শুরু করে। বছরের জুন পর্যন্ত শিক্ষাবর্ষের প্রথমার্ধ শেষ। এখন স্কুলপর্যায়ে বার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে শিক্ষার্থীরা। আগামী মাসে অনুষ্ঠিত হবে এ বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। আগামী নভেম্বর মাসে হবে এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের পাবলিক পরীক্ষা। এ ছাড়া বিশ^বিদ্যালয়ে রয়েছে বিভিন্ন সেমিস্টারের এবং শেষ বর্ষের পরীক্ষা। বছরের এই সময়টায় লেখাপড়ার চাপ বাড়ে শিক্ষার্থীদের। ঠিক এমন সময়ে চলছে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং। এমন লোডশেডিং নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ‘চাঁদপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি ২’-এর একজন গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুকে লিখেছেন, আপনারা কি আমাদের মানুষ মনে করেন না? মতলব দক্ষিণে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে, বাকি ১৬ ঘণ্টা থাকে লোডশেডিং।
এদিকে মুন্সীগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, এই জেলায় পিক আওয়ারে (বিকাল ৫টা থেকে রাত ১১টা) বিদ্যুতের চাহিদা ১৬০ থেকে ১৬৫ মেগাওয়াট। কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে গড়ে ৯৬ থেকে ৯৭ মেগাওয়াট। অফ পিক আওয়ার (রাত ১১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত) বিদ্যুতের চাহিদা ১০৫ মেগাওয়াট। কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে গড়ে ৬১ মেগাওয়াট। কয়েকদিনের গরমে পিক আওয়ারে চাহিদা বেড়ে ১৭০ মেগাওয়াট হয়েছে। চাহিদার তুলনায় ঘাটতি অর্ধেকের কাছাকাছি। এতে ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে।

এই জেলা শহরের উত্তর ইসলামপুর এলাকার এসএসসি পরীক্ষার্থী তাইজুল ইসলাম জানান, দিনের বেলায় এক ঘণ্টা করে তিনবার, সন্ধ্যায় একবার দেড় ঘণ্টা, রাত পৌনে ১২টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত দুবার ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট করে লোডশেডিং হয়েছে। এভাবে প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ বার লোডশেডিং চলছে। সন্ধ্যায় গরমে ঘরে বসে পড়তে পারি না। রাতে ঘুমাতে পারি না। সকালে ঘুম থেকে উঠে আবারও বিদ্যুৎ পাই না। এভাবে কেমন করে পড়াশোনা করি।
চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার দোহাভাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা কামাল তালুকদার জানান, তার দুই সন্তান তৃতীয় ও পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। বাচ্চারা সন্ধ্যায় পড়াশোনা করতে পারে না। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে রাতেও ঘুমাতে পারে না। এ জন্য সকালে ঘুম থেকে উঠে স্কুলে যেতে পারে না।
জানা গেছে, প্রচ- গরমের পাশাপাশি পর্যায়ক্রমিক বিদ্যুৎ বিভ্রাট সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশকেও ব্যাহত করছে। কারণ তাদের অধিকাংশেরই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার বিকল্প কোনো উপায় নেই।

রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া রাজধানীর বেশিরভাগ স্কুলে বিদ্যুতে প্রধান সরবরাহ ব্যর্থ হলে তাৎক্ষণিক পাওয়ার সাপ্লাই (আইপিএস) ইউনিটের মতো বিদ্যুৎ সরবরাহের বিকল্প কোনো উৎস নেই।
মোহাম্মদপুরের একটি বেসরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন, বুধবার লোডশেডিংয়ের সময় তিনি তার প্রতিষ্ঠানে ক্লাস চালিয়ে যান। তবে তাপমাত্রা ফের বেড়ে গেলে তারা ক্লাস বন্ধ করার পরিকল্পনা করছেন। কারণ অনেক শিক্ষার্থী গরম এবং অতিরিক্ত ঘামের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

এ প্রসঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও অর্থ) একেএম আফতাব হোসেন প্রামাণিক বলেন, আমরা লোডশেডিং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। এখন ধীরে ধীরে আবহাওয়ায় তাপমাত্রা কমে আসছে। লোডশেডিংও কমে যাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচিত সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অন্তত একটি আইপিএস কিনতে বলা। মন্ত্রণালয় অর্থ বরাদ্দ করতে পারে অথবা স্কুলগুলো অভ্যন্তরীণভাবে অর্থের ব্যবস্থা করতে পারে।
বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুসারে, প্রায় ৯২ শতাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৯৮ শতাংশ কলেজ এবং ৯৩ শতাংশ মাদ্রাসায় বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। সারাদেশে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে সাড়ে ৪ কোটি শিক্ষার্থী রয়েছে।-আমাদের সময়