Home জাতীয় জৌলুসহীন বৈশাখ: বাজার ভর্তি ইলিশ, কেনার লোক নেই

জৌলুসহীন বৈশাখ: বাজার ভর্তি ইলিশ, কেনার লোক নেই

13

ঢাকা অফিস:

নিত্যপণ্যের বাজারে বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখের কেনাকাটার ধুম না থাকলেও বেড়েছে ভোজ্যতেল মসুর ডাল পেঁয়াজ ও চালের দাম। বাজারভর্তি ইলিশ কিন্তু কেনার আগ্রহ নেই ভোক্তাদের। গত কয়েক দশকের মধ্যে এবার জৌলুসহীন বৈশাখ দেখছে নগরবাসী। কারণ প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস মানুষকে ঘরবন্দী করার পাশাপাশি আনন্দহীন করে তুলেছে। গত ৩০ মার্চ থেকে লাগাতার বন্ধ রয়েছে মার্কেট, শপিংমল ও ফ্যাশন হাউসগুলো। শুধু নিত্যপণ্যের দোকানগুলো খোলা রয়েছে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। তবে বৈশাখী কেনাকাটা না থাকলেও আগামী রমজানের প্রস্তুতি রয়েছে ভোক্তাদের। মুদি দোকানগুলোও ইফতারি আইটেমের সংগ্রহ বাড়িয়েছে। ক্রেতারা ইতোমধ্যে ছোলা, ডাল, ভোজ্যতেল ও খেজুরের মতো পণ্যের কেনাকাটা বাড়িয়ে দিয়েছেন।

জানা গেছে, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে এবার সবচেয়ে বেশি বেড়েছে চালের দাম। ভালমানের প্রতিকেজি মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। মিনিকেট ও নাজিরশাইল নামের চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬৮ টাকায়। এছাড়া মাঝারি মানের পাইজাম ও লতা চালের দাম আরেক দফা বেড়েছে। প্রতিকেজি পাইজাম ও লতা চাল ৫৫-৫৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। চালের বাজারে স্বস্তি দিতে খাদ্য মন্ত্রণালয় ওএমএস কার্যক্রম চালু করলেও ডিলারদের চুরি ঠেকাতে এই কার্যক্রম শেষ পর্যন্ত বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এতে চালের বাজার আরও অস্থির হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, ত্রাণ সহায়তা হিসেবে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে গরিবদের মাঝে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। এতে বাজারে মোটা চালের দাম বেড়ে গেছে। ফলে ওএমএসের ১০ টাকার চাল সোনার হরিণ হয়ে উঠে। ডিলারদের একটি বড় অংশ কারসাজির মাধ্যমে গরিবের হক মেরে এই চাল বাজারে বিক্রি করে দিয়েছে।

চালের দাম বাড়া প্রসঙ্গে কাপ্তান বাজারের ব্যবসায়ী নূর মোহাম্মদ জনকণ্ঠকে বলেন, বাজারে সব ধরনের চালের দাম বেড়ে গেছে। করোনার প্রভাবে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে চালের বাজারে। মিলমালিক থেকে শুরু করে সর্বত্র চালের দাম বেশি। আর এ কারণে ভোক্তাদের বেশি দাম দিয়ে চাল কিনতে হচ্ছে। তিনি বলেন, যেভাবে চালের দাম বাড়ছে তাতে সহসা দাম কমার কোন আভাস দেখা যাচ্ছে না। তবে চুরি বন্ধ করে ওএমএস চালু রাখা সম্ভব হলে সুবিধা পেত স্বল্প আয়ের মানুষ।

এদিকে পহেলা বৈশাখের এই সময়ে বাজারে ইলিশের চাহিদা তৈরি হয়। যদিও মা ইলিশ রক্ষায় কয়েক বছর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পহেলা বৈশাখের সব অনুষ্ঠানে ইলিশ বর্জনের আহ্বান জানান। এরপর ইলিশ নিয়ে তেমন মাতামাতি না হলেও বৈশাখের আগের দিন নগরবাসী কিছু ইলিশ কিনে থাকেন। কিন্তু করোনার ছোবলে এবার আর ইলিশ নিয়ে কারো আগ্রহ নেই। আজ মঙ্গলবার সারাদেশে বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ পালিত হবে। সোমবার রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ ইলিশ চোখে পড়ে। ক্রেতাদের কাছে চাহিদা না থাকায় অনেকটা সস্তায় বিক্রি হয়েছে জাতীয় মাছ ইলিশ। মাঝারি মানের প্রতিকেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৬০০-৭০০ টাকায়। এছাড়া বড় সাইজের প্রতিকেজি রুপালি ইলিশ ৮০০-৯০০ টাকায় কিনতে পেরেছেন ভোক্তারা। তবে ইলিশ মাছের দাম কমলেও দেশী জাতের সব মাছ বিক্রি হয়েছে চড়া দামে। গরু ও খাসির মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে ব্রয়লার মুরগির দাম কমেছে। প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ১২০-১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে খুচরা বাজারে। এছাড়া কমে এসেছে ডিমের দাম। প্রতিহালি ডিম ২৮-৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া সরবরাহ বাড়ায় কিছুটা কমদামে বিক্রি হয়েছে সবজি। লাউ, ডাটা, কাঁচকলা, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিমসহ সব ধরনের সবজি পাওয়া যাচ্ছে বাজারে। মুদিপণ্যের মধ্যে দাম বেড়ে প্রতিকেজি পেঁয়াজ দেশী ৪৫-৫০, আমদানিকৃতটি ৫০-৬০, রসুন ৯০-১৬০, আদা ২০০-২৬০, ভোজ্যতেল প্রতিলিটার ৯৩-৯৫, পাঁচ লিটারের তেলের ক্যান ৪৯০-৫৩০, মসুর ডাল ৭৫-১৩০, চিনি ৬৫-৭০ ও আটা প্যাকেট ৩৫-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে।