Home আঞ্চলিক কলারোয়া সরকারী কলেজ অধ্যক্ষ ছিলেন না বিজয় দিবসের কর্মসুচিতে

কলারোয়া সরকারী কলেজ অধ্যক্ষ ছিলেন না বিজয় দিবসের কর্মসুচিতে

22

খান নাজমুল হুসাইন, সাতক্ষীরা ।।

জেলার কলারোয়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত ইংরেজী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় নিয়ম মেনে সারা দেশের ন্যায় বিভিন্ন কর্ম সূচী পালিত হয়। একই ভাবে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ন্যায় নিয়ম মেনে সকল সরকারী কলেজকে ১৬ ডিসেম্বর জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে উপযুক্ত অনুষ্ঠান সূচীতে কলেজ প্রধান সহ অত্র কলেজের দায়িত্বরত সকলকে যথাসময়ে উপস্থিত অংশ গ্রহন সকলের জন্য বাধ্যতা মূলক করা হয়। অথচ নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সাতক্ষীরার কলারোয়া সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আনোয়ারুজ্জামান বিজয় দিবসে স্বাধীনতার মহান স্থাপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে স্মৃতি সৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ কালীন শ্রদ্ধানিবেদন কালে তার বিরুদ্ধে উপস্থিত না থাকার অভিযোগ উঠেছে। কলারোয়া সরকারী কলেজে অধ্যক্ষ প্রফেসর এস.এম আনোয়ারুজ্জামান একই কলেজের ইংরেজী প্রভাষক শহীদ বুদ্ধিজিবী দিবস মহান বিজয় দিবস উদযাপন কমিটির আহবায়ক টি,এম মনজুর আজাদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সরকারী কলেজের সম্মানীত শিক্ষকবৃন্দ, কর্মচারী ছাত্র-ছাত্রীদের জানানো যাচ্ছে যে, আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস –২০২১ যথাযোগ্য মর্যদায় উদযাপন উপলক্ষ্যে সকাল ৭.০০ টায় কলেজে উপস্থিত হয়ে নিম্ম বর্ণিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে আহবান জানানো হয়। অনুষ্ঠান সূচীর মধ্যে ছিলঃ ১। সূর্যদয়ের সাথে-সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, ২। সকাল ৭.০০ টায় মহান মুক্তিযোদ্ধার সর্বাধিনায়ক সর্বকালের সর্ব শ্রেষ্ট বাঙালী স্বাধীনতা মহান স্থাপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু মেখ মুজিবর রহমান-এর প্রতিকৃতিতে (উপজেলা চত্বর) পুষ্পমল্য অর্পণ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে স্মৃতিসৌধে (বলফিল্ড চত্বর) পুষ্পমাল্য অর্পন; ৩। সকাল ৭:৩০ শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কবরে পুষ্পমাল্য প্রদান সহ কবর জিয়ারত রুহের মাগফেরাত কামনা, ৪। সাকাল ১০.৩০ মিনিটে মহান বিজয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা অনুষ্ঠান, পুরষ্কার বিতরণী শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠান পরিচালনা করার কথা থাকলেও উল্লেখিত চারটি কর্মসূচিতে কলারোয়া সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ এস,এম, আনোয়ারুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন না বলে জানাযায়। ৫। বিকাল ৩.০০ টায় মাননীয় প্রধান মন্ত্রী কর্তৃক শপথবাক্য পাঠ অনুষ্ঠানে (বলফিল্ড চত্বর) অংশগ্রহণ শপথ বাক্য পাঠ, উল্লেখ থাকে উপর্যুক্ত অনুষ্ঠান সূচিতে যথাসময়ে উপস্থিত অংশ গ্রহণ সকলের জন্য বাধ্যতামূলক। অভিযোগ আছে সূর্যদয়ের সাথে-সাথে কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করার কথা থাকলেও সঠিক সময়ে পতাকা উত্তোলন না করে দেরীতে উত্তোলন করা হয় উক্ত কলেজের দায়িত্বরত নৈশ প্রহরী সিরাজুল ইসলামকে দিয়ে। এবিষয়ে নৈশ প্রহরী সিরাজুল ইসলামের সাথে সরাসরি কথা হলে তিনি জানান সকাল ৬.০০ টার ২৯ মিনিটে তিনি একাই জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। সে সময় কলেজের কোন কর্তৃপক্ষ উপস্থিত ছিলনা। বিষয়ে কলারোয়া উপজেল নির্বাহী অফিসার মোঃ জুবায়ের হোসেন চৌধুরীর সাথে জাতীয় দিবসে কলারোয়া সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ এস,এম, আনোয়ারুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি ১৬ ডিসেম্বর ২০২১ অনুষ্ঠান কর্মসূচিতে অধ্যক্ষ এস,এম, আনোয়ারুজ্জামানকে দেখতে পাইনি। তিনি আরও বলেন জাতীয় কর্মসূচীতে তার উপস্থিতি সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের বাধ্যতামূলক কিন্তু তিনি কেন আসেননি জানি না। বিষয়ে কলারোয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টুর সাথে কথা হলে তিনি বলেন জাতীয় কর্মসূচিতে সরকারী পরিপত্রের নিয়ম অনুযায়ী অধ্যক্ষ এস,এম, আনোয়ারুজ্জামানকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধানিবেদনে থাকা উচিত ছিল কিন্তু তিনি ছিলেন না। কেন ছিলেন না তা আমার বোধ গম্য নয়। আমরা যারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচরী আছি, পরিপত্রের নিয়ম অনুয়ায়ী জাতীয় কর্মসূচী পালন করেছি। বিষয়ে কলারোয়া সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ এস,এম, আনোয়ারুজ্জামান এর সাথে সরাসরি কথা হলে তিনি দৈনিক খুলনাঞ্চলকে বলেন ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবসের জাতীয় কর্মসূচীতে পুষ্পমাল্য অর্পণে শ্রদ্ধা নিবেদন কালে আমি উপস্থিত থাকতে পারিনি ঠিকই তবে কলারোয়া সরকারী কলেজে শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস মহান বিজয় দিবস ২০২১ যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহবায়ক ছিলেন ইংরেজী প্রভাষক টি,এম মনজুর আজাদ সদস্য ছিলেন ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক মোঃ সাজ্জাদ হোসেন এবং বাংলা বিভাগের প্রভাষক শেখ শরিফুল ইসলাম। উনারা যথাযথ মর্যাদায় অনুষ্ঠান কর্মসূচী পালন করেছেন। তিনি আরো বলেন আমি সকাল ১০.০০ টায় কলেজে এসেছি সেই সাথে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছি। যথাসময়ে উপস্থিত না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি সাতক্ষীরা সদরে বসবাস করি সেকারণে বাড়ি থেকে কলেজে আসতে বিলম্ব হয় “আমার চাকুরি করার ইচ্ছা নাই” আমি সরকারের কাছে আবেদন করেছি অব্যহতি নেওয়ার জন্য।