Home আঞ্চলিক দাকোপে মাঠ ভরা আমন ধান বৈরী আবহাওয়ায় কৃষকের মাথায় হাত

দাকোপে মাঠ ভরা আমন ধান বৈরী আবহাওয়ায় কৃষকের মাথায় হাত

564

মোঃ শামীম হোসেন – বাজুয়া (দাকোপ) ।।

খুলনার দাকোপে এখন মাঠ ভরা পাঁকা আমন ধান এক বুক স্বপ্ন নিয়ে কৃষক দিন গুনছিলো সোনালী ফসল ঘরে তুলার আশায়। হঠাৎ করে আবহাওয়া খারাপ হওয়ায় দাকোপের আমন চাষীরা চিন্তিত। কয়েক দিন ধরে আকাশ মেঘলা থাকায় ও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হওয়ায় এছাড়া আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে ঘুর্ণিঝড় জাওয়াদ আক্রমন হানতে পারে সব মিলিয়ে বৈরী আবহাওয়া সৃষ্টির কারণে এলাকার আমন চাষীরা মহাবিপদে দিন কাটাচ্ছে। এলাকা ঘুরে দেখা যায় দাকোপের সকল এলাকার কৃষকেরা আমন ধান কাটার মহা-উৎসবে মেতে উঠেছে। কেউ কেউ ধান কাটতে শুরু করেছে আবার কেউ কেউ ধান পাঁকার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। বাজুয়া চাঁদপাড়ার কৃষক সুপদ মন্ডল জানান যাদের জমি উঁচু ও যারা আগতি ধান রোপণ করতে পেরেছে তাদের ধান কাটা শুরু হয়েছে। তিনি আরো জানান যাদের প্রথম বীজের চারা নষ্ট হয়নি তাদের ফসল ভালো আর বৃষ্টির কারণে পানিতে তলিয়ে যেয়ে যাদের প্রথম বীজ নষ্ট হয়েছে  তাদের ফসল খুবই খারাপ। প্রথম বীজের চারায় এবার বিঘা প্রতি ১৮-২০ মন করে ধান হয়েছে বলে তিনি জানান। তবে প্রাকৃতিক আবহাওয়া এখনও কৃষকদের অনুকূলে আছে বৈরী আবহাওয়া সৃষ্টি হলে  ও ঘুর্ণিঝড় জাওয়াদ আঘাত হানলে তো আমন চাষীদের আর দুঃখের সীমা থাকবে না। কৈলাশগঞ্জ এলাকার তক্তামারী গ্রামের আমন চাষী প্রশান্ত রায় জানান প্রাকৃতিক আবহাওয়া এখনও কৃষকের অনুকূলে থাকায় প্রায় কৃষকের আমন ধানের ফলন ভালো হয়েছে। এখন আবহাওয়া খারাপ হওয়ায় আমাদের চিন্তার শেষ নাই এখন সৃষ্টিকর্তা মাপ করলে আমরা আমন ধান ঘরে তুলতে পারবো আর তা না হলে প্রতিটি কৃষকই মাঠে মারা যাবে। এখন আবহাওয়া ভালো হওয়া এবং বাজার ধরের উপর নির্ভর করছে কৃষকের সকল সুখ-দুঃখ। লাউডোব এলাকার খুুটাখালী গ্রামের আমন চাষী বাবুরাম সরদার জানান এবার তরমুজের বাম্পার ফলনের পর আমন ধানের এখনও ফলন ভালো হবে বলে আমি আশা করি। একই কথা বলেন বানীশান্তা আমতলা গ্রামের আমন চাষী প্রীতিশ সরকার ঝড়-বন্যা না হলে বাজার দর ঠিক থাকলে আমন চাষীদের স্বপ্ন এবার পুর্ন হবে খুশির হাসিতে হাসবে এলাকার সকল কৃষক। দাকোপ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মেহেদী হাসান জানান এবার দাকোপে আমন ধানের বীজ তলায় চারা তৈরির সময় হঠাৎ দুই তিন দিন প্রচুর বৃষ্টি হওয়ায় আমন চাষীদের ধানের চারা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায় তখন প্রায় কৃষকের বীজ নষ্ট হয়ে যায়। পরে আবার কৃষকেরা বীজ তৈরি করে আমন চাষ করে। তাই যাদের প্রথম বীজ ভালো ছিলো তাদের ফলন এবার ভালো আর যাদের দ্বিতীয় বীজ দিয়ে চারা রোপন করতে হয়েছে তাদের ফলন খারাপ। এখন বৈরী আবহাওয়ার কারণে দাকোপের সকল কৃষক মহাবিপদে আছে বলে জানিয়েছেন দাকোপের এই কৃষি কর্মকর্তা।