Home জাতীয় খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ‘মন্দের ভালো, বিদেশে যেতে দেওয়ার ‘আশা’

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ‘মন্দের ভালো, বিদেশে যেতে দেওয়ার ‘আশা’

25

ঢাকা অফিস ।।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এখন অনেকটাই ‘মন্দের ভালো’বয়সজনিত অসুখগুলো ‘আপস অ্যান্ড ডাউনে’মধ্যে থাকায় কেবিনে ফিরতে পারেননি তিনি। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক সক্ষমতা বলতে— দর্শনার্থী হিসেবে পরিবার বা দলের কেউ গেলে বিছানা থেকে সালাম বিনিময় করেন। সিনিয়র দুই চিকিৎসক নিয়মিত রাউন্ডে গেলেও মেডিক্যাল টিমের বাকি সদস্যরা প্যারামিটারগুলো দেখে চলে যান। বর্তমানে ‘ইনস্ট্যান্ট সাপোর্ট’ থাকলেও অক্সিজেন লাগছে না খালেদা জিয়ার।

সোমবার (২২ নভেম্বর) বিএনপির চেয়ারপারসনের চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত একাধিক দায়িত্বশীল, চিকিৎসক ও দলীয় নানা সূত্রে আলাপ করে এ বিষয়গুলো উঠে আসে। এছাড়া, সম্প্রতি খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে দেখে এসেছেন এমন একাধিক রাজনীতিকের সঙ্গেও তার শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয় ।

চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে থাকা একাধিক সূত্রে সোমবার বিকালে জানা গেছে, খালেদা জিয়া সিসিইউ’তেই আছেন। কেবিনে আনার মতো পরিবেশ বা শারীরিক উন্নতি হয়নি তার। সমস্যা একটা পর একটা অব্যাহত আছে। ইন্টারনাল ব্লিডিং, কিডনি জটিলতা এবং লিভারের সমস্যাগুলো সারছেই না। আর বয়স হওয়ার কারণে এই সমস্যাগুলো নিয়ম করে ‘আপস  অ্যান্ড ডাউনে’মধ্যে রয়েছে। সোমবার বিকাল পর্যন্ত শারীরিক অবস্থা স্ট্যাবল হলেও তা অনেকটাই খারাপের ভালো, বলে জানান নির্ভরযোগ্য এই দায়িত্বশীল।

সূত্রের দাবি, বিএনপি চেয়ারপারসনের এখন অক্সিজেন লাগছে না। তবে স্যাচুরেশন কমে গেলে তিনি নিজেই অক্সিজেন সাপোর্টের কথা বলেন। এছাড়া, বায়োপসির রিপোর্ট পর্যালোচনা করার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়েছে বলেও জানায় এই সূত্র।

গত শনিবার (২০ নভেম্বর) রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে কিছুসময় খালেদা জিয়ার খোঁজ খবর নিয়েছেন বাংলাদেশ গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়া সদস্য সচিব নুরুল হক নুর। সোমবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে সঙ্গে আলাপকালে রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘মনে হলো— গত দুয়েকদিন ধরে তিনি কিছুটা ভালো আছেন। কিন্তু এটা ভালো না। তার চিকিৎসক ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেনের সঙ্গে যখন শনিবার কথা বলেছি— ম্যাডামের অসুখগুলো, বিশেষ করে আফটার কোভিড যেসব নতুন অসুখ তৈরি হয়েছে, এগুলো বারবার অ্যাটাক করছে। চিকিৎসকরা ঠেকিয়ে রাখার চিকিৎসা-পদ্ধতি অবলম্বন করলেও এই ক্ষেত্রে অবশ্যই তার উন্নত চিকিৎসা দরকার দেশের বাইরে। এসব অসুখের পদ্ধতি শর্টটাইম অ্যাপ্লিকেবল হলেও লং টার্মে তার সুস্থতা আনবে না। যে কারণে তাকে আমেরিকায় চিকিৎসা নিতে হবে। এই চিকিৎসা সিঙ্গাপুরেও নেই।’

রেজা কিবরিয়ার অভিযোগ, চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পেরেছেন— খালেদা জিয়ার অসুস্থতাগুলো মূলত  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকার সময়েই বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘তখন মেইন ডাক্তার এক সপ্তাহ পর, ডিউটি ডাক্তার দিন পর এবং সুগার পরীক্ষার ডাক্তার আসতেন ১৫ দিন পর। তারা ঠিকঠাক কেয়ার নেননি।’

গত ১৭ নভেম্বর খালেদা জিয়াকে দেখতে গিয়েছিলেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। সোমবার তিনি বলেন, ‘সিসিইউ’ভেতরে তো কাউকে যেতে দেওয়া হয় না। আমি ডাক্তার জাহিদ সাহেবের সঙ্গে কথা বলেছি। তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ম্যাডামের অবস্থা কেমন। তিনি ভালো নেই। তার দেশের বাইরে চিকিৎসা দরকার।’

বিএনপির সমমনা একাধিক রাজনৈতিক দলের নেতা মনে করছেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে দলীয় বা পারিবারিকভাবেই পরিষ্কার তথ্য দেওয়া দরকার। তারা চাইছেন, দেশের জ্যেষ্ঠপর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে লুকোচুরি না করে প্রকাশ্যে মানুষের কাছে তুলে ধরা হোক। ‘আর নিয়মিত বুলেটিন না থাকার কারণে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা বিষয়টিকে রাজনীতিকরণ করছে’ বলেও একটি দলের প্রধান প্রতিবেদকের কাছে মন্তব্য করেন।

গত ১৩ নভেম্বর এভার কেয়ারে ভর্তি করানোর পর সেদিন রাতেই সিসিইউ’তে যেতে হয় খালেদা জিয়াকে। এর আগে, ১২ অক্টোবর এভার কেয়ার হাসপাতালে ২৭ দিন চিকিৎসা শেষে ১৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় বাসায় ফেরেন তিনি। যদিও মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানেই আবারও এভার কেয়ারে যেতে হয় তাকে। ক্রমে তার শরীর খারাপ হতে থাকলে গত বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। যে কারণে সেদিনই বিএনপির পক্ষ থেকে জরুরিভাবে তাকে পরিবারের আবেদন অনুযায়ী বিদেশে পাঠানোর দাবি করা হয় এবং ২১ নভেম্বর কর্মসূচি দেয় দলটি। ১৮ নভেম্বর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, ‘চিকিৎসকদের আশঙ্কা— সময়োপযোগী সঠিক উন্নত চিকিৎসা না পেলে তিনি এমন এক জায়গায় উপনীত হবেন, যখন কোনও চিকিৎসা আর কাজে আসবে না।’

গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘আমার ধারণা, সরকার ম্যাডামকে দেশের বাইরে চিকিৎসা নিতে যেতে দেবেন। খালেদা জিয়ার শারীরিক যে অবস্থা, তিনি এখন সিসিইউ’তে শুয়ে আছেন। এই অবস্থায় তিনি রাজনৈতিক ফ্যাক্টর নন। তিনি এখন নাতি-নাতনিদের দেখবেন এটাই তার চাওয়া। তার এই অসুস্থতাকে পলিটিক্যাল করা ঠিক হবে না।’

রেজা কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমার আশা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার (খালেদা জিয়ার) বর্তমান পরিস্থিতির কথা নিজে প্রয়োজনে ডাক্তার পাঠিয়ে খবর নিতে পারেন। এতে তিনি কনফিডেন্স পাবেন। তিনি তাহলে বুঝবেন, কেন ম্যাডাম জিয়াকে দেশের বাইরে যেতে দেওয়া দরকার। প্রাইম মিনিস্টার একজন সিনিয়র চিকিৎসক পাঠিয়েও এটা করতে পারেন। আমার ধারণা, তিনি ম্যাডামকে বাইরে যেতে দেবেন।’

কিবরিয়া বলেন, ‘এটা আমরা বলতেই থাকবো। অব্যাহতভাবে বলতে থাকবো—  এটা ঠিক হচ্ছে না, তাকে ইমিডিয়েট দেশের বাইরে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া উচিত।’

যদিও খালেদা জিয়াকে দেখে আসা কোনও কোনও রাজনীতিক মনে করেন, কোনও অবস্থাতেই বিএনপির প্রধানকে দেশের বাইরে যাওয়ার সুযোগ সরকার দেবে না।

জানতে চাইলে সোমবার রাত সোয়া আটটার দিকে বিএনপির চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ম্যাডামের শারীরিক বিষয়ে তো তার চিকিৎসকরা বলবেন। আর পরিস্থিতি সম্পর্কে দলের মহাসচিব সাহেব যেটা বলেছেন, সেটাই। সিসিইউতে আছেন ম্যাডাম। ভালো হলে তো কেবিনেই শিফট করা হতো।’বাংলা ট্রিবিউন