স্টাফ রিপোর্টার।।
কুমিলার মন্দিরে অপ্রীতিকর ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়ে সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতি নষ্টের চেষ্টার অভিযোগে উত্তম মজুমদার (৩১) নামে উগ্রবাদী এক যুবককে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৬। খুলনায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উত্তপ্ত করতে এ ধরনের পোস্ট দিয়েছে বলে ওই যুবক প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।
র্যাব সূত্র জানায়, কুমিলার মন্দিরে অপ্রীতিকর ঘটনা ছড়িয়ে দিয়ে সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতি নষ্টের মাধ্যমে নিজের ক্ষোভ মেটাতে চেয়েছিল উত্তম মজুমদার। সে মনে করতো দেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নির্যাতিত। তাই সে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পেজ এ বিভ্রান্তিকর ও উগ্রবাদী বিভিন্ন পোস্ট করতো। বিষয়টি র্যাব-৬ খুলনার গোয়েন্দা নজরদারিতে আসে।
সূত্রটি আরও জানায়, র্যাবের স্পেশাল কোম্পানির একটি আভিযানিক দল বুধবার রাত সোয়া ৯টার দিকে নগরীর খুলনা-সাতক্ষীরা হাইওয়ের বোখারীয়া জামে মসজিদের সামনে থেকে উত্তম মজুমদার (৩১)-কে সাইবার অপরাধে গ্রেফতার করে। তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার তাকে লবণচরা থানায় হস্তান্তর ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়। উত্তম মজুমদার বাগেরহাট জেলার চিতলমারি থানার অশোক নগর গ্রামের অমল মজুমদারের ছেলে। উত্তম বরিশাল বিএম কলে থেকে এমএ সম্পন্ন করে খুলনায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করতেন। তবে প্রাথমিকভাবে উত্তম মজুমদারের কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এদিকে বৃহস্পতিবার র্যাব-৬ থেকে ই-মেইলে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে গত ১৩ অক্টোবর হতে উত্তম মজুমদার (৩১) তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে বিভিন্ন উস্কানিমূলক বক্তব্য পোস্ট করে আসছিলো। সে নিজে উক্ত পেজের এ্যাডমিন এবং তার সমমনা আরও কয়েকজন ব্যক্তিকে এ্যাডমিন হিসেবে নিযুক্ত করে। খুব দ্রুতই উক্ত পেজের সদস্য ও ফলোয়ার কয়েক হাজার ছাড়িয়ে যায়। এই ফেসবুক পেজ থেকে কুমিলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিথ্যা তথ্য প্রচার এবং উস্কানিমূলক পোস্ট প্রদান করা হচ্ছিলো এবং বাংলাদেশের সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতি বিনষ্ট ও সহিংসতা বিস্তার করার অপতৎপরতা চলছিলো। ওই ফেসবুক পেজে পার্শ্ববর্তী দেশসমূহে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন নৃশংস ঘটনার ভিডিও আপলোড করে জনমনে ভয়-ভীতি তৈরিসহ উস্কানি প্রদান করা হচ্ছিলো। অভিযুক্ত উত্তম মজুমদার প্রতিটি পোস্ট হ্যাসট্যাগ করে এই দেশকে একটি সা¤প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলো।
সংস্থাটির বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে ওই ফেসবুক পেজ এ উত্তম মজুমদার তার ফেসবুক পোস্টে বলেন “শারদীয় দুর্গা পূজা উপলক্ষে কুমিলা নগরীর পূজামন্ডপে হনুমানের মূর্তির পায়ের উপর পবিত্র কুরআন শরীফ পাওয়াকে কেন্দ্র করে উস্কানিমূলক পোস্ট, নোয়াখালীতে ধর্ষণের স্বীকার সেই ১০ বছরের বোনটির ডেড বডি, হিন্দুদের আস্তানা ভেঙে দাও, গুড়িয়ে দাও, আর কতো ভাঙবি, বাংলাদেশে চলমান হিন্দু গণহত্যার প্রচেষ্টার জেরে আসাম-বাংলাদেশ সীমান্তে তীব্র উত্তেজনা ধিক্কার সেই হিন্দুদের যাদের ১০টা #হ্যাসট্যাগ দিতে কষ্ট হয়, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ৩ জন এবং নোয়াখালীর চৌমুহনীতে ২ জনসহ মোট ৫ জন ধর্ষিত, নোয়াখালীর বর্তমান অবস্থা ১৯৪৬ সালের মতো হয়ে গেছে। সবাই সাবধানে থাকবেন, রাগ দুঃখ ক্ষোভ নিয়ে ১০ বছরের গণধর্ষণের শিকার মেয়েটি আত্মহত্যা করলো, এই দায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর, দেশে এতো বড় একটা দুঃখের ঘটনা ঘটার পরেও যারা মন্দিরের সামনে মেয়ে নাচিয়ে ফুর্তি করে তারা হিন্দু নামের কলঙ্ক, নেটওয়ার্ক বন্ধ করে হামলা ব্যর্থ বাংলাদেশের সরকার ও প্রশাসন, সোনাইমুড়ির হামলায় দাড়িয়ে দাড়িয়ে দেখতেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, আহা সোনার বাংলা, পুলিশ দিয়ে সংখ্যালঘু নির্যাতন করে দিস……সহ সনাতনীবন্ধু নামক ফেসবুক মেসেঞ্জার গ্র“পে একটি অডিও বার্তা পাওয়া যায়, যেখানে সরকার বিরোধী আন্দোলনের কথা প্রকাশ পায়”।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় উত্তম মজুমদারের মনে হতো এ দেশে হিন্দু স¤প্রদায় নির্যাতিত। তাই তাদের নিয়ে নেতিবাচক ও বিভ্রান্তিকর পোস্ট করলে সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতি নষ্টের মাধ্যমে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা উত্তপ্ত হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও মিডিয়া নিরব আছে মর্মে এটাই তার মোটিভ ছিলো বলে ধারণা করা হয়।











































