Home জাতীয় ঘরোয়া কর্মসূচি পালনের পরামর্শ: সংগঠন গোছাতে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর মনোযোগ

ঘরোয়া কর্মসূচি পালনের পরামর্শ: সংগঠন গোছাতে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর মনোযোগ

15

বিশেষ প্রতিনিধি।।

কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক ও ধর্মভিত্তিক দলগুলো সংগঠন গোছানোর কাজে মনোযোগ দিয়েছে। এ বছরের শেষ নাগাদ এবং ২০২২ সালে সম্মেলন ও প্রতিনিধি সভা আয়োজনে প্রস্তুতি শুরু করেছে কয়েকটি সংগঠন। কাউন্সিলের জন্য ইতোমধ্যে দিনক্ষণ চূড়ান্ত করেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন। কেন্দ্রীয় অধিবেশন ডেকেছে খেলাফত মজলিস। এছাড়া ইসলামী ঐক্যজোটসহ কয়েকটি সংগঠন সম্মেলন ডাকার বিষয়ে আলোচনা করছে।

কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক ও ধর্মভিত্তিক দলগুলোর প্রথম সারির অন্তত সাত-আট জন নেতা জানান, গ্রেফতার-মামলার ঝক্কি পেরিয়ে ধীরে ধীরে স্বস্তিতে ফিরছেন ইসলামি দলগুলোর নেতারা। বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনও ইস্যুতেই মাঠে কর্মসূচি পালনের সম্মতি নেই তাদের। তাই ঘরোয়াভাবেই কাজ হবে।

নেতাদের ভাষ্য, ‘হেফাজতে ইসলামকেন্দ্রিক ধর্মভিত্তিক দলগুলো এ বছরের শুরু থেকেই চাপে আছে। গ্রেফতার হয়েছেন অনেক নেতা। সেক্ষেত্রে নেতাদের কারামুক্তি ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে যেকোনও চাপের কাছেই নতি স্বীকার করতে হচ্ছে তাদের। যে কারণে প্রেস বিজ্ঞপ্তির বাইরে অন্য যেকোনও কার্যক্রম সীমিত পরিসরে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলগুলো।’  

এ প্রসঙ্গে খেলাফত মজলিসের একজন নায়েবে আমির রবিবার (১০ অক্টোবর) বলেন, ‘ইসলামি দলগুলোর পুনর্গঠন প্রক্রিয়া চলছে এখন। সবার সামনেই অস্তিত্বের লড়াই। বেশি চাপে পড়ায় ঘরোয়াভাবে কাজ হবে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে প্রকাশ্য কর্মসূচিতে যেতে পারে দলগুলো।’

এমন পরিস্থিতিতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দীর মন্তব্য, ‘ইসলামি দলগুলো এখন কারও লেজুড়বৃত্তি করবে না।’

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান হামিদীর বক্তব্য, ‘সামগ্রিকভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি কমেছে। তবে আমরা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সভা-সেমিনারসহ কর্মসূচি পালন করছি। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক হচ্ছে।’

ইসলামী ঐক্যজোটের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি মঈনুদ্দিন রুহি উল্লেখ করেন, অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর যেমন কার্যক্রম কম, তাদেরও কম। তিনি বলেন, ‘আমরা ঘরোয়াভাবে দলের কার্যক্রম পরিচালনা করছি। কিছু দিন আগেও আমাদের দলের মজলিসে শুরার বৈঠক হয়েছে।’

ধর্মভিত্তিক দলগুলোর মধ্যে একমাত্র ইসলামী আন্দোলনের স্বাভাবিক কার্যক্রম রয়েছে। দলটির নেতাদের দাবি, সারা বছরই তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চলতে থাকে।

ইসলামী আন্দোলনের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আহমদ আবদুল কাইয়ুম জানান, শনিবার (৯ অক্টোবর) থেকে সারাদেশের ৮৭টি সাংগঠনিক জেলায় ঝটিকা সফর করেছেন তিনি। সাত দিনের এই সফরে কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া তাদের ইস্যুভিত্তিক কর্মসূচি চলমান রয়েছে।

ঘরোয়া কার্যক্রম চলছে, প্রস্তুতি সম্মেলনের

দল গোছানোর কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আগামী ২৫ ডিসেম্বর সম্মেলন ডেকেছে চলতি বছরের ১৪ জুলাই বিএনপি-জোট ছেড়ে যাওয়া জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। দলটির আমির ও মহাসচিব পদে থাকা দুই জনই ভারপ্রাপ্ত হওয়ায় এবারের সম্মেলনের মূল বিষয়বস্তু ‘নেতৃত্ব নির্বাচন’।

হেফাজতের মামলায় কিছু দিন আগে কারাগার থেকে বেরিয়ে এসেছেন জমিয়তের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী। তিনি নিশ্চিত করেন, ‘আমরা আগামী ২৫ ডিসেম্বর সম্মেলনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করেছি। তবে এখনও স্থান নির্ধারণ হয়নি। দ্রুতই আমরা তা ঠিক করবো। সম্মেলনের আনুষঙ্গিক কাজ অব্যাহত আছে।’

খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাশেমী জানান, দলটির কেন্দ্রীয় সাধারণ অধিবেশন হবে আগামী ২৫ ডিসেম্বর। আরেক আমির মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক বলেন, ‘আমাদের কেন্দ্রীয় সাধারণ অধিবেশন ডাকা হয়েছে। এতে মতবিনিময় হবে। জেলায় জেলায় কীভাবে কাজ হচ্ছে, কতটুকু হচ্ছে, কাজের অগ্রগতি-অবনতি এসব বিষয় থাকবে। সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি থাকে, পরবর্তী বছরের পরিকল্পনা গ্রহণ।’

খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের বর্তমানে কারাগারে। আহমদ আলী কাশেমীর তথ্যানুযায়ী, কয়েকটি মামলায় এখনও তার জামিন বাকি আছে। আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ইসলামী ঐক্যজোট ঘরোয়াভাবে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছেন দলটির যুগ্ম মহাসচিব মুফতি মঈনুদ্দিন রুহি। তার কথায়, ‘কিছু দিন আগে আমাদের দলের মজলিসে শূরার বৈঠক হয়েছে। অন্য রাজনৈতিক দলগুলোরও যেমন কার্যক্রম কম, আমাদেরও কম।’

আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারি নাগাদ ইসলামী ঐক্যজোট কাউন্সিল করবে— এই তথ্য জানিয়ে রুহি বলেন, ‘কাউন্সিল আয়োজনের বিষয়ে আমরা আলোচনা করছি।’

খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান হামিদী জানান, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ২৯ নভেম্বর রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর মাদ্রাসায় প্রতিনিধি সম্মেলন ডাকা হয়েছে। দলের কাউন্সিল প্রসঙ্গে তিনি যোগ করেন, ‘দুই বছর পরপর আমাদের দলীয় কাউন্সিল হয়, সেই হিসাবে আগামী বছরের নভেম্বরে পরবর্তী কাউন্সিল হবে।’

ইসলামী আন্দোলন চলতি বছরের ২ জানুয়ারি সম্মেলন করেছে। পাঁচ বছরের জন্য এর আমির পদে পুনর্র্নিবাচিত হয়েছেন চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।

এছাড়া কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সংগঠনগুলো ঘরোয়া অনুষ্ঠান করলেও সম্মেলন বা শূরা অধিবেশন নিয়ে তাদের আগ্রহ নেই।-বাংলা্ ট্রিবিউন