০ আলমগীর হোসেন, কেশবপুর
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে কেশবপুরের বিরল প্রজাতির কালোমুখো হনুমানের মাসব্যাপী খাদ্যের ব্যবস্থা করা হয়েছে। করোনাকালে খাদ্য সংকটে পড়ে বিরল এ প্রজাতির প্রাণি কেশবপুর ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করতে কেশবপুর চারুপীঠ আর্ট স্কুলের উদ্যোগে মাসব্যাপী খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বনবিভাগসহ সুশিল সমাজের নেতৃবৃন্দ বলেছেন স্বল্প সময় হলেও বিশ্ব পরিবেশ দিবসে এটি বন্যপ্রাণিদের জন্য সুখকর উদ্যোগ।
উপজেলা বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আদিকাল থেকে কেশবপুর সদর ও পার্শ্ববতী ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে প্রায় ৫ শতাধিক বিরল প্রজাতির কালোমুখো হনুমান বসবাস করছে। বর্তমানে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বর, হাসপাতাল এলাকা, পাইলট স্কুল এলাকা, ভোগতীনরেন্দ্রপুর, মধ্যকুল, রামচন্দ্রপুর, ব্রহ্মকাটিসহ ১২টি স্পটে তাদের বিচরণ রয়েছে। বন বিভাগ থেকে প্রতিদিন বিরল প্রজাতির কালোমুখো হনুমানের জন্য ৩৬ কেজি পাকা কলা, ৪ কেজি পাউরুটি ও ৫ কেজি বাদাম দেওয়া হয়। তবে এত সংখ্যক হনুমানের বিপরীতে ওই খাবার সকলের মাঝে পৌঁছায় না। পর্যটকরা বিরল এ প্রজাতির প্রাণিকে দেখতে এসে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। এছাড়া স্থানীয়রা বিভিন্নভাবে হনুমানকে খাদ্য দিয়ে থাকেন।
করোনাকালীন সময়ে কেশবপুরে পর্যটক না আসায় ও মানুষের জীবন যাত্রা থমকে যাওয়ায় কালোমুখো হনুমান খাদ্য সংকটে পড়ে যায়। এ কারণে তারা ক্ষুধা নিবারণ করার জন্য হানা দিচ্ছে ফসলের ক্ষেতে, ফলফলাদির গাছসহ বিভিন্ন খাবারের দোকানে। খাদ্য সংকটে পড়ে দলছুট হয়ে কালোমুখো হনুমান দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছে। বিষয়টি ভাবিয়ে তোলে সচেতন মহলকে। হনুমান অন্যত্র চলে যাওয়ার বিষয়টি চিন্তা করে কেশবপুরের চারুপীঠ আর্ট স্কুলের তরুণ পরিচালক উৎপল দে সিদ্ধান্ত নেন প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার জন্য বিরল এ প্রজাতিকে টিকিয়ে রাখতে হবে। আর এ জন্য বিশ্ব পরিবেশ দিবসেই তিনি হনুমানের মাঝে খাদ্য সরবরাহ করতে এগিয়ে এসেছেন। উৎপল দে বলেন, মাসব্যাপী তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিদিন ২০ কেজি পাকা কলা, ১০০ পিচ পাউরুটি ও ২ কেজি বাদাম কালোমুখো হনুমানকে ১২টি স্পটে খেতে দেওয়া হবে। এজন্য একজন ভ্যানচালক রাখা হয়েছে। উপজেলা পরিষদ এলাকায় শনিবার সকাল ১০টায় ওই খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে। তাঁর এ কাজে সহযোগীতা করছেন শুভাকাঙ্খীরা। হনুমানের খাদ্যের জন্য এ মৌসুমে শহর কেন্দ্রীক উপকণ্ঠ এলাকাতে ১ হাজার বিভিন্ন ফলদ বৃক্ষ রোপণের সিদ্ধান্ত রয়েছে তাঁদের।
উপজেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মশিউর রহমান বলেন, হনুমান কেশবপুরের ঐতিহ্য। এ ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে চারুপীঠ আর্ট স্কুলের উদ্যোগ প্রশংসনীয়।
কেশবপুর নাগরিক সমাজের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু বকর সিদ্দিকী বলেন, কেশবপুরের বিরল প্রজাতির কালোমুখো হনুমানের খাদ্য বিতরণ সময়পোযোগী উদ্যোগ। তাদের মতো অন্যদেরও এগিয়ে আসা উচিত। কারণ বিরল এ প্রজাতি প্রাণির বসবাস কেশবপুরেই। এ প্রাণিকে আমাদের রক্ষা করতে হবে।
উপজেলা বন কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা বলেন, বর্তমানে কেশবপুরে হনুমানের সংখ্যা প্রায় ৫ শতাধিক। বনবিভাগ যে খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে তা অপ্রতুল। হনুমানের খাদ্য সরবরাহ বৃদ্ধির প্রয়োজন।
এ ব্যাপারে বন অধিদপ্তরের শেখ কামাল ওয়াইল্ড লাইফ সেন্টার গাজীপুরে কর্মরত বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ সিবলী সাদিক বলেন, হনুমান প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বর্ধনকারী একটি প্রাণি। এরা বন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে থাকে। প্রকৃতির সৌন্দর্য বৃদ্ধিকারী এ প্রাণিকে টিকিয়ে রাখতে সকলকে এগিয়ে আসা উচিত।
এ ব্যাপারে বন অধিদপ্তরের শেখ কামাল ওয়াইল্ড লাইফ সেন্টার গাজীপুরে কর্মরত বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ সিবলী সাদিক বলেন, হনুমান প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বর্ধনকারী একটি প্রাণি। এরা বন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে থাকে। প্রকৃতির সৌন্দর্য বৃদ্ধিকারী এ প্রাণিকে টিকিয়ে রাখতে সকলকে এগিয়ে আসা উচিত।










































