সদর থানা স্বেচ্ছা সেবক দলের প্রস্ততি সভা
০খবর বিজ্ঞপ্তি
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪০তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে সদর থানা স্বেচ্ছা সেবক দলের প্রস্ততি সভা অনুষ্ঠিত। সোমবার বেলা ১১টায় নগরীর কে ডি ঘোষ রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সদর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক খায়রুজ্জামান সজিব এর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব ওমর ফারুক বনির পরিচালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন মাসুূদ পারভেজ বাবু, আব্দুল আজিজ সুমন, এস এম ময়েজউদ্দিন চুন্নু, মুনতাসীর আল মামুন, হারুনুর রশিদ মাসুম, নাসিম আহম্মেদ ইমন, মুজাহিদ ইসলাম টনি, মঞ্জুর শাহিন রুবেল, নাঈম হাসান হাসিব, রিপন শিকদার, মোহাম্মদ আল আমিন, শেখ মোঃ আশিকউল্লাহ আশিক, মোঃ জুলফিকার আলী, মিজান সরদার, আব্দুল গফফার, সাইফুর রহমান জাহিদ, শেখ কামরুজ্জামান মিলন, হাবিবুর রহমান, আল ইমরান বাবু, আবু শাহাদাত মোহাম্মদ সায়েম, শাকিল আহম্মেদ, বেলাল হোসেন, ইউনুস হাওলাদার,পারভেজ শেখ, নয়ন আহম্মেদ,পরশ খান, রাকিব হাসান প্রমুখ।
বার্তা প্রেরক মোংলা বন্দরে নিরাপদ আশ্রয়ে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের ৮ যুদ্ধ জাহাজ
০ মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ এর কারণে মোংলা বন্দরে নিরাপদ আশ্রয়ে নোঙ্গর করেছে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের আটটি যুদ্ধ জাহাজ। সোমবার সকালে বন্দরের ছয়, সাত ও আট নম্বর জেটিতে নোঙ্গর করে এসব যুদ্ধ জাহাজ। চট্রগ্রাম থেকে আসা এসব জাহাজের ছয়টিই নৌবাহিনীর। বাকী দুইটি কোস্টগার্ডের।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাষ্টার কমান্ডার শেখ ফখর উদ্দিন জানান, সকালে চট্রগ্রাম বন্দর থেকে বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর প্রত্যাশা, স্বাধীনতা, শাপলা, সুরভী, সৈকত ও শৈবাল এবং কোস্টগার্ডের সৈয়দ নজরুল ও তাজউদ্দিন নামে এই আটটি যুদ্ধ জাহাজ মোংলা বন্দরে নিরাপদ আশ্রয়ে আসে। ঝড়ের কারণে নিরাপদ আশ্রয় নিতেই বন্দর জেটিতে নোঙ্গর করে এসব জাহাজ। দুর্যোগ কেটে গেলে পুনরায় এসব জাহাজ তাদের গন্তব্যে ফিরে যাবে বলেও জানান তিনি।আটটি যুদ্ধ জাহাজে প্রায় আট শতাধিক নাবিক রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
যশোরে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে যুবক হত্যায় তিনজনের ‘স্বীকারোক্তি’
০ যশোর অফিস
যশোরের একটি তথাকথিত মাদক নিরাময় কেন্দ্রে যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আটক ১৪ জনের মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া অপর ১১ জনের বিরুদ্ধে পুলিশের দেওয়া সাতদিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানির জন্য আগামী ২৭ মে দিন ধার্য্য করেছেন আদালত।
সোমবার বিকেলে যশোরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদৎ হোসেন ওই তিন আসামির জবানবন্দি গ্রহণ করেন। একইসাথে শুনানি শেষে রিমান্ড শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য্য করেন।
এর আগে দুপুর দেড়টার দিকে এ মামলার ১৪ আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইনসপেক্টর রকিবুজ্জামান জানান, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার বাসস্ট্যান্ড এলাকার মনিরুজ্জামানের ছেলে মাহফুজুর রহমান মাদকাসক্ত ছিলেন। তাকে গত ২৬ এপ্রিল যশোরে ‘মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে তার পরিবার। গত শনিবার দুপুরে মাহফুজুরের মৃতদেহ যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেখে আসে নিরাময় কেন্দ্রের লোকজন। একইসাথে পরিবারকে তার মৃত্যুর খবর জানানো হয়। নিরাময় কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় মাহফুজুরের পরিবার থানায় অভিযোগ দেয়। এরপর তদন্তে নির্যাতনে হত্যার বিষয়টি সামনে আসে। এ সংক্রান্ত সিসিটিভি ফুটেজও পাওয়া যায়। সেখানে দেখা যায়, বেশকিছু লোক মিলে এক যুবককে পেটাচ্ছে। এরপর মাহফুজুরের বাবা ১৪ জনকে আসামি করে যশোর কোতয়ালী থানায় মামলা করেন। পুলিশ ওই ১৪ জনকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়। এর মধ্যে তিনজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হন এবং অন্য ১১ জনকে সাতদিনের রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন জানানো হয়।
কোর্ট পরিদর্শক ইনসপেক্টর মাহাবুবুর রহমান বলেন, এ মামলার আসামি রিয়াদ, শাহীনুর রহমান, রেজাউল করিম রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া অপর ১১ আসামির রিমান্ড শুনানির জন্য আগামী ২৭ মে দিন ধার্য্য করেছেন বিচারক।
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবেলায় প্রস্তুত যশোর প্রশাসন
০ যশোর অফিস
ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিয়েছে যশোর জেলা প্রশাসন। জেলার আট উপজেলার স্কুল-কলেজ ও মাদরাসাগুলোকে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গঠন করা হয়েছে জেলা ও উপজেলাভিত্তিক কমিটি। সেইসাথে দুর্যোগ-পরবর্তী প্রস্তুতি হিসেবে ত্রাণ সামগ্রী, শুকনা খাবার, জরুরি ওষুধ মজুদের পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিসকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনডিসি একেএম মামুনর রশিদ জানান, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোবাবেলায় সকল ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে ৫৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলাভিত্তিক কমিটিগুলো প্রস্তুত করা হচ্ছে। দুর্যোগ-পরবর্তীকালে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য ত্রাণ সামগ্রী, ওষুধ, খাবার স্যালাইন মজুদ করা হয়েছে। গঠন করা হয়েছে মেডিকেল টিম। এছাড়া ঘুর্ণিঝড়ের পর বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত সচল করতে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এদিকে, দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি যশোর ইউনিট। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আজ তারা যশোর কার্যালয়ে সভাও করেছে। সভায় কর্মীদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান টুকুন।
তিনি বলেন, আগাম তথ্য না থাকায় গত বছর আম্পানে তেমন কোনো প্রস্তুতি ছিল না। তবে এবার ইয়াস মোকাবেলায় আগেভাগেই সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কর্মীদের মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যে কোনো প্রয়োজনে রেড ক্রিসেন্টের কর্মীরা প্রশাসনের সহযোগী হিসেবে কাজ করবেন।
যশোর থেকে ছেড়ে গেছে দূরপাল্লার গণপরিবহন
০ যশোর অফিস
সোমবার সকাল থেকে সারাদেশে দূরপাল্লার গণপরিবহন চলাচল শুরু করেছে। একই সাথে সীমিত যাত্রী নিয়ে ট্রেন, লঞ্চও চলাচল করছে। এদিকে যশোর থেকে বিভিন্ন সকালেই দূরপাল্লার বাস ও অন্যান্য যানবাহন ছেড়ে গেছে। যশোরের মণিহার, কেন্দ্রীয় বাসটামিনাল, পুরাতন খুলনা বাসস্টান্ডসহ সব স্টান্ড থেকে দূরপাল্লার গণপরিবহন ছেলে গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা পরিবহন সংস্থা শ্রমিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা মিঠু।
এদিকে লকডাইন আরও ৭ দিন অর্থাৎ ২৪ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত আরেক দফা বাড়িয়ে রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আন্তঃজেলাসহ সব ধরনের গণপরিবহন আসন সংখ্যার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে পারবে। তবে অবশ্যই যাত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে মাস্ক পরিধানসহ সকল স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে।
আজ ২৫ মে আইলা দিবস পালন করবেন কয়রাবাসী
০ শাহজাহান সিরাজ, কয়রা
আজ ২৫ মে আইলা দিবস ২০০৯ সালের এই দিনে আইলার তান্ডবে সমগ্র কয়রা উপজেলা লবণ পানিতে ভেসে ক্ষতিগ্রস্থ হয় হাজার কোটি টাকার সম্পদ। কয়রার মানুষ আজও সেই দুঃস্বহ স্মৃতি বহন করে চলেছে। একযুগ আগে ঘটে যাওয়া সেই দূর্বিসহ জীবনের কথা মনে পড়লে অনেকেই শিহরে উঠে এবং আজ কয়রাবাসী যে দিনটির কথা মনে করছে সেদিন আরও একটি ইয়াস নামে ঘূর্ণিঝড় ধেয়ে আসছে। এছাড়া আইলা পরবর্তী ফনি, বুলবুল , মহসিন ও সর্বশেষ আম্পান মরার উপর খাড়ার ঘাঁ মেরেছে এক বছর আগে ২০২০ সালের ২০ মে। এদিকে আইলায় ক্ষতিগ্রস্থ এমনকিছু বিশেষ স্মৃতি আজও বহন করে চলেছে কয়রার মানুষ। উল্লেখ্য মহারাজপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ মঠবাড়ী গ্রামের বুক চিরে আইলার পানির তান্ডবে তৈরি হয় সৈয়দখালী নদী। যার একপারে প্রতাপস্বরনী হাইস্কুল ও প্রাইমারি এবং অপর পারে গ্রামের অর্ধেক অংশ। অথচ আইলার একযুগ পরও গ্রামের দু,পারের মানুষ ও ছাত্রছাত্রীরা আজও খেয়া নৌকায় পারাপার হচ্ছে। এছাড়া আইলার শতশত স্মৃতি দেখা যায় ক্ষতিগ্রস্থ ৮১ টি গ্রামের অনেক বাড়ীঘরে। ২০০৯ সালের এই দিনে দুপুরের পর থেকে একে একে উপজেলার শাকবাড়ীয়া, কপোতাক্ষ ও কয়রা নদীর পাশে বসবাসকারী মানুষের কাছ থেকে মুঠো ফোনে খবর আসতে থাকে। এসময় একের পর এক খবরে জানা যায় অমুক গ্রামে বেঁড়িবাঁধ েেভঙ্গে প্রচন্ড বেগে লবণ পানি ঢুকছে এবং ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বাড়ী ঘর সহ চিংড়ীঘের ও ক্ষেতের ফসল। অতঃপর সন্ধ্যা নাগাত উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নের ৪৯ টি স্থানে বেঁড়িবাঁধ ভাঙ্গার খবর জানা যায়। তবে দিনের বেলায় হওয়াতে সেদিন ২ শিশু সহ ১ বৃদ্ধের মৃত্যুর খবরও শোনা যায়। এদিকে এ রিপোর্ট লেখা মহুর্তে বঙ্গোপসাগরে শুরু হয়েছে ঘূনিঝড় ইয়াসের। যে কারনে উপজেলা প্রশাসন, মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ¦ আকতারুজ্জামান বাবুর নির্দেশে ইতিমধ্যে ১১৭ টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছেন। অন্যদিকে দূর্গত উপকুলীয় এলাকায় মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়াসহ তাদের জানমাল রক্ষার জন্য প্রচার প্রচারনা শুরু হয়েছে।
মহানগর বঙ্গবন্ধু পরিষদের দোয়া অনুষ্ঠান
০খবর বিজ্ঞপ্তি
সোমবার বিকাল ৫ টায় বঙ্গবন্ধু পরিষদ খুলনা মহানগরের উদ্দ্যোগে পরিষদের খুলনা মহানগর যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও খালিশপুর থানার আহবায়ক এর সহধর্মীনি, বঙ্গবন্ধু পরিষদ খালিশপুর থানার আহবায়ক কমিটি সদস্য মোসাঃ জাহানারা জ্যোতি অসুস্থ হয়ে তার নিজ বাসভবনে চিকিৎসাধীন আছেন। তার রোগ মুক্তি কামনা করে পরিষদের কার্যালয়ে দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন পরিষদের মহানগর সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসমত আলী, প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী বঙ্গবন্ধু লীগ কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি ও খুলনা মহানগর সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ শাহাদাৎ হোসেন মল্লিক, বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিষদের মহানগর সিনিঃ সহ-সভাপতি শরিফ এনামুল কবির, কবি স. ম হাফিজুল ইসলাম, কবি মনিরুজ্জামান লাভলু, মহানগর সাধারন সম্পাদক এম আসাদুজ্জামান মুন্নার পরিচালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন মহানগর সহ-সভাপতি ও রোটাঃ ইঞ্জি মিজানুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা নাছিরউদ্দিন সরদার, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও সোনাডাঙ্গা থানার সভাপতি ডাঃ হাফিজুর রহমান সোহেল, মোঃ এনায়েত হোসেন, আলিনুর হোসেন মাতুব্বর, মোঃ মহিদুল ইসলাম নান্নু, আলহাজ্ব এস এম জাহাঙ্গীর আলম, মোঃ ইউনুস আলী মোল্লা, এ্যাড. জিনারুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মারুফ চৌধুরী রিমন, শেখ মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, মোঃ রেজাউল করিম, শারাফাত উল্লাহ স্বপন, মোঃ কামাল হোসেন, মুন্সী মাহাবুবুর রহমান, আকবার আলী, কাজী রায়হান হোসেন রুপম, মোঃ আশিক চৌধুরী, খন্দকার হুমায়ুন কবির, এইচ, এম আরিফ, ইঞ্জি. শান্তনু বৈরাগী, বিশ্বজিত মন্ডল, রায়হান চৌধুরী, মোঃ সামছুজ্জামান রিপন, মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, ইব্রাহীম মনির, দেলোয়ার হোসেন, মোঃ কামরুল, মোঃ ফিরোজ মাহমুদ, এনামুল হক হীরা, আফজাল হোসেন আনজালা, আব্দুস সালাম সরদার, আব্দুর জব্বার কমান্ডার, আব্দুর রহমান, হাবিবুর রহমান খোকন, আল-আমিনসহ পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
ডুমুরিয়ায় জুটমিল শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা
০ ডুমুরিয়া প্রতিনিধি
ডুমুরিয়ায় ভ্যানগাড়ি চুরির অভিযোগে হাফিজুর রহমান গাজী (৪৫) নামের এক জুটমিল শ্রমিক কে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।নিহত হাফিজুর গাজী উপজেলার খর্ণিয়া ইউনিয়নের টিপনা গ্রামস্থ আলতাফ গাজীর ছেলে।গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তাকে মূমূর্ষ অবস্থায় ডুমুরিয়া হাসপাতালে আনলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করেন। তবে নিহতের পরিবার এটি পরিকল্পিত হত্যা বলে দাবি করেন। নিহতের পিতা আলতাফ গাজী জানান,পাঁচ ছেলের মধ্যে বড় ছেলে হাফিজুর রহমান নওয়াপাড়া জুট মিলে প্রায় দু’বছর ধরে কর্মরত থাকার সুবাদে পরিবার নিয়ে সেখানে বসবাস করে আসছে।গত রবিবার বিকেলে কে বা কাহারা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ফোন করে এলাকায় ডেকে নিয়ে আসে।এরপর রাতে তাকে নির্জনে নিয়ে হাত-পায়ের রগ কর্তন,চোখে আঙ্গুল ও নাকে মুখে ধান ঢুকিয়ে নির্মম ভাবে নির্যাতন করে মূমূর্ষ অবস্থায় তাকে বেলেখালি ওয়াপদার পাশে ফেলে রাখা হয় এবং স্থানীয় আজিজ গাজীর ভ্যানগাড়ি চুরির অভিযোগে তাকে মারপিট করা হয়েছে বলে এলাকায় গুজব ছড়ানো হয়।এ নিয়ে কথা হয় স্থানীয় ইউপি সদস্য শেখ মহসিনের সাথে তিনি জানান,বেলেখালি ওয়াপদার পাশে হাফিজুর গাজী গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে আছে এমন খবর পেয়ে সকাল ৭টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে মূমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে ডুমুরিয়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত বলে ঘোষনা করেন। এ বিষয়ে ওসি মোঃ ওবাইদুর রহমান বলেন,খবর পেয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরন করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনার প্রকৃত কারন ও ঘটনার সাথে কারা জড়িত সেটি উদঘাটনের জন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলার প্রস্তÍতি চলছিল।
প্রাণিপ্রেমী সোহরাব হোসেন খানজাহান আলী রোড দোকান মালিক সমিতির নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান
০খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা মহানগরীর খানজাহান আলী রোডে পাইপ ফিটিং, স্যানেটারী টাইলস্-সহ অন্যান্য ৩০০ দোকান-প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ীদের সংগঠন খানজাহান আলী রোড দোকান মালিক সমিতি। এ সংগঠনটির আহ্বায়ক কমিটির সভা সম্প্রতি আহ্বায়ক সৈয়দ মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব এস এম আরিফুর রহমানের পরিচালনা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সংগঠনকে গতিশীল ও গঠনতন্ত্র মোতাবেক আসন্ন ২য় দ্বি-বার্ষিক সাধারণ নির্বাচন-২০২১ সুন্দর সুষ্ঠু নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে সর্বসম্মতিতে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী খুলনা পোল্ট্রি ফিশ ফিড শিল্প মালিক সমিতির মহাসচিব ও কেন্দ্রীয় প্রচার-প্রকাশনা সম্পাদক প্রাণিপ্রেমী এস এম সোহরাব হোসেনকে ২য় বার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান মনোনীত করে যথাযথভাবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ দায়িত্ব প্রদান করা হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে সোহরাব হোসেন বলেন, মহামারী করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি, সামাজিক দূরত্ব ও নিরাপত্তা বজায় রেখে সংক্রমণ নি¤œমুখী হলেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন। তিনি সকল ব্যবসায়ীদের সরকারী নির্দেশনা মেনে সতর্কতার সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করার অনুরোধ করেন। সভায় আরও উপস্থিত ও বক্তৃতা করেনÑআহ্বায়ক কমিটির সম্মানীত সদস্য শেখ সমশের আলী, এস এম আলমগীর হোসেন, মোঃ আবু বক্কর, সৈয়দ ইসমাম তাহসিন সৌমিক, বি ইউ আহমেদ মিঠু প্রমুখ।
প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন খুবির নতুন ভাইস-চ্যান্সেলর নিযুক্ত
০খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৯০ এর (১১)১ ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর মোঃ আবদুল হামিদ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি এন্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের শিক্ষক প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেনকে চার বছর মেয়াদে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর নিযুক্ত করেছেন। ২৪ মে ২০২১ খ্রি. তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মোঃ মাহমুদুল আলম স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে (নং-শিম/শাঃ১৮/৮খুঃবিঃ১/৯৭(অংশ-১)/১৬৪) স্মারকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর পদে প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি হলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২তম ভাইস-চ্যান্সেলর এবং এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্য থেকে নিযুক্ত দ্বিতীয় ভাইস-চ্যান্সেলর। তিনি আগামীকাল সকাল ১১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন বলে রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে জানা গেছে। উল্লেখ্য, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১তম ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান এর মেয়াদ গত ২৮ জানুয়ারি শেষ হয়। এরপর ৮ ফেব্রুয়ারি ভাইস-চ্যান্সেলরর রুটিন দেওয়া হয় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোসাম্মাৎ হোসনে আরাকে। এ হিসেবে প্রায় ৪ মাস পর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় পেলো নতুন পূর্ণাঙ্গ ভাইস-চ্যান্সেলর।
ড. মাহমুদ হোসেন এর সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত: খ্যাতনামা গবেষক শিক্ষক খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন ১৯৭২ সালের ২২ আগস্ট বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলার মধ্য কচুবুনিয়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাগেরহাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৮৭ সালে এসএসসি, বাগেরহাট সরকারি পিসি কলেজ থেকে ১৯৮৯ সালে এইচএসসি, ১৯৯৩ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অফ ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স থেকে বনবিদ্যায় ¯œাতক (সম্মান), ১৯৯৮ সালে মালয়েশিয়ার পুত্রা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যানগ্রোভ ইকোলজির উপর ¯œাতকোত্তর এবং ২০০৪ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ের উপর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৯ সালে তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক পদে যোগদান করেন। ২০০১ সালে তিনি সহকারী অধ্যাপক, ২০০৫ সালে সহযোগী অধ্যাপক এবং ২০০৯ সাল থেকে ফরেস্ট্রি এন্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনে অদ্যাবদি অধ্যাপক পদে দায়িত্বরত আছেন। তাঁর ১০৫টি গবেষণা নিবন্ধ আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত পুস্তকের সংখ্যা ৩টি, অনুবাদ ২টি। দেশি ও বিদেশি সংস্থার অর্থায়নে ২৬টি গবেষণা প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন তিনি। তাঁর উদ্যোগ ও নেতৃত্বে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের মধ্যে প্রথম সয়েল আর্কাইভ স্থাপন হয়েছে। প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য, ফরেস্ট্রি এন্ড উড ডিসিপ্লিনের বিভাগীয় প্রধান, বোর্ড অব এ্যাডভান্স স্ট্যাডিজের সদস্য, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সহ-সভাপতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ সাবেক সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডাঃ মোঃ মোজাম্মেল হোসেন ও সাবেক প্রধান শিক্ষিকা মিসেস জাহানারা বেগম এর একমাত্র পুত্র। তাঁর পিতা-মাতা গত কয়েক বছরের ব্যবধানে ইন্তেকাল করেন। তাঁর সহধর্মিনী ইসমত আরা শিরীন চৌধুরী একজন গৃহিনী। তাঁরা এক সন্তানের জনক-জননী। তাদের একমাত্র কন্যা তাসফিয়াহ মাহমুদ খুলনার সরকারি মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজের শিক্ষার্থী।
খুবির নবনিযুক্ত ভাইস-চ্যান্সেলরকে অভিনন্দন: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেনকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোসাম্মাৎ হোসনে আরা। এক অভিনন্দন বার্তায় তিনি বলেন, নবনিযুক্ত ভাইস-চ্যান্সেলর এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই নিযুক্ত হওয়ায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক, প্রশাসনিক ও উন্নয়ন কর্মকান্ডসহ সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ে সম্যক অবহিত। তাঁর নেতৃত্বে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দ্রুত সামনের দিকে এগিয়ে যাবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে থেকেই ভাইস-চ্যান্সেলর নিযুক্ত করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রীকেও আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। অপর এক অভিনন্দন বার্তায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর সাধন রঞ্জন ঘোষ নবনিযুক্ত ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেনকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
লখপুরে দুর্যোগ পরিস্তিতি মোকাবেলায় প্রস্তুতি সভা
ফকিরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটের ফকিরহাটের লখপুর ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে এবং দুর্যোগ কমিটির সহযোগীতায় দুর্যোগ পরিস্তিতি মোকাবেলায় প্রস্তুতি মুলক সভা সোমবার বিকাল ৪টায় ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্যানেল চেয়ারম্যান-১ শেখ আলী আহম্মদ এর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন আ,লীগের সাধারন সম্পাদক ও কমিটির সদস্য এমডি সেলিম রেজা, ইউপি সচিব প্রসুন কুমার দাশ, ডাঃ মাসুদা খানম, কৃষি অফিসার বিপ্লব দাশ, মহিলা সদস্যা তাসলিমা বেগম লতা, খুকু মনি বেগম, ইউপি সদস্য বজলুর রহমান মোড়ল, হুমায়ুন কবির, মোতালেব মোড়ল, শিক্ষক হেদায়েত হোসেন ও মধুসুধন ঘোষ প্রমুখ। উল্লেখ্য উক্ত ইউনিয়নের মোট ১২টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সাতক্ষীরায় ঘূর্ণিঝড় “যশ” মোকাবেলায় প্রস্তুতি গ্রহন
খান নাজমুল হুসাইন, সাতক্ষীরা
ঘূর্ণিঝড় “যশ” মোকাবেলায় উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় সকল প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলা প্রশসন সম্মেলন কক্ষে দূর্যোগ ব্যবস্থাাপনা কমিটির জরুরী সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জেলা প্রশাসক এস.এম মোস্তফা কামাল জানান, আশঙ্কা করা হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় যশ সাতক্ষীরা খুলনা উপকূলে আঘাত হানতে পারে। সে ধরনের পূর্বাভাস দেখেই ইতিমধ্যে সকল প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে। জেলায় ১৪৫ টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র ও ১৫০০ স্কুল কলেজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া ১৮৩ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুদ রাখা হয়েছে। একই সাথে দুই কোটি ১৫ লাখ টাকার নগদ অর্থ সহায়তার জন্য রাখা হয়েছে। পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও ওয়াটার ট্যাংকি প্রস্তুতি রয়েছে। শ্যামনগর ও আশাশুনিতে ৪ হাজার ৮৮০ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া পর্যাপ্ত পরিমান প্রস্তুত রয়েছে পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও স্বাস্থ্য বিভাগের সদস্যরা। জেলা প্রশাসন সব সময় সজাগ থেকে বরাবরের মত দুর্যোগ মোকাবেলায় সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরো জানান, ঘূর্ণিঝড় “যশ’ মোকাবেলায় উপকুলীয় জেলা সাতক্ষীরায় যাতে কোন ধরনের জান মালের ক্ষতি না হয় সে জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড় যশের প্রভাবে সাতক্ষীরার আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে। তীব্র গরম ও আবহাওয়া গুমোট রয়েছে। রাতে ও সোমবার দুপুরে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হয়ে তা থেমে যায়। উপকুলীয় উপজেলা শ্যামনগর ও আশাশুনির পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেঁড়িবাধ গুলি রয়েছে চরম ঝুঁকির মধ্যে। ঘূর্নিঝড় আম্ফানের ক্ষত কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আবারো ঘূর্নিঝড় যশ নিয়ে উপকুলীয় এলাকার লক্ষ লক্ষ মানুষের মধ্যে যেন এক অজানা আতংক বিরাজ করছে। সাতক্ষীরার আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন জানান, এটি যে কোন সময় সুন্দরবন উপকুলীয় এলাকায় আঘাত হানতে পারে। তিনি আরো জানান, উপকুলীয় এলাকায় বর্তমানে ২ নং সতর্ক সংকেত চলছে।
সাতক্ষীরার আশাশুনির মরিচ্চাপ নদীর সেতু ভেঙে ট্রাক নদীর চরে: জনদুর্ভোগ চরমে
খান নাজমুল হুসাইন, সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরার আশাশুনির মরিচ্চাপ নদীর উপরের সেতু ভেঙে পড়েছে। সোমবার সকাল ১০টার দিকে ইট বোঝাই ট্রাক সেতুর উপর দিঢে যাওয়ার সময় সেতুটি ভেঙে পড়ে নদীর চরে। তবে, এসময় ট্রাকে থাকা চার জনের কারও কোন ক্ষতি না হলেও ব্রীজে যাতয়াত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাততক্ষীরা-আশাশুনি সড়কে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেতু কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত ব্রীজে ১০ টনের বেশী মালামাল বহনে নিষেধাজ্ঞা জারী করলেও ইট ভাটার ট্রাক চালকরা সেটা মানেন না। সকালে উপজেলার শ্রীকলস গ্রামের আব্দুস সামাদের এমএমবি ইটভাটা থেকে প্রায় ১৮ টন ইট লোড নিয়ে ৩ টি ট্রাক সাতক্ষীরার দিকে রওয়ানা দেয়। এ সময় স্থানীয়রা সেতুর উপর দিয়ে না যাওয়ার জন্য ট্রাক চালকদের নিষেধ করেন। তার পরও তারা তাদের নিষেধ না শুনে ট্রাক গুলো নিয়ে ওই সেতুুর উপর দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে দ্বিতীয় ট্রাকটি (যশোর ট ১১-১৭৬৫) ওই ব্রীজের মাঝামাঝি স্থানে যাওয়ার পর বিকটশব্দে ব্রীজের শীড পাটাতন ভেঙে ইট সহ নদীর চরে আটকে যায়। পরে সেখানে সব ধরনের যানবাহন পারাপার বন্ধ হয়ে যায়। দুপুর পর্যন্ত সড়ক ও জনপদ বিভাগের কাউকে ঘটনাস্থলে আসতে দেখা যায়নি। দুর্ঘটনা কবলিত ট্রাকের লোকজন তাদের ইট সরাতে দেখা যায়। বর্তমানে ব্রীজের সরু বীট দিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে সাতক্ষীরা-আশাশুনি সড়কে পায়ে হেটে যাতায়াত করছেন সাধারন যাত্রীরা।
ট্রাক ড্রাইভার সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছার নাইমুর রহমান জানান, তার ট্রাকে প্রায় ১৩ টন ইট লোড ছিলো। আগের গাড়ীটিতে প্রায় ১৮ টন ইট বোঝাই ছিলো। ওই গাড়ীটি যাওয়ার পরপরই তিনি গেলে দুর্ঘটনায় পড়ে যান। তবে, এতে তাদের কারও কোন ক্ষতি হয়নি। তিনি আরো জানান, এরকম মালামাল নিয়ে তারা নিয়মিত যাওয়াত করে থাকলেও কোন সমস্যা হয়না। যত দ্রুত সম্ভব ট্রাকটি অপসারন করানোর চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।
তবে, স্থাণীয়রা দ্রুত এই সেতু সংস্কার করে যাতায়াত ব্যবস্থা সচল করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরসহ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
ইয়াসের ক্ষতির আশংকায় সুন্দরবনের ৮টি অফিস বন্ধ ঘোষণা, ৫০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের তান্ডবে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতেই পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্চের আওতাধীন ৮টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ফরেস্ট অফিস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ওই সকল অফিসে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে (৫০ জন) নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। বন্ধ করে দেয়া ওই ৮টি অফিসের মধ্যে রয়েছে শরণখোলা রেঞ্জের, দুবলা, কোকিলমনি, শ্যালা, কচিখালী ও চরখালী টহলফাঁড়ি। আর চাঁদপাই রেঞ্জের মধ্যে রয়েছে, তাম্বুলবুনিয়া, জোংাড়া ও ঝাপসি টহল ফাঁড়ি।
পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ইয়াস আগামী ২৬ মে (বুধবার) বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বিষয়টি মাথায় রেখে ইতিমধ্যেই সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের ৮টি টহল ফাঁড়ি বন্ধের পাশাপাশি সেখানকার লোকজনকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এছাড়া সুন্দরবনের জেলে, বাওয়ালী ও মৌয়ালদের নিরাপদে সরে যেতে বলা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, প্রতিবারের মত এবারও সুন্দরবন বুক পেতে উপকূলবাসীদের রক্ষা করবেন ইনশাল্লাহ।
পাইকগাছায় ঘুর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ মোকাবিলায় প্রস্তুুত ১০৮টি আশ্রায়ন কেন্দ্র
পাইকগাছা প্রতিনিধি
পাইকগাছায় ঘুর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ মোকাবিলায় প্রস্তুুত ১০৮ টি আশ্রায়ন কেন্দ্র কাম সাইক্লোন শেল্টার। সে সঙ্গে প্রস্তুুত রয়েছে মেডকেল টিম। এছাড়াও রয়েছে শুকনা খাবার চাল, ডাল, গো-খাদ্য।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে ঘূর্ণঝড় ইয়াস মোকাবিলায় উপজেলা ত্রান ও পূনর্বাসন কর্মকর্তা (পিআইও) ইমরুল কায়েস জানান, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ১০৮টি আশ্রায় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যার মধ্যে সাইক্লোন শেল্টার, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা রয়েছে। এ বাদেও আরো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে রেখেছি। এ সমস্ত সাইক্লোন শেল্টারের ধারন ক্ষমতা রয়েছে ৫৮ হাজার মানুষ। প্রস্তুত রয়েছে মেডিকেল টিম। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুত কমিটির (সিপিপি) স্বেচ্ছাসেবক রয়েছে ২ হাজার ৫ শ। উপজেলার মধ্যে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ৪ টি ইউনিয়ন। যার মধ্যে অধিক ঝুকিপূর্ণ দেলুটি ইউনিয়ন। অপরদিকে বেড়িবাঁধ ভাঙ্গন আতংকে রয়েছে উপকুল এলাকার মানুষ। ইতিমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড ঝুকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-প্রকৌশলী ফরিদ হোসেন জানান, পাইকগাছায় ২২২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। যার মধ্যে ঝুঁকিতে রয়েছে ৩০ কিলোমিটার বাঁধ। লতা ইউনিয়নে ৬, দেলুটিতে ৭, সোলাদানা ৫, গড়ইখালী ৩, গদাইপুর ৫ ও লস্কর ইউনিয়নে ৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুকিপূর্ণ রয়েছে। তিনি আরো বলেন, ষাটের দশকের বেড়িবাঁধ খুবই দুর্বল হয়ে গেছে। অস্বাভাবিক পানি বাড়লে প্রায় সব স্থান থেকে পানি ছাপিয়ে পোল্ডারের ভিতরে ঢুকে প্লাবিত হবে। আমরা উপজেলা প্রশাসনের সাথে কাজ করে যাচ্ছি। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জিও ব্যাগ দিয়েছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, আমরা প্রচার-প্রচারনা সহ আগাম প্রস্তুতি গ্রহন করেছি। যার জন্য মানুষ সচেতন হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রবিবার আমাদের লস্কর ইউনিয়নে একটি সাইক্লোন শেল্টার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করেছেন। যদি অস্বাভাবিক কিছুু হয় সেটি মোকাবিলার জন্য আমাদের পর্যাপ্ত জনবল রয়েছে।
প্রস্তুতি সভা : পাইকগাছার সোলাদানা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ঘুর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবিলা কমিটির প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার দুপুরে চেয়ারম্যান এসএম এনামুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন, ইউপি সদস্য ঠাকুর দাস সরদার, আজিজুর রহমান লাভলু, আবুল কাশেম, আবু সাঈদ মোল্যা, আব্দুস সবুর, রাজেশ, আবু বক্কর সিদ্দিক, আনিচ সানা, কল্যাণী মন্ডল, জেসমিন সহ এলাকার গন্য মান্য ব্যাক্তি বর্গ, ইউনিয়ন ঘুরনিঝড় কমিটির সদস্য বৃন্দ। এ সময় তিনি বলেন ঘুর্ণিঝড় ইয়স মোকাবিলায় প্রতেকটি ওয়ার্ডে ইউপি সদস্যদের নেতৃত্বে সাধারন মানুষকে আশ্রায়ন কেন্দ্রে আনতে হবে। তাহলে ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা থাকবেনা। তিনি আরো বলেন ঘর্ণিঝড় চলাকালে আমার ইউনিয়নে একজন মানুষও না খেয়ে থাকবেনা। ব্যক্তি উদ্যগে তিনি খাবার স্যলাইন, শুকন খাবার, শিশু খাদ্য, পর্যাপ্ত মজুুত রেখেছেন।
খুলনা বিভাগে সরকারি খাদ্যসহায়তা বিতরণ
তথ্য বিবরনী
খুলনা বিভাগের সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া ও নড়াইল জেলায় প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় করোনায় কর্মহীনদের মাঝে নগদ অর্থ ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ পর্যন্ত ত্রাণ হিসেবে ৪৫ হাজার নয়শত ২৪ পরিবারের মাঝে দুই কোটি ২৯ লাখ ৬২ হাজার টাকা এবং ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় দুই লাখ ৮৭ হাজার তিনশত ৪০ উপকারভোগী পরিবারের মাঝে ১২ কোটি ৯৩ লাখ তিন হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এছাড়া তিনশত আটটি পরিবারের মাঝে শিশু খাদ্য হিসেবে এক লাখ টাকা এবং গো খাদ্য হিসেবে একশত নয়জন উপকারভোগীর মাঝে এক লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। ৩৩৩ কল এর মাধ্যমে ৯৭ টি পরিবারকে খাদ্যসহায়তা প্রদান করা হয়েছে। কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন সোমবার করোনায় কর্মহীন হয়ে পড়া ৮২ উপকারভোগী পরিবারের মাঝে ৬১ হাজার পাঁচশত টাকার খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে। নড়াইল জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ পর্যন্ত ২৪ হাজার নয়শত ৫৪ উপকারভোগী পরিবারের মাঝে এক কোটি ২০ লাখ ৯৩ হাজার টাকা এবং ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ৭৬ হাজার ৭৮ উপকারভোগী পরিবারের মাঝে তিন কোটি ৪২ লাখ ৩৫ হাজার একশত টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। দুই হাজার ৭৭ উপকারভোগী পরিবারের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ৩৩৩ কল এর মাধ্যমে ৩০টি পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। খুলনা বিভাগের অন্যান্য জেলাগুলোতে অনুরূপ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ, পৌরসভা, উপজেলা প্রশাসন ও কোস্টগার্ড’র ব্যাপক প্রস্তুতি
মোংলা প্রতিনিধি
মোংলা বন্দরসহ সংলগ্ন সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের তেমন কোন প্রভাব পড়েনি এখনও পর্যন্ত। তবে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হওয়ার কারণে মোংলা সমুদ্র বন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুশিয়ার সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। এর আগে রবিবার রাতে এ এলাকার উপর দিয়ে হালকা-মাঝারি ঝড়ো হাওয়া বয়ে গেলেও কোন বৃষ্টিপাত হয়নি। সোমবার সকাল থেকে রোদ্রজ্জল আবহাওয়া বিরাজ করছে। এনিয়ে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ, পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসন পৃথক প্রস্তুতি সভা করেছেন। দুর্যোগ মোকাবেলা ও ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সকল ধরণের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বন্দর, পৌরসভা ও উপজেলার পক্ষ থেকে। এছাড়া নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও বর্ডার গার্ড পৃথক সভা শেষে সকল ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছেন। বর্তমানে ঘূণিঝড়টি মোংলা বন্দর থেকে ৬৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছে।
তবে ঝড় নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ভীতিও রয়েছে। কিন্তু এবার বেশ আগেভাগে থেকে ঝড়ের পূর্বাভাস পাওয়ায় ব্যাপক প্রস্তুতি ও প্রচারণার সুযোগ পেয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সাধারণ লোকজন বলছেন, ভয় তো আছেই, করবো কি আমাদের তো কাঁচা ঘর, ঝড় আসলে মসজিদে ও বিল্ডিংয়ে যেতে হবে। তবে এবারের প্রশাসনের প্রস্তুতিও বেশ ভাল বলছেন স্থানীয় জনসাধারণ। মোংলায় এবার মোট ১০৪টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত করে রেখেছেন। এছাড়াও এখানকার ব্যক্তি মালিকানা, সরকারী-বেসরকারী বহুতল পাকা ভবনও আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার কমলেশ মজুমদার বলেন, উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ৬৬টি আশ্রয় কেন্দ্র পরিস্কার করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেখানে আগতদের জন্য বিশুদ্ধ পানি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, শুকনা খাবার মজুদ করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে কানাইনগর, চিলা ও জয়মনি এলাকায় সার্বক্ষনিক নজরদারী রাখা হচ্ছে। দুর্যোগকে ঘিরে প্রায় ১৪শ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম।
পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আ: রহমান বলেন, পৌর এলাকায় ৩৭টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রে আসা লোকজনের মাঝে খিচুড়িসহ শুকনো খাবার বিতরণের উদ্যোগও নেয়া হয়েছে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রস্তুতি নিয়ে সোমবার দুপুরে বন্দর কর্তৃপক্ষের সম্মেলন কক্ষে বিশেষ জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বন্দরের বিভিন্ন দপ্তরের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মো: মুসা বলেন, বন্দরে বর্তমানে ১১টি বিদেশী জাহাজ অবস্থান করছে সেগুলো সতর্ক করা হয়েছে। সেগুলো পণ্য ওঠানামার কাজ চলছে। সর্তক বার্তা যখন ৪ নম্বর হবে তখন কাজ বন্ধ করে জাহাজগুলো নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হবে। এছাড়া বন্দর চ্যানেলে অন্যান্য যে কার্গো, কোস্টার, বার্জ, ট্যাংকারসহ নৌযান রয়েছে সেগুলো এখান থেকে সরিয়ে খুলনার রুপসা ব্রিজ সংলগ্ন নদীতে নিরাপদে নেয়ার জন্য বলা হয়েছে। কন্ট্রোল রুম খোলাসহ মেডিকেল টিক প্রস্তুত করা হয়েছে। বন্দর এলাকা ও আশপাশের দরিদ্র মানুষের আশ্রয়ের জন্য বন্দর স্কুল এন্ড কলেজটিকে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। সেখানে যারা আসবেন তাদের খাদ্যসহ সকল সহায়তা দেয়া হবে বন্দরের পক্ষ থেকে। এছাড়া বন্দরের নিজস্ব জলযান, জেটির মালামাল ও যন্ত্রপাতি শক্ত করে বেঁধে সংরক্ষণ করা হচ্ছে যাতে কোন ক্ষয়ক্ষতি না হয়।
এদিকে ঘূর্ণিঝড়কে ঘিরে উপকূলের সাতক্ষীরার শ্যামনগরের মুন্সীগঞ্জে কোস্ট গার্ডের অস্থায়ী কন্টিনজেন্ট মোতায়েন করা হয়েছে। কোস্ট গার্ডের সকল অপারেশন বোট উদ্ধার কার্যক্রমের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেই সাথে উদ্ধার তৎপরতার জন্য ১টি ভলগেট ও ১০টি ইঞ্জিন চালিত কাঠের বোটও ভাড়া করেছে কোস্ট গার্ড। মোংলা ও মুন্সিগঞ্জে একটি করে মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঘূণির্ঝড় পরবর্তী উদ্ধার অভিযান ও ত্রাণ বিতরণের জন্য সমুদ্রে বিসিজিএস মনসুর আলী, কয়রা এলাকার জন্য বিসিজিএস স্বাধীন বাংলা, গাবুরা এলাকার জন্য বিসিজিএস তামজীদ ও নলিয়ান এলাকার জন্য এইচপিবি গড়াই প্রস্তুত রেখেছে কোস্ট গার্ড। এছাড়াও নৌবাহিনী ও বর্ডার গার্ডও অনুরুপ প্রস্তুতি এবং কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।
খুলনা ফুলতলায় ছয়শত অসহায় পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা বিতরণ
তথ্য বিবরনী
প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় করোনায় খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলায় কর্মহীন, অসহায় ও দুস্থ ছয়শত পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। সোমবার সকালে খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে এই ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। খাদ্যসহায়তার মধ্যে ছিলো চাল, আলু, ডাল, সবজি ও মাছ। খাদ্যসামগ্রী বিতরণকালে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরু থেকে অসহায়, দুস্থ, শ্রমজীবী ও যারা দিন আনে দিন খায় তাদের বিভিন্ন সহায়তা করে যাচ্ছেন। এসকল ত্রাণসামগ্রী স্বচ্ছতার সাথে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বয়ে বিতরণ করা হচ্ছে। করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে তিনি সক্ষম ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহবান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মোঃ ইকবাল হোসেন এবং ফুলতলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আকরাম হোসেন। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া আফরিন। এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মোঃ মারুফুল আলম, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা প্রশাসন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
পরে জেলা প্রশাসক একই স্থানে খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে উপজেলার ৩১ জন গ্রাম পুলিশদের মাঝে বাইসাইকেল, পোষাক ও সরঞ্জামাদি বিতরণ করেন। এছাড়া তিনি উপজেলার দামোদর ইউনিয়নে মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য দ্বিতীয় পর্যায়ের ঘর নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেন।
উল্লেখ্য, করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে সরকার কর্তৃক ঘোষিত সর্বাত্মক লকডাউনের ফলে কর্মহীন হয়ে পড়া নি¤œ আয়ের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রান্তিক মানুষের কথা চিন্তা করে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। লকডাউন চলাকালে খুলনা মহানগর এবং উপজেলাসমূহে এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
সাতক্ষীরায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার ভোররাতে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এনিয়ে, করোনায় আক্রান্ত হয়ে আজ পর্যন্ত জেলায় মারা গেছেন মোট ৪৫ জন। আর জেলায় আজ পর্যন্ত মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১৪’শ ৬ জন। এর মধ্যে বর্তমানে জেলায় চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ৯০ জন। এর মধ্যে ৩০ জন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও ৬০ জন হোমকোয়ারেন্টিনে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আর ভাইরাসটির উপসর্গ নিয়ে আজ পর্যন্ত মারা গেছেন আরো অন্ততঃ ১৭০ জন।
মৃত ওই ব্যক্তির নাম বাসারাত আলী (৭৫)। তিনি আশাশুনি উপজেলার দক্ষিণ চাপড়া গ্রামের মৃত গফফার সরদারের ছেলে।
মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, করোনা আক্রান্ত হয়ে গত ১১ মে ওই বৃদ্ধ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা পজিটিভ ইউনিটে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোররাত ২ টার দিকে তিনি মারা যান।
সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডাঃ হুসাইন শাফায়েত বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে মৃত ওই ব্যক্তির মরদেহ দাফনের অনুমতি দেয়া হয়েছে।
গিলাতলার গ্যারিসনে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার, স্বামী পলাতক
ফুলবাড়ীগেট(খুলনা)প্রতিনিধি
খুলনা মহানগরীতে খাদিজা আক্তার রুনু(৩৮) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার ২৩ মে রাতে খানজাহান আলী থানাধীন আটরা গিলাতলা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের গ্যারিসন (লাল পিলার)সংলগ্ন মাত্তমডাঙ্গা এলাকা থেকে ঐ গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খাদিজা আক্তার রুনু মাত্তমডাঙ্গার মৃত শহীদের মেয়ে এবং সিএনজি চালিত অটোরিক্সা চালক মামুনের স্ত্রী। ঘটনার পর থেকে মামুন পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহমুদ হাসান জানান, মাত্তমডাঙ্গার মৃত শহীদের কন্যা খাদিজা আক্তার রুনু (৩৮) এর সাথে ডুমুরিয়া এলাকার মামুনের সাথে প্রায় ১২ বছর পূর্বে বিবাহ হয়, তাদের কোন সন্তান নেই তারা খানাজাহান আলী থানার মাত্তমডাঙ্গা এলাকার মিরাজের বাড়ির ভাড়াটিয়া। গৃহবধূ রুনু গ্রামে গ্রামে ঘুরে কাপড় বিক্রি করতেন এবং তার স্বামী মামুন সিএনজি চালিয়ে জিবিকা নির্বাহ করতেন। রুনুর মা আমেনা বেগম জানান রবিবার দুপুরের পর রুনুর এবং তার স্বামী মামুনের মোবাইলে একাধিকবার ফোন দেই কিন্তু তারা ফোন ধরেনি। পরে দুই জনের মোবাইল বন্ধ পেয়ে সন্ধার দিকে ইউপি সদস্য মাহমুদ হাসানের কাছে যায়। রাত ১০টায় ইউপি সদস্যকে সাথে নিয়ে রুনুর ভাড়া বাড়িতে যেয়ে দেখি ঘরের মেঝেতে ওর মরদেহ পড়ে রয়েছে। পরে ইউপি সদস্য মাহমুদ হাসান থানা পুলিশকে খবর দেয়। পরবর্তীতে কেএমপি’র ডিসি নর্থ মোল্যা জাহাঙ্গীর হোসেন, সহকারী পুলিশ কমিশনার দৌলতপুর জোন অমিত বর্ধন, খানজাহান আলী থানা অফিসার ইনচার্জ প্রবীর কুমার বিশ্বাসসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। বাড়ির মালিক মিরাজ বলেন কিছুদিন পরপরই স্বামী স্ত্রীর মধ্যে তুমুল ঝগড়াা হতো। খানজাহান আলী থানার ওসি প্রবীর কুমার বিশ্বাস ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনার পর থেকে তার স্বামী পলাতক রয়েছে। নিহত রুনুর মুখে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাশের ময়নাতদন্তের জন্য খুমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
আড়ংঘাটায় অন্যের জমি জবর দখলের অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার
নগরীর আড়ংঘাটা থানা এলাকায় জনৈক জাকির হোসেন মৃধার জমি জবর দখলের অভিযোগ করেছেন ভূক্তভোগী। এর প্রতিকার চেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।
আড়ংঘাটা থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী উল্লেখ করেন, রায়েরমহল এলাকার মৃত শেখ দলিল উদ্দিনের ছেলে জয়নুল আবেদীন, আয়নুল আবেদীন মারুফ, শেখ ফারুক হোসেন, শেখ ফেরদৌস উদ্দিন ফিরোজ, আসমা বেগম ও রেশমা বেগমসহ একটি চক্র তার জমিতে সাইনবোর্ড দিয়ে দখলের পায়তারা চালায়। সে লক্ষ্যে ডুমুরিয়া মৌজার বিল পাবলা এলাকায় ১৩২৪/১ নং খতিয়ানের এসএ ৭২৭ নং খতিয়ানের স্থলে বুজারত ৭১৮৮ ও ৭১৮৭ খতিয়ানের স্থলে আরএস জরিপের আরএস ১৯৫৯ ও ১৯৬০ নং খতিয়ানে লিখিত সিএস ও এসএ ৪৬০২ নং দাগের স্থলে ভুমি জরিপের আরএস ৪০১৪৮ নং দাগে বিলান ২ দশমিক ৭৩ একর জমির মধ্যে ১ দশমিক ৫০ একর জমি নিজের বলে দাবি করেন। উক্ত জমি আমি ক্রয় চুক্তিতে ভোগ দখল করে আসছি। অথচ উক্ত ব্যক্তিরা তা নিজের দাবি করে বিরোধ বাধানোর চেষ্টা করছে। এর কারন জিজ্ঞেস করলে ও কাগজপত্র নিয়ে বসতে চাইলে তারা তা দেখাতে পারেনি এবং বিভিন্নভাবে হয়রানী শুরু করে। বিষয়টি স্থায়ীভাবে মিমাংশার দাবি জানান ভুক্তভোগী।
এদিকে উক্ত জমিতে গিয়ে দেখা যায় বিশাল এক সাইনবোর্ড টানিয়ে দিয়েছেন আয়নুল আবেদীন মারুফ। এর কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি এর কোন সদুত্তোর দিতে পারেনি। বরং নিজেকে সিটি কর্পোরেশনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বলেন, আমার পৈত্রিক জমি তাই আমি দখলে নিয়েছি। এ নিয়ে কারও কাছে কৈফিয়ত দেবো না।
এ বিষয়ে মোঃ জাকির হোসেন মৃধা বলেন, আমি বয়রা মেই রোড এলাকার মোসাঃ জাকিয়া সুলতানা ও মোঃ নিজাম উদ্দিন সিদ্দিকীর নিকট হতে জমিটি খরিদা চুক্তিতে ভোগ করে আসছি। হঠাৎ করে কেসিসির কর্মকর্তা পরিচয়দানকারী মারুফ জমিটি জবর দখল করতে চাচ্ছে। যা আইনত অবৈধ। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে বসাবসির আবেদন করেও কোন সাড়া পায়নি। মূলত আমাদের ভোগান্তির জন্যই তিনিসহ তার লোকজন আমাদেরকে হয়রানী করছে। তিনি এর প্রতিকার দাবি করেন।
ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ মোকাবিলায় পাইকগাছায় আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শনে আক্তারুজ্জামান বাবু এমপি
খবর বিজ্ঞপ্তি
ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ মোকাবিলায় পাইকগাছা উপজেলার লতা ও দেলুটি ইউনিয়নের কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আক্তারুজ্জামান বাবু। সোমবার (২৪ মে) বিকালে এ আশ্রয়কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যানমোঃ আনোয়ার ইকবাল মন্টু, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শিয়াবুদ্দীন ফিরোজ বুলু, ইউপি চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল, সাবেক চেয়ারম্যান কাজল কান্তি বিশ্বাস, আওয়ামী লীগ নেতা প্রভাষক ময়নুল ইসলাম, সুকৃতি মোহন সরকার, জেলা যুবলীগ নেতা জসিম উদ্দীন বাবু, শামীম সরকার, মনিরুল ইসলাম গাজী, মান্না দে, নিরঞ্জন কুমার রায়, কাউন্সিলর মোঃ আব্দুল গফফার মোড়ল, বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস, লতা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি প্রকাশ সরকার, অমলেন্দু তরফদার, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহরাপ হাওলদার, সদস্য কালিপদ বিশ্বাস, দিলীপ রায়, মালেক তালুকদার, দীনেশ তরফদার, কুমারেশ মন্ডল, শুভংকর রায়, যুবলীগ নেতা এমএম আজিজুল হাকিম, রামচন্দ্র টিকাদার, দীজেন্দ্রনাথ মন্ডল, আকরামুল ইসলাম, মৃগাঙ্গ বিশ্বাস, অঞ্জন কুমার মন্ডল, ইউপি সদস্য বিশ্বজিত শীল, সদানন্দ মন্ডল, লতা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পুলকেশ রায়, মৃগাংগ বিশ্বাস, গৌতম রায়, শওকত হাওলাদার, ফেরদৌস ঢালী, জেলা ছাত্রলীগ নেতা পার্থপ্রতীম চক্রবর্তী, মাসুদুর রহমান মানিক, ছাত্রলীগ নেতা রায়হান পারভেজ রনি, চম্পক বিশ্বাস, মনিরুল ইসলাম মনি, বাবু মান্না, লতা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মিথুন সরকার, ছাত্রনেতা দীপায়ন বিশ্বাস, অনিন্দ মন্ডল, অমৃত সরদার, সীমান্ত মন্ডল, আলাউদ্দিন সানা, গৌতম রায়, পুলকেশ চন্দ্র মন্ডল, ফেরদৌস ঢালী, তাপস কুমার মন্ডল, শওকাত হাওলাদার, বিশ্বজিৎ শীল, রাশেদুজ্জামান রাসেল, শাহীন শাহ বাদশা, অহিদুজ্জামান, মাহবুবুর রহমান নয়ন ও মাজহারুল ইসলাম মিঠুন প্রমুখ
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর ৪০তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালনের প্রস্তুতি সভা আজ
খবর বিজ্ঞপ্তি
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, বহুদলীয় গনতন্ত্রের প্রবর্তক বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের স্থপতি ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪০তম শাহাদাত বার্ষিকী আগামী ৩০ মে রবিবার। শাহাদাত বার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষে বাংলাদশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বিস্তারিত কর্মসূচী ঘোষনা করেছে। খুলনায় কর্মসূচী সফল করার লক্ষে মহানগর বিএনপি মঙ্গলবার (২৫ মে) বেলা ১২ টায় প্রস্তুতি সভার আয়োজন করেছে।
গুরুত্বপুর্ণ প্রস্তুতি সভায় মহানগর বিএনপির কার্যকারী কমিটির সম্মানিত নেতৃবৃন্দ, প্রত্যেক থানা ও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি, সাধারন সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, অংগ সংগঠনের প্রধানসহ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষ ভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন মহানগর বিএনপি সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি।
বিএনপি নেতা মীর কায়সেদ আলী ও তার পরিবারের জন্য দোয়া কামনা
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি ও খানজাহান আলী থানা বিএনপির সভাপতি, সাবেক চেয়ারম্যান মীর কায়সেদ আলী, তার স্ত্রী ও ছোট ভাই খুবই অসুস্থ, তারা বাড়িতে চিকিৎসাধীন আছেন।তাঁদের আশু রোগমুক্তি ও সুস্থতা কামনা করেছেন মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ। নেতৃবৃন্দরা হলেন খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মনি, সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, মীর কায়সেদ আলী, শেখ মোশাররফ হোসেন, জাফরউল¬াহ খান সাচ্চু, জলিল খান কালাম, সিরাজুল ইসলাম, এড. ফজলে হালিম লিটন, এড. বজলুর রহমান, এড. এস আর ফারুক, স ম আব্দুর রহমান, শেখ ইকবাল হোসেন, শেখ জাহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, শেখ আমজাদ হোসেন, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, সিরাজুল হক নান্নু, মো. মাহবুব কায়সার, নজরুল ইসলাম বাবু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, এস এম আরিফুর রহমান মিঠু ও ইকবাল হোসেন খোকন প্রমুখ।
মুফতি আমির হামজা আটক
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
আলোচিত বক্তা মুফতি আমির হামজাকে আটক করেছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) একটি দল।
সিটিটিসি ইউনিটের প্রধান মো. আসাদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সোমবার বিকেলে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের ডাবিরাভিটা গ্রামের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে হামজাকে আটক করা হয়।
মুফতি আমির হামজা কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ী ইউনিয়নের রিয়াজ সর্দারের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় মুফাসসির পরিষদের কেন্দ্রিয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সীমান্ত বন্ধে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে বিরূপ প্রভাব
বেনাপোল প্রতিনিধি
ভারতে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় দেশটির সঙ্গে স্থলপথে সীমান্ত বন্ধ থাকায় দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। গত রবিবার (২৩ মে) থেকে সীমান্ত বন্ধের মেয়াদ আরও আটদিন বাড়ানো হয়েছে। আগামী ৩১ মে পর্যন্ত এটি কার্যকর থাকবে।
জানা যায়, বেনাপোলের বিপরীতে ভারতের ২৪ পরগনায় করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুহার প্রতিদিন বাড়ছে। ফলে পরিস্থিতি উন্নতির লক্ষ্যে চলতি মাসের ১৫ তারিখ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করেছে ভারত সরকার। ফলে সীমান্ত দিয়ে দুইদেশে যাত্রী যাতায়াত বন্ধ রয়েছে। বাণিজ্যের স্বার্থে বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি চালু রয়েছে। তারপরও দিন দিন কমে যাচ্ছে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য। ফলে বেনাপোল ও পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রফতানিতে মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা বলেন, আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু করোনার কারণে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ নানা প্রতিবন্ধকতায় বাণিজ্য কমে আসছে। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৪০০ ট্রাক বিভিন্ন ধরনের পণ্য ভারত থেকে আমদানি এবং ১৫০ ট্রাক পণ্য ভারতে রফতানি হতো। বর্তমানে বাণিজ্যের পরিমাণ কমেছে।
ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চন্দ্র বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে করোনা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় ১৫ দিনের লকডাউন চলছে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে ট্রেন-বাস, অফিস বন্ধ রয়েছে। ফলে পণ্য সরবরাহ কমায় আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বিঘ্ন হচ্ছে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আব্দুল জলিল জানান, ভারতের সঙ্গে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং দু’দেশে চলমান লকডাউনের মধ্যে সরকারের নির্দেশনায় বন্দরে আমদানি-রফতানি সচল রয়েছে। তবে আমদানি রফতানি বাণিজ্য কমে আসছে।
আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’, সাতক্ষীরা উপকূলজুড়ে আতঙ্ক
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় এলাকার মানুষ সবসময় প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে তাদের সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায়। ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’র সম্ভাব্য আঘাত হানার খবরে গোটা উপকূলজুড়ে আতঙ্কজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র এক বছর আগে ঘটে যাওয়া আম্পানের ধকল কাটিয়ে ওঠার আগেই আবারও একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের আগমনী বার্তায় স্থানীয়দের মধ্যে রীতিমত ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে টেকসইভাবে সংস্কারের অভাবে থাকা জীর্ণশীর্ণ উপকূল রক্ষা বাঁধের করুন অবস্থা উপকূলবাসীকে সবচেয়ে বেশি ভাবাচ্ছে।
আম্পানের পরে শ্যামনগর উপজেলায় বেড়িবাঁধের ৪৩টি পয়েন্ট ও আশাশুনি উপজেলার ১৬ পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ। নদীতে একটু পানি বৃদ্ধি পেলেই এসব বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হতে পারে। এ ছাড়া ব্যবহার উপযোগী পানীয় জলের তীব্র সংকটের পাশাপাশি আম্পানের আঘাতে বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি এখনও পরিপূর্ণভাবে মেরামত করতে না পারায় চরম উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন তারা।
প্রতিবছর একেক সময় একেক রকম দুর্যোগের সম্মুখীন হতে হয়। কখনও ঝড় আবার কখনও নদীর বেড়ি বাঁধ ভেঙে পানিতে প্লাবিত হয়। কখনও বন্যায় প্লাবিত হয়। সম্প্রতি সবচেয়ে বড় দুর্যোগ বলে ধরা হয় নদী ভাঙন’কে। এ নদী ভাঙন যেন উপকূলের মানুষের পিছু ছাড়ছে না।
তবে নদী ভাঙনের জন্য সরকারি অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেন উপকূলের মানুষ। গত বছর আম্পান ঝড়ের পরে উপকূলের মানুষের যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয় সেগুলো কাটিয়ে উঠতে পারেনি। তার উপর আবার বড় ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসার পূর্বাভাস শোনা যাচ্ছে। যদি এ ইয়াস নামের ঝড় এলাকা দিয়ে বয়ে যায় তাহলে উপকূলের মানুষের চরম দুর্ভোগ নেমে আসবে।
উপকূলের মানুষের এ ধরনের দুর্যোগ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার উপায় হল টেকসই বেড়ি বাঁধ নির্মাণ। কিন্তু আম্পানের পরে এলাকায় বেড়িবাঁধের ৪৩টি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ। খুব দ্রুত যদি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোর সংস্কার কাজ না করা যায়, তাহলে যে ঝড় আসছে তাতে আবারও উপকূলের মানুষ তাদের সর্বস্ব হারাবে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানের মধ্যে মুন্সীগঞ্জে ৭টি, বুড়িগোয়ালীনিতে ৮টি, গাবুরায় ১৪টি, পদ্মপকুরে ৮টি, কাশিমাড়িতে ৩টি, ও আটুলিয়ায় ৩টি পয়েন্ট রয়েছে।
হরিনগর সিংহড়তলী গ্রামের বিশ্বজিত রায় বলেন, আম্পানের পরে সিংহড়তলীর ভাঙন দেখা দেয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকদের বলার পরেও তারা কাজ করেনি। সামনে যে ইয়াস ঝড় আসছে সে ভয়ে আতঙ্কে আছি। যদি বাঁধ ভেঙে যায় তাহলে আমাদের সব ধ্বংস হয়ে যাবে।
বুড়িগোয়ালীনির দূর্গাবাটি গ্রামের দিনেশ ম-ল ও রতি রাণী বলেন, আম্পানের সময় বাঁধ ভেঙে ঘর-বাড়িতে পানি উঠে গাছপালা নষ্ট হয়ে গেছে। আবার শুনছি নতুন করে ইয়াস নামের ঝড় আসবে। আমাদের ওয়াপদার রাস্তাগুলো ঠিক করে দিলে আর পানিতে ভাসতাম না। এবার যদি পানি ঢোকে তাহলে কোথায় যাব?
মুন্সীগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোড়ল বলেন, মুন্সীগঞ্জে ৭টি পয়েন্ট খুব ঝুঁকিপূর্ণ। আমি বার বার পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বলার পরেও তারা কাজ করছে না। সামনে ইয়াস নামের যে ঝড় আসছে এই ঝড়ে অনেক জায়গা ভাঙার আশঙ্কা আছে।
জেলা পরিষদের সদস্য ডালিম ঘরামী বলেন, আম্পানের রেশ কাটতে না কাটতে আবার ইয়াস নামের ঝড়ের পূর্বাভাস শোনা যাচ্ছে। উপকূলীয় এলাকা নদী বেষ্টিত। এখানে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্যোগের সম্মুখীন হতে হয়। সরকারি মহল থেকে বার বার আশ্বাস প্রধান করলেও তা বাস্তবায়ন করতে দেখা যায় না। যে কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসলে আতঙ্কিত থাকি।
বুড়িগোয়ালীনি ইউপি চেয়ারম্যান ভবতোষ কুমার ম-ল বলেন, আমার ইউনিয়নে ৮টি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট আছে। কিছু কিছু পয়েন্ট পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন কাজ করেছে। ইয়াস ঝড়ের জন্য আমাদের পরিষদে কিছুটা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আ ন ম আবুজার গিফারী বলেন, ইয়াস ঝড়ের জন্য আমাদের সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলোতে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের শ্যামনগর উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাসুদ রানা বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে কাজ শুরু করে দিয়েছি। বাকি স্থানগুলোর জন্য সবসময় খোঁজ নিচ্ছি।
আশাশুনি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অসীম বরণ চক্রবর্তী বলেন, আম্পানের ক্ষত এখন কাটিয়ে উঠতে পারেনি উপকূলবাসী এর মধ্যে আবারও খারাপ খবর। এই অঞ্চলে ঝড়ের চেয়ে জলোচ্ছ্বাসে বাঁধ ভেঙে বেশি ক্ষতি হয়। এবার আশাশুনির ১৬টি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ।
উল্লেখ্য, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে আগামী ২৬ তারিখ সন্ধ্যার দিকে ভারত-বাংলাদেশের সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকা অতিক্রমের বার্তা দিচ্ছে আবহাওয়া অধিদফতর। ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বপ্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে উপকূলীয় জনপদে কর্মরত পাউবো, বিদ্যুৎ ও সিপিপি’র মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবায় যুক্ত সকলকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় থাকতে বলা হয়েছে।
এগিয়ে আসছে ইয়াস, কয়রার বেড়িবাঁধ নিয়ে উদ্বেগ
স্টাফ রিপোর্টার
খুলনার উপকূলীয় এলাকার মানুষের কাছে আতঙ্কের নাম বেড়িবাঁধ। একদিকে ঘূর্ণিঝড় আইলার পর ভেঙে যাওয়া বাঁধ সংস্কার হলেও তা স্থায়ী হয়নি। অন্যদিকে উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। এ অবস্থায় কয়রার প্রায় ২৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয়রা।
খুলনার কয়রা উপজেলার চারদিকে নদী। শুধুমাত্র পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ দু’টি জনপদকে ঘিরে রেখেছে। দুর্বল বেড়িবাঁধের কারণে বর্ষা মৌসুমে চাপ বেড়ে বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করে লোকালয়ে। উপকূলীয় জনপদের বেশ কিছু জায়গায় দেখা দেয় স্থায়ী জলাবদ্ধতার। মাঝে মধ্যে গ্রীস্ম মৌসুমেও বাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানি ঢোকে।
কয়রা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ উদ্দিন বলেন, সংস্কারের অভাবে কয়রার ২৫ কিলোমিটারের মতো বেড়িবাঁধ নাজুক অবস্থায় রয়েছে। বাঁধের কোথাও কোথাও মাত্র দেড় থেকে দুই হাত মাটি অবশিষ্ট রয়েছে। অবস্থা এতটাই খারাপ যে, বাঁধের অনেক জায়গা দিয়ে চুইয়ে চুইয়ে (লিকেজ) পানি প্রবেশ করছে। জোড়াতালির বেড়িবাঁধ, দীর্ঘমেয়াদি ও সুপরিকল্পিত কার্যক্রমের অভাব এখনও দৃশ্যমান। এর মধ্যে আসছে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। এতে আতঙ্ক বেড়ে গেছে এসব এলাকার মানুষের। বিশেষ করে ঝুঁকির মুখে রয়েছে দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের আংটিহারা, খাসিটানা, জোড়শিং, মাটিয়াভাঙ্গা। উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের গাতিরঘেরি, গাববুনিয়া, গাজিপাড়া, কাটকাটা। কয়রা সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর কয়রা, ৪ নম্বর কয়রার পুরাতন লঞ্চঘাট সংলগ্ন এলাকা, মদিনাবাদ লঞ্চ ঘাট, ঘাটাখালি, হরিণখোলা। মহারাজপুর ইউনিয়নের উত্তর মঠবাড়ি, দশালিয়া, লোকা। মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের কালিবাড়ি, নয়ানি, শেখেরটেক এলাকা।
কয়রা উপজেলা প্রশাসন বলছে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবিলায় তারা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। শারীরিক নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ঘূর্ণিঝড়ে কয়রার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম, প্রস্তুত রাখা হয়েছে মেডিক্যাল টিম। এরই মধ্যে কয়রাবাসীকে সতর্ক করতে মাইকিং শুরু হয়েছে।
উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ইয়াস বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানতে পারে। এ অবস্থায় ঘূর্ণিঝড়কে কেন্দ্র করে ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদেরকে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। করোনার মধ্যে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা ও ১১৮টি আশ্রয়কেন্দ্রের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজে লাগানো হবে। ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতি এড়াতে কাজ করছেন রেডক্রিসেন্ট, সিপিপি, বেসরকারি এনজিও’র স্বেচ্ছাসেবকরা।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ২৫ মে আইলায় বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর ১২ বছরেও উন্নয়ন হয়নি ১২১ কিলোমিটার বাঁধের। সীমানা জটিলতার কারণে অবহেলার শিকার হচ্ছে মানুষগুলো।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, ২০২০ সালের ২০ মে আম্পানের প্রভাবে অন্তত ৩০ কিলোমিটার বাঁধ ভেঙে লোকালয় তলিয়ে যায়। দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নে শাকবাড়িয়া নদীর আংটিহারা মজিদ গাজীর বাড়ির পাশে, জোড়শিং বাজারের পাশে, কপোতাক্ষ নদের চোরামুখা খেয়াঘাটের কাছে, গোলখালী তসলিম মোল্লার বাড়ির পাশে, উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের কপোতাক্ষ নদের গাজীপাড়া গ্রামে, কাটকাটা বাজারের শাকবাড়ীয়া নদীর তীল, মহারাজপুর ইউনিয়নের দশালিয়া গ্রামে কপোতাক্ষ নদী, কয়রা সদর ইউনিয়নের হরিণখোলা ও গোবরা ঘাটাখালি গ্রামে কপোতাক্ষ নদের আধা কিলোমিটার এলাকা ভেঙে তলিয়ে যায়। স্থানীয় মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বেড়ি বাঁধ নির্মাণে কাজ করে। ২০০৯ সালের ২৫ মে উপকূলীয় অঞ্চল ঘূর্ণিঝড় আইলার আঘাতেও ল-ভ- হয় উপজেলার বেড়িবাঁধগুলো। সে সময় তিন বছর মানুষ নোনা পানিতে আবদ্ধ ছিল। দীর্ঘদিনেও ৬০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধে পর্যাপ্ত মাটি দেওয়া হয়নি। পাউবো কর্তৃপক্ষ মাটি না দেওয়ায় বাঁধগুলো দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। এরপরও গত ১২ বছরে যে বরাদ্দ হয়েছে তার সিংহভাগই হয়েছে লুটপাট।
কয়রা উন্নয়ন সংগ্রাম সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ উদ্দিন অভিযোগ করেন, ২০১৮-১৯ এবং ২০১৯-২০ অর্থ বছরে উপজেলার বেড়িবাঁধ সংস্কারে সাড়ে চার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। এছাড়াও ১৮-১৯ অর্থ বছরে সাড়ে তিন কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। অস্বচ্ছতা এবং অনিয়ম করেই সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। যে কারণে দুর্বল বাঁধ আর মজবুত হয়নি।
খুলনা ত্রাণ ও পুর্ণবাসন অধিদফতরের সূত্র জানায়, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের আঘাতে প্রাণহানি ও সম্পদের নিরাপত্তার জন্য কয়রায় ১১৮টি, দাকোপে ১২৩টি, ডুমুরিয়ায় ১৯টি, বটিয়াঘাটায় ১৮টি ও পাইকগাছায় পাঁচটি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তত রাখা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের ধারণ ক্ষমতা এক লাখ ৯০ হাজার ৩৭০ জন। ২০২০ সালের ২০ মে আম্পান নামক প্রাকৃতিক দুর্যোগে খুলনা জেলায় দু’লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কয়রা উপজেলার কয়েকটি বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। আম্পানে গাছ পড়ে তিন জনে মৃত্যু হয়।
কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিমেষ বিশ্বাস জানান, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবিলায় সাতটি ইউনিয়নে এক হাজার ২৬০ জন সিপিপি কর্মী প্রস্তুত রয়েছে। দক্ষিণ বেদকাশী, উত্তর বেদকাশী, মহারাজপুর, মহেশ্বরীপুর ও সদর ইউনিয়নে কাল থেকে মাইকিং করা হবে। এ পাঁচটি ইউনিয়ন সব সময় দুর্যোগে ঝূঁকিপূর্ণ থাকে। আশ্রয়কেন্দ্রের জন্য শুকনো খাবার ও শিশুখাদ্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আজিজুল হক জোয়ার্দার জানান, খুলনায় পাঁচ হাজার ৩২০ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রয়েছে। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় শুকনো খাদ্য ও অর্থ বরাদ্দ করা হয়নি। আশ্রয়কেন্দ্রগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
মে মাস এলেই বুক কাঁপে উপকূলবাসীর
স্টাফ রিপোর্টার
দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় জনপদের মানুষের বুকে কাঁপন ওঠে মে মাস এলেই। এই মে মাসেই আঘাত হেনেছে অনেক বিপদ। আঘাত হেনেছে আইলা, আম্পানের মতো ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। ২০০৯ সালের ২৫ মে আঘাত হানে আইলা। ২০২০ সালের ২০ মে আম্পানে ক্ষত বিক্ষত হয় কয়রাসহ উপকূল। এবার ২৬ মে ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ এর সম্ভাব্য আঘাত হানার খবরে গোটা উপকূল জুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
২০০৪ সাল থেকে মে মাস ও নভেম্বর মাসে সিডর, বিজলী, রেশমী, আইলা, নার্গিস, মহাসেন, বুলবুল, আম্পান প্রভৃতি বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মূর্তিমান ভয়াল রূপ দেখে আসছেন উপকূলীয় মানুষ।
ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ এর আঘাতের আগাম খবরে গোটা উপকূল জুড়ে ভয়ার্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সবাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার বিষয়ে পূর্বপ্রস্তুতি নিয়েছেন। তবে অধিক জোয়ারের চাপে বাঁধ ভেঙে বা ছাপিয়ে সাগরের পানিতে সমগ্র এলাকা প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। প্লাবিত হলে আবারও ঘর-বাড়ি পুকুর জলাশয় লবণ পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সমগ্র জনপদ জুড়ে পানীয় জলের অভাব আরও প্রকট হয়ে উঠবে।
আইলার আঘাতের পর ১২ বছর কেটে গেছে। কিন্তু আইলার ধকল এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি ক্ষতিগ্রস্তরা। আবার এক বছর আগে ঘটে যাওয়া ‘আম্পান’র ধকল কাটিয়ে ওঠার আগেই আরও একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের আগমনী বার্তা। স্থানীয়দের মধ্যে রীতিমত ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সংস্কারের অভাবে জীর্ণশীর্ণ উপকূল রক্ষা বাঁধের করুণ অবস্থা। যা উপকূলবাসীকে সবচেয়ে বেশি ভাবাচ্ছে। এছাড়া ব্যবহার উপযোগী পানীয় জলের তীব্র সংকটের পাশাপাশি ‘আম্পান’ এর আঘাতে বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি এখনও পূর্ণভাবে মেরামত হয়নি। ফলে চরম উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন উপকূলের মানুষ।
উপকূলীয় বাসিন্দারা জানায়, আইলা, বুলবুল ও ‘আম্পান’র আঘাতে ল-ভ- হয়ে যাওয়া উপকূল রক্ষা বাঁধের বেশিরভাগ অংশ মজবুত করে বাঁধা হয়নি। অনেকাংশের বাঁধ যেমন টেকসইভাবে মেরামত করা হয়নি, আবার গোটা উপকূল রক্ষা বাঁধের উপরিভাগে আজ পর্যন্ত কোনও মাটির কাজ হয়নি। এ অবস্থায় ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ যদি আবারও সুন্দরবন সংলগ্ন এ উপকূলীয় জনপদে আঘাত হানে তাহলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা রয়েছে। এছাড়া ভরা পূর্ণিমার কারণে একই সময়ে স্বাভাবিকের তুলনায় নদ-নদীতে জোয়ারের পানি ৩-৪ ফুট বৃদ্ধির প্রবল সম্ভাবনা থাকায় তারা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছেন বলেও জানান।
উপকূলীয় বাসিন্দা ফিরোজ হোসেন বলেন, আম্পানের পর একটা বছর কেটে গেলেও গাবুরাকে ঘিরে থাকা বাঁধের ওপর মাটি দিয়ে উঁচু করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ভাঙন মুখে থাকা অনেক জায়গার বাঁধ এখনও সরু আইলে পরিণত হয়ে আছে। এ অবস্থায় পূর্ণিমার মধ্যে যদি ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ আছড়ে পড়ে, তবে সাগরে ভেসে যেতে হবে।
চকবারা গ্রামের মুর্শিদা খাতুন বলেন, মাত্র দশ দিন আগে স্বামীকে বাঘে খেয়েছে। ছেলে মেয়ের মুখে খাবার দিতে পারছিনা। এই দুঃসময়ে কোনও জায়গায় যে আশ্রয় নেবো ভেবে পাচ্ছি না।
কয়রা সদরের আজমল হোসেন জানান, বাঁধের দুরবস্থা আর কর্মসংস্থানসহ পানীয় জলের তীব্র অভাবে প্রতিনিয়ত তারা সংগ্রাম করে চলেছেন। প্রকৃতির হুমকিতে বারবার বাড়ি-ঘর ছেড়ে যাওয়া ও ফিরে আসার এমন টানা হেঁচড়ার মধ্যে ভাঙন কবলিত বাঁধ তাদের দুর্দশায় অন্যতম প্রধান কারণ।
উত্তর বেদকাশির হোসনে আরা বেগম বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রে যেয়ে নিজেদের জীবন বাঁচানোর সুযোগ থাকলেও বাড়ি ঘর আর গৃহস্থলীর জিনিসপত্রের সঙ্গে গবাদি পশু-পাখি নিয়ে চিন্তিত রয়েছেন।
গোলাখালীর আকিরুন বেগম বলেন, তিন পাশে নদী আর এক পাশে বনকে আশ্রয় করে বসবাস। আম্পান’র আঘাতে বাঁধ ভেঙে সমগ্র এলাকা এলোমেলো হয়ে গেলো। তিন/চার দিন আগে স্থানীয়রা বাঁধের ভাঙন কবলিত অংশ বেঁধেছে। এবার ঘূর্ণিঝড় ভরা জোয়ারের সময় আঘাত করলে সাগরের সঙ্গে মিশে যেতে হবে’। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দেখে বাড়ি-ঘর ফেলে পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজ যাবেন তিনি।
খুলনা জেলা প্রশাসনের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ইকবাল হোসেন বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবিলার জন্য খুলনা জেলা প্রশাসন থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে উপকূলীয় অঞ্চলে ৩৫৯টি আশ্রয় কেন্দ্রর ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি উপকূলীয় বাসিন্দাদের গরু, ছাগল, হাস, মুরগিসহ বিভিন্ন গবাদি পশু নিরাপদে রাখার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া সার্বক্ষণিক রেস্কিউ টিম থাকবে এবং জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য চিকিৎসকসহ ১১৬টি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত করা হয়েছে। খাদ্য নিশ্চয়তা শুকনা খাবারে পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি ও খাবার স্যালাইনের ব্যবস্থা রয়েছে।
দেশে ফিরলেন ভারতে আটকা পড়া আরও ৬৫ জন বাংলাদেশি
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফিরেছেন ভারতে আটকা পড়া আরও ৬৫ জন বাংলাদেশি।
সোমবার (২৪ মে) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাংলাদেশিরা দর্শনা চেকপোস্টে পৌঁছালে তাদের হেলথ স্ক্রিনিং ও করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হয়। এদের মধ্যে একজনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে ফেরা বাকি ৬৪ জনকে সকল প্রক্রিয়া শেষে নির্ধারিত পরিবহন যোগে (মাইক্রোবাস) চুয়াডাঙ্গা যুব উন্নয়ন অধিদফতর, সদর হাসপাতাল, স্থানীয় তিনটি আবাসিক হোটেল, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়াতে নেয়া হয়েছে। সেখানে তারা ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন। অপরদিকে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।
দর্শনা জয়নগর চেকপোস্টের ইমিগ্রেশন ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল আলিম বলেন, দেশে ফেরাদের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে ও করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিকে আইসোলেশনে পাঠানো হয়েছে।
করোনা নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত উপ কমিটির আহ্বায়ক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মনিরা পারভিন বলেন, গত এক সপ্তাহে দর্শনা চেকপোস্ট দিয়ে ৬১২ জন বাংলাদেশী দেশে ফিরলেন। এদের মধ্যে ১০ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ : বাগেরহাটে প্রস্তুত ৩৪৪ আশ্রয়কেন্দ্র
বাগেরহাট প্রতিনিধি
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি আজ সকালে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। ইয়াস নামে এই ঝড়ের সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে ৩৪৪টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে।
সোমবার (২৪ মে) বিকেল পর্যন্ত বাগেরহাট উপকূলে ঝড়ের কোনো প্রভাব পরিলক্ষিত না হলেও আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হতে শুরু করেছে। আর দিনভর ভ্যাপসা গরম ও তাপদাহ অব্যাহত ছিল।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের ক্ষতি এড়াতে উপকূলীয় এলাকার মানুষকে চিকিৎসা সহায়তা দিতে ৪৬টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে দুর্যোগ কমিটির সভা ডেকে করণীয় বিষয় নির্ধারণ করেছে।
বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক খোন্দকার মোহাম্মদ রিজাউল করিম জানান, বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন শরণখোলা, মোংলা, রামপাল ও মোরেলগঞ্জ উপজেলার সব ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রসহ জেলার ৩৪৪টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। অল্প সময়ের নোটিশে উপকূলবাসী যাতে আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে পারে তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক রাখতে বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত পানি ও আলোর ব্যবস্থা করার পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, রেড ক্রিসেন্ট, নৌবাহিনী কোস্টগার্ডসহ সব সরকারি-বেসরকারি সংস্থাকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ঝড় পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর কর্তৃক এক কোটি ৮৭ লাখ টাকাসহ ২৮ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুদ রাখা হয়েছে।
তবে জেলা প্রশাসন থেকে উপকূলীয় বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হওয়ার পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে সর্তক থাকার কথা বলা হয়েছে। জেলার নিম্নাঞ্চল বিশেষ করে মোংলা, রামপাল, শরণখোলা ও মোরেলগঞ্জকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করা হয়েছে। এসব উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসামগ্রী পৌঁছে দেয়া হয়েছে।
বাগেরহাটের সিভিল সার্জন কে এম হুমায়ুন করিব বলেন, উপকূলীয় চারটি উপজেলায় ৪৬টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইয়াস মোকাবিলায় সরকারি সংস্থার পাশাপাশি রেড ক্রিসেন্ট ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও তৎপর রয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রেমের ফাঁদে ফেলে ঘরে ডেকে টাকা দাবি, গ্রেফতার ৪
মেহেরপুর প্রতিনিধি
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় মোবাইলে প্রেমের ফাঁদে ফেলে টাকা ছিনিয়ে নেয়া একটি চক্রের চার সদসকে গ্রেফতার পুলিশ। এদের মধ্যে এক নারীও রয়েছেন। তারা হলেন- জোসনা রানী, তার ভাই মেঘলাল, মফিজুল ইসলাম ও মকলেছুর রহমান।
রোববার (২৪ মে) রাতে গাংনীর বামন্দী বাজার থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় উদ্ধার করা হয় এক ব্যবসায়ীকে। এ ঘটনায় উদ্ধার হওয়া ওই ব্যবসায়ী বাদী হয়ে গাংনী থানায় একটি মামলা করেন।
পুলিশ জানায়, জোসনা রানীকে দিয়ে এ চক্রের সদস্যরা মোবাইল ফোনে ব্যবসায়ী ও যুবকদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে কৌশলে ডেকে নিতেন। পরে তাকে একটি ঘরে আটক রেখে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করতেন।
সম্প্রতি মেহেরপুরের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে পরিচয় হয় জোসনার। রোববার দুপুরে তাকে কৌশলে ডেকে নিয়ে একটি ঘরে আটক রেখে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে জোসনা ও তার সঙ্গীরা। এ সময় তার কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে।
বিষয়টি জানতে পেরে গাংনী থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে এবং প্রতারকচক্রের চার সদস্যকে আটক করে।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বজলুর রহমান জানান, ওই নারীর বিরুদ্ধে অনৈতিক এবং সামাজিক অবক্ষয় সৃষ্টির অভিযোগে নরসিংদী জেলায় দায়ের করা দুটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস : গাইডলাইনের অপেক্ষায় যশোরের স্বাস্থ্য বিভাগ
0 যশোর প্রতিনিধি
করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের পর ভারতে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস’ (কালো ছত্রাক) বা মিউকরমাইকোসিসের সংক্রমণের খবরে সীমান্তবর্তী জেলা যশোরেও আতঙ্ক রয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে যশোরের স্বাস্থ্য বিভাগ এখনও অন্ধকারে রয়েছে। গণমাধ্যমের কল্যাণে চিকিৎসক এবং সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি ইতোমধ্যে জেনেছেন। তারা এখন অপেক্ষা করছেন প্রটোকল বা গাইডলাইনের জন্য।
যশোরের স্বাস্থ্যবিভাগ সূত্র জানায়, করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে নাকাল ভারতে গত কয়েক মাসে নতুন বিপদ হিসেবে হাজির হয়েছে প্রাণঘাতী ‘কালো ছত্রাক’ বা মিউকরমাইকোসিসের সংক্রমণ। বিরল এ সংক্রমণে মৃত্যুর হার ৫০ শতাংশের কাছাকাছি। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভারতে সুস্থ হয়ে ওঠা কয়েক হাজার কোভিড-১৯ রোগীর শরীরে এ ছত্রাকের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, সাধারণত কোভিড-১৯ থেকে সেরে ওঠার ১২ থেকে ১৮ দিন পর শরীরে এ ছত্রাকের সংক্রমণ দেখা দিতে পারে।
গণমাধ্যম থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের ভিত্তিতে নিজেদের মতো করে প্রস্তুতি নিয়ে রাখছেন যশোরের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং চিকিৎসকরা। এখন তারা অপেক্ষা করছেন অধিদফতরের নির্দেশনার।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আরিফ আহমেদ জানান, ভারতে ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস’ সংক্রমণের বিষয়ে তারা অবগত। কোভিড-১৯ চিকিৎসার জন্য একটি প্রটোকল বা গাইডলাইন আছে। করোনা চিকিৎসায় তারা এই গাইডলাইন ফলো করছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো প্রটোকল বা গাইডলাইন পাওয়া যায়নি। গাইডলাইন পেলে সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে তারা প্রস্তুত।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এখনও কোনো সর্তকবার্তা বা গাইডলাইন দেয়নি। তবে এই সংক্রমণ দেখা দিলে করোনার মতো এর বিরুদ্ধেও লড়াই করবেন তারা।
ইউপি ভবনে ঢুকে চেয়ারম্যানকে ছাত্রলীগের হাতুড়িপেটা
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে ছাত্রলীগ ও সেচ্ছাসেবকলীগ কর্মীদের হামলায় আওয়ামী লীগ নেতা ও বলুহর ইউনয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন আহত হয়েছেন। এ সময় পাল্টাপাল্টি হামলায় আরো দুইজন আহত হন।
সোমবার দুপুরে ছাত্রলীগ ও সেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে ঢুকে এলোপাতাড়িভাবে হাতুড়িপেটা করে মতিনকে।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে কোটাচঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, চেয়ারম্যানের তত্ত্বাবধানে করা একটি রাস্তার নির্মাণকাজ নিয়ে ফেসবুক আইডিতে বিরূপ মন্তব্য করেন কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক লিমন। ফেসবুকে বাবার বিরুদ্ধে বাজে কথা লেখা দেখে প্রতিবাদ করেন চেয়ারম্যানের ছেলে হৃদয়।
এ নিয়ে সোমবার সকালে কোটচাঁদপুরের মেইন বাস্ট্যান্ডে লিমনের সাথে তর্কবিতর্কে লিপ্ত হয় হৃদয়। এক পর্যায়ে দুপুরে কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক লিমন, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি আল আমিন ও জাহাঙ্গীর দলবল নিয়ে বলুহর গ্রামে গিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে অতর্কিত হামলা চালায়।
দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকা চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বিষয়টি প্রথমে খেয়াল করেননি। এই সুযোগে হামলাকারীরা হাতুড়িপেটা করে চেয়ারম্যানের মাথা ফাটিয়ে দেয়।
খবর পেয়ে চেয়ারম্যানের ছেলে হৃদয় ঘটনাস্থলে পৌঁছে জাহাঙ্গীর ও লিমনের দুই সহযোগীকে পিটিয়ে আহত করে। লিমন হোসেনের পাল্টা হামলায় চেয়ারম্যানের ছেলে হৃদয়ও আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কোটচাঁদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কোটচাঁদপুর থানার ওসি মঈন উদ্দীন জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে লিমন হোসেন ও জাহাঙ্গীর আলমকে আটক করেছে। বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
মোড়েলগঞ্জে ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ মোকাবিলায় প্রস্তুত ৮৩টি আশ্রয় কেন্দ্র
আরিফুল ইসলাম আরিফ, মোড়েলগঞ্জ
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ সুপার সাইক্লোন “ইয়াস” মোকাবিলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি, উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ৮৩টি সাইক্লোন শেল্টার, ১৮টি মেডিকেল টিম, ফায়ার সার্ভিস, স্বেচ্ছাসেবক টিম শুকনা খাবার, পানি বিশুদ্ধকরন ট্যাবলেট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সাবক্ষনিক যোগাযোগের জন্য খোলা হয়েছে কন্টোল রুম। বিকেল ৪ টায় স্থানীয় সংসদ সদস্য এ্যাড. আমিরুল আলম মিলন জরুরী সভা করেছেন।
এ উপকূলীয় অঞ্চল এ উপজেলাটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ কবলিত এলাকা সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত দুর্যোগ সিডর, আইলা, বুলবুল ও সর্বশেষ আম্পানের এক বছর যেতে না যেতেই নতুনভাবে ইয়াস মোকাবিলায় আতংকে রয়েছে। বিগত সুপার সাইক্লোন গুলোতে অতিরিক্ত জলোচ্ছাস হতাহত হয়েছে অনেকেই। আজও ভূলতে পারেনি সেই দিনের আতংকের কথা। এখন ঘুরে দাড়াতে পারেনি ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষ।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, উপজেলার পৌর সদরসহ ১৬টি ইউনিয়নের নদীর তীরবর্তী ইউনিয়নগুলো হচ্ছে পঞ্চকরণ, বহরবুনিয়া, বারইখালী, খাউলিয়া, হোগলাবুনিয়া, মোরেলগঞ্জ সদর, পুটিখালী, বলইবুনিয়া, তেলিগাতি। এছাড়াও সুন্দরন ঘেষা নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হতে হয়।
হুমকির মুখে রয়েছে পঞ্চকরনের নতুন বাজার, দেবরাজ এলাকার ১২শ’ মিটার ওয়াবদা ভেরিবাঁধ, পানগুছি নদীর গর্ভে ইতোমধ্যে এক কিলোমিটার রাস্তা বিলীন হয়েছে বলে ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক মজুমদার জানিয়েছেন।
এ ছাড়াও বহরবুনিয়ার ইউনিয়নের ফুলহাতা, ঘষিয়াখালী বাজার, এলাকার অনেক কাঁচা পাকা রাস্তা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেলেও বাকি রাস্তাগুলো এখন হুমকির মুখে। মোরেলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের গাবতলা এলাকার ভেরিবাঁধ না থাকার কারনে হুমকির মুখে গোটা গ্রাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে সাইক্লোন শেল্টারগুলো বলে চেয়ারম্যান মাহমুদ আলী জানিয়েছেন।
তেলিগাতি ইউনিয়নের হেড়মা, মিস্ত্রী ডাঙ্গা, নদীর তীরবর্তী বসতবাড়িঘর সহ রাস্তাঘাট হুমকির মুখে। সাইক্লোন শেল্টার না থাকায় জরুরী ভিত্তিতে সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করার দাবী ইউপি চেয়ারম্যান মোর্শেদা আক্তার।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতি জানিয়েছেন ১৬টি ইউনিয়নে জরুরী ভিত্তিতে ১৬টি মেডিকেল টিম পৌরসভায় ১টি ও হাসপাতালে ১টি, মোট ১৮ টিমসহ ৫১ কমিউনিটি ক্লিনিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে ১৬০ মাঠ কর্মী ও হাসপাতাল কর্মীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
এ সর্ম্পকে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ¦ এ্যাড. শাহ-ই আলম বাচ্চু বলেন, সুপার সাইক্লোন ইয়াস মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলায় জরুরী সভায় প্রস্তাব রাখা হয়েছে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সাইক্লোন শেল্টারগুলোতে আগে ভাগেই শুকনা খাবার, স্থানীয়ভাবে বিশুদ্ধ পানি বিশুদ্ধকরন ট্যাবলেট, সাইক্লোন শেল্টাগুলোতে সোলার প্যানেলগুলো সচল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মোতাবেক ইতোমধ্যে জুম মিটিং করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের জরুরী সভা হয়েছে। প্রস্তুতি রাখা হয়েছে ৮৩ সাইক্লোন শেল্টার ও ১৪৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাকা ভবন। বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী, গর্ভবর্তী মা, শিশু ও গবাদি পশু আগেভাগেই আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে যাওয়ার জন্য চেয়ারম্যানদেরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রূপসায় শোকাহত আ”লীগ পরিবারের পাশে জেলা আওয়ামী লীগ নেতা জামাল
খবর বিজ্ঞপ্তিঃ
রূপসা উপজেলার ১নং আইচগাতি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ও জেলখানা ঘাট পাটনী সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি মোঃ ইউনুস ফকির গতকাল রাত ১২.৩০ মিনিটে মৃত্যুবরণ করেণ ( ইন্না ইলাহি.. রাজিউন)। মৃত্যুর খবর শুনে তার আইচগাতিস্থ বাসভবনে শোকাহত পরিবারের পাশে ছুটে যান খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম- সাধারণ সম্পাদক ও খুলনা জেলা যুবলীগ সভাপতি মোঃ কামরুজ্জামান জামাল। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা কৃষক লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আশরাফুজ্জামান বাবুল, খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মোঃ জামিল খান, মোঃ ইমদাদুল ইসলাম, মহানগর যুবলীগের আহবায়ক শফিকুর রহমান পলাশ, জেলা যুবলীগ নেতা সরদার জাকির হোসেন, আলমগীর মল্লিক, এবিএম কামরুজ্জামান, বিধান চন্দ্র রায়, জহির রায়হান, শাহনেওয়াজ কবির টিংকু, বদরুল আলম তয়ন, আল মোমিন লিটন, রমজান আলী রিকি, মিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।
বাগেরহাটে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগ
বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটে রামপাল উপজেলার মানিকনগর এলাকায় ২০ বছরের এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে মানিকনগর এলাকার ওহাব আলী বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর শ^াশুড়ী বাদি হয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত ওহাব আলী মানিকনগর এলাকার মৃত শেখ হামিদ আলীর ছেলে।
অভিযোগে জানা যায়, পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক সোমবার (২৪ মে) ভোর ৬টার দিকে আমি বাথরুমে গেলে ওহাব আলী আমার বসত বাড়িতে সম্পূর্ন বে-আইনী ভাবে প্রবেশ করে। বাড়িতে কোন পুরুষ না থাকার এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সে আমার পুত্র বধূর ঘরে ঢুকে জাপটে ধরে তার কাপড় দিয়ে মুখ আটকে রেখে ধর্ষনের চেষ্টা চালায়। তার জোরাজুরিতে আমার পুত্র বধূর শরীরের জামা- কাপড় ছিড়ে যায়। তার গলায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমি ঘরে প্রবেশ করলে ওহাব আমার পুত্র বধূর বাম হাতে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। বিষয়টি কেউকে প্রকাশ করলে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে আমার ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে গুরুত্বর অসুস্থ্য অবস্থায় আমার পুত্রবধূকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করি।
তিনি আরো জানান, গত শুক্রবার এই ওহাবসহ এলাকার আরো ৫/৭ জন সন্ত্রাসী আমাদের বাড়িতে ঢুকে আমার উপর হামলা চালায় । আমার পুত্র বধূ আমাকে ছাড়াতে আসলে ওহাবের সাথে বাক-বিতন্ডর সৃষ্টি হয়। তখন ওহাব দেখে নেব বলে হুমকী দিয়েছিল। তিনি জানান, আমি তখনই বিষয়টি প্রশাসনকে অবিহিত করি।
রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শামসুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনার সংবাদ শুনেছি। লিখিত অভিযোগ দিলে ঘটনার সঠিক তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
ফকিরহাটে নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ
ফকিরহাট প্রতিনিধি।
বাগেরহাটের ফকিরহাটে এলজিএসপি-৩ প্রকল্পের আওতায় সক্ষমতা বৃদ্ধি ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ দ্বারা সেলাই মেশিন প্রশিক্ষিত দরিদ্র ও অসহায় নারীদের মাঝে বিনামূল্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার বেলা ১১টায় ফকিরহাট সদর ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে অত্র ইউনিয়ন পরিষদ চত্ত্বরে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে ৯জন প্রশিক্ষিত দরিদ্র ও অসহায় নারীর মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন সদর ইউপি চেয়ারম্যান শিরিনা আক্তার, এলজিএসপি-৩ প্রকল্পের বাগেরহাটের ডিএফ পার্থ প্রতীম সেন, ইউপি সচিব মো: মোয়াজ্জাম হুসাইন, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য শিউলী বেগম, ইউপি সদস্য খান শামিম হাসান, মো: হুমায়ুন কবির, মো:রফিকুল ইসলাম, আ: জব্বার, মাসুদ রানা প্রমূখ।
ফকিরহাটে চাদাবাজি মামলার আসামীকে গ্রেপ্তারের দাবীতে মানববন্ধন
ফকিরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটের ফকিরহাট মডেল থানায় দায়েরকৃত চাঁদাবাজি ও প্রতারনা মামলার প্রধান আসামী শিহাব উদ্দিন রুবেলকে গ্রেপ্তারের দাবীতে মানববন্ধন করেছে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ। সোমবার সকাল ১০টায় ফকিরহাট বিশ্বরোড মোড় এলাকায় মানববন্ধনে অংশগ্রহনকারিরা চাঁদাবাজি ও প্রতারনা মামলার প্রধান আসামীকে দ্রুত গ্রেপ্তার পূর্বক দ্রুত বিচারের আওয়তায় আনার জোর দাবী জানান। এসময় মাফুজুর রহমান, মোস্তফা কামাল হারুন, আলী আহম্মদ, শেখ ইসলাইল, বিশ্ব দাশ, মো: মহাসিন শেখ, খলিলুর রহমান, শেখ শাহাদাৎ হোসেন, সাইফুল ইসলাম, মো: আনোয়ার বিশ্বাস, শেখ হিমেল ও ইয়াছিন বিশ্বাস সহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সাতক্ষীরার দেবহাটায় ঘূর্নিঝড় যশ মোকাবেলায় সবাইকে সতর্ক থাকতে ওসির প্রচারনা
কে এম রেজাউল করিম দেবহাটা
দেবহাটায় ঘূর্নিঝড় যশ মোকাবেলায় সবাইকে সতর্ক থাকার জন্য দেবহাটা থানার ওসি বিপ্লব কুমার সাহার নেতৃত্বে দেবহাটা থানা পুলিশ প্রচারনা অভিযান পরিচালনা করছে। আগামী মঙ্গল বা বুধবারে ঘূর্নিঝড় যশ বাংলাদেশের কয়েকটি জেলাসহ ভারতে আঘাত আনতে পারে যার কারনে সরকারের পক্ষ থেকে উপকূলীয় এলাকার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়াসহ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে। তারই আলোকে দেবহাটা থানার ওসি বিপ্লব কুমার সাহা সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে সীমান্ত এলাকা ও নিচু এলাকায় গিয়ে সাধারন মানুষকে সচেতন ও ভয় না পেয়ে সকলকে সচেতনতার সাথে এই দূর্যোগ মোকাবেলা করার আহবান জানাচ্ছেন। ওসি এসময় সকলকে নিরাপদ স্থানে থাকা, খাবার পানি ও শুকনো খাবার নিজেদের সঙ্গে রাখা, শিশু ও বৃদ্ধদেরকে আশ্রয় কেন্দ্রে আগে থেকে সরিয়ে নেয়াসহ নানারকম দিক নির্দেশনা প্রদান করছেন। সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান পিপিএম (বার) এর দিক নির্দেশনায় ওসি বিপ্লব কুমার সাহার নেতৃত্বে ঘূর্নিঝড় “যশ” বা ইয়াস এর পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহন করাসহ দেবহাটাবাসীকে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করে যানমাল রক্ষা করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন।
সাতক্ষীরার দেবহাটার কুলিয়ায় বটগাছে গলায় দড়ি দিয়ে এক যুবকের আত্মহত্যা
কে এম রেজাউল করিম
দেবহাটার কুলিয়ায় বটগাছ থেকে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে দেবহাটা থানা পুলিশ। নিহত ঐ যুবকের নাম আশিকুর রহমান (২১)। কে কুলিয়া বহেরা পাটনীপাড়া এলাকার আব্দুল গফুরের ছেলে। স্থানীয় ইউপি সদস্য রওনাকুল ইসলাম রিপন জানান, আশিকের সাথে গত একমাস আগে পাশর্^বর্তী শ্রীরামপুর এলাকার এক মেয়ের বিবাহ হয়। বিবাহের পরে গত ১ সপ্তাহ আগে আশিকুরের স্ত্রী পিতার বাড়িতে যায়। এরমধ্যে আশিক তার স্ত্রীকে কয়েকবার নিয়ে আসতে গেলে তার শশুর শাশুড়ি ও বড় শালী আশিকের সাথে খারাপ ব্যবহার করে তাদের মেয়ে আর দেবেনা বলে জানায়। এতে আশিক মানুষিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে। ঘটনার দিন অর্থ্যাৎ ২৪ মে, ২০২১ সোমবার সকালে স্থানীয় লোকজন আশিকের শশুর বাড়িতে বউ আনতে গেলে তার শশুর মেয়ে আর দেবেনা এবং কাবিনের টাকা দিতে বলে। এ কারনে মানুষিক চাপে আশিক তার বাড়ির পাশে পাটনীপাড়া বটগাছে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। আশিক ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো। সকালে বাড়ি থেকে ভ্যান নিয়ে বের হয়ে দুপুরে বাড়ি না আসলে আশিকের মা খুজতে গিয়ে বটগাছে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়। ঘটনা জানতে পেরে দেবহাটা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। দেবহাটা থানার ওসি বিপ্লব কুমার সাহা জানান, লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা প্রেরন করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের প্রক্রিয়া চলছে।
কোটচাঁদপুরে আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে টিন ও নগদ অর্থ প্রদান
মোঃ আশাদুল ইসলাম
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে। সোমবার সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসাদুজ্জামান রিপন এর সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ঝিনাইদহ-৩ আসনের মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য এ্যাডঃ শফিকুল আজম খাঁন চঞ্চল। এছাড়া বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক শাহাজান আলী, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রিয়াজ হোসেন ফারুক, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পিংকি খাতুন,সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার তাজুল ইসলাম, উপজেলা আঃলীগের সহসভাপতি নুরুল ইসলাম খান বাবলু, লুৎফর রহমান, পৌর আঃলীগের আহবায়ক ফারজেল হোসেন মন্ডল প্রমুখ। এসময় আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের জন্য ১ বান টিন ও নগদ ৩ হাজার টাকা সহ মোট ৮০ টি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে এ অনুদান প্রদান করা হয়। এসময় উপজেলা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ, দলীয় নেতা-কর্মী ও স্থানীয় সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
‘যবিপ্রবি-কে হেয় করা হচ্ছে মনগড়া তথ্য দিয়ে’
যশোর অফিস
ভুলে ভরা, মিথ্যা ও মনগড়া তথ্য দিয়ে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে (যবিপ্রবি) জাতির সামনে হেয় করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নীল দল, যারা নিজেদের ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী’ বলে মনে করে।
তারা বলছেন, যবিপ্রবির কতিপয় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর কর্মকান্ডে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার স্তম্ভিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জন এবং শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সমাজে যে সম্মান রয়েছে, সেটাকে তুচ্ছ করে অত্যন্ত নিম্ন ও অনাকাক্সিক্ষত পদ্ধতিতে তারা প্রতিবাদ করছেন, যেটা কোনো বিবেকবান মানুষ নিতে পারে না।
যবিপ্রবি নীল দল মনে করে, সদ্য বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। বিদায়ের পর তাকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এবং মানববন্ধনে যে কদর্য ভাষা ও অভিযোগ করা হয়েছে, তা পুরো শিক্ষকসমাজের জন্য অপমান।
গেল দুইদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের একাংশ বিদায়ী উপাচার্যের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনছেন, আজ এক বিবৃতিতে নীল দল তার বিশদ ব্যাখ্যা দিয়েছে। প্রফেসর ড. আনোয়ারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলেও তাদের দাবি।
নীল দল বলছে, ২০২০ সালে যবিপ্রবি উপাচার্যের গবেষণার ইম্প্যাক্ট ফ্যাক্টর ছিল ৫৭ দশমিক ৮৩৬; যা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিরল। তিনি বাংলাদেশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস-এর স্বর্ণপদক বিজয়ী বিজ্ঞানী এবং তিনি এই একাডেমির একজন সম্মানিত ফেলো। ফলে যবিপ্রবি উপাচার্যের গবেষণার মান নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে যে তীর্যক মন্তব্য করা হয়েছে তা দুঃখজনক।
এছাড়া নিয়োগ বাণিজ্য, বাংলো ভাড়া, বেশি বয়সে চাকরি প্রদান, ড্রাইভার নিয়োগ, প্লানিং কমিটি, ডিন ও চেয়ারম্যান নিয়োগ, নিকটাত্মীয়দের ব্যবসাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ড. আনোয়ারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগেরও ব্যাখ্যা দেওয়া হয় বিবৃতিতে। বলা হয়, এসবই বানোয়াট, কোনো কোনোটি তদন্তাধীন।
বিবৃতিতে প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেনের দায়িত্ব পালনকালে যবিপ্রবির অর্জনসমূহ তুলে ধরা হয়। বলা হয়, আয়তনে ছোট আর বয়সে নবীন হলেও বিভিন্ন বাধা-বিঘœ অতিক্রম করে সেশনজটমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিতকরণ এবং কোভিড সঙ্কটকালে দেশের প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে করোনাভাইরাস পরীক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করাসহ শিক্ষা ও গবেষণাক্ষেত্রে বহুবিধ অসাধারণ অর্জনের কারণে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) এখন বাংলাদেশের এক অনুকরণীয় উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
অভিন্ন অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন ও অনলাইন লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু, শিক্ষার্থীবান্ধব প্রশাসন গড়ে তোলা, এক কোটি টাকার শিক্ষার্থী কল্যাণ ট্রাস্ট চালু, নোবেল জয়ী বিজ্ঞানীকে এনে সমাবর্তন আয়োজন, শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংযোজন, অত্যাধুনিক গবেষণাগার স্থাপন ও সমৃদ্ধকরণ, অ্যাকাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কারিকুলাম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, ২০২০ সালে বাংলাদেশে গবেষণা প্রবৃদ্ধিতে যবিপ্রবি প্রথম স্থান অধিকার করে। এই প্রতিষ্ঠানে গবেষণাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত হওয়ায় অধিকাংশ শিক্ষক বয়সে তরুণ হলেও তারা আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাত অনেক জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশ করে যাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ২০২০ সালে প্রস্তুত করা বিশ্বের সর্বাধিক উদ্ধৃত গবেষকের মধ্যে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন তরুণ শিক্ষক স্থান পেয়েছেন। এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম একজন বিদেশি শিক্ষার্থীকে পিএইচডি ও আরেকজন শিক্ষার্থীকে এমফিল ডিগ্রি প্রদান করেছে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নীল দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. ইকবাল কবীর জাহিদ এবং দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কার্যনির্বাহী সদস্য ডা. মো. ফিরোজ কবির।
ড. আনোয়ারকে ফের যবিপ্রবির ভিসি না করার দাবিতে মানববন্ধন
যশোর অফিস
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) দ্বিতীয় মেয়াদে উপাচার্য (ভিসি) হিসেবে প্রফেসর ড. মো. আনোয়ার হোসেনকে দায়িত্ব না দেওয়ার দাবিতে ‘বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’-এর ব্যানারে শিক্ষক-কর্মচারীদের একাংশ মানববন্ধন করেছেন।
সোমবার (২৪ মে) বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত প্রেসক্লাব যশোরের সামনে মুজিব সড়কে ঘণ্টাব্যাপী এই কমসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তৃতাকালে শিক্ষক-কর্মচারী নেতারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে বাঁচাতে হলে কোনোভাবেই প্রফেসর ড. মো. আনোয়ার হোসেনকে উপাচার্যের দায়িত্ব দেওয়া যাবে না। গত চার বছরে তিনি সীমাহীন দুর্নীতি, নিয়োগবাণিজ্য, চরম স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মতান্ত্রিকতায় বিশ্ববিদ্যালয়টিকে ধ্বংসের পথে নামিয়ে দিয়েছেন। তার সকল কর্মকান্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করলে এগুলোর সত্যতা মিলবে।
তারা জানান, ২০১৭ সালের মে মাসে ড. আনোয়ার যবিপ্রবিতে উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যালেন্ডারে তিনি বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃত করেন। ওই ঘটনায় উচ্চ আদালত থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু ওই ঘটনায় যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত ছিলেন, ভিসি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে সবাইকে প্রমোশন দেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কোয়ার্টার ব্যবহার করেছেন ১২৫ টাকার বিনিময়ে। অথচ, প্রতিমাসে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাড়িভাড়া বাবদ ৬০ হাজার টাকা নিয়েছেন। বিনা টেন্ডারে অফিস ডেকোরেশন, মসজিদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে এসি লাগানোর দায়িত্ব দেন তার আপন বোনকে। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় প্রথম হয়েও শুধুমাত্র ১৭ লাখ টাকা দিতে না পারায় মঞ্জুরুল ইসলাম নামে এক যুবককে তিনি চাকরি দেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মনীতি উপেক্ষা করে তিনি ৩৫ বছর বয়সে শারীরিক শিক্ষা বিভাগে ফিরোজ কবির ও ফিরোজ কবিরের স্ত্রীকে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দেন। বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে ডা. নুসরাত জাহানকেও তিনি ৩৫ বছর বয়সে নিয়োগ দিয়েছেন। মোটা টাকার বিনিময়ে তার ড্রাইভার ও ড্রাইভারের বোনকে অফিস স্টাফ হিসেবে নিয়োগ দেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৯৮ লাখ টাকা নিয়ে তিনি ব্যক্তিগত গাড়ি কিনেছেন। তার বাংলোর কুককে সাসপেন্ড করার পরও উপাচার্য নিয়মিত তার বেতন নিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর আনোয়ার হোসেনের গবেষণাকে নিয়ে মিথ্যাচার করে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংবর্ধনা নিয়েছেন।
সমাবেশে বলা হয়, বছরের অধিকংশ সময় তিনি ঢাকায় থাকতেন। তার মতো ‘দুর্নীতিবাজ’ মানুষকে যবিপ্রবি পরিবার কোনোভাবেই উপাচার্য পদে আর দেখতে চায় না। তারা সদ্য বিদয়ী উপাচার্যের সকল কর্মকান্ড তদন্ত করে তাকে আইনের মুখোমুখি করার দাবি তোলেন।
সমাবেশে বক্তৃতা করেন যবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. তোফায়েল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ড. আমজাদ হোসেন, সিনিয়র শিক্ষক প্রফেসর ড. সুব্রত মন্ডল, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড. আব্দুর রউফ সরকার, সদস্য ড. ফরহাদ বুলবুল, সদস্য ড. হুমায়ুন কবির, সদস্য সুমন রহমান, বঙ্গবন্ধু কর্মকর্তা পরিষদের সভাপতি হেলালুল ইসলাম হেলাল, সাধারণ সম্পাদক তাসরিক হাসান, কর্মচারী পরিষদের সভাপতি বদিউজ্জামান বাদল, সাধারণ সম্পাদক শওকত ইসলাম সবুজ ও ফিশারিজ বিভাগ ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক একরামুল কবীর দীপ।
কাজী নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ
যশোর অফিস
যশোর সদর আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহম্মেদ পক্ষে এবং সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নূর জাহান ইসলাম নীরার সার্বিক তত্ত্বাবধানে রোবাবার কাজী নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সব সামগ্রী বিতরণ করেন হৈবতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সিদ্দিক।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম, শুভঙ্কর কুমার, আসলাম হোসেন, আরিফুর রহমান, ছাত্রলীগের ইমরান হুসাইন,ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন, সাবেক ইউপি সদস্য বিল্লাল হোসেন প্রমূখ।
যশোরে বিএসপির বিদ্রোহী কবির জন্মজয়ন্তী পালন
যশোর অফিস
জাতীয় কবি, মানবতার কবি, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২২তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদ (বিএসপি) যশোরের উদ্যোগে ভার্চুয়ালে কবিতা আবৃত্তি, আলোচনাসভা ও সঙ্গীতানুষ্ঠান সোমবার (২৪ মে) বিকালে অনুষ্ঠিত হয়।
এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কবি কাজী রকিবুল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. মো. মুস্তাফিজুর রহমান, আলোচক ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, নজরুল গবেষক ড. মীরাতুন নাহার (ভারত), বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, কবি ড. শাহনাজ পারভীন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মুন্না।
মো. মোস্তাফিজুর রহমানের উপস্থাপনার কবিতা আবৃত্তি করেন বাচিক শিল্পী জাহান আরা খান কোহিনূর, শাহরিয়ার সোহেল, স্বপ্না সাহা (ভারত), রবিউল হাসনাত সজল, সোনিয়া সুলতানা চাঁপা, এম এ কাশেম মিয়া, অরুন বর্মণ, কাজী নূর।
সঙ্গীত পরিবেশন করেন শাহ আলম খসরু, শ্যামশ্রী সরকার (ভারত), শাহ নেওয়াজ সজীব প্রমুখ।
হৈবতপুরে বিদ্যালয়ে গাছ বিক্রির অভিযোগে প্রধান শিক্ষক- সভাপতির বিরুদ্ধে মামলা
যশোর অফিস
যশোর সদর উপজেলার হৈবতপুর ইউনিয়নের আব্দুল বারী বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গাছ বিক্রি ও টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। উত্তর ললিতাদহ গ্রামের ইউপি সদস্য ইব্রাহিম সর্দারের ছেলে সাদ্দাম মির্জা বাদী হয়ে মামলাটি করেন। যার নম্বর ৮৪৯/২১।
মামলায় বলা হয়েছে, আব্দুল বারী বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান লাভলু ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হৈবতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ও সিরাজ গত ১১ এপ্রিল গোপনে দুইটি লম্বু গাছ ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। ১২ এপ্রিল আরও ৩ টি লম্বু গাছ ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। পরে জানতে পেরে সাদ্দাম যশোর আদালতে মামলাটি করেন। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সাইফুদ্দীন হোসাইন মামলাটি তদন্ত করে পিবিআইকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার আদেশ দিয়েছেন।
ডুমুরিয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় মা-ছেলে আহত
ডুমুরিয়া প্রতিনিধি
ডুমুরিয়ায় জমি জবর দখলে বাঁধা দিতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় মা-ছেলে আহত হয়েছে।গতকাল সোমবার দুপুরে উপজেলার কোমরাইল গাজী পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।ভুক্তভোগী পরিবার ও অদালতে দায়েরকৃত মামলার বিবরন সূত্রে জানা যায়,উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের কোমরইল গ্রামে আঃ রাজ্জাক গাজীর একই পাড়ার প্রভাবশালী আবুল হাসান গাজীর সাথে জমি-জমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে।এ নিয়ে আঃ রাজ্জাক গাজী খুলনা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন যার এমপি নং-২১৯/২১।বিজ্ঞ আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল ও শান্তি শৃংখলা বজায় রাখার জন্য ওসি ডুমুরিয়াকে নির্দেশ দেন।এমতবস্থায় ঘটনার দিন দুপুরে প্রতিপক্ষ আবুল হাসানসহ ৫/৬জন দা,লাঠিসোটা নিয়ে ওই জমি জবর দখল করতে যায়।এসময়ে বাঁধা দিলে হামলা চালানো হয়। এতে আঃ রাজ্জাক ও তার বৃদ্ধ মা রহিমা বেগম আহত হয়।
ডুমুরিয়ায় বিএনপির প্রস্তÍতি সভা
ডুমুরিয়া প্রতিনিধি
ডুমুরিয়ায় উপজেলা বিএনপির আয়োজনে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪০তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে এক প্রস্তÍুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।গতকাল সোমবার বিকেলে দলীয় কার্যালয়ে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোল্যা মোশাররফ হোসেন মফিজের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় বক্তব্যদেন ১ম যুগ্ম-আহবায়ক শেখ সরোয়ার হোসেন,জেলা কৃষকদলের সভাপতি মোল্যা কবির হোসেন,যুগ্ম-আহবায়ক শেখ শাহিনুর রহমান,অরুন কুমার গোলদার,শেখ ফরহাদ হোসেন,বিএম জহুরুল হক,মোল্যা মশিউর রহমান,সরদার মোজাফফার,শহিদুল মোড়ল,আয়ুব মাষ্টার,আহমদ আলী ফকির,শেখ আ: সালাম,জিএম আমানুল্লাহ,শফিকুল ইসলাম খান,শেখ আঃ গফফার,শাহিদুজ্জান শহিদ,সালাম সরদার, শাহিদুজ্জামান বাবু,খোকন তালুকদার,নুর ইসলাম,পারভেজ গাজী,সৈকত মোল্যা,ডাঃ জিয়াউর রহমান, জাহাতাপ গাজী,মনিরুল শেখ,রিপন সরদার,সাদেক বিশ্বাস,ইয়াছিন হোসেন,মাসুম বিল্লাহ,হালিম খান প্রমুখ।সভা শেষে ২৮মে ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রস্তুতি সভা,৩০ মে দল ও অংগ সংগঠনের উদ্যোগে স্বাস্থ্য বিধি মেনে কোরান তেলাওয়াত,কালো পতাকা উত্তোলন,আলোচনা সভা,দোয়া মাহফিল,মাক্স বিতরন ও দুঃস্থদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরনের সিন্ধান্ত গৃহীত হয়।
খালিশপুরে ধর্ষণ মামলার আসামি আকাশ রিমান্ডে
স্টাফ রিপোর্টার
খালিশপুর মুজগুন্নি পাম্পের গলির চৌধুরী ভিলার তৃতীয় তলায় নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের হোম ডেলিভারির এক মহিলাকে ধর্ষণ মামলার আসামি মো. আজিজুর রহমান আকাশের একদিনের রিমা- মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (২৪ মে) মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আতিকুস সামাদ পিএইচডি রিমা-ের আদেশ প্রদান করেছেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে ৫ দিনের রিমা-ের করেছিলেন। আকাশ মুজগুন্নি পাম্প এলাকার মৃত. ইউনুস হাফেজের ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ১৫ রমজান আসামি আজিজুর রহমানের সাথে ভিকটিমের পরিচয় হয়। সে তার কাছ থেকে পণ্য ক্রয়ও করে। ভিকটিমের সাথে তার বন্ধুত্ব সম্পর্ক স্থাপন হয়। একটি বাসার প্রয়োজনে ফোন দিলে আসামি ১৮মে সকাল ৯টায় মুজগুন্নি পাম্পের গলির চৌধুরী ভিলার তৃতীয় তলায় ভিকটিমকে নিয়ে যায়। ঐ ভবনের একটি রুমের মধ্যে নিয়ে ওড়না দিয়ে ভিকটিমের হাত ও গামছা মুখের ভিতর ঢুকিয়ে দিয়ে পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষণ করে। এরপরে এ ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য তাকে শাসিয়ে যায়। এ ঘটনার ভিকটিম খালিশপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করে যার নং ১৯।
কেএমপির অভিযানে মাদকসহ গ্রেফতার ৩
স্টাফ রিপোর্টার
মহানগর পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানে নগরীর বিভিন্ন থানা এলাকা হতে ৭০ পিস ইয়াবাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার মাদক ব্যবসায়ীরা হলেন নগরীর খালিশপুর পিপলস নিউ কলোনীর আলতাফ হোসেন এর স্ত্রী মোসা. রাহিমা বেগম (৪৮), একই কলোনীর মো. আবু তাহের এর ছেলে মো. রানা সরদার (২৬) ও ৩৭ বানরগাতী কাসেমাবাদ লেনের মৃত. বারেক গাজীর ছেলে মো. হাবিবুর রহমান ওরফে ডাবলু গাজী (২৭)।
কেএমপির সিটি স্পেশাল ব্রাঞ্চের বিশেষ পুলিশ সুপার রাশিদা বেগম জানান, গত ২৪ ঘন্টায় নগরীর বিভিন্ন থানা এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। এসময় ৭০ পিস ইয়াবাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ৩টি থানায় মাদক মামলা রুজু করা হয়েছে।
রূপসায় জেলা ডিবির অভিযানে ৫ ছাগল চোর গ্রেফতার
স্টাফ রিপোর্টার
খুলনা জেলার রূপসা থানাধীন ইলাইপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে দু’টি মাদী ছাগলসহ ৫ পেশাদার চোরকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ২৩ মে বিকেল ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার ৫জন হলেন নগরীর দোলখোলা মতলেবের মোড়ের আবুর বাড়ির ভাড়াটিয়া আব্দুর রহিম শেখের ছেলে মো. রাসেল শেখ (২৬), ডুমুরিয়া থানার বাদুরগাছা গ্রামের মৃত. সুলতান মীর্জার ছেলে মো. শহিদুল মীর্জা (২৮) ও মো. আবুল শেখের ছেলে মো. বাবুল শেখ (৩৫), রূপসা থানার বাগমারা গ্রামের মো. আলহাজ¦ ব্যাপারীর ছেলে মো. সাজু ব্যাপারী (২৫) এবং বাগেরহাট সদরের বিষ্ণুপুর এলাকার মৃত. কাশেম মোল্যার ছেলে মো. জলিল মোল্যা (৬০)।
জেলা ডিবি জানায়, ২৩ মে বিকেল ৪টার দিকে খুলনা জেলার রূপসা থানাধীন ইলাইপুর গ্রামে অভিযান পরিচালনা করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান এর দিক-নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার ইনচার্জ উজ্জ্বল কুমার দত্ত এর নেতৃত্বে এসআই ইন্দ্রজিৎ মল্লিক ও এসআই বিষ্ণুপদ হালদার। এসময় রূপসা বাসস্ট্যান্ড হইতে তীলক দলিলউদ্দীন সড়কে মুজিবর শেখ এর মুদি দোকানের সামনে থেকে দু’টি মাদী ছাগলসহ ৫ পেশাদার চোরকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে এসআই বিষ্ণুপদ হালদার বাদী হয়ে রূপসা থানায় মামলা দায়ের করেনে যার নং-২৩।
ঝিনাইদহে র্যাবের অভিযানে একটি ওয়ান শুটারসহ গ্রেফতার ১
স্টাফ রিপোর্টার
ঝিনাইদহ জেলার সদর থানাধীন জিয়ানগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি ওয়ান শুটারগানসহ একজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৬। ২৩ মে রাত সাড়ে ৮টার দিকে গোপন সংবাদের মাধ্যমে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার আসামি হলেন ঝিনাইদহ জেলার কোর্টচাঁদপুর থানার বকশিপুর গ্রামের মৃত. আমজেদ আলী মন্ডল এর ছেলে মো. মিনহাজ উদ্দিন (৬৩),
র্যাব-৬ জানায়, ২৩ মে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঝিনাইদহ জেলার সদর থানাধীন জিয়ানগর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে র্যাবের একটি চৌকস আভিযানিক দল। এসময় জিয়ানগর চুলকানী বাজারস্থ জিয়ানগর টু কোটচাঁদপুর গামী রাস্তার পূর্ব পাশে টুটুল স্টোর এর সামনে থেকে একটি ওয়ান শুটারগান, একটি মোবাইল ও একটি সিমকাডসহ মিনহাজ উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ঝিনাইদহ সদর থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
কুষ্টিয়ায় র্যাবের অভিযানে কিশোরী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামী গ্রেফতার
স্টাফ রিপোর্টার
কুষ্টিয়া জেলার ইবি থানাধীন পশ্চিম আবদালপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে চাঞ্চল্যকর কিশোরী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৬। সোমবার (২৪ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে গোপন সংবাদের মাধ্যমে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার আসামি হলেন ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুন্ডু থানার মালিপাড়া গ্রামের মৃত. নাজিম জোয়ার্দ্দার এর ছেলে মো. তুষার জোয়ার্দ্দার (২০)।
র্যাব-৬ জানায়, ২৪ মে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কুষ্টিয়া জেলার ইবি থানাধীন পশ্চিম আবদালপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে র্যাবের একটি চৌকস আভিযানিক দল। এসময় গত ১৭ মে হরিণাকুন্ডুর থানা এলাকা থেকে ১৫ বছরের এক কিশোরীকে অপহরণ করে পাবনায় নিয়ে ধর্ষণ করার মামলার আসামি তুষারকে গ্রেফতার করা হয়। ভিকটিমকে কুষ্টিয়ার জেলা ইবি থানাধীন লক্ষীপুর বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় ফেলে রেখে ধর্ষক তুষার পালিয়ে যায়। এই বিষয়ে ভিকটিম এর পিতা হরিণাকুন্ডু থানায় অপহরন ও ধর্ষন মামলা দায়ের করেন যার নং- ০৬, তারিখ- ২০/০৫/২১ ধারা- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী/০৩) এর ৭/৯(১)/৩০ধারা। তাকে হরিণাকুন্ডু থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।











































