স্টাফ রিপোর্টার
প্লাষ্টিকের বর্জ্য দিয়ে তৈরি হচ্ছে প্লাস্টিক দানা। যা থেকে তৈরী হচ্ছে নতুন নতুন প্লাস্টিক পণ্য। এর ফলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাচ্ছে। নগরীর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কারখানাগুলো পরিবেশ রক্ষায় নিয়েজিত রয়েছে। বাসা বাড়িসহ অনেকেই প্লাস্টিকের ময়লা আবর্জনাগুলো কেউ কেউ রাস্তায় অথবা ডাস্টবিনে ফেলছে। এমনকি কেউ কেউ নর্দমায় ফেলার কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। কিন্তু রাস্তায় থাকা টোকাইসহ অসহায়রা পড়ে থাকা নষ্ট প্লাস্টিকগুলো সংগ্রহ করে ভাংগারী দোকানে বিক্রি করছে। এগুলো ভাংগারী ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে নগরীর বিভিন্ন প্লাস্টিক কারখানায় বিক্রি করছে। এরপর কারাখানা গুলো এসব পুরাতন প্লাস্টিকের মালামাল কিনে নিয়ে নিজস্ব গোন্ডির মধ্যে রেখে প্রসেস করে কালার, বাই কালার, গ্রেট বাই, কাটিং করে সোডা পাউডার দিয়ে ওয়াস করে শুকিয়ে বিক্রির জন্য উপযুক্ত করছে। এই রিসাইক্লিনগুলো বড় বড় অনেক কোম্পানি কিনে নিয়ে মেশিনের সাহায্য দানা তৈরী করছে। এরপর সেগুলো দিয়ে নতুন নতুন প্লাস্টিক আসবাপত্র তৈরী করছে। একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হচ্ছে আরেক দিকে নতুন নতুন আসবাপত্র তৈরী হচ্ছে।
কেডিএ রোডস্থ আইল্যান্ডের মালিক নাসির শেখ জানান, তার সংসারে সদস্য সংখা ৬ জন। তিনি যে বেতন পান তা দিয়ে সংসার খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। তাই তিনি প্রয়োজনের তাগিদে কাজের ফাঁকে ফাঁকে প্রতিদিন ২ থেকে ৩ ঘন্টা রাস্তার পাশে পড়ে থাকা আবর্জনা থেকে প্লাস্টিকের জিনিস সংগ্রহ করেন। পরে সেগুলো ভাঙ্গারি দোকানে বিক্রি করে প্রতি মাসে ৩-৪ হাজার টাকা আয় করেন।
আবুল হাসান জানান, সে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা আবর্জনা থেকে সাদা পলিথিন, বোতলেরর মুখ, বোতল, প্লাস্টিকের ফলের কেস, হার্ড মোলাম, আরএফএল মোলাম, মোলাম চামচ, কটকাসহ প্লাস্টিক দ্রবাদি সংগ্রহ করে। এরপর ভাংগারি দোকানে বিক্রি করে অর্থ আয় করে।
মজিদ স্মরণীর পরিচ্ছন্নকর্মী শামসু মল্লিক বলেন, এই ডাস্টবিনে পড়ে থাকা নষ্ট প্লাস্টিকের জিনিসপত্র, কাগজ, পলিথিন গুলো অসহায়রা প্রতিদিন কেউ না কেউ তুলে নিয়ে যায়। এতে ময়লার পরিমানটা কমে আসে এমনকি পরিবেশের ভারসাম্য ঠিক থাকে।
সোনাডাঙ্গা আদর্শ পল্লী এলাকায় মেট্রো প্লাস্টিক কারখানার ম্যানেজার দেবাশীষ রায় জানান, নগরীর ভাংগারী ব্যবসায়ীরা পুরাতন প্লাষ্টিকগুলো আমাদের কাছে বিক্রি করে। এগুলো মেসিনের সাহায্যে প্রসেস করে কালার, বাই কালার, গ্রেট বাই, কাটিং করে সোডা পাউডার দিয়ে ওয়াস করে শুকিয়ে বিক্রির জন্য উপযুক্ত করা হয়। এই রিসাইক্লিন প্লাস্টিকগুলো আরএফএল কোং, হামকো ইন্ডাস্ট্রিজের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠান কিনে নিয়ে নিজস্ব কারখানায় মেশিনের সাহায্যে দানা তৈরী করে নতুন নতুন প্লাস্টিক আসবাপত্র তৈরী করছে।
এতে দেশের সাধারণ মানুষ স্বল্পমূল্যে প্লাস্টিকের প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি খরিদ করার সুযোগ পাচ্ছে। যদি রেজিং দানা দ্বারা পালাস্টিক পণ্য তৈরী করা হতো তাহলে তার মূল্যে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে যেত।
তিনি আরও বলেন, শহরের ছোট ছোট প্লাস্টিক কারখানাগুলো সুযোগ সুবিধা না পাওয়ার অভাবে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। সরকার যদি স্বল্প সুদে, সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করে এবং সাহায্য প্রদান করে তাহলে প্লাস্টিক কারখানার উন্নতি সম্ভব। তা নাহলে কারখানাগুলো ধংসের দিকে চলে যাবে।
অপরদিকে মুক্তা প্লাষ্টিক কারখানার মালিক নীল চান জানান, প্রায় ১৬ বছর ধরে এ ব্যবসা করছি।খুলনা, সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে পুরাতন প্লাষ্টিকের মালামাল কিনে এনে মেশিনের সাহায্যে সেগুলো গুড়া করি। এরপর সেটি বড় বড় প্লাস্টিক কোম্পানি কিনে নিয়ে মেশিনের সাহায্যে নতুন প্লাস্টিক তৈরী করে। এই পুরাতন মালামালের চাহিদা অনেক বেশি।
সোনাডাঙ্গা হ্যামকো কোম্পানীর কর্মকর্তা মোঃ জিয়াউর রহমান জানান, নগরীর মুক্তা প্লাষ্টিক, মেট্রো প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন কারখানা থেকে প্রতি মাসে ৫০ থেকে ১০০ টন রিসাইক্লিন প্লাষ্টিক দ্রব্যাদি কিনে এনে কাটাখালি নিজস্ব কারখানায় দানা তৈরীর মাধ্যমে নতুন নতুন প্লাস্টিক তৈরী করা হয়।
খুলনা নাগরিক আন্দোলনের মহাসচিব এসএম দেলোয়ার হোসেন বলেন, খুলনায় যে সকল প্লাস্টিক কারখানাগুলো আছে এরা প্লাস্টিকের ময়লাগুলো পুড়িয়ে ফেলে, এক্ষেত্রে পরিবেশের দূষণ হয় সত্য, আবার এইগুলোকে যখন রিসাইকেল করে দানা তৈরি করে এটা আসলে পরিবেশের জন্য ভালো। তবে সর্বোপরি আমাদের সাধারণ জনগনের সচেতন হতে হবে। পরিবেশ থেকে এই অপচনশীল প্লাস্টিকগুলো অন্তত রিসাইকেল হয়ে আবার প্লাস্টিক হয়ে আসছে। এটা আমাদের পরিবেশ দূষণমুক্ত হচ্ছে বলে তিনি জানান।











































