Home আঞ্চলিক মডার্ন সী ফুডের হিসাবরক্ষক উজ্জ্বল হত্যা মামলা : পিবিআইকে পুনঃতদন্তের আদেশ

মডার্ন সী ফুডের হিসাবরক্ষক উজ্জ্বল হত্যা মামলা : পিবিআইকে পুনঃতদন্তের আদেশ

5

স্টাফ রিপোর্টার

খুলনার শামসুর রহমান রোড এলাকায় উজ্জ্বল কুমার সাহা (৩৬) হত্যা মামলার চার্জসিটে মূল আসামি মডার্ন সী ফুডের পরিচালক মেহেদী হাসান ওরফে স্টারলিংকে বাদ দিয়ে ভুল তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করায় দুই তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য পিবিআইকে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার সকালে (১৪ ডিসেম্বর) অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস,এম, আশিকুর রহমান এই আদেশ দিয়েছেন।

আদালত সূত্র জানায়, ২০১২ সালে উজ্জ্বল সাহাকে নির্মমভাবে হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে  হত্যা মামলাটি তদন্তের জন্য প্রথমে খুলনা থানার এস আই মোঃ সোহেল রানাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানকারী মূল আসামি মেহেদী হাসান ওরফে স্টারলিং কে বাদ দিয়ে ভুল তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন এস আই সোহলে রানা। এরপর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামলাটি পুনরায় তদন্তের জন্য সিআইডি খুলনা মেট্রো নর্থ পুলিশ পরিদর্শক শেখ শাহজাহানকে নির্দেশ দেন।  তিনিও মূল আসামিকে বাদ রেখে একই ভুল প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন। একই প্রতিবেদন দেওয়ায় আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করে মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন।  এছাড়া মামলাটির তদন্ত সুষ্ঠুভাবে না করে ভুল প্রতিবেদন দেওয়ায় দুই তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পুলিশের স্ব স্ব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দিয়েছে আদালত।

আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এপিপি অ্যাড. কাজী সাব্বির আহমেদ জানান, এই হত্যা মামলাটি প্রথমে তৎকালীন খুলনা থানার এসআই মোঃ সোহেল রানার (বিপিনং ৬৯৮৭০৭৭৩৭৬) ওপর তদন্তভার অর্পিত হয়। তিনি ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে আসামি মোঃ নাহিদ রেজা রানা ওরফে লেজার রানা (২৮), মেহেদী হাসান ওরফে স্টারলিং (৩০), মোঃ আরিফুল হক ওরফে সজল (২৬), মোঃ আমির সিকদার ওরফে ডালিম (২০) এবং সজল মোল্লা (১৮)সহ অন্যান্য আসামিদেরকে গ্রেফতার ও রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ওই সময় আসামিরা উজ্জ্বল সাহা হত্যার ঘটনায় নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করে আদালতে স্বীকারক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনায় স্পষ্ট ফুটে ওঠে মডার্ন সী ফুডের পরিচালক মেহেদী হাসান ওরফে স্টারলিং এ হত্যার প্রধান পরিকল্পনাকারী ও মূল নায়ক। আসামি মেহেদীর সাথে ভিকটিম উজ্জল সাহার আর্থিক ও পারিবারিক বিরোধ ছিলো। এ কারণেই মেহেদীর সক্রিয় পৃষ্ঠপোষকতা, উসকানি এবং প্ররোচনায় উজ্জল সাহাকে হত্যা করা হয়। কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই মোঃ সোহেল রানা সম্পূর্ণ ঘটনার ভুল ব্যাখা প্রদান করেন। এমনকি মূল আসামি মেহেদী হাসানকে মামলা থেকে বাদ দিয়ে চার্জসিট দাখিল করেন। এরপর মামলার তদন্তভার বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডি খুলনা মেট্রো নর্থ পুলিশ পরিদর্শক শেখ শাহজাহানের ওপর ন্যাস্ত করা হয়। তিনিও তদন্ত প্রতিবেদনে মূল আসামি মেহেদীকে বাদ দিয়ে চার্জসিট দাখিল করেন। পরপর দুই তদন্ত কর্মকর্তা মামলার মূল আসামিকে বাদ দেওয়ায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

আদলতের বেঞ্চ সহকারী শাহীনুর রহমান জানান, মামলার দুই তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদালত নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়াও মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য পিবিআইর একজন সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে দায়ীত্ব দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ৭ জুন ভিকটিম উজ্জ্বল কুমার সাহা (৩৬) সকাল সোয়া ১০টায় খুলনা থানাধীন ২৯নং শামসুর রহমান রোড শান্তিধাম মোড় রংধনু ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্কটি কমপ্লেক্স এর নিকট মোটরসাইকেল রেখে অপেক্ষা করছিলো। ওই সময় আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হকিস্টিক ও লাঠি দিয়ে তার মাথায় এলোপাতাড়িভাবে আঘাত করে চলে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে প্রথমে খুলনা জেনারেল হাসপাতালে এবং সেখান থেকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই সুমন কুমার সাহা ৮ জুন খুলনা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (নং-১১)। নিহত উজ্জল মডার্ন সী ফুডের হিসাবরক্ষক পদে কর্মরত ছিলেন। পরে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।