স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনায় ১৯ ঘন্টার ব্যবধানে মহানগর তাঁতী দলের নেতাসহ দুই হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে মহানগরীসহ জেলায় চলতি বছরের ১০ মাসে ৭৩টি হত্যার ঘটনা ঘটলো। সর্বশেষ ফ্রিজের কিস্তির টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ধারালো অস্ত্রাঘাতে খুন হন মহানগর তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ হুমায়ুন কবীর নিহত। তিনি ওই এলাকার সৈয়দ আনোয়ার আলীর ছেলে।
রবিবার সন্ধ্যায় নগরীর রায়ের মহল বড় মসজিদ এলাকায় সৈয়দ রানা কবীরের নিজ রেস্টুরেন্টে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মো: ছিদ্দিক নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, রায়েরমহল বড় মসজিদের পেছনে হুমায়ুন কবিরের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিছুদিন আগে মোস্তফা মোড় এলাকার মোস্তফার মোড়ে বায়োজিদের ফ্রিজের শোরুমে থেকে তিনি নিজ প্রতিষ্ঠানের জন্য বাকিতে ফ্রিজ কেনেন। রেফ্রিজারেটরের চারটি কিস্তি পরিশোধ করা হয়েছে, আর দুটি কিস্তি বাকি। ফ্রিজের টাকা পরিশোধ নিয়ে ওই দোকানদারের সঙ্গে তার ঝামেলা চলছিল। রবিবার বিকেলে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এর জেরে সন্ধ্যার পরে একদল দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র, রামদা ও চাপাতি নিয়ে হুমায়ুন কবিরের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা কুপিয়ে তাকে ফেলে রেখে চলে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, সৈয়দ হুমায়ন কবীর তার রেস্টুরেন্টের ভিতরে গিয়ে বসেন। বায়োজিদ ও আরাফাতসহ কালো কাপড় দিয়ে মুখ ঢাকা দুইজন অস্ত্র নিয়ে বেধড়ক কোপায়। গুরুতর অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
আড়ংঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হালিমুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় ছিদ্দিক নামে এক যুবককে রায়েরমহল এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অপরদিকে শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে লবণচরা থানাধীন কাশেমিয়া জামে মসজিদ এলাকায় দুর্বৃত্তের অস্ত্রের আঘাতে শহীদুল ইসলাম কলিন (৩৫) নামে এক যুবক নিহত হন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, কলিন দুই-তিন দিন পরপর বাড়িতে আসতেন। শনিবার বিকেলে তিনি বাড়িতে আসেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন। রাত ১১টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে রাস্তার ওপর তাকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় একজন বাড়িতে খবর দেন।
পরে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
লবণচরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সৈয়দ মোশারেফ হোসেন বলেন, “নিহত যুবকের বিরুদ্ধে সাতটি মাদক ও একটি হত্যা মামলা রয়েছে। তিনি প্রায়ই বাড়ির বাইরে অবস্থান করতেন। মাঝেমধ্যে মা-বাবার সঙ্গে দেখা করতে আসতেন। শনিবারও তিনি বাড়িতে এসে সন্ধ্যার দিকে বের হয়ে যান। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
এই নিয়ে খুলনায় গত ১০ মাসে ৭৩ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে মহানগরীতে ৩৭টি ও জেলার বিভিন্ন জায়গায় ৩৬টি হত্যাকাণ্ড ঘটে।
পুলিশ জানায়, চলতি বছরের প্রথম ২৯৪ দিনে মহানগরী ও জেলায় ৭৩টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে নগরীতে ৩৫টি এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৩৬টি।
কেএমপির ফোকাল পার্সন ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এম শাকিলুজ্জামান জানান, চলতি বছরের ১০ মাসে খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় ৩৬টি হত্যাকাণ্ড ঘটে।
অন্যদিকে, খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক জানান, একই সময়ে জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় ৩৬টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।











































