Home আঞ্চলিক প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে গ্রাফিতি সাজে সেজেছে খুলনা শহর

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে গ্রাফিতি সাজে সেজেছে খুলনা শহর

6

স্টাফ রিপোর্টার।।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগামী ৫ নভেম্বর খুলনা সফর ঘিরে সাজসাজ রব নগরজুড়ে। সড়ক বিভাজকে রঙের প্রলেপ, দেয়ালে ইতিহাস-ঐতিহ্যের গ্রাফিতি, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও নিরাপত্তা প্রস্তুতিতে ব্যস্ত প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর।

এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নগরীতে স্থাপন করা সব তোরণ, প্যানা, ব্যানার ও ফেস্টুন আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে দলের নেতাকর্মী, বিভিন্ন সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নিজ উদ্যোগে এসব প্রচারসামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন এবং জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব এস এম মনিরুল হাসানের পক্ষ থেকে এ আহ্বান জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনবহুল এলাকায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে এবং বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে তোরণ, ব্যানার ও ফেস্টুন স্থাপন করা হয়েছে।

ব্যস্ততম সড়কে গর্ত খুঁড়ে তোরণ নির্মাণ এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোয় প্রচারসামগ্রী টানানো প্রধানমন্ত্রীর অনুসৃত ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ ধরনের প্রচারসামগ্রী অপসারণে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত বিশেষ সংস্থা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে না চেয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনের কাজেও এসেছে ভিন্নমাত্রা। খুলনা সিটি করপোরেশন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামের দেয়ালে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বন, চিত্রা হরিণ, নকশিকাঁথার নকশা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি।

সেখানে স্থান পেয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, কবি কাজী নজরুল ইসলাম, শিল্পী এস এম সুলতান ও বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ছবি। দেয়ালে লেখা হয়েছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান। তুলে ধরা হয়েছে জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির ঐতিহাসিক চিত্রও।

স্টেডিয়ামের মূল ফটক ও আশপাশের দেয়াল আগে রাজনৈতিক পোস্টার-ব্যানারে ঢাকা ছিল। দোকান ও হকারদের দখলও সরিয়ে জায়গাটি পরিষ্কার করা হয়েছে।

নতুন গ্রাফিতিতে বদলে গেছে পুরো এলাকার চেহারা। নগরীর শিববাড়ী এলাকার রেলওয়ের দেয়ালেও জুলাইয়ের গ্রাফিতির পাশাপাশি খুলনার ঐতিহ্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ছবি আঁকার কাজ চলছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরের অন্যতম আকর্ষণ জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি ক্রীড়া ২০২৬’-এর দ্বিতীয় পর্যায়ের উদ্বোধন। ভার্চুয়াল সংযোগের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এ কর্মসূচির সূচনা হবে। শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশ, খেলাধুলায় অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং তৃণমূল থেকে প্রতিশ্রুতিশীল খেলোয়াড় খুঁজে বের করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।

সফর নির্বিঘ্ন করতে জেলা প্রশাসন যানবাহন অধিগ্রহণ, বিশ্রামাগার প্রস্তুত, হেলিপ্যাড নির্মাণ, অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি চিকিৎসা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, জেনারেটর এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাসহ নানা প্রস্তুতি নিচ্ছে। নিরাপত্তা পাস ইস্যু ও বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের কাজও চলছে।

খুলনা জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির নির্বাহী সদস্য মঈনুর রহমান মঈন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে সৌন্দর্যবর্ধন, প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থার পাশাপাশি রাজনৈতিক তৎপরতাও চলছে। তবে নগরবাসীর প্রত্যাশা, সফরটি যেন শুধু আনুষ্ঠানিকতা ও সাময়িক সাজসজ্জায় সীমাবদ্ধ না থাকে। খুলনার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন-চাহিদা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাবনাগুলো জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্ব পাক।

খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে সবাই কাজ করছেন।

অপরদিকে, খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রবিবার (১ নভেম্বর) এক ফেসবুক পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নগরীর বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত ব্যানার, প্যানা ও ফেস্টুনসমূহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দ্রুত অপসারণের অনুরোধ জানিয়েছেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের লক্ষ্য, পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও নান্দনিক বাংলাদেশ। নগরীর সৌন্দর্য রক্ষায় সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন এটাই প্রত্যাশা। আসুন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমাদের প্রিয় খুলনাকে সুন্দর রাখি।’