Home Lead কোরবানির বাজার ধরতে প্রস্তুত যশোরের খামারিরা, খরচ বাড়ায় কাঙ্ক্ষিত দাম নিয়ে শঙ্কা

কোরবানির বাজার ধরতে প্রস্তুত যশোরের খামারিরা, খরচ বাড়ায় কাঙ্ক্ষিত দাম নিয়ে শঙ্কা

2

যশোর অফিস।।


আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর বাজার ধরতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন যশোরের খামারিরা। জেলায় খামারগুলোতে বিষমুক্ত ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে মোট ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৭৭টি গবাদিপশু হৃষ্টপুষ্ট করা হয়েছে। তবে গো-খাদ্য ও পরিচর্যার খরচ বেড়ে যাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলে লোকসানের আশঙ্কা করছেন খামারিরা।

যশোরের ৮ উপজেলার প্রতিটি খামারেই কোরবানির পশুর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। এসব খামারে দেশি গরুর পাশাপাশি বড় আকৃতির শাহিওয়াল, সিন্ধি ও ফ্রিজিয়ান জাতের গরুও রয়েছে। ক্ষতিকর স্টেরয়েড বা ইনজেকশন ছাড়া সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে পশু লালন-পালন করা হচ্ছে বলে দাবি তাদের।

কাঁচা ঘাস, খড়, গমের ভুসি ও খৈল খাইয়ে বড় করা এসব পশু দেখতে বেশ হৃষ্টপুষ্ট ও আকর্ষণীয়। খামারিদের দাবি, গত এক বছরে গো-খাদ্যের দাম কয়েক গুণ বেড়েছে। এতে পশু পালনের খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে এবার ন্যায্য দাম না পেলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

মিলন হোসেন নামে এক খামারি বলেন, খামারে ফ্রিজিয়ান, দেশি, শাহিওয়াল ও ব্ল্যাক বি প্রজাতির মোট ১২৫টি গরু রয়েছে। এর মধ্যে ২০ থেকে ২৫টি গরু ঈদে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছি। এসব গরুর সর্বোচ্চ ওজন ১৫ মণ এবং সর্বনিম্ন ৭ থেকে ৮ মণ। এবার খরচ অনেক বেড়েছে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবও পড়েছে। সারা বছর যত্ন নিয়ে গরু পালন করা হয়, ভালো দাম পেলে পরিশ্রম সার্থক হবে।

হাসানুজ্জামান নামে আরেক খামারি বলেন, আমার খামারে ২০টি গরু রয়েছে। এগুলোকে প্রাকৃতিক খাবার দেয়া হয়। সকালে গমের ভুসি, ভুট্টার ভুসি ও বিচালি মিশিয়ে খাওয়ানো হয়, দুপুরে ২০ কেজি ঘাস ও ৩ কেজি বিচালি দেয়া হয়। দিনে দুইবার গোসল করানো হয় এবং পরিষ্কার পরিবেশে রাখা হয়। কোনো ইনজেকশন বা ভিটামিনজাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা হয় না।

সাইফুল ইসলাম নামে আরেক খামারি বলেন, প্রাকৃতিকভাবে পশু লালন-পালন করলেও সমস্যা হচ্ছে উৎপাদন খরচ নিয়ে। ভুসি ও খৈলসহ সবকিছুর দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ফলে বাজারে ন্যায্য দাম না পেলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, গবাদিপশু উৎপাদনে খামারিদের নানা ধরনের সহায়তা দেয়া হচ্ছে। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সিদ্দীকুর রহমান বলেন, চলতি বছর যশোরে ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৭৭টি গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে, যা কোরবানির চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৫ হাজার বেশি। খামারিরা যাতে নিরাপদে পশু পালন করতে পারেন সে জন্য নিয়মিত সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গো-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচ কিছুটা বেশি হলেও কাঁচা ঘাসসহ সহজলভ্য খাবার ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে জেলার বাইরে পশু সরবরাহ করে খামারিরা লাভবান হতে পারবে।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ১৩ হাজার ৬৪০ জন খামারি রয়েছেন। তারা চলতি বছর কোরবানির জন্য ৩৬ হাজার ২৫৯টি গরু, ৮১ হাজার ২৭৬টি ছাগল এবং ৪৪২টি ভেড়া প্রস্তুত করেছেন।