স্পোর্টস ডেস্ক।।
প্রতি আসরেই মাঠের চেয়ে মাঠের বাইরের নানা কর্মকাণ্ডে বিপিএল হয়ে উঠছে কলুষিত। ১২ আসরের প্রতি আসরেই এমন সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়েছে বিপিএলকে।
সর্বশেষ দুই আসর সবকিছুকেই ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিবারই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কর্তারা নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও শেষ অব্দি পরিস্থিতি বদলায় না।
বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, যোগ্য ফ্র্যাঞ্চাইজি না পেলে বিপিএল আয়োজন করা হবে না।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সংবাদ সম্মেলনে এই দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়ক, ‘আমরা চাই ভবিষ্যতে এই প্রক্রিয়াটা সম্পূর্ণ ক্লিন ও স্বচ্ছ হোক।যদি যোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য ফ্র্যাঞ্চাইজি না পাওয়া যায়, তাহলে শুধু আয়োজনের জন্য আয়োজন করে বিপিএল চালানো উচিত নয়। কারণ এতে টুর্নামেন্ট, খেলোয়াড়, বোর্ড সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ’
বিপিএল নিয়ে কঠিন মন্তব্য করলেও এই আসরের বিপক্ষে নন তামিম। বরং তিনি বারবার বললেন, এটি একটি সম্ভাবনাময় টুর্নামেন্ট। তবে বছরের পর বছর ধরে চলে আসা ফ্র্যাঞ্চাইজি সমস্যার সমাধান না হলে টুর্নামেন্ট না করাই শ্রেয় বলে তিনি মনে করেন, ‘আমি কখনোই বলিনি যে আমরা জোড়াতালি দিয়ে বিপিএল করবো। বরং আমি বলেছি, দরকার হলে আমরা বিপিএলই করবো না। এটাও আগে কেউ এত স্পষ্টভাবে বলেনি। বিপিএল আমাদের জন্য একটি দারুণ প্রোডাক্ট, এতে প্রতিভা উঠে এসেছে, দেশের ক্রিকেট উপকৃত হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু এটাকে টিকিয়ে রাখতে হলে কঠোরভাবে নিয়ম মানতে হবে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং সিস্টেমকে ঠিকভাবে কাজ করতে দিতে হবে। এখান থেকে আমরা অনেক কিছু অর্জন করতে পারি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমরা হয়তো সেটাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারছি না।’
তামিমের মতে, বিপিএলের বারবার হোঁচট খাওয়ার পেছনে একটিই কারণ, সঠিক ফ্র্যাঞ্চাইজি নির্বাচন না করা। তিনি বলেন, ‘১৪ বছরে একটাই টপিক বারবার উঠে এসেছে, ফিন্যান্সিয়াল। টাকা পাচ্ছে না, টাকা দিচ্ছে না। এই সমস্যার সমাধান করতে হলে সবার আগে দরকার সঠিক ফ্র্যাঞ্চাইজি।’
দ্বাদশ বিপিএলে বিসিবির মোট লোকসান ১৪ থেকে ১৬ কোটি টাকা, যার বড় অংশই চট্টগ্রাম রয়্যালস ফ্র্যাঞ্চাইজিকে বিসিবি টেকওভার করার কারণে সৃষ্টি হয়েছে। তামিম মনে করেন এভাবে আর চলতে পারে না, ‘এভাবে কয়দিন? আমরা একটা টুর্নামেন্টে নিজেদের ভুলের কারণে এত টাকা লস করছি, এটা মেনে নেওয়া যায় না।’
বিপিএলের মান ফেরাতে তামিম নানামুখী উদ্যোগের কথা বললেন, ‘আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হলো বড় বড় কর্পোরেটদের কাছে যাওয়া, তাদেরকে কনভিন্স করা যেন তারা এই প্রোডাক্টে ইনভেস্ট করে। আমি এটা গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি না যে আমি কোনো ব্যাংকের কাছে গিয়ে বললেই তারা ফ্র্যাঞ্চাইজি কিনবে। তবে এমন একটা পরিবেশ তৈরি করতে হবে যেখানে তাদের ইনভেস্টমেন্টটা তাদের কাছে ভ্যালুয়েবল মনে হবে। এজন্য যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার, সেটা সবাইকে মিলে নিতে হবে।’
দেশি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিদেশী প্রতিষ্ঠিত বিনিয়োগকারীদের আনার ওপর জোর দেন তামিম, ‘আইপিএল, পিএসএল বা সিপিএলে যারা সফল ফ্র্যাঞ্চাইজি চালাচ্ছে, তাদেরকে বাংলাদেশে আনতে পারলে লিগের মান আপনা-আপনি বাড়বে।
বিপিএল ইকোনমিক্যালি অন্য অনেক লিগের চেয়ে সস্তা, এটা একটা বড় সুযোগ। ডিমান্ড অ্যান্ড সাপ্লাই, এই নীতিটা আমরা কোনো দিন মেইনটেইনই করতে পারিনি। আইপিএলে চাইলেই যে কেউ টিম কিনতে পারে না। কিন্তু বাংলাদেশে কালকে ঘুম থেকে উঠেও বিপিএল টিম কেনা সম্ভব। এই সংস্কৃতি পাল্টাতে হবে।’
তামিম আরও যোগ করে বলেন, ‘এটা বলা যতটা সহজ, করা ততটা সহজ নয়। তবে আমাদের জায়গা থেকে যেটা দায়িত্ব, সেটাই হলো কিভাবে সবচেয়ে ভালো ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো আনা যায়, সেটা নিশ্চিত করা। আমরা সেই চেষ্টাই করবো, ইনশাআল্লাহ।’










































