Home আঞ্চলিক খালের ওপর ভাঙা ব্রিজটি এখন গলার কাঁটা

খালের ওপর ভাঙা ব্রিজটি এখন গলার কাঁটা

7

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি।।


চুয়াডাঙ্গায় জিকে খালের ভাঙা ব্রিজের কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারও মানুষ। ১৫টি গ্রামের বাসিন্দারা পথ ঘুরছেন কয়েক কিলোমিটার। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাচ্ছেন হাসপাতালগামী রোগীরা। বলতে গেলে প্রায় ১০ মিটার লম্বা ব্রিজটি এখন গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে।


পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, বরাদ্দ পেলে ব্রিজ মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হবে।

জানা যায়, প্রায় ৪৫ বছর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার আইলহাস ইউনিয়নের সোনাতনপুর গ্রামে ব্রিজ নির্মাণ করে। বেশ কয়েক বছর আগে ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এরপরও সেখানে ঝুঁকি নিয়েই যানবাহন ও সাধারণ মানুষের পারাপার চলে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৪ এর জুনে ব্রিজটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়লে একেবারেই বিচ্ছিন্ন হয় যোগাযোগ। এরপর থেকেই ১০ মিটার দীর্ঘ ব্রিজের জন্য অন্তত ২-৩ কিলোমিটার পথ বেশি ঘুরতে হয় স্থানীয়দের। এতে, মাঠের ফসল, শিক্ষার্থী ও অসুস্থ রোগীরা ব্যাপক বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন।

চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গা উপজেলায় প্রয়োজনীয় কাজে আসা-যাওয়ার জন্য এখন ২-৩ কিলোমিটার পথ বেশি ঘুরতে হচ্ছে। মাঠের ফসল, শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগীদের বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। আলমডাঙ্গার সোনাতনপুর ব্রিজ দিয়ে আগে প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের ছোট-বড় ১২০টি যানবাহন ও প্রায় ৭ হাজার মানুষ চলাচল করতো।

এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা সোনাতনপুর গ্রামের বাসিন্দা আকিমুল ইসলাম জানান, এখন আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। কষ্টের কথা আর বলার কোনো জায়গা নেই। ছোট একটি ব্রিজের কারণে আমরা কোনো দিকে যেতে পারছি না। নতুন করে ব্রিজ নির্মাণে কেউ উদ্যোগ নিচ্ছে না।

আলমডাঙ্গার রহিমা খাতুন নামে এক নারী জানান, চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গায় আসতে পারি না। শরীরে অসুখ বাসা বাঁধছে। কেউ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে মৃত্যু অনিবার্য। আমরা এ থেকে রেহাই চাই।

আরিফ আহমেদ নামে একজন কৃষক জানান, মাঠে বোরো ধানসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল রয়েছে। ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছি। কীভাবে ফসল ঘরে তুলব। একদিকে শ্রমিক সংকট অন্যদিকে অতিরিক্ত ভাড়া গুণতে হয় ফসল বাড়ি আনতে। আমাদের জীবন থমকে গেছে।

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ আহমেদ জানান, আলমডাঙ্গার সোনাতনপুর গ্রামে একটি ব্রিজ ভেঙে পড়েছে। ওই এলাকার মানুষ দুর্ভোগ পোয়াচ্ছেন। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। বরাদ্দ পেলে ব্রিজটি মেরামত সম্ভব হলে যোগাযোগ স্বাভাবিক হবে। নয়তো ওখানে নতুন ব্রিজ নির্মাণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।