Home আঞ্চলিক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বরণে প্রস্তুত যশোর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বরণে প্রস্তুত যশোর

0


­যশোর প্রতিনিধি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বরণে প্রস্তুত যশোর। আগামীকাল সোমবার (২৭ এপ্রিল) তিনি যশোরে আসছেন। তাঁকে বরণ করে নিতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে যশোর জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট। প্রস্তুত জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরাও। এই সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত উলাশী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখনন ও যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণকাজের উদ্বোধন করবেন বলে জানা গেছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা ঘিরে যশোর শহরে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটবে বলে আশা করেছে জেলা বিএনপি। জনসভা ঘিরে বাস, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল মিলিয়ে ৫ হাজারের মতো যানবাহন আসবে। এ জন্য ইতিমধ্যে ১০টি পার্কিং স্পট নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে এমপি, মন্ত্রী ও ভিআইপিদের জন্য আলাদা পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও থাকবে।

জেলা প্রশাসন ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল সকাল সোয়া ১০টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যশোর বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। সেখান থেকে সরাসরি যাবেন জেলার শার্শা উপজেলার উলাশীতে। সেখানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত উলাশী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখননকাজের উদ্বোধন করবেন। একই সঙ্গে পুনঃখননস্থলে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে যোগ দেবেন তিনি। সেখান থেকে ফিরে বেলা সোয়া ১টায় যশোর শহরে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী।


বেলা দেড়টায় প্রধানমন্ত্রী যশোরের প্রায় ২০০ বছরের প্রাচীন ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন করবেন। এরপর যশোর সার্কিট হাউসে নামাজ ও দুপুরের খাবারের বিরতির পর বেলা সাড়ে তিনটায় যশোর ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে সন্ধ্যায় ঢাকার উদ্দেশে যশোর ছাড়বেন।

বিএনপি নেতারা বলছেন, সরকারপ্রধানের আগমনের এ দিনে যশোর উৎসবের শহরে পরিণত হবে। শহরে ও শহরতলিতে এবং গ্রামপর্যায়েও চলছে মাইকিং। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে আশায় বুক বেঁধেছেন যশোরবাসী। এই সফর যশোরসহ এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক, সামাজিক অবস্থা ও মানুষের জীবনযাত্রার মানে উন্নয়ন ঘটবে—এমনটিই আশা সবার। নানা প্রত্যাশা ও দাবিদাওয়া বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতি দিয়ে উন্নয়ন ও দিন বদলের নেতৃত্ব দেবেন বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আশাবাদ এই অঞ্চলের মানুষের। এর আগে গত ২ ফেব্রুয়ারি যশোর উপশহর ডিগ্রি কলেজের মাঠে বিশাল নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিয়েছিলেন তারেক রহমান।

যশোর জেলা বিএপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক এই জনসভায় লক্ষাধিক লোকসমাগমের আশা রয়েছে। এর বেশির ভাগ লোকই আসবেন শহরের বাইরে থেকে। বৃহত্তর যশোরের চার জেলা ছাড়াও খুলনা বিভাগের অন্য ১০ জেলা থেকেও কমবেশি মানুষ জনসভায় আসবেন। একটি শান্তিপূর্ণ ঐতিহাসিক জনসভা উপহার দেওয়ার চেষ্টা করছে জেলা বিএনপি।

সরকারপ্রধানের বিভিন্ন কর্মসূচিস্থল পরিদর্শন করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। আজ দুপুরে জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে নিয়ে তিনি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সরকারের দায়িত্ব নিয়ে খুলনা বিভাগে প্রথম জনসভা যশোরে তারেক রহমানের। যশোরবাসী হিসেবে আমরা গর্বিত। যশোর ঐতিহ্যের জেলা। সেই যশোর জেলাকে বিএনপি যতবার সরকার গঠন করেছে, ততবারই দুহাত উজাড় করে উন্নয়ন করেছে। শহীদ রাষ্ট্রপ্রতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সেই ধারাবাহিকতায় তাঁদের যোগ্য উত্তরসূরি তারেক রহমানও যশোরের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যশোরে আগমন কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, এর মাধ্যমে যশোরের উন্নয়নের চাকা নতুন করে সচল হবে।’