শাহ তানভীর আহমেদ।।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের তৎপরতা চোখে পড়ছে নগরজুড়ে। এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না হলেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে নিজ নিজ ওয়ার্ডে গণসংযোগ ও প্রচারণা শুরু করেছেন। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে অনেকেই ব্যানার, তোরণ, প্যানা-পেস্টুন ও শুভেচ্ছা ফেস্টুন টাঙিয়ে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন।
নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের নামে ঈদের শুভেচ্ছা সম্বলিত ব্যানার ও পোস্টারে সড়ক, মোড় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ছেয়ে গেছে। কোথাও কোথাও আবার সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নিজেদের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন আগ্রহীরা। এসব ব্যানার ও ফেস্টুনে অনেকেই নিজেদের ‘সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী’ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন।
বিশেষ করে খুলনা মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেই এই তৎপরতা বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মহানগর বিএনপির বর্তমান নেতৃত্বের পাশাপাশি সাবেক নেতৃবৃন্দ ও তৃণমূল পর্যায়ের অনেক কর্মীও কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিএনপি ঘরানার নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ায় অনেকেই আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জনপ্রতিনিধি হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখন থেকেই নিজেদের পরিচিতি বাড়াতে মাঠে নেমেছেন। এর অংশ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেককে সক্রিয় দেখা যাচ্ছে।
নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দারা বলছেন, কয়েক বছর ধরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের স্থবিরতার কারণে কাউন্সিলর পদে নতুন মুখ দেখার প্রত্যাশা রয়েছে। তাই সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখন থেকেই জনসংযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ আবার এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও প্রচারণায় তুলে ধরছেন।
তবে নির্বাচন কমিশন এখনও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। তবুও সম্ভাব্য প্রার্থীদের আগাম প্রচারণা নগরীর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নগরীর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের আগাম তৎপরতায় নগর রাজনীতি ইতোমধ্যে সরগরম হয়ে উঠেছে।











































