Home Lead প্রথম কর্মদিবসে এক অন্যরকম দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

প্রথম কর্মদিবসে এক অন্যরকম দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

15

ঢাকা অফিস।।

দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন তিনি। স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে লেখেন আবেগঘন প্রতিক্রিয়া।
এরপর সচিবালয়ে প্রথমে মন্ত্রীদের ও পরে সচিবদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এতে কর্মকর্তাদের মাঝে যেন নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়। বিশেষ করে নতুন প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে সবাই ছিলেন উচ্ছ্বাসিত।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রথম দিনেই নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান। এসময় মন্ত্রী-সচিব ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। বিভিন্ন নির্দেশনা দেন। বিশেষ করে পবিত্র মাহে রমজানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহের নির্দেশ দেন। রাতে জাতির উদ্দেশে টেলিভিশনে ভাষণ দেন তিনি। সব মিলিয়ে একটি কর্মমুখর দিন অতিবাহিত করলেন নতুন প্রধানমন্ত্রী।

সাভারে জাতীয় স্মৃতি সৌধে

দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর দিনই বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ছুটে যান সাভারে জাতীয় স্মৃতি সৌধে। বেলা ১১টায় মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় তিনি কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন ও মোনাজাত করেন।

এরপর স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে সই করেন। পৃষ্ঠার একেবারে বাঁয়ে প্রথম সারিতে দিনের তারিখ লেখেন তিনি। এরপরের সারিতে নিজের নাম ‘তারেক রহমান’ ও পরিচয়ের সারিতে লিখেছেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার’। পরের সারিতে মন্তব্যের জায়গায় প্রায় ১৫০ শব্দে নিজের মন্তব্য লেখেন তিনি। সর্ব ডানে করেন সই।

পরিদর্শন বইয়ের মন্তব্য সারিতে তিনি লিখেছেন, ‘‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অবসানের পর একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকামী জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে দেশের জনগণ গণতন্ত্রের পথে নতুন যারা শুরু করেছে। আলহামদুলিল্লাহ। আমি আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানাই।’’

তিনি আরও লেখেন, ‘‘বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নবগঠিত মন্ত্রিসভাসহ আমি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করছি, যাদের আত্মত্যাগে আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালে দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধসহ দেশের ইতিহাসে এ যাবতকালে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের সব শহীদদের প্রতিও আমি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।’’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘‘আমি এবং আমরা বিশ্বাস করি, শহীদদের আকাঙ্ক্ষা ছিল— একটি নিরাপদ মানবিক গণতান্ত্রিক স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। শহীদদের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্যই আমরা কাজ শুরু করেছি। আল্লাহ যেন আমাদেরকে জনগণের সামনে ঘোষিত প্রতিটি কর্মসূচি বাস্তবায়নের তৌফিক দান করেন।’’

বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত

সাভারের মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর পর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাবা জিয়াউর রহমান ও মা বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন তারেক রহমান। এ সময় তিনি তাদের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

সচিবালয়ে যেন প্রাণের সঞ্চার

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম আগমন ঘিরে বুধবার সকাল থেকেই সচিবালয়ে ছিল সাজ সাজ রব ও উৎসবের আমেজ। নতুন অভিভাবককে বরণ করে নিতে অপেক্ষা করছিলেন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। দুপুর ১২টার কিছু পরে সচিবালয়ের ৫ নম্বর গেট দিয়ে নিজ দফতরে হাজির হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি তাকে অভ্যর্থনা জানান।

মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই দিলেন যেসব নির্দেশনা

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তারেক রহমান। এরপর দেশ গড়তে নিজের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। সবাইকে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার কথা বলেন। অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিজের জিরো টলারেন্সের কথা শোনান। বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করলেন। এ সময় রমজানে সেহরি, ইফতার ও তারাবির সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতের রাখতে নির্দেশ দেন। এছাড়াও সুশাসন ও জবাবদিহির বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।

স্ব-স্ব মন্ত্রণালয়ের যারা দায়িত্বরতরা যেকোনো ধরনের প্রভাব এবং স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে কাজ করার নির্দেশনা দেন। বিশেষ করে দুর্নীতির প্রশ্নে সবাইকে আপসহীন ভূমিকা পালনের তাগিদ দেন।

সচিবদের বৈঠকে কী কথা হলো

মন্ত্রিদের সঙ্গে বৈঠকের পর বিকালে সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রথমে সবার সঙ্গে পরিচিত হন ও খোঁজ খবর নেন তিনি। এ সময় তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ঘোষিত ইশতেহার বাস্তবায়নে সচিবদের সহযোগিতা চান। বৈঠক শেষে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কী কী নির্দেশনা দিয়েছেন জানতে চাইলে ভূমি মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব সাংবাদিকদের জানান, (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন, যেহেতু উনি রাজনীতি করেন, ওনার ইশতেহার আছে। সচিবরা সবাই সরকারি কর্মকর্তা, তারা রাজনীতির অংশ নন। জনগণ ম্যান্ডেট দিয়েছে জাতীয়তাবাদী দলের ইশতেহার দেখে, নিশ্চয়ই তারা ইশতেহার পছন্দ করেন। তাই ইশতেহার বাস্তবাস্তবায়নে তাদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।