>> পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ পরিপূর্ণ প্রস্তুত: নবাগত পুলিশ সুপার
স্টাফ রিপোর্টার
খুলনা জেলার ৯টি উপজেলায় গেল ১৫ মাসে ৬২টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। যারমধ্যে ৪৩টি ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে জেলা পুলিশ। এসব ঘটনার মধ্যে যেমন রয়েছে পরকীয়া, আর্থিক, পূর্ব শক্রতা তেমনি রয়েছে মাদক কারবার ও আধিপত্য নিয়ে বিরোধ। সব্বোর্চ হত্যার ঘটনার ঘটেছে জেলার রূপসা উপজেলায় ১৫টি। আর সবচেয়ে কম তেরখাদা উপজেলায় দুটি। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপের শঙ্কা প্রকাশ করেছে নাগরিক নেতারা।
তবে পুলিশের দাবি, জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তারা অধিকাংশ ঘটনারই রহস্য উন্মোচন করেছেন। তবে অপরাধীরা অপরাধ সংঘটনের পর ঘন ঘন স্থান বদল করায় গ্রেপ্তার করতে বেগ পেতে হয়।
খুলনা জেলা পুলিশ সুপারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত জেলায় ৬২টি হত্যার ঘটনা ঘটে। এরমধ্যে শহরতলী খ্যাত রূপসা থানায় ১৫টি, তেরখাদা থানায় ২টি, দিঘলিয়া থানায় ৪, ফুলতলা থানায় ১০টি, ডুমরিয়া থানায় ১১, বটিয়াঘাটা থানায় ৪টি, দাকোপ থানায় ৭, পাইকগাছা থানায় ৪টি ও কয়রা থানায় ৫টি। হত্যাগুলোর মধ্যে গুলি করে ৫টি, গুরুতর জখম করে ৩টি, অজ্ঞাত কারণে ৯টি, শা¦সরোধে ২ট, পরকীয়ার কারণে ৫টি, আর্থিক ও ব্যবসায়িক কারণে ৫টি ঘটনা ঘটে। তদন্তাধীন ১৯টি ঘটনার মধ্যে জেলা পুলিশ ১১টি ও নৌপুলিশ ৮টি ঘটনা তদন্ত করছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, জেলার ক্রাইমের ক্ষেত্রে ‘হটজোন রূপসা’। শহরতলীর এই উপজেলাটিতে আধিপত্য নিয়ে প্রায়শই হতাহতের ঘটনা ঘটে। নদী ও সড়ক বেষ্টিত উপজেলায় অপরাধ সংঘটনের পর সহজে সরে পড়া সহজ। এছাড়া মাদক কারবারের অন্যতম পথ। ফলে এখানেই বেশী অপরাধের ঘটনা ঘটছে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সম্পৃক্তরা জানান, জেলার ফুলতলা, দিঘলিয়া, রূপসা, ডুমুরিয়া ও বটিয়াঘাটা থানা এলাকায় রয়েছে প্রায় অর্ধ শত মাদকের স্পট। এই কারবারীদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। তারা কতিপয় অসাধু পুলিশ কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এ কারবার পরিচালনা করছে। আবার অবৈধ অস্ত্রের সহজলভ্যতা, বিগত দিনের সিন্ডিকেট ভেঙে যাওয়ায় আধিপত্য নিয়ে সন্ত্রাসী চক্রগুলোর বিরোধের জেরে অপরাধ প্রবণতা বেড়েছে।
নবাগত পুলিশ সুপারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, খুলনা জেলার ৫৩১টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৩৫টি ঝুঁকিপূর্ণ। তালিকার শীর্ষে রয়েছে পাইকগাছা। এ উপজেলায় ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে ৩৫টি কেন্দ্র। এছাড়া কয়রার ১৪টি, ডুমুরিয়ার ২৭টি, ফুলতলার ৪টি, দিঘলিয়ার ৮টি, তেরখাদার ৬টি, রূপসার ২৩টি, দাকোপের ১৩টি ও বটিয়াঘাটার ৫টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ।
খুলনা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানান, ইতোমধ্যে হত্যাসহ অধিকাংশ ঘটনার রহস্য উম্মোচন করেতে পুলিশ সমর্থ্য হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করছে। মাদক কারবারীদের কোন ছাড়া দেওয়া হচ্ছে না। ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলদার বলেন, বর্তমানে মানুষ নিরাপত্তাহীন ও শঙ্কায় রয়েছে। নির্বাচনী তফসিলের পর সব দলই মাঠে থাকবে। তাই আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
সংবাদকর্মীদের সাথে মতবিনিময়কালে খুলনার নবাগত পুলিশ সুপার মো. মাহাবুবুর রহমান নির্বাচনকালীন যে কোন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ পরিপূর্ণ প্রস্তুত আছে বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘ভয় পাওয়ার বা কনফিউশনের কোনো সুযোগ নেই। আমাদের সর্বোচ্চটুকু আমরা দেবো। অতীতের যতটুকু কালিমা, কলঙ্ক আছে, এটা আমাদের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ।’
উল্লেখ্য, খুলনা মহানগরীতে গত ১৪ মাসে ৪৪ হত্যার ঘটনা ঘটে। এতে ৪২টি মামলা দায়ের হয়েছে। এ সময়ে গুলি করে ও কুপিয়ে গুরুতর আহতের ঘটনা ঘটেছে শতাধিক। ছিনতাই ও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে আরো প্রায় অর্ধশত।











































