বাগেরহাট প্রতিনিধি।।
বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান (রহ.) মাজারে দুদিনব্যাপী বাৎসরিক ওরশ মোবারক মেলার শেষ দিন আজ মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর)। এ লক্ষ্যে ভোর থেকেই ভক্তরা দল বেঁধে মাজারে আসতে থাকেন। পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজে মেতে ওঠেন তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, কেউ জিকিরে মগ্ন, কেউ দোয়ায় ব্যস্ত—এভাবেই আধ্যাত্মিকতায় ভরে ওঠে মাজারপ্রাঙ্গণ। ভক্তদের সুবিধার জন্য রয়েছে সেবা কেন্দ্র, বিশ্রামস্থান এবং নিরাপত্তায় রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবক দল। দুদিনব্যাপী এই মিলনমেলায় ভক্তরা ফরজ নামাজ শেষে যার যার গন্তব্যে ফিরবেন।
খুলনা থেকে আসা দর্শনার্থী মোল্লা সাব্বিরুল ইসলাম রাফি বলেন, ‘খানজাহান (রহ.) মাজারে এলে এক ধরনের অদ্ভূত শান্তি আমাকে ঘিরে ধরে। জীবনের নানা ব্যস্ততা আর মানসিক চাপ থেকে মুক্ত হয়ে এখানে আসলে মনটা হালকা লাগে। তাই আমি প্রতি বছরই নিয়মিত এই ওরশে অংশ নিই। দূর থেকেও এখানে আসতে আমার কখনোই কষ্ট লাগে না। বরং মনে হয় যেন এক আত্মিক টান আমাকে টেনে নিয়ে আসে।’
স্থানীয় বাসিন্দা আজিম ফকির বলেন, ‘বছরের অন্যান্য সময়েও মাজারের পরিবেশ মনোমুগ্ধকর থাকে। কিন্তু ওরশের সময় পুরো এলাকায় নতুন সাজে সেজে ওঠে। ভক্তদের আনাগোনা, আলোকসজ্জা, মিলাদ-মাহফিল—সব মিলিয়ে এমন এক আধ্যাত্মিক পরিবেশ তৈরি হয় যার তুলনা নেই। আমি ছোটবেলা থেকেই ওরশে আসছি।’
বরিশাল থেকে আসা দর্শনার্থী রাব্বি বলেন, ‘আমি প্রতি বছরই বন্ধুদের নিয়ে এখানে আসি। আমাদের কাছে এটি শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়—আমাদের আধ্যাত্মিক ভ্রমণ। মাজারের এই পরিবেশে দাঁড়িয়ে মনে হয় যেন চারপাশের সব দুঃখ-কষ্ট মিলিয়ে যায়। ভক্তদের ভিড়, জিকিরের শব্দ আর মানুষের ত্যাগ-তব্বতের দৃশ্য মনকে গভীরভাবে ছুঁয়ে যায়। তাই যত ব্যস্ততাই থাকুক না কেন, ওরশের সময়ে আমরা অবশ্যই এখানে আসি।’
মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘সাড়ে ৫০০ বছরের ঐতিহ্য ও ইতিহাসকে ধারণ করে খানজাহান (রহ.) মাজারে যে ওরশ শরিফ অনুষ্ঠিত হয়, তা শুধু বাগেরহাট নয় দেশ ও দেশের বাইরের ভক্তদের জন্যও আধ্যাত্মিক মিলনের এক মহাসম্মেলন। এই ওরশকে ঘিরে ভক্তদের যে আন্তরিকতা, তা সত্যিই অভাবনীয়। এবার আগের সব বছরের তুলনায় ভক্তদের উপস্থিতি আরও বেশি। মাজারপ্রাঙ্গণ এখন এক বিশাল আধ্যাত্মিক উৎসবে রূপ নিয়েছে।’











































