সৈয়দ হুমায়ুন কবীর।।
খুলনা সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত ১৭ হাজার প্যাডেল চালিত লাইসেন্সধারী রিকশার কোন হদিস মিলছেনা। তবে অনুমতি ছাড়াই গত প্রায় চার বছর আগে প্যাডেল চালিত সবগুলি রিকশা অবৈধভাবে ব্যাটারি ও ইঞ্জিন সংযোজন করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে । শুধুমাত্র নামমাত্র কিছু জরিমানা আদায় করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। সর্বশেষ প্রায় দু’শত লাইসেন্সবিহীন ইজিবাইক আটক করে প্রায় একলাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হলেও তা খুব কার্যকর হচ্ছে না।

নগরের বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়ক ও মহাসড়কে বেপরোয়া চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত থ্রি-হুইলার বা ইজিবাইকগুলোর বেপরোয়া চলাচলে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শুধুমাত্র খুলনা নগরী ও জেলায় প্রায় ৪০ হাজার ইজিবাইক ও অটোরিক্সা চলাচল করছে নির্বিঘ্নে। এর অধিকাংশেরই প্রয়োজনীয় কোন সরকারি অনুমোদন নেই। কিন্তু তারপরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও কেসিসিসহ অন্য সকল সংস্থার নাকের ডগায় নির্বিঘ্নে চলাচল করছে। ইতিপূর্বে দৈনিক খুলনাঞ্চল পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ কেসিসি’র পক্ষ থেকে প্রায় দু’শত অটোরিক্সা আটক করে লক্ষাধিক টাকা জরিমানা আদায় করে।
কেসিসি’র লাইসেন্স শাখার আব্দুর রহিম জানান, চলতি বছর ২০ অক্টোবর ২৩ টি, ২২ অক্টোবর ২৩ টি, ২৩ অক্টোবর ৪১ টি, ২৯ অক্টোবর ২ টি, ৩০ অক্টোবর ৩ টি, ২ নভেম্বর ২৫ টি, ৪ নভেম্বর ২ টি ও ৯ অক্টোবর ৩১ টি অটোরিক্সা আটক করে কেসিসি ও খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। এতে কেসিসি ও পুলিশ বিভাগ লক্ষাধিক টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
সুত্র জানায়, সাবেক মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের সময়ে ১০ হাজার টাকা করে নিয়ে ৭ হাজার ৮৯৮ টি ইজিবাইকের কেসিসি’র লাইসেন্স দেয়া হয়। এ ছাড়াও পণ্যবাহী ২ হাজার ৯৬ টি ইজিবাইক রয়েছে। কিন্ত বর্তমানে অবৈধভাবে চারগুন ইজিবাইক চলাচল করছে শহরে। ৭ হাজার ৮৯৮ টি ইজিবাইকের প্রতি বছর ২ হাজার টাকা করে নবায়ন ধার্য্য করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০০ ইজিবাইক তাদের নবায়ন করেনি। ব্যাটারি ও ইঞ্জিন চালিত অটোরিক্সা চলাচল করছে প্রায় ২০ সহস্রাধিক। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। আবার অধিকাংশ প্যাডেল চালিত রিকশার খোঁজ মিলছে না। কেসিসি অবশ্য স্বীকার করছে এসব রিকশা অটোরিক্সায় পরিণত হয়েছে। আবার কিছু ইজিবাইক হারিয়েছে বলে কয়েকজন আবেদন করেছেন।
এদিকে চলতি বছরের শেষে ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক-রিকশা নিয়ন্ত্রণে সরকারিভাবে আইন প্রনয়ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিন সংস্থার সমন্বয়ে নিয়ন্ত্রণহীন এই বাহনে আসছে পরিবর্তন। ফলে তখন সিটি করপোরেশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সহজ হবে।

কেসিসি’র লাইসেন্স অফিসার জানান, ব্যাটারিচালিত থ্রি-হুইলার চালাতে হলে বিআরটিএর নিবন্ধন ও বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স বাধ্যতামূলক হবে। সরকার অনুমোদিত নির্দিষ্ট চার্জিং স্টেশন ব্যবহার করতে হবে। যানবাহনগুলোকে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনতে এবং চালকদের পেশাগত স্বীকৃতি দিতে অন্তর্বতী সরকার ‘ইলেকট্রিক থ্রি-হুইলার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০২৫’ নামে একটি খসড়া নীতিমালা প্রনয়ন করা হয়েছে বলে বিআরটিএ জানিয়েছে।
কেএমপির ট্রাফিক ইন্সপেক্টর গাজী মিজানুর রহমান জানান, প্রায়ই ট্রাফিক পুলিশ অবৈধ ইজিবাইক ও অটোরিকশা আটক করছে এবং তাদের জরিমানা করা হয়। তবে শুধুমাত্রই সামান্য জরিমানায় খুব বেশী সুফল মিলছে না।
সূত্রগুলো বলছে, এতোদিন যেসব চালক ও যানবাহন ‘অবৈধ’ ও ‘অবিন্যস্ত’ পরিচয়ে পরিচিত ছিলেন, তারা এখন নাগরিক অধিকার ও মর্যাদার আওতায় আসতে যাচ্ছে। প্রধান সড়কে চলবে না কোন ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা। এতে অপরিকল্পিতভাবে তৈরী ও নিয়ন্ত্রণহীন খুলনার প্রায় ২০ সহস্রাধিক ব্যাটারী চালিত ইজিবাইক, অটোরিকশা ও থ্রী-হুইলার বাদ পড়তে পারে।











































