ঢাকা অফিস।।
বাংলাদেশে আলোচিত পর্ণ তারকা যুগল আজিম ও বৃষ্টিকে বান্দরবান থেকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। রোববার (১৯ অক্টোবর) দিবাগত গভীর রাতে শহরের রোয়াংছড়ি বাস স্টেশন সংলগ্ন হাজী পাড়া এলাকার ৬ তলা ভবনের পাঁচতলার একটি ফ্ল্যাট বাসা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
জানা গেছে, গত ১৫ দিন আগে তারা বান্দরবান এসে ফল ব্যবসা করার কথা বলে ওই এলাকায় বাসা ভাড়া নেন। এরপর থেকে তারা ওই বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। এলাকায় তাদের সঙ্গে কারও পরিচয় ছিল না। জরুরি কাজ ছাড়া তারা বাসা থেকে তেমন একটা বের ও হতেন না। সম্প্রতি তারা আলোচনায় আসার পর রোববার ঢাকার সিআইডির একটি দল বান্দরবান জেলা পুলিশের সহায়তায় রোযাংছড়ি বাস স্টেশন এলাকার সেই বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে।
এ বিষয়ে বান্দরবান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) আব্দুল করিম বলেন, সম্প্রতি নিউজ হওয়ার পর গ্রেফতার এড়াতে ওই যুগল ১৫ থেকে ১৬ দিন আগে বান্দরবান এসে বাসা ভাড়া নেন। বাসা ভাড়া নেয়ার সময় তারা এখানে ফল ব্যবসা করবেন বলে জানান বাড়িওয়ালাকে। এর আগে তারা চট্টগ্রামের কল্পলোকে ছিলেন। সেখান থেকে তারা বান্দরবান এসে আশ্রয় নেন। গতকাল সিআইডির টিম আসলে জেলা পুলিশের সহায়তায় তাদেরকে গ্রেফতার করে ঢাকা নিয়ে যাওয়া হয়।
উল্লেখ্য, আলোচিত যুগল পর্ন ভিডিও বানিয়ে তা আন্তর্জাতিক পর্ন সাইডে আপলোড করতেন। এবং তারা বিভিন্ন গ্রুপ খুলে সেখানে অন্যদেরও পর্ণ ভিডিও বানাতে উৎসাহিত করতেন।
নীল দুনিয়ার যুগলের বিষয়ে যা জানাল সিআইডি: দুজনের একজনও প্রাথমিকের গণ্ডি পার হননি। কিন্তু নীল ছবির দুনিয়ায় নিজেদের পরিচয় দিয়েছেন বাংলাদেশের টপ মডেল হিসেবে। তাদের একেকটি ভিডিও দেখা হয়েছে মিলিয়ন মিলিয়ন। আর সেই ভিডিও থেকে প্রাপ্ত আয়ে নিজেদের চাকচিক্য বাড়িয়ে এই পথে এনেছেন আরও তরুণ-তরুণীকে। তাদের দিয়ে তৈরি করেছিলেন নীল ছবির দুষ্টচক্র।
সোমবার (২০ অক্টোবর) সিআিইডির হাতে ধরা পড়ে ওই যুগল। এ বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে সিআইডি জানিয়েছে, সাইবার অ্যাক্টের মামলার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনেও মামলা হবে।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ওই যুগল বাংলাদেশে থেকে নীল ছবির কন্টেন্ট তৈরি করে আপলোড করছিল আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ডার্ক সাইটে। ২০২৪ থেকে পাবলিশ করে ১১২টিরও বেশি ভিডিও।
পরে গোপান সংবাদের ভিত্তিতে ভোরে বান্দরবান থেকে তাদের গ্রেফতার করে সিআইডি। ব্রিফিংয়ে সিআইডি জানিয়েছে, ওই দুজনই অত্যন্ত দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। এ দুজন অন্ধকার জগতে পা দিয়ে ২০২৪ থেকে নিজেদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে প্রকাশ করতে থাকেন। এমনকি বাংলাদেশের ধর্মীয়, সামাজিক পরিবেশে মারাত্মক অপরাধ হিসেবে গণ্য পর্নোগ্রাফি ভিডিও তৈরিতে কোনো রাখঢাক করেননি তারা। প্রকাশ্যে চেহারা দেখিয়েই তৈরি করেছেন একের পর এক ভিডিও। বিভিন্ন সাইটে নিজেদের পরিচয় দিয়েছেন বাংলাদেশের টপ মডেল ও পর্নস্টার হিসেবে।
নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যে অর্থ তারা উপার্জন করেছেন, সেগুলো জব্দে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথাও জানিয়েছে সিআইডি। জানান, অন্য যারা এই অন্ধকার জগতে প্রবেশ করেছেন তারাও ছাড় পাবে না সিআইডির হাত থেকে।











































