স্টাফ রিপোর্টার
নগরীর ২ নম্বর কাস্টমঘাট এলাকায় বাড়ির ভেতরে ঢুকে সোহেল (২৮) নামে এক যুবককে গুলি করার ঘটনায় ৬জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা ৩/৪জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আহত সোহেলের মা রানু বেগম বাদী হয়ে খুলনা থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন।
মামলার আসামিরা হলেন, নগরীর লবনচরা থানাধিন পুটিমারি এলাকার ফজলুল হক সরদারের দু’ছেলে মিরাজ সরদার কাউয়া মিরাজ (৩২) ও মো. ইলিয়াছ সরদার (২৯), মুন্সিপাড়া ২য় গলির হযরত আলীর ছেলে রিপন (২৮), মুন্সিপাড়া ২য় গলির লতিফ রাজমিস্ত্রির ছেলে রিপন (২৬), ১ নম্বর কাস্টমঘাট এলাকার দেলোয়ার হোসেন শিমুল (২৭) ও ১ নম্বর কাস্টমঘাট এলাকার হাবিবুর রহমান হাবির ছেলে মনির (২৫)। গুলিবিদ্ধ সোহেল বাগেরহাট জেলার মোড়লগঞ্জ উপজেলার মিশনবাড়িয়া গ্রামের স্বপন শিকদার ছেলে। এর আগে গত ৩ আগস্ট একই স্থানে দুর্বৃর্ত্তরা সোহেলকে লক্ষ্য করে গুলি করেছিল। তখনও তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসা নিয়ে প্রাণে বেঁচে যান। ওই সময় গুলিতে জখম হলেও তিনি মামলা করেননি।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ১৭ অক্টোবর সোয়া ২টার দিকে ২ নম্বর কাস্টমঘাট এলাকার মনিরুল ইসলামের ভাড়া বাড়িতে স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে বিছানায় বিশ্রাম নিচ্ছিলেন সোহেল। হঠাৎ তিনটি মোটরসাইকেলে করে বাড়ির সামনে আসে দুর্বৃর্ত্তরা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘরে ঢুকে তারা সোহেলের মাথা লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। একটি গুলি সোহেলের চোখের নিচে বিদ্ধ হয় এবং একটি বাম পায়ের হাঁটুতে লেগে গুরুতর রক্তাক্ত জখমপ্রাপ্ত অবস্থায় পড়ে যায়। সোহেলের স্ত্রীর চিৎকারে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে গেল তাকে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে সোহেলের শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এঘটনায় সোহেলের মা রানু বেগম বাদী হয়ে খুলনা থানায় মামলা দায়ের করেছেন যার নং-২১।
আহত সোহেলের স্ত্রী টুম্পা জানান, মিরাজসহ আসামিরা খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী একটি গ্রুপের সক্রীয় সদস্য। তাদের প্রধান ব্যবসা মাদক। তারা আমার স্বামীকে তাদের গ্রুপে থেকে মাদক ব্যবসা করতে চাপ প্রয়োগ করে। সে রাজি না হওয়ায় গত আগস্টে তাকে গুলি করে। সে সময় তাদের ভয়ে আমরা মামলা করতে সাহস পাইনি। গত কয়েক দিন ধরে মিরাজ ও ইলিয়াসসহ অন্যরা মাদক বিক্রির জন্য চাপ দিতে থাকে। সে রাজি না হলে তাকে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলে। আর এ কারণেই তারা আমার সামনে সোহেলকে গুলি করে চলে য়ায়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. মিয়ারব হোসেন জানান, সোহেল হত্যা প্রচেষ্টা মামলায় সন্দেহভাজন নবাব নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এছাড়া অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।











































