মো: রাজু হাওলাদার
আসছে বৈশাখ। বৈশাখের মৌসুমী ফলে বাজার এখন সয়লাব। বৈশাখি এই ফলের মধ্যে সবথেকে জনপ্রিয় হচ্ছে তরমুজ। গরমে প্রশান্তি এনে তরমুজ, তাই জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে এই ফল। আর এই সুযোগে কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি পিচ হিসাবে তরমুজ কিনে সেই তরমুজ কেজি দরে বিক্রি করছে বিক্রেতারা। এতে কৃষক যেমন লাভবান হচ্ছে না তেমনি বেশি অর্থগুনতে হচ্ছে ক্রেতাদেরও। ক্রেতাদের অভিযোগ এই বিষয়টি প্রকাশ্যে হলেও এটি বন্ধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, জেলা বাজার মনিটরিং কমিটিসহ কারও কোন তৎপরতা নেই। ফলে মাঠ পর্যায়ের চাষী থেকে ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, কৃষকের কাছ থেকে পাইকাররা পিস হিসেবে তরমুজ কিনলেও খুচরা বাজারে ওজনে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন ক্রেতারা। এছাড়া অভিযোগ উঠেছে, অপরিপক্ক তরমুজ বিক্রির। বাজারে ওঠা বেশিরভাগ তরমুজই এখনই পরিপক্ব হয়নি।
ক্রেতাদের অভিযোগ, টাকা দিয়ে তরমুজ কিনে ঠকছেন তারা। খুলনা বিভাগের চালনা, দাকোপ, বাজুয়া, কয়রা, পাইকগাছা থেকে আসে খুলনা নগরীরর পাইকারী বাজারের আড়ৎগুলোতে।
প্রান্তিক চাষি ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, সম্প্রতি শুরু হওয়া তরমুজ মৌসুমে তারা বিক্রি করছেন পিস হিসেবে। কিন্তু বাজারে ঘুরে দেখা যায়, অতিরিক্ত চাহিদার চাপে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে তরমুজ।
নগরীর নিরালার বাসিন্দা মোঃ রিপন শিকদার জানান, অনেক জায়গায় ছোট ছোট তরমুজ পিস হিসেবে বিক্রি হয়। কিন্তু বেশির ভাগই তরমুজ কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে এক পিচ তরমুজের দাম সর্বনিম্ন ৩০০-৪০০ টাকা পড়ে যায়। যা গরীবের সাধ্যের বাইরে চলে গেছে তরমুজের দাম।
তিনি আরোও বলেন, ‘ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ বিভিন্ন অভিযানের কারণে ব্যবসায়ীরা দিন দিন তাদের কৌশল পরিবর্তন করছে। তাই বাজার মনিটরিং কমিটির তাদের কৌশল পরিবর্তন করা উচিৎ।
নগরীর ময়লাপোতা মোড়ে ভ্যানে তরমুজ বিক্রেতা সাগর শেখ বলেন, ‘তরমুজ কিনার পর পরই তীব্র রোদে পচন শুরু হয়। ক্রেতারা তরমুজ না কেটে নিতে চান না। কিন্তু আমরা পাইকারী কেনার সময় বেছে আনতেও পারি না। তাই ওজন হিসেবে বিক্রি করি যাতে আমাদের সাদা থাকলে এবং পচন ধরলে আমাদের চালান উঠে যায়। কেজি হিসাবে বিক্রী না করে উপায় নেই।
দাকোপ এলাকার কৃষক মুহাইমেনুল ইসলাম হুর জানান, মৌসুমের শুরুতে রমজান মাস শুরু হওয়ায় দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছিল। তবে আকার যত বড়ই হোক না কেন, পাইকারি বাজারে দাম তিনশ টাকার ওপরে ওঠে না। কিন্তু খুচরা বিক্রেতারা তা ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করছেন পাঁচ থেকে সাতশ টাকায়।
কয়রা এলাকার কৃষক সরদার তুহিনুজ্জামান জানান, এ বছর তিনি ১৪ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন, তাতে খরচ হয়েছে ৩০ লাখ টাকা। তিনি ১০০টি বড় তরমুজ পিস হিসেবে বিক্রি করেছেন ৩০ হাজার টাকায়। কিন্তু একই তরমুজ খুচরা বাজারে দ্বিগুণ দামে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
নগরীর কদমতলা মক্কা ভান্ডারের পাইকারি তরমুজ বিক্রেতা রুবেল জমাদ্দার বলেন, একশ পিস ছোট তরমুজ ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকায়, মাঝারি সাইজের তরমুজ ৭ হাজার-৮ হাজার টাকায়, ৭-৮ কেজির তরমুজ ১৩ থেকে ১৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারের হিসেবে খুচরা বাজারে এসব তরমুজ ২০০-৩০০ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা। তবে বাজারের চিত্র ভিন্ন। সেখানে খুচরা বিক্রেতারা তরমুজ বিক্রি করছেন ৫০০-৭০০ টাকায়।











































