সৈয়দ রানা কবীর ও জাহিদুর রহমান
দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ পর খুলনায় বিএনপির সম্মেলনকে ঘিরে নগর জুড়ে এখন সাজ সাজ রব। পুরা নগরী জুড়ে আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। মহানগরীর হাজার নেতাকর্মীদের মাঝে বইছে আনন্দের বন্যা। সম্মেলনকে সামনে রেখে নগরীর সকল মোড়ে মোড়ে শোভা পাচ্ছে বিএনপির নেতা কর্মীদের পোস্টার, ব্যানার, প্যানা, বিলবোর্ড ও সুসজ্জিত তোরন। এ বারের সম্মেলন তিনটি পর্বে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম পর্বে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও জাতীয় নেতৃবৃন্দের বক্তৃতা পর্ব। দ্বিতীয় পর্বে সম্মেলনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক ৩টিসহ মোট ৫ পদে ১২ জন পাথী প্রতিদন দিতা করছেন। ৫০৫ জন কাউন্সিলরের ভোটে নির্বচিত করা হবে মহানগরের নতুন নেতা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি পদে বর্তমান আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম জহির এবং দৌলতপুর থানা বিএনপির সদস্য সাহাজী কামাল টিপু।
অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন খুলনা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন, যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মাহমুদ আলী এবং মহানগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হুদা চৌধুরী সাগর। এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মাহবুব হাসান পিয়ারু, শেখ সাদী, শের আলম সান্টু, মাসুদ পারভেজ বাবু, হাসানুর রশিদ চৌধুরী মিরাজ ও তারিকুল ইসলাম তারিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য ৫০ হাজার টাকা দিয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে হয়েছে তাদের।
নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানাগেছ, দীর্ঘ ১৬ বছর পর এবারই প্রথম তৃণমূলের ভোটের মাধ্যমে খুলনা মহানগর বিএনপির নেতৃত্ব নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে সম্মেলনকে ঘিরে মহানগর বিএনপির নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা প্রার্থীরা গত কয়েকদিন যাবত নগরীর পাঁচ থানার ৩১ টি ওয়ার্ড ও তিনটি ইউনিয়নের তৃনমুল পর্যায়ের নেতা কর্মীদের মাঝে যাচ্ছেন। প্রার্থীরা ও তাদের পক্ষে অন্য নেতারা কাউন্সিলরদের কাছে তাদের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করছেন।
তৃনমুল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সুত্রে জানাগেছে, দীর্ঘ দিনের বিএনপির তৃনমুল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের পাশে থাকা নেতাদেরকে কাউন্সিলররা এবারের কাউন্সিলে নেতা নির্বচিত করবেন।
দৌলতপুর থানা বিএনপির সম্পাদক শেখ ইমাম হোসেন বলেন, মহানগর বিএনপির এবারের কাউন্সিলে কাউন্সিলররা দলের নেতা নির্বাচিত করতে সঠিক সিদ্ধান্তটা নিতে ভুল করবেন না।
তিনি বলেন, গত ১৫/১৬ বছর যে সকল নেতাদের কাছে পেয়েছেন সাধারণ কর্মীদের তাদেরকে ভোটে নির্বাচিত করবেন বলে আশা করেন শেখ ইমাম হোসেন। তিনি আরো বলেন, সাংগঠনিক সম্পাদক তিনটি পদে ছয়জন দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ পর খুলনায় বিএনপির সম্মেলনকে ঘিরে নগর জুড়ে এখন সাজ সাজ রব। পুরা নগরী জুড়ে আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। পাঁচ থানার নেতা কর্মীদের মাঝে বইছে আনন্দের বন্যা।
এ বারের সম্মেলন তিনটি পর্বে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম পর্বে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও জাতীয় নেতৃবৃন্দের বক্তৃতা পর্ব। দ্বিতীয় পর্বে সম্মেলনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক ৩টিসহ মোট ৫ পদে ১২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৫০৫ জন কাউন্সিলরের ভোটে নির্বচিত করা হবে মহানগরের নতুন নেতা। আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে মহানগর বিএনপির সম্মেলন শেষে জেলা স্টেডিয়ামের জিমনেসিয়ামে কাউন্সিলর অধিবেশনে ভোটের মাধ্যমে ভোটের মাধ্যমে তাদের নেতা নির্বাচিত করবেন।
সম্মেলনের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে প্রধান অতিথি ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বিশেষ অতিথি করা হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠার পর থেকে সিলেকশনের মাধ্যমে নির্ধারণ হয়েছে খুলনা মহানগর বিএনপির নেতৃত্ব। উৎসবমুখর সম্মেলন হলেও কখনও কাউন্সিল অধিবেশন বা ভোট হয়নি। এদিকে দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত সম্মেলনে খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জুসহ তার অনুসারীদের কেউ প্রার্থী হচ্ছেন না।
দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, ২০০৯ সালের ২৫ নভেম্বর খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে খুলনা মহানগর বিএনপির সম্মেলনে সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল। ঐ সম্মেলনে ভোট হয়নি। সম্মেলনে নজরুল ইসলাম মঞ্জু সভাপতি, মনিরুজ্জামান মনি সাধারন সম্পাদক এবং ফখরুল আলম সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। এবার তারা কেউই প্রার্থী হয়নি।
সম্মেলনের প্রস্তুতি নিয়ে ২১ উপ-কমিটির বৈঠক : খুলনা মহানগর বিএনপির সম্মেলন ২৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে খুলনা মহানগর বিএনপিতে ব্যাপক প্রস্তুতি। উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। প্রতিদিনই হচ্ছে প্রচার মিছিল। মঞ্চনির্মাণ, সাজসজ্জায় প্রস্তুতি নিচ্ছেন নেতারা। শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে সম্মেলন ও কাউন্সিলের স্থান পরিদর্শন করেন নেতৃবৃন্দ। তারা মঞ্চ নির্মাণের অগ্রগতিসহ সার্বিক বিষয় খোঁজ খবর নেন। এছাড়া সম্মেলন সফল করতে গঠিত ২১টি উপ কমিটির কর্মকান্ডের অগ্রগতি নিয়ে সন্ধ্যায় নগরীর অভিজাত হোটেললে বসেছিলেন নেতৃবৃন্দ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, মহানগর বিএনপির আহবায়ক এড. শফিকুল আলম মনা, সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিনসহ আহবায়ক কমিটির যুগ্ম আহবায়কবৃন্দ, থানা কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও উপ কমিটির আহবায়কবৃন্দ।
এসময় প্রধান অতিথি রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, ২৪ ফেব্রুয়ারি খুলনা সার্কিট হাউজে খুলনা মহানগর বিএনপির ‘স্মরণকালের সেরা’ সম্মেলন হবে। কাউন্সিলর, ডেলিগেট, আমন্ত্রিত অতিথি নিয়ে প্রায় ১০ হাজার নেতাকর্মীর মিলন মেলা হবে সম্মেলনস্থলে। খুলনা মহানগরী ছাড়াও বিভাগের ১০ জেলার শীর্ষ নেতারা সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন। সম্মেলনে প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিশেষ অতিথি থাকবেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
উল্লেখ্য, সকাল ১০টায় পবিত্র কোরআন তেলওয়াত ও গীতাপাঠের মধ্যদিয়ে প্রথম পর্বে সম্মেলন শুরু হবে। তারপর জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, আতিথিবৃন্দের আসন গ্রহন, জাতীয় ও দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন, উদ্বোধনী বক্তব্য, বিশেষ অতিথির বক্তব্য, প্রধান বক্তার বক্তব্য, প্রধান অতিথির বক্তব্য ও প্রথম অধিবেশনে সভাপতির সমাপনি বক্তব্যে মধ্যে দিয়ে প্রখম অধিবেশন শেষ হবে। বিকাল সাড়ে তিনটায় দ্বিতীয় অধিবেশন কাউন্সিল খুলনা জেলা স্টেডিয়ামের জিমনেশিয়াম ভবনে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরো জানান, এদিকে কাউন্সিল চলবে এবং সার্কিটহাউজের সম্মেলনস্থলে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলবে।











































