কেশবপুর প্রতিনিধি
কেশবপুর উপজেলায় মাদক বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে, বিশেষ করে উঠতি বয়সী তরুণ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে। এতে অভিভাবক মহল ও সচেতন সমাজ গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
কেশবপুর পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে মাদকের ভয়াবহতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ফ্যাসিস্ট সরকারের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা মাদকের সাথে গভীরভাবে জড়িত ছিল। এই জন্য কেশবপুরে মাদকের বিস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে প্রশাসনের উদ্যোগ মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অতি সামান্য। কেশবপুরের হাবাসপোল গ্রামে মাদক সেবী এক মায়ের কান্না জড়িত কণ্ঠে দৈনিট খুলনাঞ্চল পত্রিকার প্রতিনিধিকে জানায়, তাহার মাদক আসক্ত ছেলে টাকার জন্য উনাকে এবং উনার মেয়েকে প্রচন্ড মারধর করে এবং বাড়ি থেকে মাঝে মাঝে বের করে দেয় ছেলের বাবা অনেক আগেই মৃত্যুবরণ করেছেন। এছাড়া ঘরের প্রেসার কুকার, কারি কুকার, রাইস কুকার, হাড়ি, পাতিল সব বিক্রি করে মাদক সেবন করেছে । কিছু বলতে গেলে আমাকে জবাই করে দেবে বলে হুমকি দেয় আমার ছেলে।
ভুক্তভোগীর মা আরো বলেন ,এই সকল পুরানো জিনিস পত্র গুলি যাদের কাছে বিক্রি করছে তারা মাদক বিক্রি করে চলছে প্রতিনিয়ত। পুরাতন হাড়ি, পাতিল লোহালক্কর কেশবপুরে কারা কেনে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ছেলেকে দেয়ার কথা বললে তিনি বলেন, আমরা গরীব মানুষ এত টাকা কোথায় পাবো” তারপর দুইবার পুলিশে দিয়েছি কিন্তু কোন ফলাফল হয়নি।
যশোরের মাদক নিরাময় কেন্দ্র আহসানিয়া মিশনের সাথে যোগাযোগ করলে তারা বলেন মাদক আসক্ত ছেলে কে আমাদের এখানে ছয় মাস রাখতে হবে যার খরচ এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা। এছাড়া ডাক্তার দেখানো খরচ বহন করতে হবে।
অন্যদিকে যশোরের মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র বন্ধনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব হাসানের সাথে কথা বলে জানা যায় উনার প্রতিষ্ঠানে মাদকাসক্ত একটি ছেলেকে তিন মাস রাখতে খরচ হবে ৫০ হাজার টাকা।
কেশবপুরে হাসপাতাল রোডে মাদকের প্রচলনটা খুব বেশি ঘটছে, প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করছে ফ্যাসিস্ট সরকারের দোষরের মতো। মাদক নিরাময় অভিযান কেশবপুরে হাতে গোনা ২ থেকে ৩ টা অভিযান পরিচালিত হয়েছে যা স্থানীয় জনসাধারণের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বর্তমানে কেশবপুরের প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা মাদক নিরাময়ের জন্য এগিয়ে না আসে তাহলে এই যুবসমাজ চিরতরে হারিয়ে যাবে যাহা এই জনপ্রতিনিধিকে প্রতিনিয়ত ভোগাবে।











































