Home আঞ্চলিক সারা খুলনা অঞ্চল ও আশপাশের সব খবরা খবর

সারা খুলনা অঞ্চল ও আশপাশের সব খবরা খবর

75
জালে ধরা পড়া মাছ বিক্রির জন্য আসামবস্তি সেতু এলাকায় এসেছেন জেলে। আসামবস্তি সেতু, রাঙামাটি


কয়রায় ইউপি সদস্যকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ
কয়রা(খুলনা)প্রতিনিধি :
খুলনার কয়রায় মহারাজপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সদস্য মাছুম বিল্লাহ মিন্টুকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫ টায় উপজেলার মহারাজপুর বড়ব্রীজ মোড়ে মানববন্ধনের মাধ্যমে এ অভিযোগ করেন।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন মহারাজপুর ইউনিয়নের সদস্য নুরুল ইসলাম,আবু সাইদ, সীমা রানি বালা।
মানববন্ধনে এলাকাবাসী বলেন,গত ২৬ আগস্ট রাত ৯ টার দিকে স্হানীয় বাসিন্দা করিম মোল্যা গং ও আব্দুর রহমান গং গাজীদের মধ্য জমিজমা নিয়ে মারাপিটের ঘটনা ঘটে।ওই সময় স্হানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে মারপিট ঠেকাতে জান মাছুম বিল্লাহ মিন্টু। মারপিট টেকাতে যাওয়ায় খুব্দ হয়ে মাছুম বিল্লাহ মিন্টুকে আসামী করে কয়রা আদালতে বাদী হয়ে মামলা করেছন আব্দুর রহমন গংয়ের আবুল কালাম গাজী।যেটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

সিমানা পিলার ব্যবস্যায়ী নির্মলের বিরুদ্ধে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে ১১ ব্যক্তির অভিযোগ
পাইকগাছা(খুলনা) প্রতিনিধি:
পাইকগাছায় আলোচিত নির্মল দাসের বিরুদ্ধে থানা সহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে এলাকাবাসীর অভিযোগ। সে সিমানা পিলার ব্যবস্যা, চাঁদাদাবি, দখলবাজি, মারপিট, হুমকি সহ নানা অভিযোগে নির্মলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইতোমধ্যে ১১ব্যক্তি জেলা প্রশাসক,থানাসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ কারীরা হলেন,গদাইপুর ইউপি সদস্য মশিয়ার রহমান মিলন, হাফিজুর রহমান, সুভাষ দাস, ডেভিট সরকার,খুকুমণি, শুশান্ত দাস, প্রনব দাস সহ অনেকে।

অভিযোগে জানাগেছে, গদাইপুর ইউপির গোপালপুরের রঞ্জন দাসের ছেলে আলোচিত নির্মল দাস দীর্ঘদিন ধরে পিনের ব্যবসা,চাঁদাবাজি, দখলবাজি,হুমকি ও মারপিট করে বহু মানুষের ক্ষতি করেছেন। এসব অপরাধ ও মামলার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে নির্মল দাস গ্রেফতার হয়ে জেলও খেটেছেন। এর পরেও সে বীরদর্পে এলাকায় নানা অপরাধ করে বেড়াচ্ছেন।

ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে হাফিজুর রহমান জানান, আমি গোপালপুরের বিষ্টু ও হরমোন দাসের সুপারী বাগান ডিড নিয়েও নির্মল দাসের কারনে ব্যবসা করতে পারেনি। নির্মলের দাবিকৃত ২০ হাজার টাকা দিতে না পেরে বাগান অন্যের কাছে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছি।

স্থানীয় সুভাষ দাস ও প্রনব দাস অভিযোগ করেন, নির্মলের অত্যাচারে আমরা নানা ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ। এজন্য তার বিচারের দাবিতে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছি।

এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে নির্মল দাস বলেন, তারা যে অভিযোগ করেছে সেটি মিথ্যা। উল্টো গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর আমার বাড়ি ভাংচুর করেছে।

ওসি মোঃ ওবাইদুর রহমান বলেন, নির্মলের বিরুদ্ধে থানায় একটি অভিযোগ হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

যশোরের আলোচিত সন্ত্রাসী ফিঙে লিটনের আত্মসমর্পণ, কারাগারে প্রেরণ
যশোর অফিস।।
দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থানকারী যশোরের আলোচিত সন্ত্রাসী আনিসুর রহমান লিটন ওরফে ফিঙে লিটনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে যশোরের আদালত। বুধবার দুপুরে গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ফারজানা ইয়াসমিনের আদালতে অস্ত্র মামলায় আত্মসমর্পণ করলে বিচারক জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কোর্ট ইন্সপেক্টর রোকসানা পারভীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ফিঙে লিটন যশোর শহরের মোল্লাপাড়ার বদর উদ্দিনের ছেলে।
যশোরের সব শ্রেণিপেশার মানুষ, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সবার কাছে আলোচিত নাম ‘ফিঙে লিটন’। অস্ত্র, হত্যা, চাঁদাবাজিসহ ২০/২২টি মামলা মাথায় নিয়ে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি দেশান্তরী। এসময়কালে ভারত, নেপাল, দুবাই, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও কাতার অবস্থান করেছেন। জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক হলেও গ্রহণ করেছেন নেপালি পাসপোর্ট। দেশান্তরী থেকেও যশোরে সর্বেসর্বা ছিলেন ফিঙে লিটন। যশোরে দুই দশকের অঘোষিত এই সম্রাটের সব অপকীর্তি ওপেন সিক্রেট হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাছে তার কর্মকাণ্ড নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।
বিদেশে থাকলেও দেশে ব্যবসা বাণিজ্য প্রসারের পাশাপাশি স্ত্রী ফাতেমা আনোয়ারকে রাজনীতিতে সক্রিয় করেন। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ঘোড়া প্রতীকে প্রতিদ্বন্দিতা করে সাড়া ফেলেন। গত ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে ফেরেন ফিঙে লিটন। বুধবার চরম গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে ১৯৯৯ সালের ১৩ জুন দায়ের করা অস্ত্র মামলায় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফারজানা ইয়াসমিনের আদালতে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলাল হোছাইন জানান, বিচারকের আদেশ প্রাপ্তির পর ফিঙে লিটনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের সিডিআর মতে তার বিরুদ্ধে একটি অস্ত্র মামলা রয়েছে। অন্যান্য যেসব মামলার কথা শোনা যায় সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকায় তার বিরুদ্ধে অন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না।

চুয়াডাঙ্গায় সাবেক এমপি টগরের অস্ত্র ছাড়া সব জমা
দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধিঃ
চুয়াডাঙ্গায় সরকার ঘোষিত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সাবেক এমপি টগর বাদে সবার অস্ত্র জমা পড়েছে।জেলায় বৈধ ৮০ টি অস্ত্রের মধ্যে ৭৯টিই জমা পড়েছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলায় গত ১৬ বছরে বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ইস্যু করা হয়েছিল ৮০টি। এর মধ্যে একটি ছাড়া জমা পড়েছে ৭৯টি অস্ত্র। মঙ্গলবার অস্ত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন পর এ তথ্য সংশ্লিষ্ঠ বিভাগ হতে জানা গেছে। সবাই আগ্নেয়াস্ত্র জমা দিলেও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলী আজগার টগরের নামে ইস্যুকৃত একটি শটগান জমা পড়েনি।চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন ও পুলিশের বিশেষ শাখা সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলায় ব্যক্তি পর্যায়ে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্সধারী রয়েছেন ৬৮ জন। এর মধ্যে অস্ত্র ক্রয় করেছেন ৬৪ জন। এছাড়া, সামরিক পর্যায়ে ২০ জনের অস্ত্রের লাইসেন্স আছে। এর মধ্যে অস্ত্র কিনেছেন ১৬ জন। গত ১৬ বছরের মধ্যে মোট অস্ত্রধারী ছিলেন ৮০ জন। তাদের মধ্যে দেশের বিভিন্ন থানায় অস্ত্র জমা দিয়েছেন ৭৯ জন। বাকি একজন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলী আজগার টগরের নামে লাইসেন্সকৃত একটি শটগান কোথাও জমা দেওয়া হয়নি।
দর্শনা থানার ওসি বিপ্লব কুমার সাহা জানান, গত ৫ আগস্ট বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলী আজগার টগরের বাড়ি হামলা চালায়। এসময় বাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা। এই মর্মে দর্শনা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে সাবেক এমপির লাইসেন্সকৃত একটি শটগান ও কয়েক রাউন্ড গুলি লুট হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (জুডিশিয়াল মুন্সিখানা শাখা) নাঈমা জাহান সুমাইয়া জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী মঙ্গলবার বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল। এসময়ের মধ্যে যারা নিজ নিজ লাইসেন্সকৃত অস্ত্র জমা দিয়েছেন তাদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।জমা না হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে বুধবার রাত থেকেই অভিযানে নেমেছে যৌথবাহিনী।

তিন মাসের নিষেধাজ্ঞার পরেও যে কারণে পর্যটক নেই সুন্দরবনে
বাজুয়া (দাকোপ) প্রতিনিধিঃ-
দীর্ঘ তিন মাস বন্ধ থাকার পর পর্যটক ও জেলে-বাওয়ালীদের জন্য রবিবার (১ সেপ্টেম্বর) উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে সুন্দরবন। তবে রবিবার, সোমবার, মঙ্গলবার ও বুধবার এই চারদিনে সুন্দরবন ভ্রমণে তেমন পর্যটক আসেনি এই বনে। কারণ হিসেবে বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, এখন পর্যটক মৌসুম নয়, তাই পর্যটক আসছেন না। পূর্ব সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন ও পর্যটন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাওলাদার আজাদ কবির বলেন, ‘তিন মাস বন্ধ থাকার পর পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলেও তেমন পর্যটক না আসার কারণ হচ্ছে, এখন পর্যটক মৌসুম না। এরপর এখন নদী উত্তাল এবং বর্ষা মৌসুম। আগামী নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত এই পাঁচ মাস হচ্ছে পর্যটক মৌসুম। এই মৌসুমে পর্যটকদের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয়। এখন এক নতুন রূপে সুন্দরবনের প্রাণ-প্রকৃতি তিনি আরও বলেন, ‘সুন্দরবন উন্মুক্ত করা হলেও প্রথম তিন দিনে ২০০ পর্যটক এসেছেন। এ সময়ে জনপ্রতি ৪৬ টাকা হারে ৯ হাজার ২০০ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। এ সময়ে যেসব পর্যটক এসেছেন তারা সুন্দরভাবে সুন্দরবন উপভোগ করছেন, তারা অনেক খুশি। খুলনা থেকে আসা সোহাগ নামে এক পর্যটক বলেন,তিন মাস বন্ধ থাকার পর সুন্দরবনে ঘুরতে আসলাম। অনেক পশু-পাখি এবং নানা রকম গাছপালা দেখলাম। অনেক আনন্দময় সময় উপভোগ করেছি। চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলা থেকে আসা আশরাফ নামে আরেক পর্যটক বলেন, ‘অনেকদিন পর পরিবার নিয়ে সুন্দরবন দেখতে আসলাম। সুন্দরবন যে এত সুন্দর চোখ দিয়ে বাস্তবে না দেখলে জানতাম না। অনেক উপভোগ করছি। উল্লেখ্য, ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট এই তিন মাস মূলত বনের গাছপালা, বন্যপ্রাণী-পশুপাখি ও মাছের প্রজনন মৌসুম। এ জন্য এই সময়টাতে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে বন বিভাগ। প্রজনন মৌসুম নির্বিঘ্ন হওয়ায় এক নতুন রূপে এখন সুন্দরবনের প্রাণ-প্রকৃতি।বন বিভাগ জানায়, সুন্দরবনের ৩১৯ প্রজাতির মাছ, ৩৩৪ প্রজাতির গাছপালা এবং ১০৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণী-পশুপাখির বেশির ভাগেরই প্রজননকাল ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট। এই সময়ে বনের গাছপালার বীজ থেকে চারা গজায়, এতে গাছের সংখ্যা বেড়ে থাকে। আর প্রজননের ফলে কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায় প্রাণিজ ও জলজ সম্পদ।

আজ থেকে খোলা থাকবে সব পোশাক কারখানা: বিজিএমইএ সভাপতি
ঢাকা অফিস
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়ায় আজ বৃহস্পতিবার থেকে দেশের সব পোশাক কারখানা খোলা থাকবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলাম।

বুধবার চলমান শ্রম পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, আজকে শতাধিক পোশাক কারখানা বন্ধ ছিল। কিছু জায়গা হামলা হয়েছে। যেসব কারখানা আজকে বন্ধ ছিল কাল থেকে তা চালু হবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী বিজিএমইএকে পোশাক কারখানায় নিরাপত্তা রক্ষার ব্যাপারে নিশ্চিত করেছে তাই বৃহস্পতিবার থেকে দেশের সব পোশাক কারখানা খোলা থাকবে বলেও জানান খন্দকার রফিকুল ইসলাম।

পোশাক কারখানায় যারা ঝামেলা করছেন তারা বহিরাগত জানিয়ে তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ সমস্যা খুবই কম। বহিরাগত কারা হামলা চালাচ্ছে তাদের চেনে না বিজিএমইএ। এদের খুঁজে বের করার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। মাসের শুরুতে কারখানায় ঝামেলা হলেও বেতন দিতে দেরি হবে না।

এর আগে বুধবার চাকরি এবং নিয়োগে নারী-পুরুষের সমান অধিকারসহ বিভিন্ন দাবিতে গাজীপুরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন পোশাক শ্রমিকরা। এদিন দুপুরে শ্রমিক বিক্ষোভের জেরে গাজীপুর, সাভার এবং আশুলিয়ায় শতাধিক পোশাক কারাখানায় ছুটি ঘোষণা করে মালিক পক্ষ।

‘বিচারপতি সিনহাকে ক্যান্সার রোগী বানিয়ে বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল’
ঢাকা অফিস
সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে ক্যান্সার রোগী বানিয়ে জোর করে বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি বলেছেন, ব্যাংককে জোর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করে নেওয়া হয় সিনহা থেকে। এজন্য বিচার বিভাগে আতংক সৃষ্টি করছিল, যাতে কেউ সরকারের অনিয়মের বিরুদ্ধে কোনো আদেশ বা রায় না দেয়।

বুধবার দুপুরে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে খোকন এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, গত ১৬ বছরে দুদক কিছু দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। এখন অনেক দুর্নীতিবাজদের দুর্নীতির কথা মিডিয়ায় আসছে। গত ১৬ বছরে দুদক আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেনি। এটা এখন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হয়ে গেছে। দুদকের কৌঁসুলিরা এর সহযোগী। খুরশীদ আলম খান এখনও দুদকে রয়ে গেছেন৷ উনি খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার বিরোধিতা করেছেন। ওই আইনজীবীকে পদত্যাগ করতে হবে।

গত সরকারের আমলে অসংখ্য বিরোধী নেতাকর্মীদের ক্রসফায়ারে দেওয়া হয়েছে উল্লেখ তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার গণ অভ্যুত্থানে কত লোক মারা গেছে, তার সংখ্যা এখনো নিরূপণ করা হয়নি। অন্তর্র্বতী সরকারকে দ্রুত এই সংখ্যা প্রকাশ করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, সাবেক আইনমন্ত্রী কোন কোন বিচারককে ফোন করে রায় ঘোষণায় প্রভাব বিস্তার করেছিলেন তার ফোন রেকর্ড প্রকাশ করা উচিত। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির রিপোর্ট এখনো প্রকাশ করা হয়নি। দেশের টাকা কারা চুরি করল, সেটা জনগণের জানা জরুরি।

পদত্যাগে প্রস্তুত ইসি সদস্যরা, আসছেন সাংবাদিকদের সামনে
ঢাকা অফিস
পদত্যাগের আলোচনার মধ্যে সাংবাদিকদের সামনে আসছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালসহ অন্যান্য নির্বাচন কমিশনাররা। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করবেন তাঁরা। বুধবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সিইসি।

নির্বাচন কমিশনের পরিচালক (জনসংযোগ) শরিফুল আলমের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে (কক্ষ নম্বর ৫২০) নির্বাচন কমিশন সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করবেন।

পদত্যাগ করবেন কিনা সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেছেন, ‘কাল বৃহস্পতিবার বিস্তারিত জানাব। সংবাদ সম্মেলনে সবকিছু জানানো হবে।

পদত্যাগের প্রস্তুতি: ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্র্বতীকালীন সরকার গঠিত হয়। এই সরকার নির্বাচন কমিশন সংস্কার উদ্যোগ নেয়। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগেরও দাবি ওঠে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের পদত্যাগ করতে হবে এমনটাই মনে করছেন নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা। তারা পদত্যাগের জন্য মানসিক প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছেন। তবে নিজেরা পদত্যাগ করবেন, নাকি এ নিয়ে সরকারের কোনো পরিকল্পনা আছে তা বোঝার চেষ্টায় ছিলেন। এ বিষয়ে পরামর্শের জন্য ইসি সদস্যরা রাষ্ট্রপতি ও অন্তর্র্বতী সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সফল হননি। এমন অবস্থায় সাংবাদিকদের সামনে আসছেন কাজী হাবিবুল আউয়াল নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সিইসির একান্ত সচিব মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে এ সৌজন্য বিনিময়ে পুরো কমিশন উপস্থিত থাকবেন। সেখানে সিইসি সব বিষয় তুলে ধরবেন।

গণমাধ্যমে তথ্য অনুসারে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর যেকোনো একদিন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করেছিল বর্তমান কমিশন। তবে তা আর হয়ে উঠেনি।বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ২৩ আগস্ট দৈনিক সমকালের মতামত বিভাগে ‘বিপ্লব ও ফরমান: সরকার ও সংবিধান’ শীর্ষক একটি নিবন্ধ লিখেছিলেন সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল। সেই লেখার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি জানিয়েছেন, তিনি আলোচনার জন্য কাউকে পাচ্ছেন না। তাই নির্বাচন কমিশন যে ‘সাংবিধানিক সংকটে’ পড়েছে, সেটা পত্রিকায় লিখে জনগণকে অবহিত করাই সমীচীন মনে করছেন।

ওই নিবন্ধে সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল লেখেন, ‘নির্বাচন কমিশন সংবিধান ও সফল বিপ্লবোত্তর সাংবিধানিক পরিস্থিতিতে সংকটে রয়েছে। নির্বাচন কমিশন হয়তো অচিরেই বিগত হবে। কিন্তু এতে সংকটের নিরসন হবে না। সংসদ অসাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বাস্তবতার নিরিখে ভেঙে দিতে হয়েছে। সফল বিপ্লবের ডি ফ্যাক্টো (বাস্তবানুগ) গ্রামারে এটি অবশ্যই সিদ্ধ।’

তিনি লেখেন, ‘সংবিধান যদি বহাল থাকে তাহলে নির্বাচন কমিশনকে সংবিধানের ১২৩(৩)(খ) অনুচ্ছেদের বিধানমতে তৎপরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে হবে। যদি না করেন, তাহলে সে ক্ষেত্রে ৭খ অনুচ্ছেদের বিধানমতে কমিশনাররা মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ করে থাকবেন। সংবিধানকে পুরোপুরি অক্ষুণ্ন রেখে বিপ্লব তথা বিপ্লবের উদ্দেশ্যকে এগিয়ে নেওয়া ও বাস্তবায়ন করা যায় না।’

২০২২ সালে ইসি গঠনে আইন প্রণয়নের পর সেই আইনের অধীনে প্রথম নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব নেন কাজী হাবিবুল আউয়ালসহ পাঁচজন। ওই বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি সিইসি হিসেবে নিয়োগ পান সাবেক এ আমলা। এই কমিশনের অপর চার সদস্য হলেন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহসান হাবিব খান, অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ রাশেদা সুলতানা, অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর ও আনিছুর রহমান।

ইসি সচিবালয়ের সামনে বিক্ষোভ, ৫ দাবি: ‘১৭ বছর ধরে ভোটাধিকার বঞ্চিত নাগরিক সমাজ’ ব্যানারে নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগসহ নির্বাচন কমিশন সংস্কারের দাবিতে ইসি সচিবালয়ের সামনে বিক্ষোভ হয়েছে বুধবার বেলা ১১টার দিকে। বিক্ষোভে নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগের পাশাপাশি সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম নুরুল হুদা ও রকিব উদ্দিন আহমেদের বিচার দাবি করা হয়। ইসি সংস্কারে পাঁচটি দাবি তুলে ধরা হয়ছে। দাবিগুলো হলো- নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ, ২০১৮ সালের কেএম নূরুল হুদা কমিশনের বিচার, ২০১৪ সালের কাজী রকিব কমিশনের বিচার, বিগত সরকারের ‘দালাল’ কর্মকর্তাদের অপসারণ এবং দক্ষ, যোগ্য ও সৎ কর্মকর্তাদের পদায়ন।

টাকার সংকটে থাকা দুর্বল ব্যাংকগুলোর বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত জানালেন গভর্নর
ঢাকা অফিস
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, নতুন করে টাকা ছাপিয়ে আর কোনো দুর্বল ও সমস্যাযুক্ত ব্যাংককে তারল্য সহায়তা দেওয়া হবে না। তবে আন্তঃব্যাংকের মাধ্যমে সমস্যায় থাকা ব্যাংকগুলোকে তারল্য সহায়তা দেওয়া হবে এবং সেখানে গ্যারান্টার হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করবে।

বুধবার বিকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ব্যাংকার্স মিটিং’ শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

দেশের সাত-আটটি ব্যাংকের কারণে সব ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে না উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, দেশ থেকে আটটি ব্যাংকের মাধ্যমে প্রচুর টাকা পাচার হয়েছে। এতে এসব ব্যাংকের তারল্য সংকট দেখা দিয়েছে। আমরা সীমিত পরিসরে তারল্য সাপোর্ট দিতে চাই। সরকার আমানতকারীদের কথা ভেবে তাদের পাশে দাঁড়াবে। তবে তারল্য সংকট কাটাতে পুরো সাপোর্ট দিতে হলে দুই লাখ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। এতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে বহুগুণ।

ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, আমরা কিছু সীমিত তারল্য সাপোর্ট দিতে চাই ব্যাংকগুলোকে। এটা আন্তঃব্যাংকের মাধ্যমে দেওয়া হবে, যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংক গ্যারান্টার হিসেবে কাজ করবে। এসব ব্যাংকে সমস্যা বহুদিন ধরে ছিল, আমানতকারীরাও জানতো। আমরা আমানতকারীদের স্বার্থটা দেখব, যেন তারা অর্থ ফিরে পান।

আমানতকারীদের উদ্দেশে গভর্নর বলেন, আমরা আমানতকারীদের অনুরোধ করব- আপনারা একসঙ্গে টাকা উত্তোলন করবেন না। আপনাদের প্রয়োজন মতো টাকা উত্তোলন করুন। আমাদের কিছুটা সময় দিন। আশা করি ব্যাংকগুলো ঘুরে দাঁড়াবে।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদদের তালিকা হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম
ঢাকা অফিস
তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের দেশ মনে রাখবে। নাম না জানা অনেক ছাত্র-জনতা এ আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন। তাদের তালিকা করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত ৮০০ জনের নাম পাওয়া গেছে।

বুধবার রাজধানীর মিরপুরের পাইকপাড়ায় ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নিহত কলেজশিক্ষার্থী আহনাফের বাসায় যান তথ্য উপদেষ্টা। সেখানে আহনাফের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশের দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানে ছাত্ররা যেভাবে রাস্তায় নেমে এসেছিল, তাদের আত্মত্যাগের ফলে আজ আমরা নতুন স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি।’

খুব শিগগির সব শহীদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একটি স্মরণসভা করা হবে জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, সেই স্মরণসভায় আপনাদের উপস্থিতি কাম্য।

‘শহীদদের জন্যই আমরা বেঁচে আছি। স্বাধীনভাবে প্রাণ খুলে কথা বলতে পারছি’, যোগ করেন তিনি।

তথ্য উপদেষ্টা আহনাফের ছোট ভাইয়ের পড়াশোনার খোঁজখবর নেন এবং এখন থেকে যেকোনো সময়, যেকোনো প্রয়োজনে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন।

এসময় বাসায় আহনাফের মা, বাবা, দুই ভাই ও খালা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, শহীদ শফিক উদ্দিন আহমেদ আহনাফ (১৭) রাজধানীর বিএএফ শাহীন কলেজের একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত ৪ আগস্ট মিরপুর-১০ এ পুলিশের গুলিতে নিহত হন তিনি।

দিলীপ কুমার আগরওয়ালা ৩ দিনের রিমান্ডে
ঢাকা অফিস
রাজধানীর বাড্ডা থানায় করা হৃদয় আহম্মেদ (১৬) হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগরওয়ালার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত এ আদেশ দেন। এর আগে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে আদালতে হাজির করে বাড্ডার হৃদয় আহম্মেদ হত্যা মামলায় ১০ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে পুলিশ।

রিমান্ডের আবেদনে বলা হয়, গত ১৯ জুলাই দুপুরে বাড্ডা এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেয় কিশোর হৃদয় আহম্মেদ। তখন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ছত্রভঙ্গ করতে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয়। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় হৃদয়। এ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য এজাহারভুক্ত আসামি দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।

অন্যদিকে দিলীপ কুমার আগরওয়ালার আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত দিলীপ কুমারকে তিন দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেন।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে দিলীপ কুমারকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিন বিকেলে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এক বার্তায় জানায়, সোনা ও হীরা চোরাচালানের অভিযোগে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড এবং এর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট।

দিলীপ কুমার আগরওয়ালার বিরুদ্ধে বিদেশ থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে সোনা ও হীরা আমদানির নামে অর্থ পাচার, প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে।

দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির পায়তারা চলছে: নজরুল ইসলাম খান
ঢাকা অফিস
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, দেশে একটি অরাজকতা পরিবেশ ও বিশৃঙ্খলা তৈরির পায়তারা চলছে। এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

বুধবার বিকেলে নয়াপল্টনস্থ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শ্রমিক দলের এক যৌথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিপ্লব পরবর্তী সড়ক, শিল্পকারখানা, বন্দর, গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন সেক্টরে চাঁদাবাজি বন্ধ এবং শান্তি বজায় রক্ষার্থে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বিএনপির এ নেতা বলেন, বিএনপিতে যাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি এবং দখলবাজির অভিযোগ আসবে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। যারা এগুলোতে জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থাসহ আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

নজরুল ইসলাম বলেন, পতিত স্বৈরশাসকের পদত্যাগের দাবিতে দীর্ঘ ১৫ বছর আমরা আন্দোলন করে আসছে। এতে আমাদের লাখ লাখ নেতা কারাবরণ করেছেন। গুম খুন হয়েছে অজস্র নেতা-কর্মী, অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমরা সরকার পতনের এক দফা দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা করেছে পলায়ন। তিনি বলেন, দেশকে চাঁদাবাজ ও দখলমুক্ত করতে আমরা জনগণের কাছে ওয়াদাবদ্ধ। যেকোনো কিছুর বিনিময়ে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। এতদিন জনগণের ওপর অত্যাচার চালিয়ে ক্ষান্ত হয়নি পতিত সরকার। এখন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী এবং শ্রমিক দলের সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে দেশে যে পরিবর্তন হয়েছে অতি বিপ্লবের করে সে অর্জন যাতে নষ্ট না হয়ে যায় সেদিকে নজর রাখতে হবে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে শ্রমিক সমাজকে। দেশের সাধারণ মানুষ শ্রমিকেরই সন্তান। প্রতিটি কল-কারখানা, গার্মেন্টস, পরিবহনখাতসহ সব সেক্টরকে চাঁদাবাজ ও দখলমুক্ত করতে শ্রমিকদের মুখ্য ভূমিকা রাখতে হবে।

শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, শ্রমিক নেতা এম নাজিম উদ্দীন, হুমায়ুন কবির খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের আহ্বায়ক সুমন ভূইয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অপরাধীদের ক্ষমা নয় বিচার করতে হবে: রিজভী
ঢাকা অফিস
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনার নির্দেশে যাদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, সেই হত্যাকারীদের ক্ষমা করলে নিহতদের আত্মার সঙ্গে বেইমানি করা হবে। ট্রাইব্যুনাল করে প্রতিটি হত্যা ও অপরাধের বিচার করতে হবে।

বুধবার শাহবাগে পিজি হাসপাতালের পাশে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহত গোলাম রাব্বানীর বাবার হাতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে অনুদান তুলে দেওয়ার পর সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

একটি রাজনৈতিক দলের প্রতি ইঙ্গিত করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, তারা বলছেন- আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। গণহত্যাকারীদের কিসের ক্ষমা করতে বলছেন তারা। যদি শেখ হাসিনাসহ অপরাধীদের বিচার না করা হয় তাহলে বাংলাদেশ কবরস্থানে পরিণত হবে।

তিনি বলেন, আমি আগেও বলেছি- নিরপরাধ কেউ যেন মামলার শিকার না হয়। কিন্তু যারা অপরাধী তাদের ক্ষমা করা যাবে না।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে রিজভী বলেন, আপনারা কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তাদের কাজ করতে দিন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন।

এ সময় বিএনপির সহ-স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম, চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, ডা. মনোয়ারুল কাদির বিটু, ডা. জাহিদুল কবির, মেহেবুব মাসুম শান্ত, আরিফুর রহমান তুষার উপস্থিত ছিলেন।

নাইজেরিয়ায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত অন্তত ৮১
অনলাইন ডেস্ক

নাইজেরিয়ার উত্তর–পূর্ব ইউবে অঞ্চলে এক সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ৮১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে। দেশটির জঙ্গি সংগঠন বোকো হারামের সদস্যরা এ হামলায় জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। খবর এএফপির।

ইউবে অঞ্চলের পুলিশের মুখপাত্র আবদুল করিম দাঙ্গুস বলেন, রাইফেল, আরপিজিসহ (রকেটচালিত গ্রেনেড) বিভিন্ন অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সন্দেহভাজন প্রায় দেড়শো বোকো হারাম সদস্য ৫০টির বেশ মোটরসাইকেলে করে হামলা চালান। মাফা নামের একটি গ্রামে গত রোববার এ হামলা হয়।

স্থানীয় কর্মকর্তা বালুমা জালালুদ্দিন বলেন, হামলায় অন্তত ৮১ জন নিহত হয়েছেন। মরদেহ উদ্ধারে সেনাসদস্যরা মাফায় পৌঁছানোর আগেই ১৫ জনকে দাফন করা হয়। হামলায় নিখোঁজ আছেন অনেকে।


কলা খেলে কী ঘুম ভালো হয়?
মিলি রহমান
অনেকে রাতে ঘুমাতে পারেন না। রাতের বেশিরভাগ সময় এপাশ ওপাশ করেই কাটিয়ে দেন। আর এই কারণেই তাঁদের শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। শক্তির ঘাটতি দেখা দেয়। কোনো কাজেও মন বসে না। যারা প্রতিনিয়ত অনিদ্রার সমস্যায় ভোগেন তাঁরা ঘুমানোর আগে কলা খেতে পারেন। কেননা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন কলা খেলে ঘুম ভালো হয়।
কলায় ভিটামিন বি৬, ভিটামিন সি, ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন সি, ভিটামিন এ আছে। আর এসব উপাদান শরীর ভালো রাখতে সহায়তা করে। শুধু তাই নয়, এই ফলে ফাইবারও রয়েছে। আর এ কারণে কলা খেলে পেট সুস্থ থাকে। কলায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট একাধিক জটিল অসুখ সারাতেও কাজ করে। তাই ডায়েটে কলা থাকা উচিত।
ভারতীয় চিকিৎসক কোয়েল পাল চৌধুরী জানান, কলায় থাকা বিভিন্ন উপাদান শরীরকে রিল্যাক্স করতে সাহায্য করে। আর তাই কলা খেলে দ্রুত ঘুম আসে। কলা খেলে শরীরে সেরোটোনিন হরমোনের ক্ষরণ বাড়ে। তাতেও অনিদ্রা দূর হয়।

যাঁরা রাতে কলা খাবেন না:
অনেকেরই রাতে ফল খেলে সহ্য হয় না। তাঁদের গ্যাস, অ্যাসিডিটির মতো সমস্যা দেখা দেয়। আপনার এমন কোনো সমস্যা থাকলে রাতের বেলা কলা খাবেন না।

দিনে কয়টি কলা খাওয়া যায়:
একজন সুস্থ-সবল মানুষ দিনে ১ থেকে ২টি কলা খেতেই পারেন। তাতে উপকার পাবেন। তবে ডায়াবেটিস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে এই ফল খেতে হবে। একইভাবে অত্যধিক পটাশিয়াম থাকায় কিডনি রোগীদেরও এই ফল ভেবে চিন্তে খেতে হবে।


১৫ বছরের কিশোরের হেনস্থার শিকার উরফি!
বিনোদন ডেস্ক
উরফি জাভেদ। আজব-অদ্ভুত সব পোশাক পরে বেশির ভাগ সময়ই মানুষের বিরক্তি আর হাসির খোরাকে পরিণত হন তিনি। তবে এগুলোকে তোয়াক্কা না করে নিজের মতই চলেন উরফি। সম্প্রতি পরিবারসহ রেস্তরাঁয় খেতে গিয়ে ১৫ বছরের কিশোরের কাছে তিনি হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, মা জাকিয়া সুলতানা, বোন উরুসা, আসফি, ডলি এবং ভাই সমীর আসলামের সঙ্গে মুম্বাইয়ের এক রেস্তরাঁয় খেতে গিয়েছিলেন উরফি। তাদের দেখে ছবি তোলার জন্য রেস্তরাঁয় ভিড় করছিলো অনেকেই। ঠিক তখনই তাদের সামনে দিয়ে একদল কিশোর যাচ্ছিল। তাদের মধ্যে একজন উরফিকে দেখে প্রশ্ন করে, ‘কত জনের সঙ্গে সহবাস করেছ?’ প্রশ্ন শুনেই চটে যান উরফি।

সেদিনের অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উরফি বলেন, ‘গতকাল আমার ও আমার পরিবারের সঙ্গে খুবই অস্বস্তিকর একটা ঘটনা ঘটে। আমি যখন ছবি তুলছি, পাশ দিয়ে একদল ছেলে যাচ্ছিল। তাদের মধ্যে একটা ছেলে সকলের সামনে আমাকে প্রশ্ন করে, ‘কত জনের সঙ্গে সহবাস করেছ?’ ছেলেটার বয়স ১৫-র কাছাকাছি। আমার মা ও গোটা পরিবারের সামনে ছেলেই এই প্রশ্ন করে।’

অভিযোগ করে তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমার মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে অস্বস্তি হচ্ছে। কিন্তু সবার সামনেই ওই ছেলেটার মুখে একটা ঘুষি মারতে ইচ্ছে করছিল। ছেলেদের শিক্ষা দিন, কীভাবে নারীদের সম্মান করতে হয়। এই ছেলেদের বাবা-মায়েদের জন্য আমার কষ্ট হয়।’

ওটিটি প্ল্যাটফর্মে উরফির জীবন কাহিনিকে কেন্দ্র করে একটি সিরিজও মুক্তি পেয়েছে। ‘ফলো কর লো ইয়ার’ নামে এই সিরিজের প্রচার নিয়ে এই মুহূর্তে ব্যস্ত তিনি।


খুলনা মেডিকেল: ৪১ চিকিৎসককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, সেবা না পেয়ে রোগীদের দুর্ভোগ
স্টাফ রিপোর্টার
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক, আরএমওসহ ৪১ চিকিৎসককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা ও কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এ কারণে বুধবার নিরাপত্তা ঝুঁকিতে হাসপাতালে আসেননি এসব চিকিৎসক। চিকিৎসক সংকটে বন্ধ হয়ে পড়ে হাসপাতালের বহির্বিভাগের অধিকাংশ সেবা। মঙ্গলবার কার্ডিওলজি বিভাগের চিকিৎসক মোস্তফা কামালের নেতৃত্বে মেডিকেল কলেজের একদল শিক্ষার্থী তাঁদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন যার মধ্যে রয়েছেন ১৭ জন বহির্বিভাগের চিকিৎসক।

চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীরা। বিশেষ করে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ভোগান্তি ছিল সবচেয়ে বেশি। চিকিৎসককে না পেয়ে অনেক রোগী দূরদূরান্ত থেকে এসে ফিরে গেছেন।

হাসপাতাল সূত্র বলছে, মঙ্গলবার খুলনা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের একটি অংশ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক ডা. আক্তারুজ্জামানকে পদত্যাগে বাধ্য করেন। এ সময় আরও ৪১ জন চিকিৎসককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব দেন কার্ডিওলোজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোস্তফা কামাল।

সাদিয়া সারমিন এক রোগী বলেন, হাসপাতালে সকালে এসেছি। কিন্তু চিকিৎসা পাইনি।

রোগীর সিরিয়াল দেখভালের দায়িত্বে থাকা একজন জানান, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে কোনো চিকিৎসক হাসপাতালে আসেননি।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সুমন রায় বলেন, মঙ্গলবার ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে তাদের দাবির বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছিল। এ সময় ডাক্তার মোস্তফা কামালের নেতৃত্বে কিছু শিক্ষার্থী এসে আমাদের ঘিরে রাখে। তারা উপপরিচালককে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেন। আমাদের প্রায় ৫১ জন চিকিৎসককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। এতে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি।

ইসলামী আন্দোলনে যোগ দিলেন ধীর কৃষ্ণ
স্টাফ রিপোর্টার
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে যোগ দিয়েছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী গ্রাম্য চিকিৎসক ধীর কৃষ্ণ রায়। সোমবার তিনি সদস্য ফরম পূরণ করে এই দলে যোগ দেন। তিনি খুলনার দাকোপ উপজেলার চালনা পৌরসভার খলিশা এলাকার বাসিন্দা। অনেকেই এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ছবি দিয়ে পোস্ট দিয়েছেন।

ইসলামী আন্দোলনের দাকোপ উপজেলা সাধারণ সম্পাদক ও জেলা কমিটির সংখ্যালঘু বিষয়ক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম জানান, ধীর কৃষ্ণ রায় নিজেই আগ্রহী হয়ে তাদের দলে যোগ দিয়েছেন। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যে কোনো ধর্মের লোক এই দল করতে পারবে।

এ ব্যাপারে ধীর কৃষ্ণ রায় জানান, দলে যোগদানের জন্য কেউ তাকে চাপ প্রয়োগ করেনি। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তার কোনো ভয় বা আতঙ্ক নেই। তিনি বিভিন্ন সময় শফিকুল ইসলামের কথাবার্তা শুনেছেন। তার কথা শুনে ভালো লেগেছে, সে কারণে তিনি ইসলামী আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন।

কেনাকাটায় বাবা-ছেলের অনিয়ম
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
বিদ্যালয়ের শিক্ষক কার্যালয়ের দরজার পাশের দেয়ালে কালো রঙের বায়োমেট্রিক হাজিরা যন্ত্র স্থাপন করা। তাতে ধুলো-বালি জমে মাকড়সা বাসা বেঁধেছে। সব অচল অবস্থায় পড়ে আছে। সার্ভার যন্ত্র রাখা হয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে। তার ওপরে কাগজের স্তূপ। গত সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পৌরসভা, যদুবয়রা, জগন্নাথপুর, সদকী, পান্টি, নন্দলালপুর ও চাপড়া ইউনিয়নের ৫৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে পাওয়া গেছে এমন চিত্র।
প্রায় পাঁচ বছর আগে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ১৪৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৭ লাখ ৯৩ হাজার টাকায় হাজিরা যন্ত্র বসানো হয়। তবে আজও সেগুলো চালু হয়নি। ফলে অধিকাংশই নষ্ট হয়ে গেছে। স্লিপের টাকায় এসব যন্ত্র স্থাপনের পর এক দিনও ব্যবহার না হওয়ায় ধুলা-বালু জমে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেছে। এসব যন্ত্র কেনায়
অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। সাবেক পৌর মেয়রের নির্দেশে তাঁর ছেলের কাছ থেকে শিক্ষকরা যন্ত্রগুলো কিনতে বাধ্য হন। পরে ভুয়া ভাউচারে বিল তোলেন ছেলে।
স্লিপের টাকায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাই করে খরচ করতে চেয়েছিল বলে জানিয়েছেন বজরুক দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মাহবুবুল আলম। তিনি বলেন, ‘মেয়র ফোন দিয়ে বলেন তাঁর ছেলের কাছ থেকে নিতে।’ তাঁর ভাষ্য, মেয়রপুত্র লোক পাঠিয়ে যন্ত্র লাগিয়ে ১৯ হাজার টাকা নিয়ে গেছেন। যদিও যন্ত্রটি ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায় কেনা যেত।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, প্রভাব খাটিয়ে কুমারখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সামছুজ্জামান অরুণ তাঁর ছেলে অর্ণব কিবরিয়া প্রতীকের কাছ থেকে ‘রিয়েল টাইম ব্র্যান্ডের আরএস-২০বি’ মডেলের বায়োমেট্রিক হাজিরা যন্ত্র স্থাপনের নির্দেশ দেন। সে সময় প্রতিটি যন্ত্রের বাজারমূল্য ছিল ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা। তবে প্রতীক ‘প্যাসিফিক এন্টারপ্রাইজ’ ও ‘টারডো কম্পিউটার’ নামে প্রতিষ্ঠানের ভুয়া ভাউচার ব্যবহার করে ১৯ থেকে ২০ হাজার টাকা করে বিল তুলে নিয়েছেন।
বানিয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) শাহানারা পারভীনের ভাষ্য, ১৯ হাজার টাকা নিয়ে যন্ত্র স্থাপন করলেও এক দিনও চলেনি, নষ্ট। তবে কিছুটা সংশয় নিয়ে অভেদানন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাছরিন আক্তার বলেন, সহকারী শিক্ষক দ্বিপেন্দ্রনাথ পালের মাধ্যমে টারবো কম্পিউটার থেকে যন্ত্রটি তারাই কিনেছেন। স্থাপন করেছেন মেয়রের লোকজন। এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষক দ্বিপেন্দ্রনাথ পাল বলেন, স্লিপের ২০ হাজার টাকায় যন্ত্রটি কেনা। তবে সরবরাহ করেছিল প্রতীক।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় থেকে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে স্লিপের টাকায় বায়োমেট্রিক হাজিরা যন্ত্র কেনার সিদ্ধান্ত হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিজ দায়িত্বে বাজার যাচাই-বাছাই করে সাশ্রয়ী মূল্যে যন্ত্র কিনে স্থাপন করবে। এর ব্যত্যয় হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ভেস্তে দেন সাবেক মেয়রের ছেলে অর্ণব কিবরিয়া প্রতীক। তিনি প্রভাব খাটিয়ে নিজের লোকজন দিয়ে যন্ত্রগুলো স্থাপন করেন।
এ জন্য ঢাকার ‘তেঁজগাও পান্থপথ’ ঠিকানা ব্যবহার করে ‘প্যাসিফিক এন্টারপ্রাইজ’ ও কুমারখালী বাসস্ট্যান্ড এলাকার ‘টারডো কম্পিউটার’ নামে প্রতিষ্ঠানের ভুয়া ভাউচার ব্যবহার করে ১৯ থেকে ২০ হাজার টাকা করে বিল তুলে নেন। ভাউচারের ঠিকানায় নিজের মোবাইল ফোন নাম্বার ব্যবহার করেছেন প্রতীক। নির্দেশনার বাইরে এভাবে কেনাকাটায় অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে। যন্ত্র কেনার পর এক দিনও ব্যবহার করা হয়নি। তবে এতদিনে ভয়ে কেউ মুখ খোলেননি।
‘রিয়েল টাইম কোম্পানির’ হটলাইন নম্বরে ফোন দিলে একজন কর্মকর্তা বলেন, আরএস-২০বি মডেলের বায়োমেট্রিক যন্ত্রটি এখন নেই। সে সময় প্রতিটি যন্ত্র সাড়ে ৬ হাজার টাকায় বিক্রি করা হতো। এ বিষয়ে কুমারখালীর টারবো কম্পিউটারের স্বত্বাধিকারী লিটন আব্বাসের ভাষ্য, তিনি কোনো দিন বায়োমেট্রিক হাজিরা যন্ত্র কেনাবেচা করেননি। তাঁর দোকানের ভাউচার নকল করে বিল করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।
এ বিষয়ে কথা বলতে ‘প্যাসিফিক এন্টারপ্রাইজে’র ভাউচারে থাকা ফোন নম্বরে কল দিলে ট্রুকলার অ্যাপে নাম আসে অর্ণব কিবরিয়া। তিনি রিসিভ করে তিনি বলেন, ‘রং নাম্বার’। এরপর প্যাসিফিক এন্টারপ্রাইজ বলে কিছু নেই জানিয়ে ফোনটি কেটে দেন। পরে এটিসহ তাঁর ব্যক্তিগত নম্বরে বারবার কল দিলেও তিনি আর রিসিভ করেননি।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৪৭টি বিদ্যালয়ে বায়োমেট্রিক হাজিরা যন্ত্র কেনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার শরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, স্লিপের টাকা প্রধান শিক্ষকসহ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বাজার যাচাই করে খরচ করার কথা। সে সময় কিছু ব্যত্যয় ঘটেছিল। মূলত শিক্ষক-কর্মকর্তারা আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে প্রতীকের রাজনৈতিক চাপে পড়ে যন্ত্রগুলো কেনেন। যাচাইয়ের সুযোগ পাননি। এতে অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে।
কুমারখালীতে যোগদানের আগেই যন্ত্রগুলো স্থাপন করা হয়েছে জানিয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এগুলো কোনোদিন ব্যবহার হয়নি। অকেজো পড়ে আছে। তবে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পেলে সচল করা হবে।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ
নেতা ও সাবেক মেয়র সামছুজ্জামান অরুণ। তাঁর ফোনটিও বন্ধ রয়েছে। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

বিএনপির নামে চাঁদা দাবি, পরে জানা গেল আ’লীগ
মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের মনিরামপুর বাজার কমিটি ও পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তুলসি বসুসহ দুই ব্যবসায়ীর কাছে ফোনে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়। পরে বিএনপির নজরে এলে মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে খোঁজ নিয়ে নেতাকর্মীরা জানতে পারেন, চাঁদা দাবি করা ব্যক্তি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত।

দুই ব্যক্তি হলেন– পৌর শহরের ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগ কর্মী প্রভাত কুণ্ডু এবং তাঁর বেয়াই চিত্তরঞ্জন কুণ্ডু। দু’জন যোগসাজশে এতে জড়িত থাকার সত্যতা স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন বলে জানা গেছে। প্রভাত কুণ্ডুর আওয়ামী লীগে পদ না থাকলেও তিনি সক্রিয় কর্মী বলে স্বীকার করেছেন পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক কাউন্সিলর মাহাবুবুর রহমান।

তুলসি বসু জানান, কয়েকদিন আগে তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন নম্বরে একটি কল আসে। এ সময় তাঁকে বড় ব্যবসায়ী উল্লেখ করে খরচ বাবদ ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। বিষয়টি তিনি তাঁর কয়েকজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিকে জানিয়ে রাখেন। পরে অপর ব্যবসায়ী হাকোবা গ্রামের প্রভাত কুণ্ডুর কাছেও একই নম্বর থেকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।

প্রভাত কুণ্ডুর দাবি, তিনি বিষয়টি জেলা বিএনপির এক নেতার মাধ্যমে খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে অবহিত করেন। তাঁর নির্দেশে জেলা ও থানা বিএনপির নেতারা বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন। পরে চাঁদা দাবি করা মোবাইল ফোন নম্বর যাচাই করে দেখা যায়, নম্বরটি প্রভাত কুণ্ডুরই ভাইয়ের বেয়াই চিত্ত রঞ্জনের।

চিত্ত রঞ্জন কুণ্ডু ওরফে তপন কুমার নন্দী খুলনার ডুমুরিয়ার মধুগ্রামের মৃত পঞ্চানন কুণ্ডুর ছেলে বলে জানান মনিরামপুর থানা বিএনপির আহ্বায়ক শহীদ ইকবাল হোসেন। তিনি বলেন, গত সোমবার রাতে প্রভাত কুণ্ডু ও চিত্ত রঞ্জনকে মনিরামপুরে আনা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা তাদের অপকর্মের কথা স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন।
প্রভাত কুণ্ডু বলেন, সম্প্রতি তাঁর বাড়িতে দুর্বৃত্তরা ভাংচুর করা হয়। তখন স্থানীয় দুই সাংবাদিকের পরামর্শে তিনি বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলামকে জানান। তবে শহীদ ইকবাল হোসেনের ভাষ্য, আওয়ামী লীগের কর্মী প্রভাত কুণ্ডু একজন চিহ্নিত চোরাচালানী। নিজে চাঁদাবাজির নাটক করে তাঁর দায়ভার বিএনপির ওপর চাপানোর চেষ্টা করেছেন। এ ব্যাপারে বিএনপির পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে নেতারা জানিয়েছেন। মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ বি এম মেহেদী মাসুদ বলেন, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ব্যবসায়ী নেতাদের প্রধান উপদেষ্টার সহায়তার আশ্বাস
ঢাকা অফিস
বাংলাদেশের শিল্প প্রবৃদ্ধি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে ব্যবসায়ী নেতাদের সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
প্রধান উপদেষ্টা মঙ্গলবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলকে এ আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন, আমরা শিল্পকে একটি নতুন স্তরে নিয়ে যেতে চাই। ছাত্র-জনতার বিপ্লব দেশে নতুন যুগের সূচনা করেছে এবং অন্তর্র্বতী সরকার শিল্প, অর্থ ও উৎপাদন ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ব্যবসায়ী নেতারা পোশাক ও ওষুধখাতে সাম্প্রতিক অস্থিরতার বিষয় তুলে ধরে বলেন, তারা সন্দেহ করেন দেশের বাইরে বসবাসকারী গ্রুপসহ বহিরাগতদের প্ররোচনায় কারখানাগুলোতে ভাঙচুর করা হয়েছে।

শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়ে তারা বলেন, কল-কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে।

ড. ইউনূস ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলকে বলেন, তার সরকার কারখানাগুলোকে সহিংসতা ও হামলা থেকে রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি বলেন, আমাদের দায়িত্ব শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া।

তিনি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ব ব্র্যান্ড এবং খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে আরও অর্ডার পাওয়ার প্রয়াসে শ্রম সংস্কার করতে তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার করার বড় সুযোগ আছে। আমাদের শ্রম আইনকে আইএলও মানদণ্ডে উন্নীত করতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তিনি বিশ্বের শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগে এবং আরও অর্ডার দিতে আগ্রহী।

ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান। স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী, এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ ও মীর নাসির হোসেন, বিজিএমইএ সভাপতি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসের এজাজ বিজয় সভায় উপস্থিত ছিলেন।

কুষ্টিয়ায় অটোরিকশা চালকদের সঙ্গে দ্বন্দ্বে বাস চলাচল বন্ধ
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
বাস ও সিএনজি অটোরিকশা চালকদের মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে কুষ্টিয়া-মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া-প্রাগপুর রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে এই রুটগুলোতে সিএনজি অটোরিকশাও চলাচল করছে না। বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে যান চলাচল বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন এই দুই রুটে চলাচলকারীরা।
মেহেরপুরগামী আরিফুল আলম বলেন, ‘ব্যক্তিগত কাজে কুষ্টিয়ায় এসেছিলাম। কাজ শেষে বুধবার দুপুরে মেহেরপুর ফিরে যেতে বাসের জন্য অপেক্ষা করছি। বাস চলাচল করছে না। কীভাবে যাবো বুঝতে পারছি না।’

কুষ্টিয়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরী সভাপতি আব্দুল হামিদ মুকুল বলেন, ‘গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ভেড়ামারা বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী ওঠানো নিয়ে সিএনজি অটোরিকশা চালকদের সঙ্গে বাস চালকরা দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। সেসময় অটোরিকশা চালকরা কয়েকজন বাস চালক ও শ্রমিকদের মারধর করেন। নিরাপত্তার অভাবে কুষ্টিয়ার দুটি রুটে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। সমাধানের জন্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।’

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ কান্তি নাথ বলেন, ‘অটোরিকশা ও বাস চালকদের দ্বন্দ্বে দুটি রুটে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সমস্যা নিরসনে উভয় পক্ষকে নিয়ে সন্ধ্যায় বসার কথা রয়েছে। আলোচনা করে সমস্যা সমাধান করা হবে।’

খুলনায় চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যা
স্টাফ রিপোর্টার
খুলনায় চোর সন্দেহে সিরাজ হাওলাদার (৪০) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে শিরোমনি দক্ষিণপাড়া কালভার্ট মোড় থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সিরাজ হাওলাদার যোগীপোল ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের জামাল হাওলাদারের ছেলে।
সিরাজের স্ত্রী সুমি আক্তার অভিযোগ করে বলেন, সম্প্রতি জাকারিয়া নামের এক ব্যক্তির ভ্যান চুরি হয়। পরে চোর সন্দেহে যোগীপোল ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের কালভার্ট মোড়ের হায়দার নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। সে সময় তার কাছে কিছু ভ্যানগাড়ি খোলার চাবি পাওয়া যায়। হায়দারকে মারধর করলে তার সঙ্গে সিরাজ জড়িত বলে জানায়। পরে জাকারিয়া ৭-৮ জন লোককে সঙ্গে নিয়ে এসে বুধবার ভোরে সিরাজকে ঘুমন্ত অবস্থায় মারতে মারতে তুলে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে মাথায় ও চোখের পাশে কুপিয়ে হত্যা করে কালভার্ট মোড়ে ফেলে রেখে যায়।

খানজাহান আলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, চোর সন্দেহে সিরাজ নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

কুষ্টিয়া কারাগার থেকে পালানো আসামি গ্রেপ্তার
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়া কারাগার থেকে পালানো আসামি সামিরুল মন্ডলকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে করেছে র‌্যাব। তিনি জেলার খোকসা উপজেলার ওসমানপুর গ্রামের সামসুদ্দিন মন্ডলের ছেলে।
বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-১২ কুষ্টিয়া ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার মোহাম্মদ ইলিয়াস খান।

তিনি বলেন, গত ৭ আগস্ট কুষ্টিয়া জেলা কারাগারের তালা ভেঙে ১০৪ জন কারাবন্দী পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি মামলা হয়। পরে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে র‌্যাব গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। এরই সূত্র ধরে মঙ্গলবার রাতে ঝিনাইদহ থেকে সামিরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে মোট ২৫টি মামলা চলমান আছে।


আওয়ামী লীগ পতনের নেপথ্যে

  • গণভিত্তি থেকে জনরোষ * কর্তৃত্ববাদী শাসন ডেকে আনে পতন * দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিক-জনতার চাপা ক্ষোভ
  • দল-সংগঠন নিষিদ্ধ করার প্রবণতা * কোটা আন্দোলনে নির্মম শিক্ষার্থী হত্যা
    ঢাকা অফিস
    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘিরে পতন হয় দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের। জনরোষের মধ্যে গত ৫ আগস্ট দেশ ছাড়েন দলটির সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলটির সব স্তরের নেতাকর্মীরা রয়েছেন আত্মোগোপনে। ২০০৯ সাল থেকে টানা দেড় দশক রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল দলটি। কিন্তু ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ঐতিহ্যবাহী আওয়ামী লীগ যেন হাওয়ায় মিলে গেছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে- নেপথ্যে ঠিক কী ছিল বা কী ঘটেছে- যে কারণে টানা ক্ষমতায় থাকা ও নানা উন্নয়নের ইতিহাস লেখা আওয়ামী লীগকে হাওয়ায় মিলতে হলো?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা গণতন্ত্রকে চরম সংকটে ফেলে দেন। দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতায় থেকে কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। ধ্বংস করেছেন নির্বাচনী ব্যবস্থা। সরকারে থেকে একতরফা নির্বাচন দেশের মানুষ গ্রহণ করেনি। ভোট দিতে না পারার ক্ষোভ ছিল জনসাধারণের মধ্যে। রাজনৈতিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা- সবকিছুই নিয়ন্ত্রিত ছিল আওয়ামী লীগ আমলে। উন্নয়নের আড়ালে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়েছে। কিন্তু তারা দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে পারেনি। শেখ হাসিনা সীমান্ত হত্যার বিষয়ে পুরোপুরি চুপ ছিলেন। সিন্ডিকেট নির্ভর অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যে দিন দিন বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম। এতে ফুঁসে ওঠে খেটে খাওয়া মানুষ। লম্বা সময় ক্ষমতায় থেকেও আশানুরূপ বেকারত্ব কমিয়ে আনতে পারেনি আওয়ামী লীগ সরকার। বিদায়ী সরকারের ওপরে শ্রমিকদের বড় অংশের অসন্তোষ ছিল। ক্ষোভ বাড়ছিল বেকারদের মধ্যে। এছাড়া দ্রব্যমূলের সঙ্গে সঙ্গতি না রেখে গার্মেন্টস শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। এ কারণে গার্মেন্টস শ্রমিকদের মাঝেও আওয়ামী লীগবিরোধী চাপা ক্ষোভ ছিল। সর্বশেষ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবিকে উপেক্ষা করা হয়। আন্দোলন দমনে পুলিশ প্রশাসন ব্যবহার করে নির্বিচারে শিক্ষার্থীদের গুলি করে হত্যা করাই কাল হয়ে দাঁড়ায় আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার জন্য।

২০০৯ সাল থেকে টানা দেড় দশক রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল দলটি। কিন্তু ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ঐতিহ্যবাহী আওয়ামী লীগ যেন হাওয়ায় মিলে গেছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, পাপের ভারে ডুবে গেছে আওয়াম লীগ সরকার। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেকে অপ্রতিরুদ্ধ মনে করতেন। তার মধ্যে দম্ভ ছিল। গত ১৫ বছরে দেশে গণতন্ত্রের লেশমাত্র ছিল না। ছিল না জবাবদিহিতা। অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও দেশের খেটে খাওয়া মানুষের আয় বাড়েনি। দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মধ্যে নানা কারণে ক্ষোভ জমেছিল। আওয়ামী লীগ সরকার হটাতে মানুষজন একটা সুযোগ খুঁজছিল। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সে সুযোগ এনে দেয়।

নেপথ্যে ঠিক কী ছিল বা কী ঘটেছে- যে কারণে টানা ক্ষমতায় থাকা ও নানা উন্নয়নের ইতিহাস লেখা আওয়ামী লীগকে হাওয়ায় মিলতে হলো?

তরুণ রাজনৈতিক বিশ্লেষক সাংবাদিক সৈয়দ শিমুল পারভেজের মতে, দেশের তরুণ প্রজন্ম অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বুঁদ হয়ে থাকলেও তারা সমাজ সচেতন। দীর্ঘ সময় তারা আওয়ামী লীগের শাসনামল দেখেছে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের কার্যকলাপ তারা প্রত্যক্ষ করেছে। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের বহুবিধ কারণ রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো- টানা সাড়ে ১৫ বছরে অবাধ দুর্নীতি-অনিয়ম, লুটপাট ও অর্থ পাচার হয়েছে। মানুষ বিচারহীনতায় ভুগেছে। শেখ হাসিনা সমালোচনা সহ্য করতে পারতেন না। তিনি আমেরিকাসহ পশ্চিমা বিশ্বকে শত্রু বানিয়ে ফেলেন। বাজার সিন্ডিকেট করে দেশের ১৮ কোটি মানুষকে জিম্মি করে ফেলেন আওয়ামীপন্থি ব্যবসায়ীরা। তারা বিরোধী মতের ওপর জুলুম-নির্যাতন করেন। কোটা সংস্কার দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাত্তা না দেওয়া। ভয়ংকর এমন পরিস্থিতির মধ্যে জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করা আওয়ামী লীগের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। আওয়ামী লীগকে চরম সংকটে ফেলে দেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ সরকারের ওপরে শ্রমিক অসন্তোষের বিষয়ে গ্রিন বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি সুলতানা বেগম ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, গত সরকারের আমলে আমরা ২৩ হাজার টাকা সর্বনিম্ন মজুরি চেয়েছিলাম। কিন্তু সরকার আমাদের সাড়ে ১২ হাজার টাকা মজুরি দিয়েছিল। তখন আওয়ামী লীগ সরকার বলেছিল, রেশনিং ব্যবস্থা চালু করবে, তা আর চালু করা হয়নি। তখন মজুরি বোর্ডে সদস্য ছিল আওয়ামী লীগপন্থিরা। তারা এখন পালিয়ে গেছে। ২৩ সালের মজুরি আন্দোলনে চারজন গামের্ন্টস শ্রমিকে হত্যা করা হয়েছিল, ২০ হাজার শ্রমিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল, অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এসব বিষয় নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ছিল।

কুষ্টিয়ায় বৈধ ২৬১ অস্ত্রের মধ্যে জমা পড়েছে ২৪৭টি
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত কুষ্টিয়ার ৬টি উপজেলায় ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য প্রদত্ত ২৬১টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স অনুমোদন দিয়েছিল জেলা ম্যাজিস্ট্রেট।

কুষ্টিয়ায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম জানান, মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা পর্যন্ত সর্বশেষ ২৪৭টি অস্ত্র জেলার ৬টি থানায় জমা পড়েছে। এর মধ্যে এখনও ১৪টি অস্ত্র জমা পড়েনি। এই অস্ত্রগুলোর মধ্যে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ১২টি, দৌলতপুর থানা ও ইবি থানায় ১টি করে অস্ত্র এখন জমা পড়েনি।

জানা গেছে, ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে গত ৫ আগস্ট পর্যন্ত বেসামরিক লোকজনকে দেওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। ওই সময়ে যাদের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে তাদের ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে গোলাবারুদসহ আগ্নেয়াস্ত্র সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দিতে বলা হয়েছে।

এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী অস্ত্র-গোলাবারুদ জমা দেওয়ার শেষ দিন পেরিয়ে যাওয়ার পর অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ অভিযান শুরু হবে। বুধবার থেকে জমা না দেওয়া বাকি অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালানো হবে। অবৈধ অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরুর খবরে অনেকেই স্বাগত জানিয়েছেন।

ঝিনাইদহে ‘জিনের বাদশা’ পরিচয় দিয়ে প্রতারণার সময় আটক ৩
ঝিনাইদহে প্রতিনিধি
ঝিনাইদহে জিনের বাদশা পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে ৩ জনকে আটক করেছে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল। বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে শহরের ধোপাঘাটা ব্রিজ এলাকা থেকে এক প্রবাসীর স্ত্রীর কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সময় তাদের আটক করা হয়।
আটকেরা হলেন- গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানার শমসপাড়ার আজিজার রহমানের ছেলে নুর আলম (২৩), একই গ্রামের আবু বকর সিদ্দিকীর ছেলে মামুন হোসেন (৩৪) ও দুলাল বিশ্বাসের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩৫)। তাদের কাছ থেকে স্বর্ণ সাদৃশ্য একটি নকল মূর্তি উদ্ধার করা হয়।

ঝিনাইদহ ডিবির ওসি মো. জুয়েল ইসলাম জানান, বিথী খাতুন নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর কাছে সম্প্রতি জিনের বাদশা সেজে গভীর রাতে আটককৃত প্রতারকরা ফোন করে। ফোন রিসিভ করতেই অপর প্রান্ত থেকে ভৌতিক শব্দ শুনতে পান বিথী। তখন কথিত জিনের বাদশা বলে ওঠে “আমি মানুষ না, আমি জিন। তুই জিনের সঙ্গে কথা বলছিস মা। আমি জিনের বাদশা কোহিকাপ শহরের ভাসমান মসজিদ থেকে বলছি। তুই তোর পরিচয় দে মা। তোর মঙ্গল হবে। যদি পরিচয় না দিস, তাহলে পরিবারসহ এখনই ধ্বংস হয়ে যাবি”। বিথী খাতুনের ১২ বছর পর সন্তান হওয়ায় কথিত জিনের বাদশার “এখনই ধ্বংস হয়ে যাবি” কথা শুনে তাদের ফাঁদে পা দেন এবং জায়নামাজ ও কোরআন শরীফ কেনা বাবদ তাদের ২০ হাজার টাকা নগদের মাধ্যমে প্রদান করেন। এরপর প্রতারক চক্রটি ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় এসে বিথী খাতুনকে স্বর্ণ সাদৃশ্য একটি নকল মূর্তি দিতে আসে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ঝিনাইদহ সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের সদস্যরা তাদেরকে হাতেনাতে আটক করে।

ঝিনাইদহ সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের এসআই মো. খালিদ হাসিন (বিপিএম সেবা), এসআই রবিউল ইসলাম, এসআই কামরুজ্জামান ও এএসআই ইখলাচুর রহমান অভিযানের নেতৃত্ব দেন। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ সদর থানায় বুধবার দুপুরে একটি মামলা হয়েছে।


১৬ সেপ্টেম্বর পবিত্র মিলাদুন্নবী (সা.)
ঢাকা অফিস
বাংলাদেশের আকাশে গতকাল ১৪৪৬ হিজরি সনের পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা গিয়েছে। ফলে আজ বৃহস্পতিবার থেকে পবিত্র রবিউল আউয়াল মাস গণনা করা হবে। এ পরিপ্রেক্ষিতে, আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর সোমবার পবিত্র মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হবে। বুধবার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মুকাররম সভাকক্ষে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুঃ আঃ হামিদ জমাদ্দার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

বিজয় এখনো অনেক দূরে: তারেক রহমান
ঢাকা অফিস
বিজয় এখনো অনেক দূরে উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘আমরা গত ১৭ বছর বিরোধীদলে ছিলাম, আজও আছি। এখন আত্মতুষ্টির সময় নয়। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা সংকটকালে যেমন দলের পাশে ছিলেন, ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের জনমানুষের প্রত্যাশার ভাষা বুঝে তাদের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করলে বিএনপি দেশের মানুষকে একটা নতুন বাংলাদেশ উপহার দিতে পারবে।’মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে বরিশাল বিভাগের বিএনপি নেতাকর্মীদের সমাবেশে লন্ডন থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান দলের সবাইকে সতর্ক করে বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম, বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ, আর শত সহস্র নেতাকর্মীর আত্মত্যাগের বিনিময়ে বিএনপি জনগণের আস্থা আর বিশ্বাসের যে জায়গায় পৌঁছেছে, কিছু বিপথগামীর হঠকারিতায় সেটা বিনষ্ট হতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে দল আপসহীন। সম্প্রতি চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহে দল সেটার প্রমাণ রেখেছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, সংখ্যালঘুর কার্ড দিয়ে অনেক খেলা হয়েছে। সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু স্পর্শকাতর বিষয়, আর নির্যাতনের কল্পকাহিনি ফেঁদে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অপচেষ্টা দেশে-বিদেশে বারবার কারা করেছে, সেটা সবাই জানে। এই পুরোনো খেলার পুনরাবৃত্তি এ দেশে আর করতে দেওয়া হবে না। দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ধ্বংসের চক্রান্তের বিরুদ্ধে নেতাকর্মীদের রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমান আরও বলেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি ধ্বংসের ষড়যন্ত্রকারীদের হাত থেকে এক ধর্মের উপাসনালয় আরেক ধর্মের অনুসারীরা ঐতিহ্যগতভাবে যুগ যুগ ধরে রক্ষা করছেন। তারা বারবার প্রমাণ করেছে, এ দেশে সংখ্যালঘু আর সংখ্যাগুরু বলে কিছু নেই।

তিনি বলেন, আমাদের সবারই এক ও অভিন্ন পরিচয়-আমরা সবাই বাংলাদেশি। শুধু কথায় নয়, কাজেও এর প্রমাণ দিতে হবে যখনই প্রয়োজন হবে।

রাষ্ট্রকাঠামোর সংস্কার প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, প্রায় দুই বছর আগে দেশের সাংবিধানিক কাঠামো এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি নিয়ে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো ৩১ দফা কর্মসূচি দিয়েছে। যেটা সংশোধন ও পরিমার্জনের জন্য এখনো উন্মুক্ত।
রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের ৩১ দফার কথা উল্লেখ করে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, যারা যে সংস্কারের প্রস্তাবনাই আনুন, আমাদের সংস্কার প্রস্তাবে সেগুলোর সবই অন্তর্ভুক্ত আছে।

বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে শিক্ষককে মারধর ও জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী ও ভুক্তোভোগী শিক্ষক খায়রুল ইসলাম
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে শিক্ষককে মারধর ও তার জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে ভুক্তোভোগী শিক্ষক জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

এছাড়া লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে মাছ লুটের ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন দলীয় নেতারা।
ভুক্তোভোগী কোটচাঁদপুর উপজেলার বারোমাসা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও সাবেক বিএনপি নেতা খায়রুল ইসলাম। তার ভিটাবাড়িসহ জমির পরিমাণ ৫ দশমিক ১৪ শতক। পাশেই বিএনপির উপজেলা সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলীর বাড়ি।

ভুক্তোভোগী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমার বাড়িসহ জমি দখলের জন্য চেষ্টা চালিয়ে আসছেন লিয়াকত আলী। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের দিন ৫ আগস্ট দলবল নিয়ে আমার ওপর হামলা চালান তিনি। এতে মারাত্মক জখম হই। এখনো নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। আমাকে মানসিক ও রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চক্রান্ত চলানো হচ্ছে।

কোটচাঁদপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এ ধরনের অভিযোগের কথা আমি শুনেছি। তবে আমার কাছে অভিযোগ নিয়ে কেউ আসেনি।

এ বিষয়ে জানতে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদের মোবাইলে কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি।

গত ১৫ বছরে ইস্যুকৃত// খুলনায় এখনও জমা হয়নি ২৬৬ আগ্নেয়াস্ত্র, নেওয়া হচ্ছে আইনি ব্যবস্থা
স্টাফ রিপোর্টার
খুলনা মহানগর এবং জেলায় ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ইস্যু করা হয়েছে ৭৫৩টি। এর মধ্যে অস্ত্রসহ লাইসেন্স ৫৭৮টি। অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একনলা বন্দুক, দোনলা বন্দুক, পিস্তল, রাইফেল, শটগান ও রিভলবার। ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জমা পড়েছে ৩১২টি। এখনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ২৬৬টি অস্ত্র জমা পড়েনি। এ ছাড়া প্রায় ৪ হাজার ৭৮১ রাউন্ড গুলি জমা পড়েনি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার মধ্যে যেসব অস্ত্র এবং গোলাবারুদ সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দেওয়া হবে না সেগুলোকে অবৈধ হিসেবে গণ্য করা হবে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সূত্র জানায়, গত সাড়ে ১৫ বছরে মহানগরীর আটটি থানায় মোট বৈধ অস্ত্রসহ লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছিল ৩৬৪টি। এর মধ্যে খুলনা থানায় ৪৯টি, সোনাডাঙ্গা থানায় ২১৬টি, লবণচরা থানায় ১০টি, হরিণটানা থানায় ৫টি, খালিশপুর থানায় ৫৮টি, দৌলতপুর থানায় ১৪টি, আড়ংঘাটা থানায় ১০টি এবং খানজাহান আলী থানায় ৩টি। অস্ত্র জমা পড়েছে ১৩৭টি। এসব থানায় বৈধ গুলি ছিল ৭ হাজার ১৭১ রাউন্ড এবং গুলি জমা পড়েছে ৪ হাজার ৭২১ রাউন্ড।

অন্যদিকে খুলনা জেলার দিঘলিয়া, রূপসা, তেরখাদা, ফুলতলা, ডুমুরিয়া, পাইকগাছা, কয়রা, দাকোপ এবং বটিয়াঘাটা থানায় মোট বৈধ অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয় ২৪২টি এবং গুলি ৬ হাজার ৩৭৬ রাউন্ড। মঙ্গলবার পর্যন্ত ১৭৫টি অস্ত্র এবং ৪ হাজার ৪৫ রাউন্ড গুলি জমা পড়েছে।

খুলনা জেলা ম্যাজিস্ট্রেসি থেকে ইস্যুকৃত লাইসেন্স এবং অন্যান্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেসি থেকে খুলনা জেলায় বসবাসরত বেসামরিক জনগণের অনুকূলে ইস্যুকৃত ৭৫৩টি লাইসেন্সের মধ্যে ৫৭৮টি অস্ত্রসহ রয়েছে। আর ১৭৫টিতে অস্ত্র কেনা হয়নি। লাইসেন্সের মধ্যে রয়েছে একনলা বন্দুক ২৬৬টি (অস্ত্রসহ ২০৭টি), দোনলা বন্দুক ৫১টি (অস্ত্রসহ ৩৮টি), শটগান ২০৩টি (অস্ত্রসহ ১৭৩টি), পয়েন্ট ২২ বোর রাইফেল ৩৩টি (অস্ত্রসহ ২৬টি), ৭ এমএম রাইফেল অস্ত্রসহ ১টি, পিস্তল ১৭৯টি (অস্ত্রসহ ১১৯টি) ও রিভলবার ২০টি (অস্ত্রসহ ১৪টি)।

খুলনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মীর আলিফ রেজা জানান, খুলনা জেলা ম্যাজিস্ট্রেসি থেকে ইস্যুকৃত লাইসেন্স এবং অন্যান্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেসি থেকে খুলনা জেলায় বসবাসরত বেসামরিক জনগণের অনুকূলে ইস্যুকৃত লাইসেন্সের বিপরীতে ক্রয়কৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ সংশ্লিষ্ট থানায় ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জমা দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছিল। এ আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘দেশের অন্যান্য জেলায়ও খুলনার ইস্যুকৃত অস্ত্র জমা হতে পারে। তাই হিসাব মেলানোর পর কার্যকর পদক্ষেপের পরিকল্পনা রয়েছে।’


যৌথ অভিযানের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে পুলিশ?
ঢাকা অফিস
৩১ আগস্ট সন্ধ্যা। বরিশালের কোতোয়ালি থানা। তুচ্ছ একটি ঘটনার জের ধরে একদল কিশোর হঠাৎ থানায় ঢুকে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে। পুলিশ সদস্যদের অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করতে থাকে তারা। থানার দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন। কিশোর দলের সদস্যরা থানার একটি পিকআপ ও সরকারি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এরপর তারা থানার অভ্যর্থনা কক্ষেও ভাঙচুরের চেষ্টা করে। এরইমধ্যে থানা পুলিশ খবর দেয় সেনাবাহিনীর সদস্যদের। সেনাবাহিনী থানায় এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পরে কিশোররা জানায়, প্রতিপক্ষ একটি দলের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জের ধরে তাদের কয়েকজন সদস্য মারধরের শিকার হয়। সেসময় পুলিশকে ফোন দিলেও তারা সহযোগিতা করেনি।

পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সবচেয়ে ‘নাজুক’ পরিস্থিতিতে রয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। কোটা সংস্কার আন্দোলন দমাতে গিয়ে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের কারণে সাধারণ মানুষের তীব্র ক্ষোভের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাদের। ফলে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সারা দেশের অন্তত চার শতাধিক থানায় হামলার ঘটনাও ঘটে। সিরাজগঞ্জের একটি থানাতেই সাধারণ মানুষ হামলা চালিয়ে ১৩ পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা করে।

তারা আরও মনে করছেন, বাংলাদেশ পুলিশ এর আগে এমন নাজুক পরিস্থিতির মুখোমুখি কখনোই হয়নি। থানায় এসে কারও ভাঙচুর এবং তা নিয়ন্ত্রণে সেনা সদস্যদের ডাকার ঘটনা এই প্রথম।

সরকার পতনের পর প্রথম কয়েক দিন পুলিশ সদস্যদের ‘চরম আতঙ্ক’ নিয়ে রীতিমতো পালিয়ে ও আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে। বর্তমানে সবাই দায়িত্ব পালন করলেও পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ভয় ও অস্বস্তি এখনও কাটেনি। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি হলেও এখনও পুলিশ তাদের কার্যক্রম শতভাগ চালু করতে পারেনি।

পুলিশের এই সংকটময় অবস্থার মধ্যেই ৪ সেপ্টেম্বর থেকে যৌথ অভিযান চালু করতে যাচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পুলিশের এই অভিযানে সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরাও যোগ দেবেন বলে জানা গেছে। যদিও ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন থানায় হামলা চালিয়ে লুট করে নেওয়া অস্ত্র উদ্ধারের জন্য এই অভিযান চালানো হচ্ছে, কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন– অভিযানের মাধ্যমে পুলিশের হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশকে আরও বেশি কার্যকর করা হবে।
পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) ইনামুল হক সাগর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় যৌথ অভিযানটা হচ্ছে শুধু অস্ত্র উদ্ধারের জন্য। একইসঙ্গে পুলিশের স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করা হচ্ছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপারদের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। নতুন যেসব পুলিশ সুপাররা দায়িত্ব পেয়েছেন, তাদের হেডকোয়ার্টার্স থেকে একটা ব্রিফিং দিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ পুলিশের এই মুখপাত্র বলেন, ‘অনেক থানা বা ফাঁড়ি পুড়ে ধ্বংস হয়ে গেছে। সেসব জায়গায় কোনোভাবে দৈনন্দিন কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। এজন্য দৃশ্যমান যেসব পুলিশি কার্যক্রম, যেমন- প্যাট্রলিং বা চেকপোস্ট চালু করতে সময় লাগছে। খুব শিগগিরই পুলিশ শতভাগ স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে আসবে।’

পুলিশের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা জানান, পুলিশের স্বাভাবিক কার্যক্রম এখনও পর্যন্ত থানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। থানায় কেউ অভিযোগ বা মামলা করতে গেলে তা নেওয়া হচ্ছে। দিনে বা রাতে কোনও প্যাট্রল বা টহল ডিউটি দেওয়া হচ্ছে না। মাদকবিরোধী অভিযান পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। মেট্রোপলিটন এলাকায় ট্রাফিক বিভাগ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করছে। তবে ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও মামলা দিচ্ছে না।
পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘অতি উৎসাহী কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার জন্য আজ এই অবস্থা হয়েছে। মানসিকভাবে পুলিশ ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়েছে। এছাড়া পুলিশের নিম্ন পর্যায়ের সদস্যদের বিরুদ্ধেও একের পর এক মামলা হচ্ছে। এ কারণে সবাই একটা ভয় এবং আতঙ্ক নিয়ে দিন পার করছেন।’

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘তার বিরুদ্ধেও থানায় মামলা হয়েছে। অথচ তিনি শুধু ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশনা পালন করেছেন। এখন তিনি বুঝতে পারছেন না অফিস করবেন, নাকি পালিয়ে থাকবেন। এরকম দোদুল্যমান অবস্থায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তো কাজও করা যাচ্ছে না।’

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণের প্রথম ধাপ হলো ক্রাইম প্রিভেনশন বা অপরাধের আগাম প্রতিরোধ। এজন্য সারা দুনিয়াতেই পুলিশের প্যাট্রল ডিউটি এবং চেকপোস্ট স্থাপন একটি সাধারণ বিষয়। কিন্তু সরকার পতনের প্রায় এক মাস পার হতে চললেও এখনও রাতে প্যাট্রল ডিউটি ও চেকপোস্ট চালু করা যায়নি। প্যাট্রলিং ও চেকপোস্টের মাধ্যমে সাধারণ অপরাধ বা চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই প্রতিরোধ করা হয়। একইসঙ্গে প্যাট্রলিং বা চেকপোস্ট থাকলে নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ তৈরি হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, থানায় থানায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের কারণে পুলিশের যানবাহনগুলো আংশিক বা পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যানবাহন ছাড়া প্যাট্রলিং করা সম্ভব নয়। এছাড়া রাতের বেলা চেকপোস্ট স্থাপন করার মতো অবস্থাও এখনও তৈরি হয়নি।
সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, পটপরিবর্তনের পর একদিকে যেমন নাজুক অবস্থায় পড়েছে পুলিশ, সেই সঙ্গে আগের সরকারের আস্থাভাজন হিসেবে বেশিরভাগ দায়িত্বশীল জায়গায় কর্মরত কর্মকর্তারা বদলি-পদায়ন নিয়ে চিন্তায় ছিলেন। ফলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ বা স্বাভাবিক পুলিশি কার্যক্রম চালু করতে তাদের মধ্যেও আগ্রহ নেই। এরইমধ্যে পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের প্রায় সব কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিটে যোগ দিয়েছেন নতুন কর্মকর্তারা। মঙ্গলবারও (৩ সেপ্টেম্বর) ২৬ জেলার পুলিশ সুপারকে বদলি করা হয়েছে।

পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে পুলিশের আরও সময় লাগবে। পুলিশ সম্পর্কে মানুষের অনেক বেশি নেতিবাচক ধারণা জন্ম নিয়েছে। এজন্য সাধারণ মানুষের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। একইসঙ্গে যেকোনও অপরাধ বা আইনের ব্যত্যয় ঘটলে ঠান্ডা মাথায় আইন প্রয়োগ করতে হবে। যথাযথ আইনানুগ প্রক্রিয়ায় কাজ করলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিকতা ফিরে আসবে।

জেনারেল আজিজ, হারিস ও জোসেফের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু
ঢাকা অফিস
অবৈধ সম্পদ, অর্থ পাচার ও ক্রয় বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ এবং তার দুই ভাই হারিস আহমেদ ও তোফায়েল আহমেদ জোসেফের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এ ছাড়াও, টেন্ডার বাণিজ্য, সরকারি সম্পত্তি দখল, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য নিজামুদ্দিন হাজারীর বিরুদ্ধেও অনুসন্ধান শুরু করেছে সংস্থাটি।
তিন বছর সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পালনের পর ২০২১ সালের জুনে অবসরে যান জেনারেল আজিজ আহমেদ। এর আগে চার বছর তিনি ছিলেন বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) প্রধান। দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে গত বছর তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এর আগে সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের দুই ভাই হারিছ আহমেদ ও তোফায়েল আহমেদ ওরফে জোসেফের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জালিয়াতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে নির্বাচন কমিশন।

খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন সারাহ কুক
ঢাকা অফিস
ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশানে খালেদা জিয়ার বাসভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপির দলীয় সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এর আগে ১৮ এপ্রিলের এক সফরে সারাহ কুক বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সে বৈঠকে অংশ নেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটলে পরদিনই কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসনকে মুক্তি দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে তিন বাহিনীপ্রধান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের বৈঠকে সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে মুক্তি দেওয়া হয়েছে তাকে।

কারামুক্তির সঙ্গে সঙ্গে পাসপোর্টও ফিরে পেয়েছেন খালেদা জিয়া। ৬ আগস্টই তার পাসপোর্ট নবায়নের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বেগম খালেদা জিয়া ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাবন্দি হন। কিন্তু দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হলে পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২০ সালে নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করা হয় ছয় মাসের জন্য। এরপর ছয় মাস পরপর আবেদনের প্রেক্ষিতে তার সাজা স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়।

আশাশুনির দয়ারঘাট ভাঙ্গন কবলিত বেড়ীবাঁধের নির্মান কাজ নিয়ে মতবিরিময়
আশাশুনি প্রতিনিধি
আশাশুনি সদরের দয়ারঘাটে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৪নং পোল্ডারে খোলপেটুয়া নদীর ভাঙ্গন কবলিত বেড়ী বাঁধ এর নির্মানকাজ পুনরায় শুরুর লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে দয়ারঘাট বাজারে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাবৃন্দের এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জাইকার অর্থায়নে বাঁধের ১২৭০ মিটার পুনঃ নির্মান কাজ ২১ কোটি ৯২ লক্ষ ৯০ হাজার ১৫০ টাকা বরাদ্দে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এনটি-এমএলটি-জেভি কাজটি পেয়েছে। ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ইনহ্যাসমেন্ট প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম বিজকল লিঃ কাজটি বাস্তবায়ন করছে। গত ১৫/১/২৩ তারিখ কাজ শুরু করা হয় এবং ৩১/৫/২৪ তারিখের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেলেও কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কাজের অগ্রগতি হতাশাজনক। কাজের জন্য ব্লক তৈরীর কাজও অর্ধেক হয়নি। ব্লকের কাজে অনিয়ম, মালামাল পরিবহনকালে সড়ক ক্ষতিগ্রস্থ করা এবং শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ না করা, দুর্ব্যবহারসহ বিভিন্ন অভিযোগে স্থানীয়রা কাজ বন্ধ করে দেন। ফলে অভিযোগ শ্রবণ, অনিয়মের প্রতিকার ও
কাজ পুনরায় শুরু করার লক্ষ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড এর কর্মকর্তাবৃন্দ বিষয়টি নিয়ে মতবিনিময় করতে বুধবার (৫ সেপ্টেম্বর) আশাশুনিতে গমন করেন। মতবিনিময় কালে বক্তব্য রাখেন, নির্বাহী প্রকৌশলী পাউবো-২ মনিরুল ইসলাম, উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী রাশিদুল ইসলাম, জাইকার কনসাল্ট্যান্ট প্রকৌশলী মইনুল ইসলাম, প্রজেক্ট ইঞ্জিঃ রাশেদ ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের আমীর আবু মুছা তারিকুজ্জামান তুষার, যুবদলের আহবায়ক শরিফুল আহসান টোকন, সদস্য সচিব আবু জাহিদ সোহাগ, যুগ্ম আহবায়ক সাদিক আনোয়ার ছোট, যুগ্ম আহবায়ক হাফিজুর রহমান, রবিউল ইসলাম রুমি প্রমুখ। বক্তাগন কাজের নানা অনিয়ম, সড়কের ক্ষয়ক্ষতি, শ্রমিকদের পাওনা টাকা না দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে এর প্রতিকারের দাবী জানিয়ে দ্রুত কাজ শুরুর কথা উত্থাপন করেন। এসময় পাউবো কর্মকর্তাবৃন্দ প্রশ্নের জবাবে জানান, দেড় বছর আগে কাজ শুরু করা হলেও ধারা ব্যাহত হয়েছে, ব্লক নির্মানে পাথর গ্রেডেশান ঠিক ছিলনা। ৯৮ হাজার ১ শত ৯৩ টি ব্লক তৈরির কথা থাকলেও ঠিকাদার ৩৪ হাজার ৬৬৪ টি ব্লক এর কাজ করতে পেরেছেন। যার মধ্যে ৬ হাজার ৮৬৫ টি রিজেক্ট করা হয়েছে। নষ্ট ব্লকগুলো পুনরায় করতে হবে এবং নষ্টগুলোর কোন বিল ঠিকাদার পাবেননা। তবে সকল ব্লক কাজে লাগানো হবে। পাওনা টাকার ব্যাপারে প্রকৃত পাওনাদারের তালিকা, কিজন্য টাকা পাবে ও টাকার অংক তৈরি করে তাদের কাছে দেওয়ার জন্য জামায়াতের আমীরকে বিনয়ের সাথে দায়িত্ব অর্পন করে তিনি বলেন, ঠিকাদারের সাথে কথা বলে পাওনা টাকা আদায়ের ববস্থা করা হবে। কোয়ালিটির ব্যাপারে কোন ছাড় দেওয়া হবেনা। ছোট রাস্তায় ট্রাক না ঢুকলে অন্য ব্যবস্থায় মালামাল পরিবহন করতে হবে। রাস্তা নষ্ট হওয়ায় ঠিকাদার ঠিক করে দেওয়ার কথা বলে থাকলে তার সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে কর্মকর্তাবৃন্দ জানান। নিয়ম মেনে কাজ শুরু করা হবে ওয়াদা করে কারা সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

আশাশুনি সদরে বেড়িবাঁধে ভাঙ্গন রোধে দ্রুতই কাজ করার সিদ্ধান্ত পাউবো’র
আশাশুনি প্রতিনিধি
আশাশুনি উপজেলা সদরে মানিকখালী চর গ্রামে মরিচ্চাপ নদীর বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন রোধে খুব দ্রুতই কাজ শুরু করা হবে বলে ঘোষণা করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী। বুধবার সকালে ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শণকালে নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মনিরুল ইসলাম একথা বলেন।
চর গ্রাম জামে মসজিদ সংলগ্ন প্রায় ২০০ ফুট ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ মেরামতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় এলাকার মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। উপজেলা জামায়াতের আমীর আবু মুছা তারিকুজ্জামান তুষার গত ২ সেপ্টেম্বর এলাকা পরিদর্শন করেন। এবং উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে কথা বলেন ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান। এখবর বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও মিডিয়ায় প্রকাশিত ও প্রচারিত হলে এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শনে আসেন, পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম, উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী রাশিদুল ইসলাম, আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী, অফিসার কৃষ্ণা রায়, উপজেলা জামাতের আমীর আবু মুছা তারিকুজ্জামান তুষার প্রমুখ। এলাকা পরিদর্শণ শেষে নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম জানান, মেইন প্যাকেজের ৯০% কাজ সেষ হয়েছে। বৃষ্টির পর বাকী কাজ সম্পন্ন করা হবে। তখন এলাকায় কোন ঝুকি থাকবেনা। বর্ষা মৌসুমে এলাকার ৪ শতাধিক মানুষ ও সহায় সম্পদ রক্ষার জন্য জরুরী কাজের মাধ্যমে বাঁধ সংস্কার করার দাবী উত্থাপিত হলে, তারা বলেন, বিষয়টি আমরা মাপজোক করে পরিকল্পনা মাফিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবং দ্রুতই কাজে হাত দেওয়া হবে।

খুলনায় ইসলামী আন্দোলন ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত
খবর বিজ্ঞপ্তি
গত ৫ই আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানার ১৬ নং ওয়ার্ডের উপদেষ্টা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ বাবুল আলী উপর সন্ত্রাসীরা হামলা করে। তাকে প্রচন্ড পরিমাণে মারধর করে আহত করা হয়, তার দোকান এবং ঘরবাড়িও ভাঙচুর করা হয়।
বাবুল আলীর উপর সন্ত্রাসী হামলা ও দোকানপাট ভাঙচুর করার প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার(৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানার ১৬ নং ওয়ার্ডের উদ্যোগে হামিদ নগর সুইস গেটে এক প্রতিবাদ সমাবেশ ১৬ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মোঃ আবু হানিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা মহানগর জয়েন্ট সেক্রেটারি মোঃ আবু গালিব, বিশেষ অতিথ ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সোনাডাঙ্গা থানার সভাপতি মোল্লা রবিউল ইসলাম তুষার। প্রতিবাদ সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন খুলনা মহানগর সেক্রেটারি মোঃ ইব্রাহিম খান, ইসলামী আন্দোলন ১৬ নাম্বার ওয়ার্ডের সহ-সভাপতি মোঃ আকবর আলী, মোঃ রেজাউল করিম, মোঃ আলাউদ্দিন গাজী, ওয়ার্ড সেক্রেটারি এইচএম আরিফুর রহমান, শ্রমিক আন্দোলনের মোঃ ইকবাল, ইসলামী যুব আন্দোলনের মুন্সি বশির আহমেদ, মোঃ হাসান খান, মোঃ আমিনুর ইসলাম, মোঃ ওবায়দুর রহমান, মোঃ জুবায়ের মাতুব্বর প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বাবুল আলীর উপর যে সকল সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে তাদেরকে খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

দিঘলিয়ার বারাকপুরে জোরপূর্বক খেয়াঘাট দখলের অভিযোগ
দিঘলিয়া প্রতিনিধি
দিঘলিয়ায় জোরপূর্বক খেয়াঘাট দখলের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, খুলনা জেলা পরিষদ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য সরকারের যাবতীয় ভ্যাট ট্যাক্স পরিশোধ করে খুলনার দিঘলিয়ায় বারাকপুর সন্ন্যাসী খেয়াঘাটের ইজারা গ্রহণ করেন মোঃ জাকারিয়া খান রানা। কিন্তু গত ২ সেপ্টেম্বর বেলা ১১ টার দিকে স্থানীয় প্রভাবশালী জিয়া শেখ জোরপূর্বক তার দলবল নিয়ে প্রকৃত ইজারাদার জাকারিয়া খান রানার খাজনা আদায়কারী লোকদের তাড়িয়ে দিয়ে জিয়া শেখের লোকেরা ঘাটের খাজনার টাকা আদায় শুরু করে। ভুক্তভোগী জাকারিয়া খান রানা খুলনা জেলা পরিষদ থেকে তার বৈধ ইজারাকৃত খেয়া ঘাটের টোল আদায় করতে এবং অবৈধভাবে জোর করে খেয়াঘাট দখলকারী জিয়া শেখের বিরুদ্ধে দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী জাকারিয়া খান রানা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বাংলাদেশ জাসদ খুলনা মহানগর ও জেলা শাখার আলোচনা সভা
খবর বিজ্ঞপ্তি
বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলÑবাংলাদেশ জাসদ, খুলনা মহানগর ও জেলা শাখার এক আলোচনা সভা ০৪ সেপ্টেম্বর ’২৪ বুধবার বিকেল ৪টায় খুলনা মহানগরের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ জাসদ কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও খুলনা মহানগর শাখার সভাপতি রফিকুল হক খোকন এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাসান এর সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাসদ খুলনা জেলা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ গাজী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. এস এম জাহেরুল ইসলাম, মহানগর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব মোল্লা, খালিশপুর থানা সাধারণ সম্পাদক মোঃ বেলাল হোসেন, খানজাহান আলী থানা সভাপতি মোঃ তরিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মোঃ রকিবুল মোল্লা, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শহীদ মোল্লা, জাসদ নেতা মোহাম্মদ আলী, মোঃ সালাম, বাংলাদেশ যুব জোট খুলনা মহানগর সভাপতি মোঃ সাইদ আহমেদ মিঠুন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ সোহেল চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ নূর নবী, দপ্তর সম্পাদক মোঃ নাসির, ছাত্রনেতা মোঃ আরিফ হোসেন, মোঃ সুজন শেখ, অশ্বিন কুমার, মোঃ জিসান, ফরিদ হোসেন প্রমুখ। সভায় বক্তারা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র-জনতার বিজয়কে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান এবং যারা শহীদ হয়েছেন তাঁদের রুহের মাগফেরাত ও অসুস্থতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। বক্তারা স্বৈরাচারী সরকার ও তাদের দোসরদের শাস্তির দাবী জানান।

মিথ্যা সাংবাদিক সম্মেলনের প্রতিবাদে বটিয়াঘাটায় পাল্টা সাংবাদিক সম্মেলন
বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি
বটিয়াঘাটার জলমা ইউনিয়ন বিএনপির করা সাংবাদিক সম্মেলনকে মিথ্যা আখ্যায়িত করে পাল্টা সাংবাদিক সম্মেলন করেছে ভূক্তভোগী বাদশা সানার স্ত্রী রুমানা বেগম। গতকাল বুধবার বেলা বারোটায় স্থানীয় উপজেলা প্রেসক্লাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে। সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য পাঠে তিনি জানান, তার স্বামী বাদশা সানা ও দেবর দীর্ঘদিন যাবত সরাসরি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। বর্তমান কমিটিতে দুই জনেরই নাম তালিকায় রয়েছে। বিবাহের পর থেকেই তিনি দেখে আসছে স্বামী ও দেবর বিএনপির রাজনীতি করার কারণে বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের শাসন আমলে মিথ্যা মামলায় তারা ঘরে ঘুমাতে পারেনি। গত ৫ আগস্ট সরকার পতন আন্দোলনে আমার পুত্র রাজ সানা ছাত্রদের সরাসরি যুক্ত ছিলো। গত ৮ মাস পূর্বে তার স্বামী বাদশা সানা রাঙ্গেমারী মৌজায় একটি জমি ক্রয়ের পর থেকে খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিবের আত্মীয় আনোয়ার হোসেন সহ তিনি বিভিন্ন সময়ে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে। বর্তমানে আমি আমার স্বামী, দেবর ও সন্তানদের নিয়ে জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে। এব্যাপারে ভূক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট বিচার দাবি করছেন তিনি। বক্তব্য পাঠকালে উপস্থিত ছিলেন, আসমা বেগম, নুর নাহার, সাহীনা, মোঃ নাইম, মোঃ ইমরান, মোঃ জামির, শারমিন, মীম, হাসি, মোঃ সিদ্দিক, মোঃ দিদারুল, মোঃ ইলিয়াস, মোঃ জসীম, মোঃ মুনিম, মোঃ রাফসান, মোঃ সাব্বির, মোঃ রাসেল ও মোঃ মনির প্রমূখ।

বিএনপির মিছিলে ককটেল হামলা: ইন্দুরকানীতে আওয়ামীলীগের ৬৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা
ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) সংবাদদাতাঃ
পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে বিএনপির মিছিলে ককটেল হামলার অভিযোগে আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৬৯ নেতকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে বিএনপি। মঙ্গলবার রাতে স্থানীয় জাতীয়তাবাদী তাতী দলের নেতা মোঃ কবির শেখ বাদী হয়ে এ মামলা করেন। মামলার এজাহারে উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মৃধা মনিরুজ্জামান, উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি ইকরামুল শিকদারসহ আওয়ামীলীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের ৬৯ নেতাকর্মীর নামউল্লেখ করা হয় এবং ৫০ জন অজ্ঞাত রাখা হয়েছে।
সোমবার বিকালে উপজেলার ঘোষেরহাট বাজারে বিএনপির মিছিল কে লক্ষ্য করে আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় ও ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় সোমবার রাতে উপজেলা বিএনপির নেতৃত্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবীত ঘোষেরহাট বাজারে মিছিল করে বিএনপি সমর্থকরা।
উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোঃ ফরিদ আহম্মেদ জানান, ঘোষেরহাট বাজারে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দোয়া অনুষ্ঠানে মিছিল করে বিএনপি নেতাকর্মীরা যাচ্ছিল। এ সময় আওয়ামীলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা বিএনপির মিছিলে ককটেল মেরে নেতাকর্মীদের ছত্র ভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
ইন্দুরকানী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সেলিম হাওলাদার বলেন, “আমি দীর্ঘদিন আওয়ামীলীগের উপজেলা সম্পাদকের দায়িত্বে আছি। আমি তো কারো সাথে টু শব্দটাও করিনি। বিগত দিনে যারা যেমন করেছে, তারা তেমন ফল পাবে।”
ইন্দুরকানী থানার ওসি মোঃ কামরুজ্জামান তালুকদার জানান, নাশকতার অভিযোগে আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৬৯ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বিএনপি এ ছাড়াও ৫০ জনের নাম অজ্ঞাত রয়েছে।

কপিলমুনিতে ভরাট হওয়া সহচরী সরোবর খনন করে পর্যটন স্পট করার দাবী
কপিলমুনি(খুলনা) প্রতিনিধি ঃ
ভরাট করা কপিলমুনি সহচরী সরোবরটি পুনঃখনন করে দর্শনীয় পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তোলার দাবী তুলেছেন এলাকাবাসী। কপিলমুনি উন্নয়নের নানা দাবীর মধ্যে এটি তাদের অন্যতম প্রধান দাবী। কপিলমুনির বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের সরোবরটি খননের প্রানের দাবীতে পরিনত হয়েছে।
কপিলমুনি বাজারের আধুনিক রুপকার স্বর্গীয় রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধু বাংলা ১৯৩৯ সালে কপিলমুনি মেহেরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দক্ষিন পাশে ৫২ শতক জমির উপর তাঁর মমতাময়ী মায়ের নামানুসারে “সহচরী সরোবর” খনন করেন। পরবর্তিতে সরোবরটি নুনদার পুকুর হিসাবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। পুকুরটির উত্তর ও পূর্ব দিকে পুরুষ এবং মহিলাদের জন্য পৃথক পৃথক দুটি দৃষ্টি নন্দন প্রশস্ত সান বাঁধানো সিড়ি ঘাট নির্মান করেন। কপোত চক্রের ন্যায় স্বচ্ছ ও শীতল পানি আর সারা মৌসুম জুড়ে একই গভীরতায় পানি থাকা এ সরোবরটির ছিল অনন্য বৈশিষ্ট। গ্রীস্মের প্রচন্ড দাবদাহে ওষ্ঠাগত এলাকাবাসী আর শত শত পরিশ্রান্ত হাটুরে ও ব্যবসায়ীরা এ সরোবরের শীতল জলে অবগাহন করে পরম তৃপ্তিলাভ করতো। শুধু তাই নয় এ সরোবরের পানি দিয়ে স্থানীয়রা রান্নাবান্না সহ ঘর গৃহস্থলীর নানা কাজে ব্যাবহার করতেন। জনস্বার্থে পুকুরটি ছিল অবারিত।
জানাযায়, ২০০৪ সালে খুলনা জেলা বোর্ড সরোবরটি বালু দিয়ে ভরাট করে দেয়। কি উদ্দেশ্যে, কাদের স্বার্থে, সরোবরটি ভরাট করা হলো তার সঠিক ব্যাখ্যা তারা দিতে পারেনি। বর্তমানে ভরাট হওয়া সরোবরটি অনেক মূল্যবান জায়গা ভূমিগ্রাসীদের দখলে চলে গেছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে জায়গাটির পুরো অংশ ভুমিগ্রাসীরা গিলে খাবে। এমনটাই জানালেন কপিলমুনির বিশিষ্ট জনরা। তবে তারা বর্তমান সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে সরোবরটি পুন: খননের দাবী জানিয়েছেন। কপিলমুনির গুরুত্ব আর প্রকৃতির বৈরিতার কথা বিবেচনা করে সরোবরটি পুন: খনন এখন সময়ের দাবীতে পরিনত হয়েছে।
এলাকার অনেক শিক্ষক, আইনজীবি, রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীরা জানান, যে মহান উদ্দেশ্যে রায় সাহেব সরোবরটি খনন করেন সেটা ভরাট করা ঠিক হয়নি, তাঁর (রায় সাহেব) মহাৎ কর্মের প্রতি বুড়ো আঙ্গুল হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন একটা কায়েমী স্বার্থন্বেষী মহলের স্বার্থ রক্ষার্থে সরোবরটি ভরাট করা হয়েছে। কেন? কি উদ্দেশ্যে সরোবরটি ভরাট করা হলো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ভূমি মন্ত্রনালয়ের দৃষ্টি আকর্ষন পূর্বক সরোবরটি পুন: খননের জন্য কপিলমুনি বাসী জোর দাবী জানিয়েছেন।
এলাকাবাসী জানান, ‘জনস্বার্থে রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধু পুুকরটি খনন করেছিলেন কিন্তু বালি দিয়ে ভরাটের পর তা আর জনস্বার্থে কাজে লাগছে না। তাঁর চিন্তা চেতনা অবশ্যই সঠিক ছিল, প্রয়োজনের খাতিরেই তিনি নিজের অর্থ ব্যয় করে পুকুর কেটেছিলেন। কিন্তু জনস্বার্থের কথা না ভেবেই পুুকরটি ভরাট করা হয়েছে। রায় সাহেবের স্মৃতিটুকু ধরে রাখতে সহচরী সরোবর পুনঃ খনন দরকার।’

কয়রায় দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে জেজেএস’র ত্রাণ বিতরণ
কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি
খুলনার কয়রায় দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৩শ পরিবারের মাঝে বেসরকারি সংস্থা জাগ্রত যুব সংঘের (জেজেএস) উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার সকাল ১১টায় উপজেলার গোবরা এলাকার কপোতাক্ষ নদের চরে বসবাসকারি ২৬৪ পরিবার ও আদিবাসী (মুন্ডা) ৩৬ পরিবারের মাঝে এ ত্রাণ বিতরণ করা হয়।
ত্রাণ সামগ্রীর প্রতিটি প্যাকেজে ছিল- ১০ কেজি চাল, ২ কেজি ডাল, ২ লিটার রান্নার তেল, এক কেজি চিনি, সুজি, খাবার স্যালাইন ও স্যানিটারি নেপকিন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুলী বিশ^াস, পিআইও আব্দুল্লাহ আল মামুন, কয়রা সদও ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান, ইউপি সদস্য আবুল কালাম, মাসুম বিল্লাহ, সোহরাব হোসেন, জেজেএস’র পরিচালক (অর্থ) সাইফুদ্দীন আহমেদ, সমন্বয়কারি (পরিকল্পনা) শেখ নাজমুল হুদা প্রমুখ।

চূড়ান্ত বিলের দাবিতে আগামী শুক্রবার শিরোমনি বিশাল জনসভা
এ্যাজাক্স জুটমিল শ্রমিকদের পাওনা আদায় দাবিতে আলোচনা সভা

খান জাহান আলী থানা প্রতিনিধি
নগরীর খানজাহান আলী থানাধীন এজ্যাক্স জুট মিল ২০১৪ সাল থেকে বন্ধ।এজাক্স জুট মিলে শ্রমিকরা অসহায় অনাহারে বিদ্যুৎ বিহীন জীবন যাপন করছে। কলোনিতে বসবাসরত ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে। যাদের হাতে বই খাতা কলম থাকার কথা ছিল তারা এখন অল্প বয়সেই শ্রমিকের কাজ করছে। সদ্য বিদায়ী সরকারের মন্ত্রী মেয়র এমপি বিভিন্ন সময়ে সাধারণ শ্রমিকদের বিদ্যুৎ দেওয়ার আশ্বাস দিলেও আজ পর্যন্ত তাদের ভাগ্যে মেলেনি বিদ্যুৎ জুট মিলে প্রকৃত মালিক নিয়েও সমস্যা দেখা দিচ্ছে কে মালিক মান্নান সাহেব নাকি কাউসার জামান বাবলা। এখনো শ্রমিকরা প্রায়য় ২৫ কোটির ঊর্ধ্বে বয়েকা টাকা পাবে। কাউসার জামান বাবলা বর্তমানে মিলটি দখল করে ইনজেকশন জারি করেছে এবং শ্রমিকদের নানাভাবে হয়রানি করছে। এ নিয়ে গতকাল বিকাল ৫ টা ১১ জুট মিল ক্লাবে সুশীল সমাজ বিএনপি জাতীয় পার্টি জামাত ইসলাম সহ শ্রমিক নেতৃবৃন্দকে নিয়ে একটি জনসভা করেন। জনসভায় প্রধান বক্তা বলেন মিল যে অবস্থায় আছে শ্রমিকদের নিয়ে একটি কমিটি করে কে প্রকৃত মালিক তাকে নিয়ে শ্রমিকদের পাওনা বুঝিয়ে দিতে হবে এবং এ বিষয়ে আজ খুলনা জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হবে এবং তাদের ন্যায্য পাওনার দাবিতে আগামী শুক্রবার শিরোমনি শহীদ মিনার চত্বরে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্বে করবেন মোজাহার মুন্সীর প্রধান অতিথি ছিলেন খান জাহান আলী থানা বিএনপি সদস্য সচিব আবু সাঈদ হাওলাদার আব্বাস, প্রধান বক্তা বেসরকারি পাট সুতা ও বস্ত্র কল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক খান গোলাম রসূল। উপস্থিত ছিলেন এ্যাজাক্স জুটমিল ওয়ারকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ, আব্দুল ওহাব, ২ নং ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক মোঃ এমদাদুল হক, মেহেদী হাসান বাপ্পি, মাহবুব আলম, মোহাম্মদ টুটুল, ওবায়দুল রহমান শ্রমিক নেতা মোস্তাফিজুর রহমান সহ অসংখ্য শ্রমিক নেতাবৃন্দ সভা পরিচালনা করেন ২ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র যুগ্ন-আহবায়ক ইকবাল হোসেন মিজান।

শিরোমণি দক্ষিণপাড়ায় ভ্যান চুরির ঘটনায় জড়িতসন্দেহে
ঘরের দরজা ভেঙ্গে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে একজনকে কুপিয়ে ও চোখ উপড়ে হত্যা

খানজাহান আলী থানা প্রতিনিধি
ভ্যান চুরির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সিরাজ হাওলাদার((৩৭) নামের এক যুবককে ঘর থেকে তুলে নিয়ে কুপিয়ে ও চোখ উপড়ে হত্যা এবং ঘরের আসবাপত্র ভাংচুর করে সমিতি থেকে তোলা নগদ ৪০ হাজার টাকার লুট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় মুমুর্ষ অবস্থায় অপর সন্দেহভাজন দিদার সরদার(৩৫)কে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল ৪ সেপ্টেম্বর ভোরে খানজাহান আলী থানাধিন যোগিপোল ৮নং ওয়ার্ডের ফকিরপাড়া কালভাটের মোড়ে। নিহত সিরাজ হাওলাদার যোগিপোল ৭নং ওয়ার্ডের জামাল হাওলাদারের পুত্র এবং গুরুতর আহত দিদার সরদার যোগিপোল ৮নং ওয়ার্ডের বিনু সরদারের পুত্র বলে পুলিশ জানিয়েছেন। তবে আহত দিদারও মারা গেলে বলে এলাকায় গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে, সম্প্রতি শিরোমণি দক্ষিণপাড়ার তোয়েবের পুত্র মোঃ জাকারিয়া জাকারের একটি ভ্যান কে বা কারা চুরি করে নিয়ে যায়। চুরির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গতকাল ৪ সেপ্টেম্বর রাতে যোগিপোল শিরোমণি দক্ষিণপাড়া কালভার্ট মোড় থেকে দিদারকে আটক করে মারপিটের এক পর্যায়ে দিদার যোগিপোল ৮নং ওয়ার্ডের সিরাজ হাওলাদারের নাম বলে। পরবর্তিতে ১৪/১৫ জন ভোর ৫টার দিকে সিরাজ হাওলাদারের ৮নং ওয়ার্ডের বাড়ীতে হামলা চালিয়ে তাকে এলোপাতাড়ী ভাবে কুপিয়ে টেনে হিচড়ে শিরোমণি দক্ষিণপাড়া কালভাটের উপর নিয়ে মারপিট করে ফেলে রাখে। সকালে স্থানীয়রা সিরাজ হাওলাদারকে মৃত এবং দিদার সরদারকে গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পেয়ে স্বজনদের খবর দেয়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ সিরাজকে মৃত ও দিদারকে গরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।
নিহত সিরাজ হাওলাদারের স্ত্রী সুমি আক্তার অভিযোগ করে বলেন, যোগিপোল ৮নং ওয়ার্ডের বিনু সরদারের পুত্র জাকারিয়া জাকারসহ ১৪/১৫জন ভোরে ঘরের দর্জা ভেঙ্গে আমার স্বামীকে ঘুম থেকে তুলে হাসুয়াসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপাতে থাকে। এ সময় আমি এবং আমার ছোট শিশু কন্যা ঠেকাতে গেলে হামলাকারীরা আমাদেরকেও মারপিট করে সিরাজকে টেনে হিচড়ে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় ঘরের আসবাপত্র ভাংচুর করে ঘরে থাকা আশা সমিতি থেকে গত ৩ সেপ্টেম্বর তোলা ভ্যান ক্রয়ের জন্য রাখা ৪০ হাজার টাকাসহ মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। সুমি জানায় আমার স্বামীকে ধরে নিয়ে যাওয়ায় পর আমি আমাদের আত্মিয় স্বজনদের খবর দেয়। পরবর্তিতে পুলিশ ও স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে শিরোমণি দক্ষিণপাড়া কালভার্ট মোড়ে গিয়ে আমার স্বামীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পাই। এ সময় তার চোখ ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপড়ে ফেলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপের চিহৃ দেখা যায়। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সুমি আক্তার বাদী হয়ে জাকারিয়া জাকারসহ ৬জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরো ১৪/১৫জনকে আসামী করে খানজাহান আলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।
এদিকে গুরুতর আহত দিদারও মারা গেছে এমন একটি গুঞ্জন এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এ বিষয়ে পুলিশ সঠিক কোন তথ্য দিতে পারিনি। এ বিষয়ে খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান জানান, চোর সন্দেহে সিরাজকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্যে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় দিদার নামের আরেকজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে মামলা করবেন।

অডিটর পদে দুই ধরণের গ্রেডে বিদ্যমান বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবীতে
খুলনা ডিভিশনাল কন্ট্রোলার অব একাউন্টস্ কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসুচি পালন

খানজাহান আলী থানা প্রতিনিধি
অডিটর পদে দুই ধরণের গ্রেডের বিদ্যমান বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবীতে খুলনা ডিভিশনাল কন্ট্রোলার অব একাউন্টস্ এর কর্মরতরা কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসুচি পালন করেছেন। গতকাল বুধবার সকালে খুলনা কার্যালয়ের সামনে ব্যানার ও বিভিন্ন প্লাকার্ড নিয়ে তারা এ অবস্থান কর্মসুচি পালন করে। বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক(সিএজি) ও এর অধীন তিন হিসাব সার্কেল সিজিএ, সিজিডিএফ, রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক(অর্থ) এবং ১৭টি অডিট অধিদপ্তরের অডিটররা অডিটর পদে দুই ধরণের বেতন-বৈষম্য নিরসন ও ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবীতে সারাদেশে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসুচি পালন করছেন। তারই অংশ হিসেবে ডিসিএ খুলনা কার্যালয়সহ সকল জেলা-উপজেলায় কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসুচি পালন করছে।
খুলনা কার্যালয়ের সামনে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসুচি পালনকালে বক্তারা বলেন, অডিটরদের ১০ম গ্রেডের দাবীর বিষয়টি নতুন নয়। ২০২৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর থেকে ৬১জনকে হাইকোর্টের রায়ের প্রেক্ষিতে যারা রিট মামলার পক্ষভুক্ত হয়েছিলেন শুধুমাত্র তাদেরকে ১০ গ্রেডে বেতন দেওয়া হয় বাকিরা এখনো ১১তম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন। পরবর্তি স্বৈরাচারী সরকারের আমলাগণ তাদের স্বাভাবগত স্বৈরাচারী আচরণের জন্য বৈধ দাবী হওয়া শর্তেও তা বাস্তবায়ন করতে দেয়নি। বক্তারা আরো বলেন,অডিটর সম পর্যায়ের সাব-রেজিষ্টার, সমাজ সেবা অফিসার, পিটিআই ইন্সট্রাক্টরসহ আরও বিভিন্ন দপ্তরের পদগুলো বর্তমানে ৯ম গ্রেডভুক্ত গেজেটেড পদ হিসেবে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। কিন্তু অডিটর পদটি ১০তম গ্রেড ভুক্তিতে এত জটিলতা সৃষ্টি রহস্যজনক। অডিটরের নিন্মে অবস্থান পদ যেমন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে ৯ম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন কিন্তু অডিটর পদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। বক্তৃারা আরো বলেন সিএজি কার্যালয় ও এর অধীন দপ্তরগুলোর অডিটর পদের বেতন গ্রেড ১১তম থেকে দশম গ্রেডে উন্নীত করার জন্য সিএজি দপ্তর হতে যে চিঠি অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে ঐ চিঠিতে আইন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল মহোদয় এ বিষয়ে দশম গ্রেডের পক্ষে মতামত দিয়েছেন।
কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসুচি চলাকালে বক্তৃতা করেন অডিটর সমীর কুমার নন্দী, আসমা খাতুন, শহিদুল ইসলাম আকন, রাশেদুল ইসলাম, এফ এম মেহেদী হাসান, মুন্সী শহিদুল ইসলাম, হুমায়ুন কবরি, জিল্লুর রহমান, নাজনীন সোহেলী, মোঃ হাবিবুর রহমান, মোঃ আব্দুল মান্নাফ, মোঃ শামিম নাসিব, মোঃ সোহেল মাহমুদ, পপি সাহা, আলমগীর হোসেন, নজরুল ইসলাম, মোঃ আব্দুল হালিম, মোঃ আব্দুল আজিজ, মোঃ আসিফ ইকবাল, জাফরিন আক্তার. দেব প্রসাদ, নিশাদ মেরৈভী, নজরুল সরদার, মো, মোঃ ফয়জুল বারী রাতুল, মোঃ ইউসুফ।

উপ-সম্পাদকীয়===
এমপক্স ভাইরাস:করোনার পর নতুন মহামারি
মোঃ মামুন হাসান

২০২০ সালে হয়ে যাওয়া করোনা মহামারির রেশ এখনও পর্যন্ত কাটিয়ে উঠতে পারেনি বিশ্ববাসী। তার মধ্যেই নতুন ভাইরাস দেখা গেল সারা বিশ্বে। উঁকি দিতে শুরু করেছে নয়া বিপদ, যার নাম এমপক্স বা মাঙ্কিপক্স। ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এই মাঙ্কিপক্সের দাপট। বেশ কয়েকটি দেশে দ্রুত ছড়াচ্ছে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব। আরও এক মহামারির জন্য দিন গুনছে পৃথিবী? স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টিকে ঘিরে বাড়তে শুরু করেছে উদ্বেগ। মাঙ্কিপক্স পশুবাহিত রোগ। তাই মূলত পশ্চিম এবং মধ্য আফ্রিকার দেশগুলিতেই এই রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি। কঙ্গোয় দাবানলের মতো সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তেই মাঙ্কি পক্স নিয়ে ২০২৪ সালের ১৪ই আগস্ট বিশ্বে জরুরি অবস্থা জারি করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। ২০২২ সালের পর এই নিয়ে দ্বিতীয় বার মাঙ্কিপক্স নিয়ে সতর্কতা জারি করল হু। ২০২২ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত এটি আফ্রিকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ১৫ই আগস্ট প্রথম আফ্রিকার বাইরে সুইডেনে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ল এক ব্যক্তির হাত ধরে।

এমপক্স একটি ভাইরাল রোগ, যা অর্থোপক্সভাইরাসগণের একটি প্রজাতি। বিজ্ঞানীরা ১৯৫৮ সালে প্রথমবার এই ভাইরাসটি শনাক্ত করেন। বানরের মধ্যেই সবার প্রথম এই ‘পক্স-জাতীয়’ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। সেখান থেকেই তা ছড়িয়ে পড়ে মানবশরীরে। অনেকটা গুটিবসন্তের সমগোত্রীয় এই ভাইরাস। পরবর্তীতে এই সংক্রামক রোগ ছড়িয়েছে মানুষ থেকে মানুষেও। বিশ্বব্যাপী বিশেষজ্ঞদের সাথে একের পর এক আলোচনার পর, হু একটি নতুন পছন্দের শব্দ “এমপক্স” (গঢ়ড়ী) ব্যবহার করা শুরু করেছে “মাঙ্কিপক্স” (সড়হশবুঢ়ড়ী) -এর প্রতিশব্দ হিসেবে। আশির দশকে প্রথম মাঙ্কিপক্সের খোঁজ মেলে। তার পর থেকে মূলত পশ্চিম এবং মধ্য আফ্রিকার দেশগুলিতেই এই রোগ সীমাবদ্ধ ছিল। কারণ মাঙ্কিপক্স পশুবাহিত রোগ। আর যে ধরনের পশুর শরীর থেকে এ রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা তাদের বাস মূলত গ্রীষ্মপ্রধান এলাকার বৃষ্টি বনাঞ্চলে (রেইন ফরেস্ট ) ।
এই ভাইরাসের দুটি ধরণ রয়েছে সাধারণত, প্রথমটি ক্লেড ১ ভাইরাস। যার প্রাদুর্ভাব গত কয়েক দশক ধরেই কঙ্গোতে বিক্ষিপ্তভাবে ছিল। যেখানে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি। ক্লেড ২ ধরণটি এর থেকে কম গুরুতর। তবে গত বছরে সংক্রামিত অনেকের তুলনামুলকভাবে নতুন ও আরও গুরুতর ধরনের এমপক্স ক্লেড ১বি-তে আক্রান্ত হয়েছেন। যা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। আফ্রিকা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) বলছে, “২০২৪ সালের শুরু থেকে জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত সাড়ে ১৪ হাজারেরও বেশি মানুষ এমপক্সে আক্রান্ত হয়েছে আর এতে ৪৫০ এরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই সংখ্যা ২০২৩ সালের একই সময়ের তুলনায় সংক্রমণের ক্ষেত্রে ১৬০ শতাংশ এবং মৃত্যুর ক্ষেত্রে ১৯ শতাংশ বেশি।“ ২০২২ সালে এমপক্সের মৃদু ধরন ক্লেড ২ এর কারণে জরুরি জনস্বাস্থ্য অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছিল। এশিয়া এবং আফ্রিকার মতো যে দেশগুলোতে সাধারণত এই ভাইরাস দেখা যায় না এমন প্রায় ১০০টি দেশে এটি ছড়িয়ে পড়ে।
এর সংক্রমণ শরীরের ত্বক বা শরীর থেকে নিঃসৃত বিভিন্ন তরলের সরাসরি সংস্পর্শে আসার মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে ঘটে থাকে। অপরদিকে, সংক্রমিত পশুর সঙ্গে সংঘর্ষ কিংবা কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমে পশু থেকে পশুতে ছড়িয়ে পড়ে। আর পশু থেকে মানুষে সংক্রমণ ঘটে আক্রান্ত পশুর কামড় অথবা আঁচড় বা পশু শিকার, চামড়া কাটা বা রান্নার মতো কার্যকলাপের সময়। এমপক্স ভাইরাস ত্বক, থুথু, লালা, নাকের পানি ও যৌনাঙ্গের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে। অর্থাৎ কথা বলা, কাশি বা হাঁচির মাধ্যমেও এটি ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এই রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে জ্বর, মাথাব্যথা, ফোলা, পিঠে এবং পেশিতে ব্যথা। আক্রান্ত ব্যক্তির একবার জ্বর উঠলে গায়ে ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। অত্যন্ত চুলকানো বা ব্যথাদায়ক এই ফুসকুড়িগুলো পরিবর্তন হয় এবং বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে স্ক্যাব বা গোল গোল পুরু আস্তরে পরিণত হয়ে শেষে পড়ে যায়। এর ফলে দাগ সৃষ্টি হতে পারে। সাধারণভাবে ১৪-২১ দিনের মধ্যেই ঠিক হয়ে যাওয়ার কথা এই রোগের। কিন্তু ভাইরাসটি ক্রমাগত ভ্যারিয়েন্ট পরিবর্তন করায় ক্রমশ জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি। বহু ক্ষেত্রেই বয়স্ক ও শিশুদের ক্ষেত্রেও ভয়ের হয়ে উঠছে এই ভাইরাস। এমনকি মুখ, চোখ ও যৌনাঙ্গসহ গোটা শরীরেও ক্ষত তৈরি হতে দেখা যাচ্ছে এই সংক্রমণের ফলে।

এমপক্স ভাইরাসের উদ্ভব হয়েছে বন্যপ্রাণী থেকে, এটি প্রাণীবাহিত রোগ।বর্তমানে এমপক্স ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষের মধ্যে ছড়াচ্ছে। এজন্য ঝুঁকি বেড়ে গেছে।যেভাবে ছড়ায়- এমপক্স ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে ছড়াচ্ছে শারীরিক সংস্পর্শের মাধ্যমে । সংক্রমিত ব্যক্তিকে চুমু দেওয়া,র্স্পশ করা, যৌন সম্পর্ক থেকে এটি ছড়াতে পারে।আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাসের খুব কাছাকাছি থাকলে সংক্রমণ ঝুঁকি থাকতে পারে। আক্রান্ত বন্যপ্রাণী মাংস কাটা শিকার করা, চামড়া তোলা, এমনকি রান্নার সময়, কম তাপে রান্না করা খাবার খেলে সেখান থেকে ভাইরাস ছড়াতে পারে। আমাদের দেশে বন্যপ্রাণী শিকার করা হয় না খুব একটা। কিন্তু এমপক্স আক্রান্ত প্রাণীর কাছাকাছি গেলেও সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।সংক্রমিত ব্যক্তির ব্যবহার করা পোশাক, তোয়ালে, বিছানার চাদর, যেকোনো ব্যবহার্য জিনিসপত্র থেকে ভাইরাস ছড়াতে পারে।সংক্রমিত ব্যক্তির ব্যবহার করা ইনজেকশনের সুঁই অন্য কারো শরীরে প্রবেশ করালেও এমপক্স হতে পারে।সন্তানসম্ভবা নারী এমপক্স আক্রান্ত হলে অনাগত সন্তানও এমপক্স ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে।এমপক্স শুকিয়ে যাওয়ার পর ফোসকার আবরণ যদি বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে, সেখান থেকে ভাইরাস সংক্রমণ হতে পারে।

এমপক্স আক্রান্ত হলে সবাইকে তা জানাতে হবে। বিনা প্রয়োজনে যেন কেউ আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে না আসে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। চিকিৎসক বা অন্য কেউ রোগীর সংস্পর্শে আসলে অবশ্যই গ্লাভস ও মাস্ক পরতে হবে এবং যথাসম্ভব সুরক্ষা নিয়ে রোগীর চিকিৎসা ও সেবা দিতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহার করা জিনিসপত্র ও পোশাক ব্যবহার করা যাবে না।আক্রান্ত প্রাণীর সংস্পর্শে যাওয়া যাবে না। পক্স শুকিয়ে যাওয়ার পর ফুসকুড়ির আবরণ যেন যেখানে সেখানে না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত বাসায় থাকতে হবে। যতদিন শরীরে ফোসকার স্থানে নতুন আবরণ তৈরি না হয় ততদিন পর্যন্ত।আক্রান্ত ব্যক্তিকে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে, শারীরিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে। শরীরে গুটি বা ফুঁসকুড়িগুলো ঢেকে রাখতে হবে চিকিৎসকের পরামর্শে দেওয়া মলমের মাধ্যমে। রোগ সংক্রমণের হার বেশি এরকম কয়েকটি দেশে এবং যাদের রিস্ক বেশি তাদের স্মলপক্সের ভ্যাক্সিন দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়াও ইতোমধ্যে যারা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছেন কিন্তু রোগের লক্ষণ এখনো প্রকাশ হয়নি তাদের টিকা দেওয়া যাবে। এমপক্সের বিরুদ্ধে এই টিকা ৮৫ শতাংশ সুরক্ষা দিতে সক্ষম।আমাদের দেশে সেই ভ্যাকিসন দেওয়া হবে কি না সেটি ভ্যাকসিন বিশেষজ্ঞ এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করবেন।
সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না হলে এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন রোগী হলে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত, বিকৃত দাগ, ফোসকায় সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন (ঝবপড়হফধৎু ইধপঃবৎরধষ ওহভবপঃরড়হ), ব্রঙ্কোপনিউমোনিয়া (ইৎড়হপযড়ঢ়হবঁসড়হরধ), শ্বাসকষ্ট (উুংঢ়হড়বধ), সেপটিসেমিয়া (ঝবঢ়ঃরপবসরধ), মেনিনজাইটিস (গবহরহমরঃরং), এনকেফালাইটিস (ঊহপবঢ়যধষরঃরং) ইত্যাদি হতে পারে।
এমপক্স উদ্বেগের কারণ কতটা তা নির্ভর করে বাংলাদেশের কাছাকাছি দেশগুলোতে সংক্রমণ কেমন। যদি আশপাশের অঞ্চলে এমপক্স ছড়াতে থাকে তাহলে তা দেশের জন্য অবশ্যই উদ্বেগের কারণ হবে। বর্তমানে প্রাথমিক ঝুঁকি অবস্থায় সবাইকে সচেতন হতে হবে।বিমানবন্দর, নৌ ও স্থল বন্দরে স্ক্রিনিং চালু করতে হবে। এমপক্সের লক্ষণ আছে এমন ব্যক্তিদের পরীক্ষা করতে হবে। এমপক্স আক্রান্ত দেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের বিষয়ে আলাদা নজর দিতে হবে। পরে তারা আক্রান্ত হলো কি না সেটা মনিটরিং করতে হবে, লক্ষণ দেখা দিলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হটলাইনে ফোন দিয়ে রোগীকে সে বিষয়ে জানাতে হবে। সারাদেশেই নজরদারি বাড়াতে হবে, হাসপাতালগুলোতে প্রস্তুতি রাখতে হবে যাতে রোগী পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
বাংলাদেশে এখনো এই রোগে আক্রান্ত কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। তবে পাকিস্তানে ৩ জন ব্যক্তির দেহে এ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে এই ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে ইতোমধ্যে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। কোনো ব্যক্তির শরীরে এরকম কোনো রোগের লক্ষ্মণ দেখা দিলে, বিদেশে থাকাকালীন আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে অথবা সংক্রমিত কোনো দেশ ভ্রমণের ২১ দিনের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দিলে অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬২৬৩ এবং ১০৬৫৫ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
তবে শুধু বিমান পথেই না সড়কপথ, নৌপথ এবং সব বর্ডারগুলোয় সতর্ক থাকতে হবে। কারণ এসব পথেও আক্রান্ত রোগী দেশে প্রবেশ করতে পারে। এছাড়া রেডিও, টেলিভিশন, পত্রিকা, মাইকিং, পোস্টার এবং অন্যান্য গণমাধ্যমের মাধ্যমে সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন হতে আহ্বান জানাতে হবে।যেহেতু রোগটি নতুন তাই ভয় না পেয়ে বা আতঙ্কিত না হয়ে রোগটি সম্পর্কে সবাইকে সঠিক তথ্য জানানো, সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। লেখক- তথ্য অফিসার পিআইডি/পিআইডি ফিচার

চিতলমারীতে খাটের নিচ থেকে ৩ বছরের শিশুর লাশ উদ্ধার, সৎমা আটক
চিতলমারী (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
বাগেরহাটের চিতলমারীতে ঘরের খাটের নিচ থেকে খাদিজা নামের তিন বছরের এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ তার সৎমা আয়শা খাতুনকে (২৩) আটক করেছে।

নিহত খাদিজা উপজেলার চরবানিয়ারী ইউনিয়নের চরডাকাতিয়া গ্রামের তুহিন শেখের মেয়ে।

চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার রায় এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বুধবার দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় তুহিন শেখের মেয়ে খাদিজার লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের সৎমা আয়শা খাতুনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

এলাকাবাসী জানায়, দেড় বছর আগে খাদিজার মা অন্যত্র বিয়ে করেছেন। মাসখানেক আগে আয়শাকে বিয়ে করেছেন তুহিন শেখ।


নগরীর অবৈধ অস্ত্রধারী কালা শওকত এখন টাকার কুমির
রানা কবীর।।
শওকত হোসেন ওরফে কালা শওকত। নগরীর সর্বমহলে একটি আলোচিত নাম। কারো কাছে চাঁদাবাজ, কারো কাছে দখলদার, সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত তিনি। শেরে বাংলা রোডের শেখ বাড়ির প্রভাব খাটিয়ে তিনি এমন কোন অপকর্ম নেই যা তিনি করেননি। ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের সাথে সাথে শওকত হোসেনও রয়েছেন আত্মগোপনে। ইত:মধ্যে নগরীর একাধিক মামলার আসামী হয়েছেন তিনি। এক সময়ের নুন আনতে পান্তা ফুরায় পরিবারে জন্ম নিয়ে অনেক কষ্টে বেড়ে উঠেছেন। শেখ সোহেলের আস্তাভাজন ও বিশ্বস্ত হয়ে অবৈধ টাকার পাহাড় বানিয়েছেন সে। নগরীতে একাধিক আলিশান বাড়ি-গাড়ি ও জমির মালিক হয়েছেন। চাউর আছে কত টাকার মালিক শওকত হোসেন তা সে নিজেও জানেন না।
২০১৪ সালে ৩৩ হাজার মেট্রিক টন গম আত্মসাৎ, টেন্ডার চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা এবং অবৈধ অস্ত্রের মাধ্যমে সন্ত্রাসী কার্যক্রমসহ বিভিন্ন অনৈতিক কার্যকলাপের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে খুলনা মহানগর ২৬নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি শওকত হোসেন ওরফে কালা শওকতের। পশ্চিম বানিয়াখামার বিহারী কলোনীর মোড়ের বাসিন্দা মৃত আব্দুল আলিম এর পুত্র শওকত। পিতা দর্জি পেশায় নিয়োজিত ছিলেন এবং তিনি পারিবারিকভাবে খুবই দরিদ্র ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। ২০০৯ সালে খুলনা মহানগর ২৬ নং ওয়ার্ড যুবলীগের আহ্বায়ক হিসেবে যোগদান করেন, যুবলীগে যোগদান পরবর্তী সময়ে তিনি অবৈধভাবে বিভিন্ন দুর্নীতির মাধ্যমে ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে পশ্চিম বানিয়াখামার এলাকায় দুইটি একতলা বাড়ি, একটি চারতলা বাড়ি, বটিয়াঘাটা উপজেলাধীন হেতালবুনিয়া এলাকায় ২০ বিঘা জমির ওপর বাগানবাড়ি, মাহজামিল মিন্টু নামে দুইটি কার্গো জাহাজ, দুইটি প্রাইভেটকার, একটি জীব গাড়ি নং (ঢাকা মেট্রো ঘ ১৩-৯৮৬০), ঢাকাস্থ বনানী মিরপুর গুলশান এলাকায় তিনটি ফ্লাট এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সাতকাটা কাটা জমি ক্রয় করেন। ২০১৪ সালের ০৫ নভেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ান প্রতিষ্ঠান মেরিটস ফায়ার এন্ড মেরিন ইন্সুরেন্স কর্তৃক বাংলাদেশ সরকারকে বিনামূল্যে ৩৩ হাজার মেট্রিক টন গম (যা ওই সময়ের বাজার মূল্য ৯০ কোটি টাকা) প্রদান করে। উক্ত গম শওকাত হোসেন ওরফে কালা শওকাত মালিকানাধীন শিপিং এজেন্ট ও তার গুদাম চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে খালাসের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এ সময় চট্টগ্রাম বন্দর থেকে উক্ত গম খালাস এর ব্যাপারে উচ্চ আদালতে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করে। এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে শওকাত হোসেন ওরফে কালা শওকাত বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে যোগসাজসের মাধ্যমে সুকৌশলে অবৈধভাবে উক্ত গম বিক্রি করে তিনি তা আত্মসাৎ করেন। দৈনিক পত্রিকা প্রথমআলো ২০১৭ সালের ০৮ আগস্ট শওকতের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
দুদকসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা তদন্তে গম চুরির ঘটনায় শিপিং এজেন্ট ও গুদামের মালিক শওকাত হোসেন ওরফে কালা শওকাতসহ ০৭ জনকে চিহ্নিত করা হয়। পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে তাদের বিরুদ্ধে চারটি মামলা করা হয়। মামলার প্রধান আসামি চুরির মূলহোতা শওকাত হোসেন পুলিশকে বড় অংকের উৎকোচ প্রদানের মাধ্যমে তাদেরকে ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতেন। এছাড়াও উক্ত গম চুরির বিষয়ে গত ২০ জুন ২০১৭ তারিখে হাইকোর্টে বিদেশি লেনদেন নিষ্পত্তি বিভাগ (অ্যাড মেরালটি বিভাগ) এবং ০২ আগষ্ট ২০১৭ তারিখে চট্টগ্রাম অতিরিক্ত মহানগর হাকিমের আদালত কর্তৃক শিপিং এজেন্ট ও গুদামের মালিক শওকাত হোসেন ওরফে কালা শওকাতসহ ০৭ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়। শওকাত হোসেন ওরফে কালা শওকাতসহ অন্যান্য আসামিগন সরকার সমর্থক ব্যবসায়ী নেতাদের সাথে সংশ্লিষ্টতা থাকায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তিন বছর ধরেই এই গম চুরির কেলেঙ্কারির সুরাহা না হওয়ায় বিদেশে বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়।
শওকাত হোসেন ওরফে কালা শওকাত গত ২০০৯ সালে খুলনা মহানগরীর ২৬ নং ওয়ার্ড যুবলীগের আহ্বায়কের দায়িত্ব গ্রহণের পরবর্তী সময়ে তিনি স্থানীয় এলাকায় মাদক ব্যবসায়, টেন্ডার বাজি, চাঁদাবাজি এবং চাকরি দেওয়ার নামে টাকা আত্মসাতের বিষয়ে গ্রহণযোগ্য অভিযোগ রয়েছে। উল্লেখ্য, সাতক্ষীরা থেকে খুলনার ডুমুরিয়া দিয়ে ফেন্সিডিল, ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য খুলনা মহানগরীতে আমদানি করে খুলনা শেরেবাংলা রোড রাজিব বাজার বিপরীত পাশে এলাকায় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান খুলে তার পিছনে রাতে মদ, ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদকের আসর বসাতেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রীর চাচাতো ভাই শেখ সোহেল এর নাম ভাঙ্গিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সড়ক বিভাগ, এলজিইডি, গণপূর্ত বিভাগ, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি করার অনেক অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। গোয়েন্দা সুত্রের দাবি শওকত বাহিনীর কাছে ০৪টি বন্দুক এবং পিস্তলসহ প্রায় ১০টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। এছাড়া শওকাতের আপন মেজো ভাই কালা রিপন ময়লাপোতা মোড়ে সন্ধ্যাবাজারের বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর থেকে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি জোরপূর্বক দোকান দখল করে সে বর্তমান ০৮টি দোকান ও পাওয়ার হাউজ মোড় এলাকায় খান পেট্রোল পাম্প এর মালিক হয়েছে। তিনিও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর চাচাতো ভাই শেখ সোহেল এর প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে বাড়ি, জমি দখলসহ বিভিন্ন প্রকার অসামাজিক কাজে লিপ্ত রয়েছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়। শওকাতের বড় ভাই মোরশেদ আহমেদ টুটুল ২০১৫ সালের ২৫ জুন শেখ সোহেল এর মাধ্যমে সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের সদস্য হন। ইতিপূর্বে তিনি গত ১৯৯৭ সাল হতে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন এবং বিএনপি’র সকল রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তিনি সক্রিয় কর্মী হিসেবে ভূমিকা রেখেছিলেন। এছাড়া তিনি ২৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির সক্রিয় সদস্য ছিলেন বলে জানা যায়। আওয়ামি লীগে যোগদানের পর থেকে তিনি টেন্ডারবাজি, জবরদখল, চাঁদাবাজি শুরু করে অতি দ্রুত বিত্তশালী ও প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে এলাকায় পরিচিতি লাভ করেন। এ ব্যাপারে শওকত ওরফে কালা শওকতের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

দর্শনাস্থ কেরুজ চিনিকলে এসটিপি পদ্ধতিতে আখের চারা বেডে রোপন
দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি
দর্শনাস্থ কেরুজ মিলসগেট (পশ্চিম )সাবজোনের ১৯নং ও জীবননগর সাবজোনের ৫৫নং ইউনিটে এসটিপি পদ্ধতিতে আখের চারা বেডে রোপনের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার সকালে এসটিপি পদ্ধতিতে আখের চারা বেডে রোপনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেরু এ্যাণ্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ)লি.এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন এফসিএমএ।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহাব্যবস্থাপক(কৃষি) মোহাম্মদ আশরাফুল আলম ভূঁইয়া।অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডিজিএম (সম্প্রসারণ) মো.মাহবুবুর রহমান ও সংশ্লিষ্ট সাবজোন প্রধান ও সিডিএবৃন্দ।এসময় অতিথিরা এসটিপি পদ্ধতিতে আখের চারা বেডে রোপনের কৌশল,সুফল, বেশী ফলন হবার দিকনির্দেশনা দেন।


চুয়াডাঙ্গায় দারিদ্র বিমোচনে ভূমিকা রাখছে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।।
চুয়াডাঙ্গায় দারিদ্র বিমোচনে ভূমিকা রাখছে ব্ল্যাক বেঙ্গল গোট (কালো জাতের ছাগল)। বিশ্বখ্যাত কালো জাতের ছাগল পালন করে এ জেলার কৃষি পরিবারসহ অস্বচ্ছল পরিবারেও ফিরেছে স্বচ্ছলতা। এ জেলার প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই দেখা মিলবে ব্ল্যাক ব্যাঙ্গল গোট বা কালো জাতের ছাগল।
বাংলাদেশের স্থানীয় জাত ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল মানের দিক থেকে বিশ্বসেরা হিসেবে স্বীকৃত। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি বিষয়ক সংস্থা এফএও এবং আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা আইএইও ২০১৫ সালের মূল্যায়ন অনুযায়ী ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল বিশ্বের অন্যতম সেরা জাত। আন্তর্জাতিক বাজারে এই ছাগল ‘কুষ্টিয়া গ্রেড’ হিসেবে পরিচিত। তবে বর্তমানে বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলার অংশ চুয়াডাঙ্গা জেলায় এই ছাগল বেশি পালন হওয়াতে জেলা প্রশাসন থেকে চুয়াডাঙ্গা জেলা ব্র্যান্ডিং হিসেবে ‘ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল’ ঘোষণা করা হয়েছে। গুণগত মানের চামড়া ও সুস্বাদু মাংসের জন্য সারা পৃথিবীতে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের যেমন খ্যাতি রয়েছে তেমনি যে কোনো পরিবেশে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া ও বছরে দুবারে ৩-৪টি বাচ্চা প্রদানের কারণে দারিদ্র বিমোচনে বিরাট ভূমিকা রয়েছে।

শুধুমাত্র (ব্ল্যাক বেঙ্গল গোট) কালো জাতের ছাগলই নয়, হরিয়ানা, যমুনাপাড়ী, তোতামুখি ও বিটল জাতের ছাগলও পালন করে আসছে এ জেলার মানুষেরা। চুয়াডাঙ্গা জেলা জুড়ে কয়েক প্রজাতির ছাগল দেখতে পাওয়া গেলেও এর মধ্যে ৭০ শতাংশই ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগল।

এই ছাগল পালনে বাড়তি তেমন খরচ না থাকায় খুব সহজেই এর দেখভাল করতে পারেন পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও। অনেকেরই জীবনযাত্রা পাল্টে গেছে এই কালো জাতের ছাগল লালন-পালন করে। চুয়াডাঙ্গার চারটি উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে মূল সড়ক পেরিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলের রাস্তাঘাট এবং মেঠো পথেও দেখা যায় ব্ল্যাক বেঙ্গল গোটের। কোথাও উঠানে, কোথাও বা বাড়ির মাচায় চলছে ছাগল লালন-পালন। অনেক খামারি ২০-৩০টি ছাগল পালন করে বছরে দুই থেকে তিন লাখ টাকা আয় করছেন।

চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের হাসানুজ্জামান নামের এক ছাগল পালনকারী বলেন, আমি সারা বছরই কৃষি কাজের পাশাপাশি ছাগল পালন করে আসছি। বর্তমানে আমার বাড়িতে ৩০টির অধিক ছাগল রয়েছে। এই ছাগল দেড় বছরের মধ্যে আট থেকে দশ হাজার টাকায় বিক্রি করা যায়। এরা বাড়ির আশপাশের গাছের পাতা, সবজির বর্জ্য, ঘাস ও বিচুলি খেয়েই বড় হয়। তাই এদের পালতে বাড়তি কোনো খরচেরও দরকার হয়না।

কালো জাতের ছাগল পালন করে সংসারে স্বচ্ছলতা এনেছেন লিমা থাতুন। স্বামী মনোয়ার হোসেন ও তিন সন্তান নিয়ে তার সংসার। চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামে তাদের বাড়ি। স্বামীর ১ বিঘা জমিতে কৃষিকাজ আর অন্যের জমিতে দিনমজুরি করে চলে সংসার। এমতাবস্থায় লিমা ওয়েভ ফাউন্ডেশন থেকে ছাগল কেনার জন্য ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ২টি কালো ছাগী ক্রয় করেন এবং ১০টি ছাগলের জন্য মাচাযুক্ত ঘর তৈরি করেন। ছাগী দুটি প্রথমেই একটি করে খাসি বাচ্চা প্রসব করে এবং বছর দেড়েকের মধ্যে লিমা খাসি দুটি ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।

চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের ছাগল খামারী মিনারুল ইসলাম জানান, মাত্র ছয় বছরের ব্যবধানে দুইটি ছাগল থেকে বর্তমানে আমি ৫০টির অধিক ব্ল্যাক বেঙ্গল গোটের (কালো জাতের ছাগল) মালিক। তিনি বলেন, ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগল পালন করে আমার জীবন বদলে গেছে। ঋণ নিয়ে মাত্র দুটি ছাগল কিনে পালন করতে শুরু করি। এখন আমার ৫০টির বেশি ছাগল রয়েছে। ছাগল ও দুধ বিক্রি করে প্রতি বছরে ভালো পরিমানের টাকা আয় হয়।

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাণীসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, এ জেলায় বছরে প্রায় পাঁচ লাখ ছাগল উৎপাদন হয়ে থাকে। এর থেকে ২৩ হাজার মেট্রিক টন মাংস উৎপাদন হয়। বর্তমানে বাজারে ছাগলের মাংসের দাম প্রকার ভেদে ৯৫০-১০০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। জেলায় ছাগলের মাংস ও চামড়া বিক্রি করে বছরে আয় হচ্ছে ২ হাজার কোটি টাকা। এছাড়াও ছাগলের চামড়া বিক্রি করেও মোটা অংকের বৈদেশীক মুদ্রা আয় হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা ছাগল উন্নয়ন খামারের প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ আরমান আলী জানান, চুয়াডাঙ্গা জেলার বিশ্ববিখ্যাত ব্ল্যাক বেঙ্গল গোটের জাত সংরক্ষণে ১৯৯৬ সালে চুয়াডাঙ্গায় ছাগল উন্নয়ন খামার প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিবছর এ খামার থেকে খুলনা বিভাগের ১০টি জেলাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে নির্ধারিত মূল্যে পাঠা-ছাগি সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এ খামারে পাঠা-ছাগি মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ছাগল পালন করা হয়। এর ফলে ব্ল্যাক বেঙ্গল জাত সম্প্রসারণ ও সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, চুয়াডাঙ্গা ব্ল্যাক বেঙ্গল গোটের জন্য একটি অভয়াশ্রম বলা যায়। এখানকার জলবায়ু ও অনুকূল আবহাওয়া হওয়ার কারণে ছাগল পালনের ক্ষেত্রে এটা সব থেকে উপযোগী এলাকা। ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল (কালো জাত) হলো চুয়াডাঙ্গার ব্রান্ড। চুয়াডাঙ্গা জেলাকে এই ছাগলের অভয়আশ্রম বলে মনে করি। বিশ্বের মধ্যে ১০০টি ছাগল গবেষণা করে দেখা গেছে এই কালো জাতের ছাগলই সব থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ। চুয়াডাঙ্গার ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগোলের মাংস অত্যন্ত সুস্বাদু হওয়ায় দেশে এবং দেশের বাইরে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এটি চুয়াডাঙ্গা জেলার ঐতিহ্য। গ্রামের বেশির ভাগ নারীরা তাদের আয়ের উৎস হিসেবেও এই ছাগল পালনে ভূমিকা রয়েছে। এ জেলায় ছাগলের মাংস ও চামড়া বিক্রি করে বছরে আয় হচ্ছে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা।

বাগেরহাটে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাগেরহাটে আওয়ামীলীগ নেতার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি জব্দ করেছে পুলিশ। বুধবার (০৪ আগস্ট) বিকেলে বাগেরহাট শহরের নাগেরবাজার এলাকায় জেলা আওয়ামী লীগ নেতা সরদার বদিউজ্জামান বদির বাড়িতে এই অভিযান চালানো হয়। এসময় তার বাসা তল্লাশী চালিয়ে একটি একনালা বন্দুক ও ১৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে পুলিশ।

তবে বন্ধুকটিকে নিজেদের লাইসেন্স করা বন্ধুক হিসেবে দাবি করেন সরদার বদিউজ্জামান বদির পরিবারের সদস্যরা।

এদিকে ওই আওয়ামী লীগ নেতা সরদার বদিউজ্জামানের ছেলে বাগেরহাট সরকারি পিসি কলেজের সাবেক ভিপি সরদার ইয়াছির আরাফাত নোমানের কক্ষ থেকে কলেজের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও শিক্ষার্থীদের নাম লিখে পিন মেরে রাখা বেশকিছু টাকা জব্দ করে পুলিশ। কলেজ সংক্রান্ত একটি ব্যাংক চেকের বই উদ্ধার করা হয়। চেক বইটির পাতায় অধ্যক্ষের স্বাক্ষর করা ছিল। কলেজের বিভিন্ন খাতে টাকা আদায়ের বেশকিছু রশীদও উদ্ধার করা হয়।

অভিযানের সময়, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা সরদার বদিউজ্জামান বদি, তার বড় ছেলে বাগেরহাট সরকারি পিসি কলেজের সাবেক ভিপি ও ছাত্রলীগ নেতা সরদার ইয়াছির আরাফাত নোমান, মেঝ ছেলে ব্যাংক কর্মকর্তা আরমান সরদার ও বাগেরহাট জেলা ছাত্র লীগের সাধারণ সম্পাদক সরদার নাহিয়ান আল সুলতান ওশান বাড়িতে ছিলেন না। তারা কোথায় আছেন সে বিষয়েও জানাননি পরিবারের সদস্যরা।

এর আগে একই এলাকায় মোঃ সোহেল ওরফে কালা সোহেলের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় কালা সোহেল বাড়িতে ছিল না। যুবলীগ নেতা কালা সোহেল এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং বাগেরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মোঃ আনারুল হত্যা মামলার আসামী।

বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেলুর রহমান বলেন, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে পুলিশের অভিযান শুরু হয়েছে। অভিযানের প্রথম দিনে আওয়ামী লীগের নেতার বাসা থেকে একটি বন্দুক ১৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। তবে বন্দুকের বৈধ লাইসেন্স আছে কিনা সে বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া তার ছেলের কক্ষ থেকে বেশকিচু কাগজপত্র ও টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।