খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।।
আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন সহিংসতার রূপ নিয়েছে। বিভিন্ন জেলায় থেমে থেমে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। আর এই সহিংসতার ঘটনায় আওয়ামী লীগের ‘চেইন অব কমান্ড’ ভেঙে পড়েছে। এমনকি আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় ভিত্তি হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জের মতো জায়গায় সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এখন সর্বশেষ সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে রাজশাহীর বাঘায়।
রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আওয়ামী লীগের নেতা নিহত হওয়ার ঘটনায় আওয়ামী লীগে এখন তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় মদতদাতা হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের বিরুদ্ধে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র খায়রুজ্জামান বলেছেন, পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে যারা সংঘাত সৃষ্টি করছে তারাই খুনের মদতদাতা। এরকম পাল্টাপাল্টি অভিযোগে রাজশাহীর রাজনীতি উতপ্ত হয়ে উঠেছে।
এর আগে রাজশাহী থেকে একজন প্রতিমন্ত্রী করা হলে খায়রুজ্জামান লিটনের সঙ্গে তার প্রকাশ্য বিরোধ দেখা যায়। তবে এবার বাঘায় যেটি হয়েছে তা সহিংসতার এক চরম বহিঃপ্রকাশ। এর আগে গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল। সেই সহিংসতার জের ধরে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিবকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
শুধু রাজশাহী, গোপালগঞ্জ নয়, সারা দেশে আওয়ামী লীগের এই সহিংসতার ঘটনা ঘটছে নানা ভাবে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে স্থানীয় নেতাদের সহিংসতার ঘটনা এখন যেন ডাল ভাতে পরিণত হয়েছে। মুন্সিগঞ্জে আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদকের সঙ্গে স্বতন্ত্র এমপির বিরোধ এখন প্রকাশ্য। সেখানে থেমে থেমে বিরোধ হচ্ছে এবং স্বতন্ত্র এমপিকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কেউ নেই। প্রশাসনের ছত্রছায়ায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা মৃণালকান্তি দাসের লোকজনকে পেটানো হচ্ছে, আক্রমণ করা হচ্ছে। একই রকম ঘটনা ঘটছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। ফলে আওয়ামী লীগের এই মুখোমুখি সহিংসতা দলকে একটি বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে ফেলেছে।
আওয়ামী লীগের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য স্বীকার করেছেন যে, দলের মধ্যে ‘চেইন অব কমান্ড’ নেই। শাহরিয়ার আলম একজন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা নন। তিনি কিভাবে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলেন এই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আওয়ামী লীগের ওই প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, শাহরিয়ারের যদি কোন বক্তব্য থাকে বা আপত্তির বিষয় থাকে তাহলে তিনি সেটি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে জানাতে পারেন। আওয়ামী লীগের ওই নেতা দাবি করেন, প্রতিটি বিভাগের জন্য একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদককে সার্বক্ষণিক নজরদারির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে আলাপ না করে শাহরিয়ার আলম খায়রুজ্জামান লিটনের বিরুদ্ধে মামলা করার ঘোষণা দিয়ে দলের শৃঙ্খলা লঙ্ঘন করেছেন বলে কেউ কেউ মনে করেন। আবার এর বিপরীত মতও পাওয়া গেছে।
কেন্দ্রের একজন সাংগঠনিক সম্পাদক বলেছেন, খায়রুজ্জামান লিটন রাজশাহীতে একক কর্তৃত্ব তৈরি করেছেন। এর আর আগেও তিনি রাজশাহী থেকে প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন। প্রতিমন্ত্রীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি নেতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে তিনি তার প্রভাব বলয় থেকে বরদাস্ত করছেন না। সবগুলোকে জেলাতে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের মধ্যে এখন কর্তৃত্বের লড়াই চলছে। আগে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ছিল শুধুমাত্র নারায়নগঞ্জ, ফরিদপুরের মতো এলাকাগুলোতে। কিন্তু এখন সারা দেশে জেলায় জেলায় আওয়ামী লীগের ভেতর বিরোধ ছড়িয়ে পড়েছে এবং এই বিরোধ এখন সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। এখন যদি এই সমস্ত বিরোধ মিটানো না যায় তাহলে পরে ভবিষ্যতে দল বড় ধরনের সঙ্কটে পড়বে বলে অনেকে মনে করছেন।









































