Home আঞ্চলিক বাগেরহাটে সরকারি চাল সন্দেহে ৩৫ বস্তা চাল জব্দ

বাগেরহাটে সরকারি চাল সন্দেহে ৩৫ বস্তা চাল জব্দ

26

বাগেরহাট প্রতিনিধি

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে সরকারি চাল সন্দেহে ৩৫ বস্তা চাল জব্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মোরেলগঞ্জ উপজেলার বহরবুনিয়া ইউনিয়নের ফুলহাতা বাজারের মুদি ব্যাবসায়ী অলিয়ার রহমান কাজীর দোকান সংলগ্ন বসতঘর থেকে সহকারি কমিশনার(ভূমি) রঞ্জণ চন্দ্র দে এই চাল জব্দ করেন। এসময় অলিয়ার রহমান বাড়িতে ছিলেন না।

বহরবুনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন হাওলাদার জানান, সকাল থেকে ইউনিয়ন পরিষদে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রেরিত গরীব অসহায় পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরন করা হয়। বিকালে বহরবুনিয়া ইউনিয়নের ০৪ নং ইউপি সদস্য মাসুম বিল্লাহ মাসুদ ও ০৫ নং ইউপি সদস্য কচি সরকারী বস্তা পরিবর্তন করে নরমাল প্লাস্টিকের বস্তায় চাল স্থানীয় অলিয়ার রহমানের দোকানে ৩৫ বস্তা ( প্রতি বস্তায় ৫০ কেজি) চাল বিক্রি করে। যা রাতে সহকারী কমিশনার ভূমি রঞ্জণ চন্দ্র দে চাল জব্দ করে।

অপরদিকে এ্যাড হারুনুর রশিদ জানান, জব্দকৃত চাল স্থানীয় কচি মেম্বর ও মাসুদ মেম্বার বিক্রি করে বলে তিনি জানান। গরীব অসহায়দের চাল যারা আত্মসাত করেছে তাদের বিরুদ্ধে সঠিক তদন্ত পূর্বক দ্রুত বিচারের দাবি জানান।

চাল আত্মসাতের ব্যাপারে ইউপি সদস্য কচি জানান, প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের চাল ইউপি চেয়ারম্যান রিপন হোসেন তালুকদার ও ট্যাগ অফিসার উপস্থিত থেকে চাল বিতরন করেছেন। এখানে কোন অনিয়ম হয়নি বলে জানান।

চাল আত্মসাতের ব্যাপারে ইউপি সদস্য মাসুম বিল্লাহ মাসুদ বলেন,পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এলাকার এক শ্রেনীর সার্থান্বেষী মহল আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। আমি কোন অনিয়ম করিনি।

এ বিষয়ে ঘটনাস্থল থেকে থানার ওসি(তদন্ত) ঠাকুর দাশ মন্ডল বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অলিয়ার কাজীর ঘরে পাওয়া ৩৫ বস্তা চাল জব্দ করা হয়েছে। অলিয়ার কাজীকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সহকারি কমিশনার(ভূমি) রঞ্জণ চন্দ্র দে বলেন, গণমাধ্যম কর্মী ও স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে ফুলহাতা বাজারের মুদি ব্যাবসায়ী অলিয়ার রহমান কাজীর দোকান সংলগ্ন বসতঘরে অভিযান চালানো হয়। সেখানে ৩৫টি বস্তায় ভরা চাল পাওয়া যায়। চাল গুলো নরমাল প্লাস্টিকের বস্তায় ছিল। কোন রকম সরকারি সিল ছিল না। তারপরও যেহেতু অভিযোগ এসেছে তাই আমরা চালগুলোকে জব্দ (ওই কক্ষ তালা দিয়েছি) করেছি। চালের মালিককে আসতে বলেছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। যদি সরকারি চাল আত্ম সাতের কোন প্রমান পাওয়া যায় তাহলে আইন গত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

উল্লেখ্য গত সোমবার (২৭ জুলাই) বনগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ১২ বস্তা চাল আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে।