অনলাইন ডেস্ক।।
বিহারের মুখ্যমন্ত্রী ও ভারতের বিরোধী দলগুলোর জোট ইন্ডিয়ার অন্যতম নেতা জনতা দলের (ইউনাইটেড) প্রধান নীতিশ কুমার রাজনীতিতে আবারও ডিগবাজি দিয়েছেন। ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির বিরুদ্ধে যে জোট গঠন করেছিলেন, সেখান থেকে বেরিয়ে আবার তিনি ফিরেছেন সেই বিজেপি জোটেই। এটি তাঁর রাজনীতিতে পঞ্চমবারের মতো দল বদল। ফলে রোববার সকালে মুখ্যমন্ত্রী থেকে পদত্যাগের পর ফের বিকেলে বিজেপির বিধায়কদের সমর্থনে তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তাঁর এমন দল বদল ও সুবিধাবাদী আচরণে উত্তাপ ছড়াচ্ছে গোটা ভারতে। এদিকে, নীতিশের জোট ছেড়ে দেওয়াকে বিশ্বাসঘাতকতা বলছে বিরোধী জোট ইন্ডিয়া। খবর এনডিটিভির।
গত ক’দিন ধরেই নীতিশের এমন কর্মকাণ্ড নিয়ে জল্পনাকল্পনা চলছিল। অবশেষে গতকাল রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে পদত্যাগ করেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি আজ মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি। আমরা যে নতুন মহাজোট তৈরি করেছি (২০২২ সালের আগস্টে) সেটি ভালো অবস্থায় নেই। পরিস্থিতি ভালো দেখা যাচ্ছে না।’
সকালে ইস্তফা দিয়ে ভেঙেছিলেন আরজেডি এবং কংগ্রেসের সঙ্গে জোট। বিকেলে বিজেপির সমর্থনে আবার পটনার মসনদে নীতিশ। এবারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দেখা যায় বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নড্ডাকেও।
নীতিশকে আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। কিন্তু কিছুই কাজে আসেনি। নীতিশ আবারও ফিরেছেন বিজেপির কাছেই।
এমন একসময়ে ‘ইন্ডিয়া’ জোট ছেড়ে দিলেন নীতিশ, যখন লোকসভা ভোটে আসন ভাগাভাগি নিয়ে এমনিতেই ইন্ডিয়ার শরিক দলগুলোর সঙ্গে কংগ্রেসের টানাপোড়েন চরমে। এটি ইন্ডিয়া জোটের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও ইন্ডিয়া জোটের নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই বলেছিলেন, জোট ছেড়ে নীতিশের বেরিয়ে যাওয়ায় ইন্ডিয়ার ক্ষতি নয়, বরং লাভ হবে।
এদিকে কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ বলেছেন, নীতিশ যেভাবে দল বদলের খেলা শুরু করেছেন, যেভাবে রং বদলাচ্ছেন, তাতে গিরগিটিকেও ছাড়িয়ে গেছেন।’
২০০৫ সালে বিজেপির হাত ধরে প্রথমবার বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন নীতিশ। এর পর তিনি সেই বিজেপিও ছেড়েছিলেন। দল ও জোট বদলের মধ্যেই চলছে তাঁর রাজনীতি। তবে দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে বিহারের মুখ্যমন্ত্রীই আছেন নীতিশ।











































